বাংলাদেশ বার্তা টুডে
গাইবান্ধায় ডিবি পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী আটক
পুলিশ সুপার,গাইবান্ধা মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় এবং অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখা এর নের্তৃত্বে একটি অভিযানিক টিম গোপন সংবাদের ভিক্তিতে গাইবান্ধা পৌরসভা এলাকায় জেলা গোয়েন্দা শাখার জিডি নং- ৪৭, তারিখ- ০৭/০৭/২০২৬খ্রি. মূলে সরকারি গাড়ীযোগে মাদক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কালে ইং ০৭/০৭/২০২৬ তারিখ গাইবান্ধা জেলার সদর থানাধীন গাইবান্ধা পৌরসভার পুরাতন জেলখানার মোড় ট্রাফিক পুলিশ অফিস ভবনের সামনে পাকা রাস্তার উপর অবস্থানকালে ১| মোঃ নুরু মিয়া(৫৫), পিং - মৃত চয়েন উদ্দিন, সাং-পশ্চিম রাধাকৃ্ষ্ণপুর, থানা- গাইবান্ধা সদর, জেলা- গাইবান্ধা কে গ্রেফতার করা হয় | ধৃত আসামীর দেহ তল্লাশী করা কালে স্বহস্তে বের করে দেওয়া মতে তার পরিহিত চেক লুঙ্গির ডান কোচ হইতে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ১৫০( একশত পঞ্চাশ) গ্রাম শুকনো গাঁজা , যাহার অনুমান মূল্য ৩০০০ (তিন হাজার ) টাকা উদ্ধার করিয়া সাক্ষিদের উপস্থিতিতে ইং- ০৭/০৭/২৬ তারিখ , ১৭.৩০ ঘটিকায় যথাযথ বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়। ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানার মামলা নং-১৭, তারিখ-০৭/০৭/২০২৬, ধারা-মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) দায়ের করা হয়েছে| আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
পুঠিয়ায় পৌর ভবন নির্মানের ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাত: দুদকে সাবেক দুই মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ
পুঠিয়ায় পৌর ভবন নির্মানের ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাত: দুদকে সাবেক দুই মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভা ভবন নির্মাণের জন্য সরকারি বরাদ্দের অর্থ থেকে মোট ৫৮ লাখ টাকা পৌর তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার দুই সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছে পুঠিয়া পৌর প্রশাসন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক জানিয়েছে, প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়া পৌরসভা ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে মোট ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অর্থ জনতা ব্যাংক পুঠিয়া শাখায় ‘পৌর ভবন তহবিল, পুঠিয়া পৌরসভা’ শিরোনামে খোলা একটি বিশেষ ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষিত ছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে ওই হিসাব থেকে সাবেক মেয়র রবিউল ইসলাম এবং সাবেক মেয়র আল মামুন অর্থ উত্তোলন করেন। পরে তাঁরা কিছু অর্থ ফেরত দিলেও প্রত্যেকে ২৯ লাখ টাকা করে মোট ৫৮ লাখ টাকা এখনো পৌর তহবিলে জমা দেননি। ফলে সরকারি অর্থের হিসাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস সুমিত বলেন, পৌর ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ নির্ধারিত খাতেই ব্যয় হওয়ার কথা। কিন্তু অডিট প্রতিবেদন ও হিসাব বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের পর তার একটি অংশ আর সরকারি তহবিলে ফেরত দেওয়া হয়নি। শিবু দাস বলেন, ‘এটি সরকারি অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, অডিট-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। এখন বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দুদকের।’ পৌরসভা সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে ওই বিশেষ ব্যাংক হিসাবে মাত্র ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৯ টাকা ৫৪ পয়সা জমা রয়েছে। বাকি অর্থের হিসাব ও তা সরকারি তহবিলে ফেরত না আসার বিষয়টি নিয়েই প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুঠিয়া পৌরসভার প্রশাসনের পাঠানো লিখিত অভিযোগ, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তাঁদের হাতে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ‘অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে দুদকের বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধান টিম গঠন করা হবে। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া পৌরসভার সদ্য সাবেক মেয়র এবং উপজেলা ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুন খান মুঠোফোনে বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। পরে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে ফোন কলটি বিচ্ছিন্ন করেন। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য পুঠিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবির সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থের ব্যবহারে এমন অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশের পর পুঠিয়া এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং সরকারি অর্থের সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরার গাবুরায় বাঁধ কেটে পাইপ বসানো ১২টি অবৈধ নাইনটি অপসারণ করেছে প্রশাসন
সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরাকে রক্ষাকারী ১৫ নম্বর পোল্ডারের টেকসই বেড়িবাঁধ থেকে ১২টি অবৈধ নাইনটি অপসারণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে গাবুরার চকবারা, ডুমুরিয়া, চাদনীমুখা ও ৯ নম্বর সোরা এলাকার বাঁধ থেকে এসব নাইনটি উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি চিংড়িঘেরে নদীর লোনা পানি তোলার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে বাঁধ কেটে ও ব্লক সরিয়ে পাইপের মাধ্যমে এসব নাইনটি স্থাপন করেছিল, যা উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা ও টেকসই বাঁধের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক জানান, সরকার গাবুরার চারপাশজুড়ে এক হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বড় পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। অথচ এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যেই কিছু অসাধু ব্যক্তি সদ্য নির্মিত বাঁধের ওপরের ব্লক সরিয়ে মাটি কেটে পাইপ স্থাপন করে লোনা পানির সংযোগ তৈরি করেছে। খবর পেয়ে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ১০টিরও বেশি নাইনটি অপসারণ করে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যদি সরকারি বাঁধের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদার জানান, গাবুরার চারপাশে টেকসই বাঁধ নির্মাণের কাজ এখনো চলমান। কিন্তু কিছু মানুষ নৌকা আটকানোর খুঁটি স্থাপনের পাশাপাশি রীতিমতো বাঁধ কেটে পাইপ বসিয়ে ক্ষতিসাধন করছিল। বাঁধের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে তাদের আগেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নাইনটিগুলো অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়রা সেই নির্দেশ উপেক্ষা করায় বাধ্য হয়ে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, অভিযানে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী, পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদারসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে উপকূলীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল স্বাগত জানিয়েছে এবং বাঁধ রক্ষায় নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছে।
ঝিনাইদহে বেগুন ক্ষেতে গাঁজার বাগান
যেখানে হওয়ার কথা ছিল বেগুনের চাষ, সেখানে মিলল ৭টি বিশাল গাঁজা গাছ! ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রায় ৭ ফুট উচ্চতার ৭টি গাঁজা গাছ উদ্ধার করেছে। এ সময় ফারুক মন্ডল নামে এক যুবককে আটক করা হয়। আমরা জানি বেগুন ক্ষেতে বেগুনের চাষ হয় যেখানে হচ্ছে গাঁজার চাষ, সেখানে মিলল ৭টি বিশাল গাঁজা গাছ! পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া গাছগুলোর ওজন প্রায় ৫ কেজি ৩০০ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৬০ হাজার টাকা। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস ধরে বেগুন ক্ষেতের আড়ালে গাঁজার চাষ করা হচ্ছিল। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আসন্ন ৮নং মালিয়াট ইউপি নির্বাচন: দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশী সহ. অধ্যাপক আব্দুল মজিদ শেখ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৮নং মালিয়াট ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করেছেন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মজিদ শেখ। তিনি উপজেলার পারখিদ্দাহ্ গ্রামের বাসিন্দা। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তিনি একজন পরিচিত মুখ। বর্তমানে তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি'র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনিত প্রার্থী। সাবেক ছাত্রনেতা,ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক,জেলা তারেক পরিষদের সাধারন সম্পাদক,বাকশিস কেন্দ্র কমিটির সদস্য। তিনি পারখিদ্দাহ্ গ্রামের মরহুম ওয়াহেদন আলী শেখের সন্তান। সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মজিদ শেখ বলেন, "আমি মালিয়াট ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে পাশে থাকতে চাই। ইউনিয়নের অবহেলিত মানুষের সেবা করা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করাই আমার মূল লক্ষ্য। মালিয়াট ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই" এজন্য আমি ইউনিয়নবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করছি।" স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষা প্রসার, সামাজিক উন্নয়ন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে মালিয়াট ইউনিয়নে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মজিদ শেখকে নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছ।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মা ছেলে নিহত
ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার পথে মহাসড়কে পিকাপের ধাক্কায় প্রান গেলো ছেলে ও স্ত্রীর। ঘটনাটি ঘটেছে ৭ জুলাই মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ৮ নং ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকী পাঁচপীর এলাকার ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কে। নিহতরা হলেন- দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার ৫নং সুন্দরপুর ইউনিয়নের মালগ্রাম এলাকার মোঃ নাজমুল ইসলামের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার (২৮) ও ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ (৩)। আহত মোটর সাইকেল চালক মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ নাজমুল ইসলাম (৩২) বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। দশমাইল হাইওয়ে থানার এসআই জিল্লুর রহমান জানায়, মোঃ নাজমুল ইসলাম স্ত্রী ফাহিমা আক্তার ও ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ কে মোটরসাইকেলে নিয়ে ভোরে ঠাকুরগাঁও জেলার উত্তর গড়েয়া হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাওয়ার পথে পিছন থেকে ঠাকুরগাঁও গামী মাছের পিকাপ ধাক্কা দিলে তারা সড়কে ছিটকে পড়ে। এসময় পিকআপটি টি মা ও ছেলের শরীরের উপর দিয়ে পিষ্ট করে পালিয়ে যায়। বীরগঞ্জ থানার কর্ত্যব্যরত রাত্রিকালীন হাইওয়ে ডিউটিতে নিয়োজিত অফিসার এসআই দেবাশীস রায় জানায় সংবাদ পেয়ে ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই, ভোরের কারনে জনগন না থাকায় পিকাপটি পালিয়ে যায়। সড়কের যান চলাচলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাক্তার আবু বক্কর সিদ্দীক জানায়, মা ও ছেলে ২জন হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয় এবং আহত নাজমুল ইসলাম চিকিৎসাধীন রয়েছে। বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নিতে লাশ হাইওয়ে থানা পুলিশরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হাইওয়ে থানার ওসি নির্মূল চন্দ্র মোহন্ত সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সড়ক পরিবহনে আইন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’: মহালছড়িতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত
“উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ,, এই প্রতিপাদ্যে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড(বিআরডিবি)-এর যৌথ আয়োজনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার(৬ জুলাই ২০২৬) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ এরফানুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি নিজেই। সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রবীণচন্দ্র চাকমা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোঃ জিয়াউল ইসলাম, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, মহালছড়ি। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ মনিরুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, মোঃ মতিউর রহমান, সহ-সভাপতি উপজেলা বিএনপি, দীপক সেন, সভাপতি, মোঃ ছানোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, মহালছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাব। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই পল্লী উন্নয়নে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড(বিআরডিবি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমৃদ্ধ গ্রাম গড়ে তোলার ওপর বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা সভার একপর্যায়ে সমিতির সুবিধাভোগী সদস্যদের মাঝে বিভিন্ন গাছের চারাও বিতরন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমবায় সমিতির সদস্য, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরায় ২৬০ কেজি জেলি-পুশকৃত বিষাক্ত চিংড়ি জব্দ, গাড়ির চাকায় পিষ্ট করে ধ্বংস
সাতক্ষীরা শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ২৬০ কেজি জেলি-পুশকৃত বিষাক্ত চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়েছে। পরে জনসম্মুখে এসব চিংড়ি গাড়ির চাকায় পিষ্ট করে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়। গত রবিবার (৫ জুলাই) রাতে শহরের সঙ্গীতা মোড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ হোসেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সাতক্ষীরা থেকে ঢাকাগামী বিভিন্ন পরিবহনে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর জেলি-পুশকৃত চিংড়ি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে—এমন একটি গোপন সংবাদ আসে। এই তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার রাতে শহরের সঙ্গীতা মোড় এলাকায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। তল্লাশিকালে ঢাকাগামী একটি পরিবহন থেকে ২৬০ কেজি জেলি-পুশ করা চিংড়ি জব্দ করা হয়। জব্দকৃত চিংড়িগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রাতেই সবার সামনে গাড়ির চাকায় পিষ্ট করে বিনষ্ট করা হয়। অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ওজন বাড়াতে চিংড়ি মাছে জেলি বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ পুশ করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। খাদ্যে ভেজাল ও ক্রেতা সাধারণের সাথে প্রতারণার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান। জনস্বার্থ রক্ষা এবং খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের এমন নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
শাকপুরা আজগর আলী উচ্চ বিদ্যালয় এডহক কমিটির সভাপতি হলেন সরোয়ার আলমগীর
বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম শাকপুরা হাজী আজগর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ সদস্যের এডহক কমিটির অনুমোদন দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রাম। এতে সরোয়ার আলমগীরকে বোর্ড কর্তৃক সভাপতি মনোনীত করা হয়। রবিবার (৫ জুলাই) বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মোহাম্মদ আবুল কাসেম'র স্বাক্ষর করা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর প্রেরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, উপর্যুক্ত বিষয়ে নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে যে, তাঁর বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যাবলী পরিচালনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র (স্মারক নম্বর- ৩৭.০০.০০০০.০৭২.১৮.০০৩.২৪.৪১ তারিখ- ১৬ মার্চ ২০২৬) মোতাবেক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম'র প্রবিধানমালা- ২০২৪ (৩১ আগষ্ট ২০২৫ তারিখের সংশোধনী) এর প্রবিধান ৬৪ অনুসারে নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে গঠিত এডহক কমিটিকে এই স্মারক ইস্যুর তারিখ হতে ০৬ (ছয়) মাসের জন্য অনুমোদন করা হলো। তাছাড়া পদাধিকার বলে প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিব। মোহাম্মদ মুফিজুল হককে অভিভাবক প্রতিনিধি ও মোহাম্মদ মুছাকে শিক্ষক প্রতিনিধি করা হয়েছে।
বোয়ালখালীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস'২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
"উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় শহরতলি বোয়ালখালীতে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস'২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা। সোমবার (৬ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ফারুক'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ। উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা জহির উদ্দিন ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফ্ফর হোসেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক মোহাম্মদ ইসহাক চৌধুরী, সাবেক সদস্য সচিব হামিদুল হক মন্নান, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজগর, ইউসিসিএ'র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুন্নবী চৌধুরী, সদস্য মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী ও নিয়তি দেবী। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুমন তালুকদার, কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহানুর ইসলাম, মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাঈম হাসান, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলামসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা। সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতির অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বোয়ালখালীকে সমৃদ্ধ করতে সরকারের কার্যক্রমগুলো সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। সভা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও উপকারভোগীদের মাঝে ঋণের চেক ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানের পর দিবসটিকে স্বগত জানিয়ে র্যালির আয়োজন করা হয়। বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূর্ণরায় উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মতবিনিময় সভা
দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ১২টায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জনবল সংকট, রোগীদের সেবার মান বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান, সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুস সামাদ, ডা. শ্যামলী সাহা, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাদেক আলী এবং হাসপাতালের পুরুষ অর্থোপেডিক বিভাগের নার্সিং ইনচার্জ প্রিতম কুমার রায়সহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সবাই হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাতক্ষীরায় ঘের ও জমি জবরদখলের চেষ্টা, সন্ত্রাসী হামলায় ২ যুবক গুরুতর আহত
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানার ৮ নম্বর ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আফসার আলী গাজীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক অন্যের ভোগদখলীয় জমি ও মৎস্য ঘের জবরদখল এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ জুলাই (২০২৬) ঘটা এই বর্বরোচিত হামলায় জমির প্রকৃত মালিকপক্ষের স্বাধীন হোসেন ও আশানুর নামের দুই যুবক মধ্যযুগীয় কায়দায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার দাদপুর গ্রামের তিন ভাই—হাজী আনিসুর রহমান, নজরুল ইসলাম ও জাফর আলী—২০০৭ সালে কালিগঞ্জ থানার দমদমা মৌজার খতিয়ান নম্বর ১৩৭, দাগ নম্বর ২৫-এর জমিটি এসএ রেকর্ডীয় মালিক কুলসুম বিবির নিকট থেকে ক্রয় করেন। জমির মালিকানা দাবি করে একই বছর আদম আলী গাজীর পুত্র বিএনপি নেতা আফসার গাজী আদালতে মামলা দায়ের করলে ২০১১ সালে আদালত ক্রেতাদের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালেও আদালত আফসারের অভিযোগ ভিত্তিহীন ঘোষণা করে পুনরায় ক্রেতাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন। রায়ের প্রেক্ষিতে জমির মিউটেশন (নামজারি) ও খাজনা পরিশোধ সম্পন্ন করে মালিকপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে জমি ভোগদখল ও মৎস্য চাষ করে আসছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে পুঁজি করে ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আফসার আলী গাজী পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তার ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে অবৈধভাবে জমি জবরদখলের চেষ্টা চালান এবং উল্টো আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত কালিগঞ্জ থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিলে তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জমিতে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করেন। কিন্তু আফসার মেম্বার প্রশাসনের সেই নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে ভাড়াটিয়া বাহিনী নিয়ে ঘেরের প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মাছ লুটে নেন, পাশাপাশি ঘেরের ঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং বেড়িবাঁধ কেটে দিয়ে আরও প্রায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করেন। সে সময় বাধা দিতে গেলে মালিকদের মারধর ও খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয়, যার সাক্ষী স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম ও লিটন পাড়। এই ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করা হয়। এই জমি জবরদখলের বিষয়টি নিয়ে গত ২৯ মার্চ জাতীয় দৈনিক "আজকের খবর" এবং ৩০ মার্চ আঞ্চলিক পত্রিকা "দৈনিক পত্রদূত"-এ সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর গত ২০ এপ্রিল (২০২৬) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী জমির প্রকৃত মালিকগন। যা ২১ এপ্রিল বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর আফসার মেম্বার কিছুদিন নিরব থাকলেও অতি সম্প্রতি তিনি আবারও তার পুরনো জমি দখলের উন্মত্ত নেশায় মেতে ওঠেন। সর্বশেষ গত ৩ জুলাই (২০২৬) আফসার আলী গাজী সরকারদলীয় পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জমি দখলের উদ্দেশ্যে তার নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের লেলিয়ে দেন। তারা দা, কোদাল, শাবল ও বাঁশের মতো দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমির প্রকৃত মালিকপক্ষের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালান। হামলার শিকার হয়ে নজরুল ইসলামের পুত্র স্বাধীন