বাংলাদেশ বার্তা টুডে
শ্রীপুরে পৃথক অভিযানে দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় পুলিশের পৃথক বিশেষ অভিযানে ৭৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আজ (৯ জুলাই) বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয় শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল উপজেলার বহেরারচালা এলাকার একটি কার্টন ফ্যাক্টরির পাশে আব্দুল করিমের দোকানের সামনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. সুমন মিয়া (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার সুমন মিয়ার বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায়। তিনি বর্তমানে শ্রীপুর উপজেলার বহেরারচালা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই অভিযানের ধারাবাহিকতায় রাত ১১টা উপজেলার ভাংনাহাটি এলাকার একটি ঢালাই পাকা সড়ক থেকে মো. চান মিয়া (৩৮) নামে আরও এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। চান মিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায়। তিনি শ্রীপুরের ভাংনাহাটি এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধেও একই আইনে শ্রীপুর মডেল থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানায়, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বার্তা প্রেরক মহিউদ্দিন আহমেদ শ্রীপুর গাজীপুর সংবাদদাতা ৯/৭/২৬ইং
টানা বর্ষণে পানিবন্দি বোয়ালখালীবাসির পাশে দাঁড়ালেন এমপি এরশাদ উল্লাহ
গত চারদিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়া জেলার বোয়ালখালী উপজেলার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তিনি উপজেলার বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং শুকনো খাবার বিতরণ করেন। ভারী বর্ষণে উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের চরখিজিরপুরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। কোথাও সড়ক, আবার কোথাও ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের রান্নাবান্নাও বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। এ অবস্থায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে দুর্গত এলাকায় যান এমপি এরশাদ উল্লাহ। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কামরুল হোসাইন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজিজুল হক চেয়ারম্যান, পৌর বিএনপি নেতা শহীদুল্লাহ চৌধুরীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। এমপি এরশাদ উল্লাহ বলেন, টানা বর্ষণে অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা কর্মস্থলে যেতে না পারায় চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। দুর্যোগের এই সময়ে এলাকার মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
নড়াইলের লোহাগড়ায় নারী নির্যাতন মামলা পুলিশের বিরুদ্ধে আসামী না ধরার অভিযোগ
মামলার বাদী কর্তৃক পুলিশকে আসামী সনাক্ত করে দেওয়ার পরও আসামীকে আটক না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজাহার ও মামলার বাদী সূত্রে জানা যায়, বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামের মিলন মোল্যার স্ত্রী শিউলি বেগমকে গত ২৮ জুন, সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে তার বাড়িতে প্রবেশ করে একই গ্রামের ইকলাজ মোল্যার ছেলে শামীম মোল্যা (মশিয়ার) ও তরিকুল মোল্যার নেতৃত্বে নাঈম, সজিব, শান্ত ও রিফাত মোল্যা বেধড়ক মারপিট করে গুরুত্বর আহত করে। প্রতিবেশিরা আহত অবস্থায় শিউলি বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এঘটনায় শিউলি বেগম বাদী হয়ে ওই দিন রাতে লোহাগড়া থানায় মামলা করতে গেলে রহস্যজনক কারনে মামলা রেকর্ডভূক্ত না করে টালবাহানা করে ফিরিয়ে দেয় ওসি। শিউলি বেগম মামলাটি রেকর্ডভূক্ত করাতে থানায় একাধিকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গত ১লা জুলাই নড়াইলের বিজ্ঞ আদালতের সাহায্য প্রার্থনা করেন। বিজ্ঞ আদালত শিউলি বেগমের জবানবন্ধি ও মারপিটের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে লোহাগড়া থানার ওসিকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের উক্ত নির্দেশে গত ৩রা জুলাই লোহাগড়া থানা পুলিশ মামলাটি রেকর্ডভূক্ত করে এসআই কুমারেশ বিশ্বাসকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করেন। যার মামলানং ০৪। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ৪জুলাই ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামীদের কাছেই নাম ঠিকানা যাচাই করার সময় শিউলি বেগম আসামী তরিকুল, শামীম (মশিয়ার), রিফাত, সজিব ও শান্ত মোল্যাকে সনাক্ত করে দিলেও তারা ক্ষমতাশীন দলের নেতা-কর্মী ও মামলার প্রধান আসামী শামীম ও তরিকুলের বড় ভাই বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানায় কর্মরত এসআই মিজানুর রহমানের পরিচয় দেওয়া এবং তার প্রভাব থাকায় তাদের গ্রেফতার করেন নাই বলে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাদী অভিযোগ করেন। বাদী আরও অভিযোগ করে বলেন, এস আই মিজানুর রহমান ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসে বাদীকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ও মিথ্যা মামলার ভয়ভীতি দিচ্ছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমারেশ বিশ্বাস বলেন, আসামীদের নামের সঠিকতা না থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয় নাই। নাম যাচাই করতে গেলে সবাই দৌড়ে পালিয়ে যায়। লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আব্দুর রহমান’র কাছে এ বিষয়ে জানার জন্য সরকারী মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেন নাই।
