বাংলাদেশ বার্তা টুডে
ভাতিজার বিরুদ্ধে ফুফুর জমি আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
রাজশাহীর পুঠিয়ায় ভাতিজার বিরুদ্ধে ফুফুর জমি আত্মসাত, হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন এক ফুফু। তাদের অভিযোগ, মানিক নামের একজন ব্যক্তি ২০১৬ সালে সুফিয়া বেগমের কাছে হাফ কাটা জমি বিক্রি করলে সেই জমি রেজিস্ট্রিও করে নিয়েছেন সুফিয়া বেগম। কিন্তু ২০২৩ সালে সুফিয়ার ভাই আলমের ছেলে সুজনের কাছে পুনরায় একই জমি বিক্রি করেন মানিক। সেই জমি নিয়েই ফুফু ভাতিজার মধ্যে চলছে দ্বন্দ্ব। সেই হাফ কাটা জমি দখল নিয়েই সুফিয়া বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্র্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমন অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা বানেশ্বর খুটিপাড়া এলাকার ভুক্তভোগি সুফিয়া বেগমের ছেলে আরিফুল ইসলাম ও তার পরিবার । শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০ টায় বানেশ্বর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুফিয়া ও তার পুত্রবধু মুক্তি এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুফিয়া বেগমের পক্ষে তার পুত্রবধূ মুক্তি খাতুন। সংবাদ সম্মেলনে সুফিয়া বেগম বলেন, তার মা আগেই সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দিয়েছেন। মায়ের নামে থাকা তিন কাঠা জমিই ছিল তার শেষ ভরসা। কিন্তু অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে কৌশলে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে। এবং আমি হাফ কাটা জমি মানিকের কাছ থেকে আগে কিনেছি জানার পরও সুজন সেই জমি আবার কিনে তিনিও রেজিষ্ট্রি করে নেন। এই জমিতে বরই এর কাটা রাখা নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি বলেন আমি আমার ক্রয়কৃত জমি ফেরত চাই। একই সঙ্গে আমার ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই। লিখিত বক্তব্যে মুক্তি খাতুন বলেন, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা অপপ্রচারের শিকার হচ্ছে। খুটিপাড়া এলাকার ভুক্তভোগী সুফিয়ার ভাইয়ের ছেলে সুজন, তার স্ত্রী নুসরাত জাহান বিউটি ও ভাই আলমদের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। গত ১০ জুন তাদের বাড়িতে প্লাস্টারের কাজ চলছিল। এ সময় মিস্ত্রি জমির পাশের কাঁটা সরাতে গেলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। মুক্তি খাতুনের অভিযোগ, প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষ তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তার শাশুড়ি সুফিয়া বেগমের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তার মাথায় একাধিক সেলাই দেওয়া হয়। এ ছাড়া মুক্তি খাতুনসহ পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করা হয়। মুক্তি খাতুন বলেন, ঘটনার পর তারা পুঠিয়া থানায় অভিযোগ করলেও কার্যকর প্রতিকার পাননি। পরে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলা করেন। জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে পুঠিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে মিসকেস চলমান রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মুক্তি খাতুন বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইন অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত হবে, আমরা তা মেনে নেব। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তদের মধ্যে প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষিকা নুসরাত জাহান বিউটিও রয়েছেন। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি করেন হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উভয় পক্ষের করা মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আলমের ছেলে সুজন বলেন, জমি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে শালিশ হলে তারা মানতে নারাজ। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির কোনো অস্তিত্ব হোল্ডিং রেকর্ডে নেই। তারা জোরপূর্বক জায়গাটি দখল করতে চাইছেন। সুফিয়া বেগমের মাথায় আঘাত ও মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি এসব বিষয়ে কিছু জানেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক দুলাল বলেন, এ বিষয়ে আমাকে আগে কেউ জানায়নি। তবে দুই দিন আগে একটি বাসায় দাওয়াত খেতে গেলে ওই সুফিয়া বেগম আমাকে বিষয়টি জানান। পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, থানায় কেউ আইনি সহযোগিতা চাইলে আইন অনুযায়ী সহযোগিতা করা হয়। বিষয়টি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জমি-সংক্রান্ত বিরোধ হতে পারে। অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোবিপ্রবিতে বিকশিত মাগুরা ছাত্র পরিষদের নেতৃত্বে সৌমিক-রায়হানা