হোসেন এবং তার ভাগিনা আশানুর জীবননাশের আশঙ্কায় গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকের সূত্রে জানা যায়, আঘাত আর কিছুটা গভীর হলেই তাদের দুজনেরই জীবননাশের শঙ্কা ছিল। তিন দিন চিকিৎসা শেষে গত ৫ জুলাই আক্রান্ত দুই যুবক বাড়ি ফিরলে আফসার গাজীর পক্ষ থেকে নতুন করে হুমকি-ধামকি শুরু হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। থানায় যেন কোনো প্রকার পুলিশি মামলা বা আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, সেজন্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি হামলার সময় স্থানীয় মানুষের মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিওচিত্র যেন কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত না হয়, সে ব্যাপারেও কঠোর হুঁশিয়ারি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এলাকায় একের পর এক জমি জবরদখল ও চাঁদাবাজির মামলার মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হয়রানিকারী এই প্রভাবশালী নেতার হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং নিজেদের জমি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসী।
কালীগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস–২০২৬ উদযাপন
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে ‘জাতীয় পল্লীউন্নয়নদিবস–২০২৬’উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পালিত হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশগ্রহণ হয়েছে। র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব মহোদয়।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ। "পল্লীর উন্নয়নই দেশের উন্নয়নের ভিত্তি।" টেকসই গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আত্মনির্ভরশীলতা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এ ধরনের উদ্যোগ অনন্য ভূমিকা রাখবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর গ্রাম গঠনে আমরা সকলে মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করি।
হালুয়াঘাটে মাদকের ভয়াবহ রূপ:দর্শারপাড়ে বিপথগামী অপ্রাপ্তবয়স্করা
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার দর্শারপাড় এলাকায় মাদকের বিস্তার দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এলাকার ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর ও যুবসমাজ এই মরণনেশায় জড়িয়ে পড়ছে। মদ, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবনের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এলাকায় অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের রমরমা ব্যবসা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দর্শারপাড় এলাকায় দেশি মদের প্রাপ্যতা অনেক বেশি। এলাকার কিছু উপজাতি পরিবার কেবল নিজেরা মদ পান করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, তারা বাণিজ্যিকভাবে এই মদ তৈরি ও বিক্রি করছে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই দর্শারপাড় এলাকায় বহিরাগত মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। মদ পান করে রাস্তাঘাটে মাতলামি এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে এলাকার সামাজিক পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ক্ষুণ্ন হচ্ছে দীর্ঘদিনের সুনাম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন আমাদের এলাকার ছোট ছোট ছেলেরা মদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। সন্ধ্যার পর বাইরে বের হওয়াই দায় হয়ে গেছে। বহিরাগতরা এসে মদ খেয়ে মাতলামি করে। আমরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি।" পাশাপাশি এলাকায় বেশ কয়েকজন গাঁজা ব্যবসায়ী সক্রিয় থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। কিশোরদের হাতে সহজে মাদক পৌঁছে যাওয়ায় ধ্বংসের মুখে পড়ছে আগামী প্রজন্ম। এলাকার সচেতন মহলের দাবি, এই সামাজিক অবক্ষয় রুখতে এবং দর্শারপাড়ের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কঠোর ও দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি। বিশেষ করে উপজাতি পরিবারগুলোকে প্রশাসনের মাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া এবং মাদক বিক্রির আস্তানাগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালানো এখন সময়ের দাবি।
কালীগঞ্জ উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায উপকারভোগীদের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ বিতর
কালীগঞ্জ উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও গাছের চারা বিতরণ, চলাচলে অক্ষম ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার এবং দরিদ্র ও অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ। তিনি উপকারভোগীদের হাতে বিভিন্ন সহায়তা সামগ্রী তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার আকাশ। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সুধীজন এবং উপকারভোগীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হচ্ছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণ সহজ করতে বাইসাইকেল প্রদান, পরিবেশ সংরক্ষণে গাছের চারা বিতরণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে হুইলচেয়ার এবং অসহায় নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সেলাই মেশিন প্রদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন,- সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। তিনি উপকারভোগীদের এসব সহায়তা যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ও পরিবারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে নির্বাচিত উপকারভোগীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাইসাইকেল, গাছের চারা, হুইলচেয়ার ও সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।