গঙ্গাচড়ায় পর্যাপ্ত সার মজুত, বাড়তি দামে বিক্রি ঠেকাতে নজরদারি

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম

রফিকুল ইসলাম সাবুল : (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বর্তমানে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষকেরা যাতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সময়মতো সার পান, সে জন্য ডিলার পয়েন্ট ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। তবে কিছু খুচরা ব্যবসায়ী ও সার ডিলারের বিরুদ্ধে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনিয়ম ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সার ডিলার পয়েন্ট পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুবেল হুসেন। এ সময় তিনি সার মজুত, বিক্রয় ও কৃষকদের সার পাওয়ার বিষয়ে খোঁজ নেন।

পরিদর্শন শেষে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুবেল হুসেন বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। পরিদর্শনকালে কোথাও কোনো অনিয়ম চোখে পড়েনি। ডিলারদের পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতাদের ওপরও নজরদারি রাখা হচ্ছে।’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত ডিলার পয়েন্টে সরকারের নির্ধারিত সারের মূল্যতালিকা বা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকেরা সরকারি নির্ধারিত দাম দেখে সার কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি ডিলারদের সার উত্তোলন, মজুত ও বিক্রয়ের হিসাব ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

বাড়তি দামে সার বিক্রিতে জরিমানা

সারের দাম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি গঙ্গাচড়ার চৌধুরীরহাট বাজারে অভিযান চালানো হয়। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অপরাধে দুই সার ব্যবসায়ীকে মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অনিয়ম প্রমাণিত হলে জরিমানার পাশাপাশি ডিলারশিপ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত বাজার ও ডিলার পয়েন্ট পরিদর্শন করছে। কৃষকেরা যাতে ন্যায্য মূল্যে সার পান এবং কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির সুযোগ না থাকে, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।

বেতগাড়ীতে নিয়ম মেনে সার পাওয়ার দাবি কৃষকদের

গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ী ইউনিয়নের সার ডিলার হাজী মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম (মেসার্স মোতাজ্জেরুল ইসলাম)-এর ডিলার পয়েন্টও পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। 

বেতগাড়ীতে পর্যাপ্ত টিএসপি , ডিএপি, ইউরিয়া, এম ও পি সার আছে। 

সকাল ১০ ঘ: থেকে বিকাল ০৪ ঘ: পর্যন্ত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান,মো.সাইফুল রাজা ও ইসরাত জাহান উপস্থিত থেকে সার বিতরণ করছেন বলে জানা গেছে। 

সার বিতরণের সময় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলেন কৃষি কর্মকর্তা। কৃষক মো. নুরুন্নবী ও মামুন মিয়া জানান, তাঁরা বিভিন্ন ধরনের সার নিয়ম অনুযায়ী পাচ্ছেন। সার পেতে তাঁদের কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না।

২০২৬ সালের নীতিমালায় ডিজিটাল হিসাব

সরকার বর্তমানে নতুন সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬ বাস্তবায়ন করছে। এ নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিমাসে উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে ইউনিয়নভিত্তিক ফসলের চাহিদা বিবেচনায় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়। আমন মৌসুমসহ পরবর্তী রবি মৌসুমের চাহিদাও এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিয়নে একজন ডিলারের অধীনে নির্দিষ্ট তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র বা অনুমোদিত খুচরা বিক্রেতা রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এতে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা কাছাকাছি স্থান থেকে সার কেনার সুযোগ পাবেন।

এ ছাড়া ডিলারদের সার উত্তোলন, মজুত ও কৃষকের কাছে বিক্রয়ের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিয়ম শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বরাদ্দ, মজুত ও বিক্রয় কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com