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি)-এ অধ্যয়নরত মাগুরা জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বিকশিত মাগুরা ছাত্র পরিষদ, গোবিপ্রবি’-এর ২০২৪-২৫ সেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি সংগঠনটির অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌমিক বিশ্বাস সভাপতি এবং ইতিহাস বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রায়হানা আফরোজ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন মো. শফিকুল করিম ফাহিম, মৌমিতা রহমান ও চন্দনা মণ্ডল। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পার্থ বিশ্বাস। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, ছাত্র-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবনির্বাচিত সভাপতি সৌমিক বিশ্বাস বলেন, "বিকশিত মাগুরা ছাত্র পরিষদ শুধু একটি জেলা সংগঠন নয়, এটি মাগুরার শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধন ও সম্ভাবনার একটি প্ল্যাটফর্ম। সকলকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনকে আরও কার্যকর ও শিক্ষার্থীকল্যাণমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মাগুরার শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে সংগঠনকে পাশে পাওয়া যাবে।" সাধারণ সম্পাদক রায়হানা আফরোজ বলেন, "সংগঠনের আমার প্রতি যে আস্থা রাখা হয়েছে তার মর্যাদা রক্ষায় আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, ঐক্য ও নেতৃত্ব বিকাশের পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। সকলের সহযোগিতায় আমরা একটি শক্তিশালী ও আদর্শ সংগঠন হিসেবে বিকশিত মাগুরা ছাত্র পরিষদকে এগিয়ে নিতে চাই।"
মহালছড়ির দুর্গম জনপদে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরে ঘরে পৌঁছালো জেলা পরিষদের খাদ্য সহায়তা
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫০ বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে জেলার মহালছড়ি উপজেলা সদর ও মাইসছড়ি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকায় ঘুরে ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে এই ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে সহায়তা সামগ্রী তুলে দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। ত্রাণ বিতরণকালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন:"বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। এই দুর্যোগকালীন মুহূর্তে কেউ যেন খাদ্যসংকটে না ভোগে,সে লক্ষ্যেই জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই সর্বাত্মক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।" ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এম এন আবছার, সাধারণ সম্পাদক,খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা বিএনপি।প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ, সদস্য, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ।কংজাফ্র মারমা, সদস্য, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ। মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি।মোঃ মাহবুব আলম সবুজ, সভাপতি, জেলা যুবদল।মোঃ আনোয়ার হোসেন, সভাপতি, মহালছড়ি উপজেলা বিএনপি। বন্যায় সবকিছু হারিয়ে বিপর্যস্ত পরিবারগুলো এই সংকটময় মুহূর্তে জরুরি খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা পেয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপজেলার অন্যান্য দুর্গম এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে।
পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৩ নারীকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে দিয়ে তিন নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের (ঠেলে পাঠানো) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে, তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে উপজেলার ধবলসূতি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) সীমান্তের ৮৩৩/৯-এস নম্বর পিলারের কাছে ঘটনাটি ঘটে। বিজিবি সূত্র জানায়, ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে ভারতের ৯৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ-এর খরখড়িয়া ক্যাম্পের সদস্যরা কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে তিন নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। সীমান্তে টহলরত বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বিজিবির তীব্র বাধার মুখে বিএসএফের পুশইনচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে ওই তিন নারী সীমান্ত পিলার ৮৩৩/৯-এস থেকে আনুমানিক ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। ৬১ বিজিবির (তিস্তা ব্যাটালিয়ন-২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির পর বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডারের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা হয়েছে। সীমান্তে অবস্থান করা ওই নারীদের দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য বিএসএফকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি ও সতর্কতা জারি রয়েছে।