ঝিনাইদহে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন
জলবায়ু পরিবর্তন; আজকের পদক্ষেপ’ আগামীর নিরাপত্তা' এই শ্লোগান সামনে রেখে ঝিনাইদহে বিশ্ব পরিবেশ দিবস।উদযাপিত হয়েছে বৃহস্পতিবার(৯ জুলাই) জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকালে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উব্দোধন করা হয়। পড়ে সেখান থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য র্যালী। র্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। র্যালী শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে হয় আলোচনা সভা। এতে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, সিভিল সার্জন ডা মো.কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোসফেকুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুন্তাছির রহমান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। সেসময় বক্তারা, সেসময় বক্তারা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়ে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, নদী-খাল ও জলাশয় দূষণমুক্ত রাখা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ভাঙ্গায় ৭৩ দপ্তরির বেতন-বোনাস আত্মসাতের অভিযোগে শিক্ষা অফিস ঘেরাও, বিক্ষোভ
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশপ্রহরীদের কয়েক মাসের বেতন-ভাতা এবং ঈদের বোনাস আত্মসাতের অভিযোগ তুলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি তার স্ট্যান্ড রিলিজের খবর ছড়িয়ে পড়লে তারা বকেয়া বেতন-ভাতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে অফিস ঘেরাও করেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মহেশ্বরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ইব্রাহিম অভিযোগ করেন, উপজেলার ৭৩টি বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশপ্রহরীদের তিন থেকে চার মাসের বেতন এবং ঈদ বোনাস এখনো পরিশোধ করা হয়নি। তার দাবি, ভুয়া নিয়োগের মাধ্যমে তাদের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। দ্রুত বকেয়া পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। একই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, বদলির কথা বলে তাদের কাছ থেকেও অর্থ নেওয়া হয়েছে। তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। রায়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি জাহিদ মাতুব্বর বলেন, অতীতেও বেতন পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতা ছিল। এবারও বাজেট না আসার কথা বলে কয়েক মাস ধরে বেতন আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বদলির আদেশকে কেন্দ্র করে শিক্ষক প্রতিনিধি ও দপ্তরিরা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তাদের অভিযোগ শোনা হয়েছে এবং বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তে অনিয়ম বা শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনও বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মঠবাড়িয়ার এক আসামির মুত্যু
ঢাকা মোহাম্মদপুর থানার যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মোহাম্মদপুর শহীদ সিটি পার্ক সিটি কর্পোরেশন মার্কেটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ১০নং হলতা গুলিসাখালী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড এর বাসিন্দা আজাদ হোসেন (কনু) মাতুব্বরের ছেলে মনিরুজ্জামান মনির মাতুব্বর(৪০) বুধবার রাত দশটায় কেন্দ্রীয় কারাগারে ইন্তেকাল করেন। তিনি মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সদস্য। জানাগেছে, মনিরুজ্জান মনির ৫ই আগস্ট ২০২৪ সালের পরে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিল। কারাগারে সে অসুস্থ্য ছিল বলে পরিবার দাবী করেন। কারা কর্তৃপক্ষ তার পরিবারের কাছে মুঠোফোনের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন বলে স্বজনরা গণমাধ্যমকে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেন। তবে কোথায় তার লাশ দাফন করা হবে তা এখনও সিদ্বান্ত হয়নি।
শ্রীপুরে এক রাতে কৃষকের তিনটি খামারে ৬ গরু চুরি
