আহত
ঝিনাইদহে স্কুল শিক্ষিকাকে পিটিয়ে জখম
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা বাজার এলাকার ত্রিমোহনীতে এক স্কুল শিক্ষিকাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী। আহত ওই শিক্ষিকার নাম ফারজানা ইয়াসমিন। তিনি উত্তর নারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। বর্তমানে তিনি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার বিবরণ লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর শিক্ষিকা ফারজানা ইয়াসমিন তাঁর নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একই এলাকার আব্দুস সালাম মিয়ার ছেলে শিপন মিয়ার নেতৃত্বে ৬/৭ জনের একটি সন্ত্রাসী দল ফারজানার মালিকানাধীন ‘হিরা অটো রাইস মিলের’ মূল্যবান যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। টের পেয়ে শিক্ষিকা বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধর করে মারাত্মক জখম করে। সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে ফারজানা ইয়াসমিন দৌড়ে গিয়ে স্থানীয় আরশাদ আলীর চালের আড়তে আশ্রয় নেন। হামলার সময় সন্ত্রাসীরা তাঁর গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অভিযুক্তের ব্যাকগ্রাউন্ড ও পুলিশি পদক্ষেপ এলাকাবাসীর অভিযোগ, মূল অভিযুক্ত শিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দীর্ঘদিনের রেকর্ড রয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে ফারজানা ইয়াসমিন বাদী হয়ে শিপনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬/৭ জনকে আসামি করে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
সাতক্ষীরায় ঘের ও জমি জবরদখলের চেষ্টা, সন্ত্রাসী হামলায় ২ যুবক গুরুতর আহত
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানার ৮ নম্বর ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আফসার আলী গাজীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক অন্যের ভোগদখলীয় জমি ও মৎস্য ঘের জবরদখল এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ জুলাই (২০২৬) ঘটা এই বর্বরোচিত হামলায় জমির প্রকৃত মালিকপক্ষের স্বাধীন হোসেন ও আশানুর নামের দুই যুবক মধ্যযুগীয় কায়দায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার দাদপুর গ্রামের তিন ভাই—হাজী আনিসুর রহমান, নজরুল ইসলাম ও জাফর আলী—২০০৭ সালে কালিগঞ্জ থানার দমদমা মৌজার খতিয়ান নম্বর ১৩৭, দাগ নম্বর ২৫-এর জমিটি এসএ রেকর্ডীয় মালিক কুলসুম বিবির নিকট থেকে ক্রয় করেন। জমির মালিকানা দাবি করে একই বছর আদম আলী গাজীর পুত্র বিএনপি নেতা আফসার গাজী আদালতে মামলা দায়ের করলে ২০১১ সালে আদালত ক্রেতাদের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালেও আদালত আফসারের অভিযোগ ভিত্তিহীন ঘোষণা করে পুনরায় ক্রেতাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন। রায়ের প্রেক্ষিতে জমির মিউটেশন (নামজারি) ও খাজনা পরিশোধ সম্পন্ন করে মালিকপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে জমি ভোগদখল ও মৎস্য চাষ করে আসছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে পুঁজি করে ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আফসার আলী গাজী পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তার ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে অবৈধভাবে জমি জবরদখলের চেষ্টা চালান এবং উল্টো আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত কালিগঞ্জ থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিলে তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জমিতে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করেন। কিন্তু আফসার মেম্বার প্রশাসনের সেই নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে ভাড়াটিয়া বাহিনী নিয়ে ঘেরের প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মাছ লুটে নেন, পাশাপাশি ঘেরের ঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং বেড়িবাঁধ কেটে দিয়ে আরও প্রায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করেন। সে সময় বাধা দিতে গেলে মালিকদের মারধর ও খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয়, যার সাক্ষী স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম ও লিটন পাড়। এই ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করা হয়। এই জমি জবরদখলের বিষয়টি নিয়ে গত ২৯ মার্চ জাতীয় দৈনিক "আজকের খবর" এবং ৩০ মার্চ আঞ্চলিক পত্রিকা "দৈনিক পত্রদূত"-এ সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর গত ২০ এপ্রিল (২০২৬) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী জমির প্রকৃত মালিকগন। যা ২১ এপ্রিল বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর আফসার মেম্বার কিছুদিন নিরব থাকলেও অতি সম্প্রতি তিনি আবারও তার পুরনো জমি দখলের উন্মত্ত নেশায় মেতে ওঠেন। সর্বশেষ গত ৩ জুলাই (২০২৬) আফসার আলী গাজী সরকারদলীয় পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জমি দখলের উদ্দেশ্যে তার নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের লেলিয়ে দেন। তারা দা, কোদাল, শাবল ও বাঁশের মতো দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমির প্রকৃত মালিকপক্ষের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালান। হামলার শিকার হয়ে নজরুল ইসলামের পুত্র স্বাধীন হোসেন এবং তার ভাগিনা আশানুর জীবননাশের আশঙ্কায় গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকের সূত্রে জানা যায়, আঘাত আর কিছুটা গভীর হলেই তাদের দুজনেরই জীবননাশের শঙ্কা ছিল। তিন দিন চিকিৎসা শেষে গত ৫ জুলাই আক্রান্ত দুই যুবক বাড়ি ফিরলে আফসার গাজীর পক্ষ থেকে নতুন করে হুমকি-ধামকি শুরু হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। থানায় যেন কোনো প্রকার পুলিশি মামলা বা আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, সেজন্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি হামলার সময় স্থানীয় মানুষের মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিওচিত্র যেন কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত না হয়, সে ব্যাপারেও কঠোর হুঁশিয়ারি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এলাকায় একের পর এক জমি জবরদখল ও চাঁদাবাজির মামলার মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হয়রানিকারী এই প্রভাবশালী নেতার হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং নিজেদের জমি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসী।
হরিণাকুণ্ডুে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে এক ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার ফলসী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে এক সন্দেহের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রকিবুল ইসলামকে মারধর করা হয়। রকিবুল ইসলাম ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বজলুর রহমানের ছোট ভাই। এই ঘটনারই রেশ ধরে আজ শনিবার সকালে বোয়ালিয়া গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান (আওয়ামী লীগ) এবং সাবেক ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান (বিএনপি)-এর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের যারা আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন— ছানোয়ার হোসেন ছনো (৫৫), মিজান আলী (৪৫), বিভান আলী (২২), ঝন্টু মিয়া (৪৫), মতিয়ার রহমান (৫০), আক্তার মোল্লা (৩২), রাশিদুল ইসলাম (৩৫), বরকত মোল্লা (৪০), ফেন্টু মিয়া (৫০), মশিয়ার মেম্বার (৪২), গোলাপফার (৪৯), তোজিবার মোল্লা (৬৫), কবির মন্ডল (৩০), রুবেল মন্ডল (৩২), কাবিল (৪০), তোতা মিয়া (৩৪), নুর আলী (৫৪) এবং বাচ্চু মিয়া (৩২)। হাসপাতাল সূত্র জানায়: আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৫ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে এবং ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি সমর্থিত সাবেক ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন: "একটি অত্যন্ত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমাদের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের প্রায় ৬-৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।" তবে এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় জানান: "ঘটনাটি শোনার পরপরই বোয়ালিয়া গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষের কাছ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"