নগরকান্দায় পিআইওর বিরুদ্ধে উৎকোচ, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে উৎকোচ গ্রহণ, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর অভিযোগে বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আমিনুল ইসলাম ২০২৩ সাল থেকে নগরকান্দা উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত কাবিখা, কাবিটা, জিআরসহ বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ হারে উৎকোচ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা খান অভিযোগ করে বলেন, “পিআইও অফিসে ২০ শতাংশ দিতে হয়। ব্যাংকেও ১৫ শতাংশ ভ্যাট কেটে নেয়। এছাড়া অফিস সহকারী ইলিয়াস ও সুরুজকে আলাদাভাবে টাকা দিতে হয়। তারা প্রকল্প পরিদর্শনে এলে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা না দিলে কাজ এগোয় না।” ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম বলেন, “প্রতিটি প্রকল্পেই পারসেন্টেজ নেওয়া হয়। এমনকি নিজের নামে প্রকল্প ভাগ করে কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও শুনেছি।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার পরিবর্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অফিস সহকারীরাই প্রকল্প দেখভাল করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যদের কাছ থেকে ৩৫০ টাকার স্ট্যাম্পের বিপরীতে প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পর্যায়ের কাবিখা (গম) কর্মসূচির আওতায় ডাঙ্গী ইউনিয়নের গোয়ালপোতা গ্রামের ছরো পাগলার বাড়ি থেকে চোকদার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে বাস্তবে কাজ না করেই সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু প্রকল্পের ঠিকানা ও অবস্থান বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যায় না। লস্করদিয়া ইউনিয়নের একটি ইটের সলিং প্রকল্পের বাস্তব অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় অসহায় পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত কম্বল, ঢেউটিন ও শুকনা খাবার বিতরণে অনিয়ম এবং প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য সরকারি বিধি অনুযায়ী নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ না করে গোপন রাখার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ পর্যায়ে ওই কর্মকর্তা নিজের নামে চারটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। এর মধ্যে উপজেলা পিআইও অফিসে আইপিএস স্থাপনের একটি প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন শুরু না হলেও স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে আসার পর তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া ৩৯টি জিআর প্রকল্পের ডিও ছাড়িয়ে দেওয়ার নামে কৃষ্ণা দাস নামে এক নারীর কাছ থেকে এক লাখ ৯২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি কোনো তথ্য দেব না। আমার বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা লিখুন, আমি পারলে তার জবাব দেব।” অফিস সহকারী ইলিয়াস ও সুরুজ বলেন, “স্যার যা নির্দেশ দেন, আমরা সেটাই পালন করি।” এ বিষয়ে জেলা ত্রান কর্মকর্তা বলেনঃ এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ছয় মাস পর সুস্থ হয়ে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক আবাসে ফিরছে বাঘিনীটি
সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় হরিণ শিকারিদের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়ে আহত বাঘিনীটি দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার পর সুস্থ হয়ে আবারও সুন্দরবনের প্রাকৃতিক আবাসে ফিরছে।আজ রোববার (১২ জুলাই) আহত বাঘিনীটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করবে বন বিভাগ। বন বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় হরিণ শিকারিদের পেতে রাখা একটি ফাঁদে আটকা পড়ে প্রায় ১০ বছর বয়সী বাঘিনীটি গুরুতর আহত হয়। দীর্ঘ সময় ফাঁদে আটকে থাকায় তার সামনের বাঁ পায়ের চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরা বাঘিনীটিকে উদ্ধার করে খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত চিকিৎসা, ড্রেসিং ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তোলা হয়। টানা ছয় মাসের চিকিৎসা শেষে বাঘিনীটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাই তাকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থল সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে একটি অসুস্থ রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে পুনরায় সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হচ্ছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরে বাঘিনীটি স্বাভাবিকভাবে বিচরণ করতে পারবে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গাইবান্ধার বালাসীঘাটে জিও ব্যাগ ডাম্পিং এ দূর্নীতির অভিযোগ
পাানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান উন্নয়ন ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও গুণগত মানহীন সামগ্রী ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট প্রমান । নদী তীরবর্তী মানুষ যখন ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, তখন এই চক্রটি সরকারি অর্থ পকেটে ভরতে ব্যস্ত। গাইবান্ধায় নদী ভাঙ্গন রোধে পানী উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ইমার্জেন্সি জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজে ব্যাপক দুর্নীতি। আকর্ষিক ভাবে এমপির অভিযান।