গাজীপুরের শ্রীপুরে গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রামে এক রাতে কৃষকের তিনটি খামারে ছয়টি গরু চুরি ঘটনা ঘটেছে। চুরি হওয়া গরুর মধ্যে রয়েছে প্রায় সাত লাখ টাকা মূল্যের দুটি গাভিন গাভী ও একটি ষাঁড়। গরু চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় খামারিরা। ভুক্তভোগী কৃষক কবির হোসেন জানান, বুধবার (৮ জুলাই) রাত দেড়টা পর্যন্ত গোয়ালঘরে গিয়ে গরুগুলো দেখে ঘুমাতে যান। ভোররাতে ঘুম ভেঙে গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন, গেট ও গোয়ালঘরের তালা ভেঙে তার তিনটি অস্ট্রেলিয়ান জাতের গরু চুরি হয়ে গেছে। এর মধ্যে কালো ও সাদা রঙের দুটি গাভী গাভিন ছিল এবং প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩২ লিটার দুধ দিত। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই দুধ বিক্রি করতেন। গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাত লাখ টাকা। একই রাতে কৃষক হাদিউল ইসলামের গোয়ালঘর থেকে দুটি এবং খামারি আজিজুল ইসলামের একটি গাভী চুরি হয়েছে। আজিজুল ইসলাম বলেন, তার চুরি হওয়া গাভীর আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকদিন আগেও একই গ্রামের কাজল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটে। একের পর এক চুরির ঘটনায় খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাখাল চন্দ্র বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একজন কৃষকের তিনটি গরু চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্য দুই ভুক্তভোগী এখনো লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, তিনি ছুটিতে থাকলেও সকালে বিষয়টি জেনেছেন। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
মঠবাড়িয়ায় প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিরোজপুর পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদী উপজেলার কাকড়াবুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান হাওলাদারের ছেলে এমাদুল হাওলাদার। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ভুয়া চেক ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন আদালতে মামলা দায়ের এবং পরে সমঝোতার নামে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। একই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জালাল হাওলাদারসহ আরও কয়েকজন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল সালাম জানান, গত ৬ জুলাই মামলাটি দায়ের করা হলে আদালত তা গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলায় উপজেলার বকসির ঘটিচোর গ্রামের মৃত মনোহর মিত্রের ছেলে শংকর ভূষণ মিত্র, পৌর শহরের গয়ালীপাড়া এলাকার শুধাংশু কর্মকারের ছেলে সঞ্জীব কর্মকার, অভনী ভূষণের ছেলে অসিম বাবু, কাকড়াবুনিয়া গ্রামের রবিউল হাওলাদারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে, গত ৩ জুলাই ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। একই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের কাছেও অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে মঠবাড়িয়ার দুই সাংবাদিকের কাছেও একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। তবে তারা দাবি করেন, নোটিশের খামের ভেতরে কোনো কাগজপত্র ছিল না। এ ঘটনায় গত ২৭ জুন মঠবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৫৭৩) করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডের কারণে বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি থেকে রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নড়াইলের কালিয়ায় র্যাবের অভিযানে অস্ত্র গুলিসহ একজন গ্রেপ্তার
নড়াইলের কালিয়ায় র্যাবের অভিযানে অস্ত্র গুলিসহ একজন গ্রেপ্তার। নড়াইলে ওয়ান শ্যুটার গান, গুলিসহ একজন আটক নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় একটি ওয়ান শুটার গান, দুই রাউন্ড গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ খবির মোল্যা (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র্যাব-৬। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা অভিযানে র্যাব-৬ হামিদপুর ইউনিয়নের সিলিমপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করে। র্যাব-৬ খুলনার কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটককৃত খবির মোল্যা উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের সিলিমপুর গ্রামের কাউসার মোল্যার ছেলে। র্যাব-৬ সূত্রে জানা যায়, বুধবার গোপন সংবাদ পেয়ে র্যাব-৬ খুলনার কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল উপজেলার সিলিমপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে খবির মোল্যাকে আটক করা করব। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, দুই রাউন্ড গুলি এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির ঘটনায় আটক খবির মোল্যার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, র্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ একজনকে আটকের ঘটনা শুনেছি। তবে এখনো থানায় আসামি হস্তান্তর করা হয়নি। আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।
আল্লাহর কাছে যারা সবচেয়ে সম্মানিত
আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ওই ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা তাকওয়ার অধিকারী। ’ (সুরা হুজরাত-১৩) তাকওয়া এবং খোদাভীতি মানুষকে পরিশুদ্ধ করে, আলোকিত করে, সৎকাজে উৎসাহ জোগায় এবং পাপাচার বর্জন করার প্রেরণা সৃষ্টি করে। তাকওয়া অর্জনের ফলে একটি মানুষ অন্যায়-অনাচার, সুদ-ঘুষ বর্জন করতে পারে। গড়ে উঠতে পারে একটি আদর্শ ও শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা।
গাইবান্ধায় অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্যের দাবিতে মানব বন্ধন জেলা প্রশাসক নিকট স্মারকলিপি প্রদান
