দূর্নীতি
নগরকান্দায় পিআইওর বিরুদ্ধে উৎকোচ, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে উৎকোচ গ্রহণ, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর অভিযোগে বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আমিনুল ইসলাম ২০২৩ সাল থেকে নগরকান্দা উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত কাবিখা, কাবিটা, জিআরসহ বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ হারে উৎকোচ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা খান অভিযোগ করে বলেন, “পিআইও অফিসে ২০ শতাংশ দিতে হয়। ব্যাংকেও ১৫ শতাংশ ভ্যাট কেটে নেয়। এছাড়া অফিস সহকারী ইলিয়াস ও সুরুজকে আলাদাভাবে টাকা দিতে হয়। তারা প্রকল্প পরিদর্শনে এলে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা না দিলে কাজ এগোয় না।” ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম বলেন, “প্রতিটি প্রকল্পেই পারসেন্টেজ নেওয়া হয়। এমনকি নিজের নামে প্রকল্প ভাগ করে কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও শুনেছি।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার পরিবর্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অফিস সহকারীরাই প্রকল্প দেখভাল করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যদের কাছ থেকে ৩৫০ টাকার স্ট্যাম্পের বিপরীতে প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পর্যায়ের কাবিখা (গম) কর্মসূচির আওতায় ডাঙ্গী ইউনিয়নের গোয়ালপোতা গ্রামের ছরো পাগলার বাড়ি থেকে চোকদার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে বাস্তবে কাজ না করেই সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু প্রকল্পের ঠিকানা ও অবস্থান বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যায় না। লস্করদিয়া ইউনিয়নের একটি ইটের সলিং প্রকল্পের বাস্তব অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় অসহায় পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত কম্বল, ঢেউটিন ও শুকনা খাবার বিতরণে অনিয়ম এবং প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য সরকারি বিধি অনুযায়ী নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ না করে গোপন রাখার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ পর্যায়ে ওই কর্মকর্তা নিজের নামে চারটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। এর মধ্যে উপজেলা পিআইও অফিসে আইপিএস স্থাপনের একটি প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন শুরু না হলেও স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে আসার পর তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া ৩৯টি জিআর প্রকল্পের ডিও ছাড়িয়ে দেওয়ার নামে কৃষ্ণা দাস নামে এক নারীর কাছ থেকে এক লাখ ৯২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি কোনো তথ্য দেব না। আমার বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা লিখুন, আমি পারলে তার জবাব দেব।” অফিস সহকারী ইলিয়াস ও সুরুজ বলেন, “স্যার যা নির্দেশ দেন, আমরা সেটাই পালন করি।” এ বিষয়ে জেলা ত্রান কর্মকর্তা বলেনঃ এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গাইবান্ধার বালাসীঘাটে জিও ব্যাগ ডাম্পিং এ দূর্নীতির অভিযোগ
পাানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান উন্নয়ন ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও গুণগত মানহীন সামগ্রী ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট প্রমান । নদী তীরবর্তী মানুষ যখন ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, তখন এই চক্রটি সরকারি অর্থ পকেটে ভরতে ব্যস্ত। গাইবান্ধায় নদী ভাঙ্গন রোধে পানী উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ইমার্জেন্সি জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজে ব্যাপক দুর্নীতি। আকর্ষিক ভাবে এমপির অভিযান।নিষেধ স্বর্তেও দুর্নীতির বুঝা মাথায় নিয়ে জিও ফেললেন ঠিকাদার। ১০/৭/২০২৬ ইং শুক্রবার গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাটের দক্ষিন পাশে পানী উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ইমার্জেন্সি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের খবর পেয়ে সরেজমিনে যান জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল ওয়ারেছ। এ সময় তিনি জিও ব্যাগের মান,বালুর এফএম ও নির্ধারিত ওজনে ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত করেন। স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, পানী উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শরিফুল ইসলাম ও এসডি-১ আবু সায়েম মোঃ শাফিউর ইসলাম সহযোগিতায় এ সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ,এই প্রকল্পে কয়েকদিন আগেও ৫ বস্তা জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে অনিয়মের কথা বললেই ঠিকাদার অফিস মিটায়েছি তোদের কি বলে আমাদেরকে নানা ভয়-ভীতি ও হুমকী দেন। গাইবান্ধা পানী উন্নয়ন বোর্ড ও ফুলছড়ি উপজেলা প্রশাসনের ছত্রছয়ায় বুলগেট ও ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি প্রভাবশালী মহল বালু উত্তোলন করে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছেন। যেন দেখার কেউ নেই।উক্ত এলাকার ভাঙ্গন রোধে ইমার্জেন্সি জিও ব্যাগ প্রকল্পে নেই কোন সাইনবোর্ড। অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে এসডি-১(উপ-সহকারী প্রকৌশলী) আবু সায়েম মোঃ শাফিউর ইসলামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি। ভুক্তভোগী মহল দুর্নীতিবাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ষ্টিমেট ও সিডিউল মোতাবেক কাজ করার দাবী জানান।
শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতি মামলার রায় নভেম্বরে হতে পারে: দুদক চেয়ারম্যান
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, গণঅভ্যুত্থানে পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান মামলার কয়েকটির রায় আগামী নভেম্বরের মধ্যে হতে পারে। দুদক চেয়ারম্যান জানান, দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে টিআইবির সঙ্গে এই সমঝোতা।