নিষেধ স্বর্তেও দুর্নীতির বুঝা মাথায় নিয়ে জিও ফেললেন ঠিকাদার। ১০/৭/২০২৬ ইং শুক্রবার গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাটের দক্ষিন পাশে পানী উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ইমার্জেন্সি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের খবর পেয়ে সরেজমিনে যান জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল ওয়ারেছ। এ সময় তিনি জিও ব্যাগের মান,বালুর এফএম ও নির্ধারিত ওজনে ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত করেন। স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, পানী উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শরিফুল ইসলাম ও এসডি-১ আবু সায়েম মোঃ শাফিউর ইসলাম সহযোগিতায় এ সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ,এই প্রকল্পে কয়েকদিন আগেও ৫ বস্তা জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে অনিয়মের কথা বললেই ঠিকাদার অফিস মিটায়েছি তোদের কি বলে আমাদেরকে নানা ভয়-ভীতি ও হুমকী দেন। গাইবান্ধা পানী উন্নয়ন বোর্ড ও ফুলছড়ি উপজেলা প্রশাসনের ছত্রছয়ায় বুলগেট ও ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি প্রভাবশালী মহল বালু উত্তোলন করে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছেন। যেন দেখার কেউ নেই।উক্ত এলাকার ভাঙ্গন রোধে ইমার্জেন্সি জিও ব্যাগ প্রকল্পে নেই কোন সাইনবোর্ড। অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে এসডি-১(উপ-সহকারী প্রকৌশলী) আবু সায়েম মোঃ শাফিউর ইসলামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি। ভুক্তভোগী মহল দুর্নীতিবাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ষ্টিমেট ও সিডিউল মোতাবেক কাজ করার দাবী জানান।
ঠাকুঁরগাও হরিপুরে এক বুক সমান পানি দিয়ে কবরস্থানে নিয়ে যাচ্ছে মায়ের লাশ
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার রনহাট্টা (ফালডাঙ্গী) গ্রামে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই গত(৯/৭/২০২৬) বৃহস্পতিবার বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান মফিজান(৮০) এক বৃদ্ধা। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির কারনে কবরস্থানে যাওয়ার রাস্তাটি বণ্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গ্রামবাসী, আত্বীয়স্বজন ও মফিজানের দুই সন্তান বিকল্প কোন পথ না পেয়ে মরদেহ দাফনের উদ্দেশ্যে এক বুক / গলা সমান পানি পেরিয়ে কাঁধে করে মায়ের মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যান এবং দাফন কাজ সম্পন্ন করেন। প্রতিকূল পরিবেশে প্রিয় মানুষকে শেষ বিদায় জানানোর এই হৃদয়বিদারক ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গ্রামবাসী জানান, বর্ষার মৌসুমে কেউ মারা গেলে লাশ দাফনের জন্য গলা সমান পানি পার হতে হয়, দেশ স্বাধীনের পরে এই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন কোন উন্নয়ন না হওয়ার বাস্তব চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছে এলাকাবাসী । তরুনদের প্রচেষ্টায় নিজ অর্থায়নে এই নোনাখালে রাস্তা নির্মাণ করেছিলো গ্রামবাসী। একটি ব্রীজের অভাবে বণ্যার পানিতে তলিয়ে গ্রামবাসীর স্বপ্নের সেই রাস্তাটিও আজ বিলীনের পথে। নির্বাচনের আগে গ্রামবাসীকে জনপ্রতিনিধিরা এই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচিত হওয়ার পরে এই গ্রামের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন আর হয়না। যে সরকার ক্ষমতাই আসুক না কেনো কথা দিয়ে কেউ কথা রাখে না বলে মন্তব্য করেন গ্রামবাসী। অথচ ২ কিঃমিঃ রাস্তা পাকাকরণ হলেই উপজেলার প্রধান সড়কের সাথে সংযুক্ত হবে এই রাস্তাটির। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে উপকৃত হবে শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী। দ্রুত এই গ্রামের যোগাযোগ মাধ্যম রাস্তাগুলোর সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গ্রামবাসী ।
ঠাকুরগাঁওয়ে একদিনের বেতন বাঁচিয়ে ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা পরিষদে কর্মরত ১৫ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা নিজেদের একদিনের বেতন বাঁচিয়ে ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছেন。 তারা উপজেলা পরিষদের পতিত জমিতে ৫০০টি গাছের চারা রোপণ করেছেন。 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চন্দন কর কর্মচারীদের এই মহতী উদ্যোগকে গভীরভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সবার জন্য গাছ, গাছের জন্য জীবন” স্লোগানকে সামনে রেখে সরকারেরর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন হরিপুর উপজেলার সরকারী কর্মচারীগণ। নিজেদের একদিনের বেতন জমিয়ে তারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনাচে-কানাচে পরিত্যাক্ত ও পতিত জমিসহ রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ করছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদের কর্মচারী শহিদুল হক এর নেত্রীত্বে ১৫ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের নিজ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরের অব্যবহ্নত ও পতিত জায়গা গুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির ৫শ’ গাছেন চারা রোপন করেন। উপজেলা পরিষদের কর্মচারী সোহেল রানা, রবিউল ইসলাম, সুদেব, আব্দুল হাকিম, খলিল, পলাশসহ সকল কর্মচারীগণ সকলেই বলেন, আমরা বেতন কম পই তবু দেশের জন্য কিছু করতে চাই। এক দিনের বেতন দিয়ে আমরাদের সংসার চলবে, আবার মাটিও সবুজ হবে। ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণে আমরাও শরিক হলাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চন্দন কর এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রমংসা করে বলেন, এই কর্মসূচি প্রমান করে দেশ গড়তে পদমর্যদা বড় কথা না, মানসিকতাই আসল। তাদের দেওয়া চারাগুলোই একদিন ছায়া দেবে আগামী প্রজন্মকে।