গাইবান্ধা পুরাতন জেলখানা মোড় হতে ইসলামিয়া শিক্ষালয় পর্যন্ত অধিগ্রহণকৃত ভূমির ন্যায্যমূল্যে দাবিতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী স্থানীয় জনসাধারণ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহরের পুরাতন ব্রীজ রোডে স্থানীয় জনসাধারণের ব্যানারে এই মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন পুরাতন বাজারে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মিয়া রিজু,রোস্তম আলী,খাদেমুল ইসলাম খুদি সহ ভুক্তভোগী জনসাধারণ। এসময় তারা বলেন,পুরাতন ব্রীজ রোড একটি বানিজ্যিক এলাকা হওয়ার সত্ত্বেও এই এলাকার জনসাধারণকে ভূমি অধিগ্রহণের ন্যায্যমূল্যে থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অথচ জেলার অন্যান্ন বানিজ্যিক এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণে সঠিক মূল্যে দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে পুরাতন ব্রীজ রোডে জনসাধারণ জমির সঠিক মূল্যে কেনো পাবে না সেব্যাপারে জেলা প্রশাসনের সঠিক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বক্তারা। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসন বরাবর একটি স্মারক লিপি দেন তারা।
পাহাড়ি ঢলে নিখোঁজ যুবক; চলছে উদ্ধার অভিযান
সবুজ অরণ্য, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: জেলার বোয়ালখালীতে পাহাড়ি ঢলে ভাণ্ডালজুড়ি খালে দিদার আলম হৃদয় (১৮) নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে জ্যৈষ্ঠপুরার লিচু বাগানে কাজে যাওয়ার সময় সে ভাণ্ডালজুড়ি খালের লেচু বারিচা নামক স্থানে তলিয়ে যায়। দিদার আলম হৃদয় শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জ্যৈষ্ঠপুরা পূর্ব জ্যৈষ্ঠপুরা গুচ্ছগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা। তার পিতা নাম মৃত ইলিয়াছ। হৃদয় পাহাড়ে সৃজিত বাগানে শ্রমিক হিসেবে দিনমজুরি করে সংসার চালায়। সকালে কাজে যাওয়ার জন্য খাল পার হতে গিয়ে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা আবু সুফিয়ান। নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী বলেন, ‘সকালে হৃদয় পাহাড়ে কাজ করতে গিয়েছিলে। ভারী বর্ষণে ভাণ্ডালজুড়ি খালে পাহাড়ি ঢল ছিল। খাল দিয়ে পার হতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, ‘নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছেন।
সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ,অস্ত্র, গোলাবারুদ ও জিম্মি জেলে উদ্ধার
সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ; উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও জিম্মি জেলে। বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। উক্ত অভিযানের প্রেক্ষিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হতে অদ্যাবধি ৪৯ টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগান গোলা ও ২টি ওয়াকি-টকি উদ্ধার এবং ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এছাড়াও সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনী তার সহযোগীসহ সর্বমোট ৭ জন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কোস্ট গার্ডের কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ প্রেক্ষিতে, গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ বুধবার বিকাল ৫ টায় বাগেরহাটের শরনখোলা থানাধীন সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ড এর নিকট আত্মসমর্পণ করে। এসময় তাদের কাছে থাকা ২ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১ টি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ড এর নিকট জমা প্রদান করে। এছাড়াও উক্ত সময় ডাকাত সদস্যদের নিকট হতে জিম্মি থাকা ১ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। আত্মসমর্পণকারী ডাকাত আলামিন হোসেন (৪০) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানা, তৈবুর রহমান (২৪) সাতক্ষীরা জেলার তালা থানা এবং মনিরুজ্জামান মামুন (২০) খুলনার জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেকে পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর নিরলস অভিযান এবং কঠোর অবস্থানের কারণেই সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো অনেকাংশে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সুন্দরবনের সকল সক্রিয় ডাকাতদের দস্যুবৃত্তি পরিহার করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর নিকট আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে ইচ্ছুক, আত্মসমর্পণের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ প্রদান করা হবে। অন্যথায়, যারা আত্মসমর্পণ না করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত “জিরো টলারেন্স” নীতির আলোকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একইসাথে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। সরকারের নির্দেশনা, আপনাদের সকলের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।
