ইবিতে শিবির নেতাকে জুনিয়র ছাত্রদল কর্মীর চড়; উত্তাল ক্যাম্পাস
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০০ পিএম
ওসমান গণি, ইবি প্রতিনিধিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিবির নেতাকে ছাত্রদল কর্মী কর্তৃক চড় মারার ঘটনার জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পৌনে ২টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৩-২৪ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী
আলীনূর রহমান ও ভুক্তভোগী দাওয়াহ বিভাগের ২০২২-২৩ বর্ষের শিক্ষার্থী ও শিবিরের হল শাখার সেক্রেটারি কাজী জুহায়ের।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, স্ট্রেচারে করে হলের করিডোরে হাটছিলেন ভুক্তভোগী জুহায়ের। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী সামনে এসে ভুক্তভোগীকে চড় মারেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে শিবিরের নেতা কর্মীরা হলে এসে অবস্থান নেয়। পরে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকে মারার জন্য ধাওয়া করলে সে পালিয়ে হলের একটি কক্ষে আশ্রয় নেয়। এসময় শিবিরের কর্মীরা কক্ষের দরজা, জানালায় আঘাত করে তাকে বের করার চেষ্টা করে। পরে শিবির সেক্রেটারির প্রতিরোধে তারা ফিরে এসে হলের বিভিন্ন জায়গায় স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উভয় দলের নেতাকর্মীরা প্রভোস্ট কক্ষে আলোচনায় বসে। এসময় উপস্থিত ছিলেন হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড.সেলিম রেজা, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান।
তবে উভয় পক্ষ সমাধানের উদ্দেশ্যে প্রভোস্ট কক্ষে বসলেও হলের বাইরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় অভিযুক্তকে হল থেকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শাখা ছাত্রদল ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভ করে ও জিয়া মোড়ে লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নেয় শিবিরের নেতাকর্মীরা। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রদল ও বহিরাগত বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্র রামদা, ছুরি ও হাতুড়ি দেখা যায়। পরে সেখানে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কাজী জুহায়ের বলেন, আমি পরীক্ষা শেষে এক বন্ধুর সঙ্গে হলে যাচ্ছিলাম। আমার পায়ের লিগামেন্টে সমস্যার কারণে ক্রাচে ভর করে আস্তে আস্তে যাচ্ছি। এসময় আলীনূর আচমকা এসে আমাকে থাপ্পড় শুরু করে। পূর্বে তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধও ছিলো না। কেন তিনি এই কাজ করেছে তা আমি জানিনা। আমি হতভম্ব হয়ে তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলে— তুই বেয়াদব তাই মারছি। যা পারিস করিস। আমার ইচ্ছা হইছে তাই মারছি।
অভিযুক্ত আলীনূর জানান, "আমি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বেয়াদব বলি। পরে তিনি আমাকে গালি দেয়। এসময় আমি তাকে থাপ্পড় দেই। তবে তার সাথে আমার পূর্বে কোনো বিরোধ ছিলো না।"
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ঘটনার প্রথম সূত্রপাত ছাত্রদল কর্মী আলীনূরের হাত ধরে হয়। তবে আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এরপরও ছত্রদল দেশীয় অস্ত্রসহ স্থানীয়দের নিয়ে মেইনগেটে অবস্থান করে। স্থানীয় জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলা করে আহত করে। তবে আমরা এখন অবধি ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি। এখন প্রক্টর অফিসে আলোচনায় বসেছি। আশা করি একটি সুন্দর সমাধান হবে।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, “ঘটনাটি জানতে পেরে আমরা সমাধানের উদ্দেশ্যে প্রভোস্ট, প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টাসহ শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসি। কিন্তু শিবিরের পক্ষ থেকে সমাধানের পথে না গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে হলের বাইরে আমার সদস্য সচিবকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়। পরে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।
প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমরা এই ঘটনা শুনতে পেরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে নিরাপদে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। উভয় পক্ষকে নিয়ে ঘটনা সমাধান করার চেষ্টা করছি।