কলাপাড়া বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন, ভোট পড়েছে ৯০ শতাংশের বেশি
পটুয়াখালীর কলাপাড়া বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির ২০২৬ সালের নির্বাচন শুক্রবার (১০ জুলাই) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ২ হাজার ৩৭৮ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ১৪২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা মোট ভোটারের ৯০ শতাংশেরও বেশি। সমিতির ১২টি পদের বিপরীতে মোট ২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে দুইজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় বাকি ১০টি পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটাররা ৯টি ব্যালটের মাধ্যমে ১০ জন প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। নির্বাচনকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা সম্পন্ন করে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে নাজমুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সৈয়দ মোহাম্মদ রাসেল নির্বাচিত হন। এছাড়া নির্বাচিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হলেন— সিনিয়র সহ-সভাপতি রেহান উদ্দিন রেহান, সহ-সভাপতি রহিমুল হক হিরু, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হোসেন তালুকদার, দপ্তর সম্পাদক খালেকুজ্জামান, ক্রীড়া সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোনাফেক খান, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ জাফর, ১ নম্বর কার্যনির্বাহী সদস্য জহিরুল ইসলাম এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আলমগীর হোসেন। ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে ব্যবসায়ীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তারা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বন্দর এলাকার উন্নয়ন এবং সমিতির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ঝিনাইদহে চকলেটের প্রলোভনে শিশুকে যৌন হয়রানি: আটক ১ জন
ঝিনাইদহ পৌর শহরের ভুটিয়ারগাতি গ্রামে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে আট বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এই জঘন্য ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনির শিকার হয়েছেন লিটন বিশ্বাস (৫৫) নামের এক মুদি দোকানদার পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে ভুটিয়ারগাতি বিশ্বাসপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। কৌশলে পালায় শিশু, এলাকাবাসীর ক্ষোভ স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ভুটিয়ারগাতি গ্রামের মুদি দোকানদার লিটন বিশ্বাস ওই শিশুকে চকলেট দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেয়। এরপর সে শিশুটিকে যৌন হয়রানি করে। একপর্যায়ে শিশুটি কৌশলে তার হাত থেকে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে এবং কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলে। ঘটনাটি জানাজানি হলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তাৎক্ষণিকভাবে ওই মুদি দোকানে চড়াও হয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত লিটন বিশ্বাসকে গণধোলাই দিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখে এবং পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত দোকানদার উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের জিম্মায় নেয়। গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় পুলিশ প্রথমে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। চিকিৎসা শেষে তাকে সরাসরি থানা হাজতে পাঠানো হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান "শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে স্থানীয় জনতা এক মুদি দোকানদার মারধর করে আটকে রেখেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানা হাজতে আটকে রেখেছে। এই ঘটনায় ভিকটিম শিশুর পরিবারকে থানায় ডাকা হয়েছে। লিখিত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" এলাকাবাসী এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত লম্পট মুদি দোকানির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শ্রীপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মিছিল থেকে ৬ জন আটক