কিশোরগঞ্জে মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের নোহার নান্দলা ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুস সালাম আকন্দের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, সরকারি প্রকল্পের অর্থের অপব্যবহার, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থের হিসাব না রাখা এবং সুদের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী, অভিভাবক ও মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় ও মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন খাতে অনিয়ম করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি প্রকল্পের আওতায় মাঠে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে মাঠে মাত্র ৫ থেকে ৬ ট্রাক মাটি ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে মোট ২৯ জন শিক্ষক ও প্রায় ৬০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার মাসিক ও বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষের কাছে নিয়মিত উপস্থাপন করার বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা করা হয়নি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি নির্দিষ্ট বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা কমিশন নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের বই কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রিন্সিপাল কমিশনের টাকা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও ওই অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফিসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায় করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো অফিসিয়াল রশিদ প্রদান করা হয় না। অভিযোগকারীদের দাবি, আদায়কৃত অর্থ মাদ্রাসার নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব বা অফিসিয়াল তহবিলে জমা না রেখে প্রিন্সিপালের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয় এবং সেখান থেকে ইচ্ছেমতো ব্যয় করা হয়। আরও অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে প্রিন্সিপাল নিজের নামে “দারুস সালাম ফাউন্ডেশন” নামে একটি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষকদের কাছে সুদে অর্থ লেনদেন করা হয়। এছাড়া মাদ্রাসার কৃষিজমি থেকে উৎপাদিত ধানও প্রতিষ্ঠানের গুদামে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুস সালাম আকন্দের বক্তব্য নেওয়া হলে তিনি বই কোম্পানির কাছ থেকে কমিশনের টাকা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ওই অর্থের ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের রশিদ না দেওয়া এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন্নাহার বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এদিকে মাদ্রাসার সাবেক অভিভাবক সদস্য আব্দুল আলী, সাবেক প্রিন্সিপাল ও প্রতিষ্ঠাতার ছেলে মোজাম্মেল হক এবং অভিভাবক সদস্য মন্নান মিয়া অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অসুস্থ হাতি 'রাজু বাহাদুরের, চিকিৎসায় গাজীপুর সাফারি পার্কে থাই বিশেষজ্ঞ দল
গাজীপুর সাফারি পার্কে অন্য হাতির আক্রমণের গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় 'রাজু বাহাদুর' দেড় মাস ধরে চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনা হয়েছে। হাতিটিকে ২০২৫ সালে জানুয়ারি মাসে নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধার করে সাফারি পার্কে আনা হয়েছিল। গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী চিকিৎসক হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকার নাইন জানান,হাতিটির একটি পা ভেঙে গেছে। অন্য একটি পায়েও আঘাত আছে। বর্তমানে সে দাঁড়াতে পারছে না। থাইল্যান্ড থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল ও দেশের কয়েকজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সাফারি পার্কের হাতিশালায় তার চিকিৎসা চলছে। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকদের সঙ্গেও পরামর্শ করা হয়েছে। হাতিটির বর্তমান শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। বন বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট নারায়ণগঞ্জ থেকে ‘রাজু বাহাদুর’ নামের হাতিটিকে উদ্ধার করে। মো. আতিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন হাতিটি রাস্তায় ও বিভিন্ন বাজারে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত হতো। খবর পেয়ে বন বিভাগ হাতিটিকে উদ্ধার করে সাফারি পার্কের হাতিশালায় নেয়। হাতিটির বয়স এখন ১০ বছরের বেশি। পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মে হাতিশালায় হাতিটির ওপর সাফারি পার্কের অন্য একটি হাতি আক্রমণ করে। আক্রমণের ধাক্কায় সে মাটিতে পড়ে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পায়। ঘটনার পর একটি ক্রেন এনে হাতিটিকে সেখান থেকে তুলে বালুর ওপর রাখা হয়। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন, অন্য হাতির আক্রমণে পড়ে যাওয়ার কারণে ‘রাজু বাহাদুর’-এর পা ভেঙে যায়। এক্স-রে করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন চিকিৎসকেরা। আহত হাতিটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় গত ৪ জুন থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ বন্য প্রাণী চিকিৎসক দল আনা হয়। সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান হাতিটির চিকিৎসার বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে ‘রাজু বাহাদুর’সহ সাফারি পার্কে মোট ১০টি হাতি আছে।