গাজীপুরের শ্রীপুরে বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মিছিলের থেকে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। স্থানীয়দের দাবি, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগও উঠেছে। তবে বিস্ফোরণের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর আড়াইটা বিকেল ৩টার মধ্যে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাতখামাইর-দুর্লভপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা থেকে একটি কালো রঙের হাইয়েস ও একটি বাসে করে কয়েকজন যুবক সাতখামাইর এলাকায় আসেন। তাদের কাছে একটি ব্যানার থাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে কয়েকজনকে আটক করেন। পরে তাদের শ্রীপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে থাকা বাসটি চলে যেতে সক্ষম হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ব্যানারে লেখা ছিল, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ২.০ লোডিং...’ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভের আহ্বান। ব্যানারে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রলীগের নামও উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বরমী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রনি আকন্দ বলেন, ‘সাতখামাইর এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে।’ বরমী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আখতারুজ্জামান শামীম তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে দাবি করেন, জুমার নামাজের পর গফরগাঁও থেকে আসা কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৪১৮৯ নম্বরের একটি হাইয়েসসহ ছয়জনকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। তিনি ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগও করেন। পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার রাজু (২৩), তানজিম (১৪), ওয়ালি ইসলাম (৩২), মোবারিজ (২০), কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার রাব্বি (১৯) এবং ইমন (২০)। শ্রীপুর থানার ওসি (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বলেন, ‘মিছিলের প্রস্তুতির সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা একটি হাইয়েস জব্দ করা হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং উদ্ধার হওয়া ব্যানার ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগের সত্যতাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ১০/৭/২৬ইং
মাদকের প্রতিবাদ করায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তারেকের ওপর হামলা
গাইবান্ধা শহরে পলাশপাড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা তারেকুজ্জামান তারেক-এর ওপর এক মাদক ব্যবসায়ী বার্মিজ ছুরি দিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এবং ভুক্তভোগীর দাবি, সদর থানার ওসি ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসিকে একাধিকবার মাদক ব্যবসার বিষয়ে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার অভিযোগ, পলাশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এলাকা থেকে গাইবান্ধা ক্লিনিক পর্যন্ত প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চলে। তারেক এর প্রতিবেশী আতিকুর রহমান আল আমিন মুঠোফোনে জানান পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তারেকের ছোট ভাই আরিফ বড় ভাইকে ছুড়িকাঘাত করেছে। তবে ছোট ভাই আরিফ নেশাগ্রস্ত। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পৌরসভার ৬ নাম্বর ওয়ার্ডে ৬০০ পানিবন্দি পরিবার'র মাঝে চাল বিতরণ
টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মীরপাড়া ও বহদ্দারপাড়া এলাকার পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বহদ্দারপাড়া এবং বিকেলে মীরপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহর পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সদস্য শওকত আলমের নির্দেশনায় বোয়ালখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও বিএনপি নেতা হাজি আবু আকতারের উদ্যোগে এ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রথম দিনে দুইটি এলাকায় মোট ৬০০টি পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চাউল বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব গোমদণ্ডী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুর হক মেম্বার, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ইব্রাহিম সওদাগর, মোঃ বশির আহমদ, মোঃ জহুর মিয়া, মোঃ সেলিম, মো. হারুন, মো. মামুন, জহির সওদাগর, মো. ওসমান, পৌরসভা ছাত্রদল নেতা বাপ্পি, মো. রহিমসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এসময় তাঁরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব। তারা জানান, পানিবন্দি মানুষের জন্য এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে।
সাতক্ষীরায় নিখোঁজের দুই দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটনে তদন্তে পুলিশ
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুলপোতা গ্রামে নিখোঁজের দুই দিন পর আব্দুর রহমান নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আব্দুর রহমান একই এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে এবং পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় সরকারি আবাসন প্রকল্পে বসবাস করতেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ৮ জুলাই থেকে আব্দুর রহমান নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর শুক্রবার সকালে সরকারি আবাসন প্রকল্পের বসতঘরের পেছনে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিজ বাড়ির পেছন থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।