বাংলাদেশ বার্তা টুডে
কালীগঞ্জে কৃষি প্রণোদনার উপকরণ বিতরণ
পরিবেশ রক্ষা ও কৃষকের সমৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) এ উপলক্ষে ৪০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ৫টি করে ফলজ গাছের চারা (আম, লিচু, বেল, কাঁঠাল ও লেবু) এবং ৫০ কেজি করে ভার্মি কম্পোস্ট সার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুব আলম রনি এবং সঞ্চালনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আখতারুজ্জামান মিয়া। একটি গাছ, একটি প্রাণ—আসুন সবাই বেশি করে গাছ লাগাই, পরিবেশ বাঁচাই, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
গাইবান্ধায় প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে বিয়ের দাবিতে ৪০ বছর বয়সী নারীর অবস্থান
গাইবান্ধা সদর উপজেলার পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোস্তম আলী মন্ডলের সঙ্গে বিয়ের দাবিতে প্রায় ৪০ বছর বয়সী মোছাঃ জাহানারা বেগম, ওই মহিলার পেটে ছয় মাসের বাচ্চা নষ্ট করে প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় উৎসুক জনতার ভিড় জমে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই নারী প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের দাবি করে বিয়ের দাবিতে অফিস কক্ষে অবস্থান নেন। তবে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে এসিল্যান্ড জাহাঙ্গীর আলম বাবু এবং সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্যা আল মামুন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে কাজ করছে।
গাইবান্ধায় ডিবি পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী আটক
পুলিশ সুপার, গাইবান্ধা মহোদয় এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখা, গাইবান্ধা এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাইবান্ধা জেলাধীন পলাশবাড়ী থানা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করিয়া অদ্য ২৮/০৬/২৬ খ্রিঃ২২ঃ০৫ ঘটিকায় পলাশবাড়ী থানাধীন ০৮ নং মনোহরপুর ইউনিয়নের ০৩ নং ওয়ার্ডের খমার বালুয়া গ্রামস্থ স্বীকৃত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ শাকিব মন্ডল @ ওহাব(২৮), পিতা-মৃত শাহ সুলতান মন্ডল এর বসত বাড়ীর শয়নকক্ষে আসামি ১। মোঃশাকিব মন্ডল@ ওহাব পিতা-মৃত শাহ সুলতান মন্ডল,মাতা- মোছাঃ শাহেরা বেগম সাং-খামার বালুয়া থানা- পলাশবাড়ী , ২। মো: মাহি সরকার(২১),পিতা:শেখ আবুল হোসেন, সাং ডুমুরগাছা,থানা- গোবিন্দগঞ্জ, ৩। মো: তুষার মিয়া(১৯),পিতা মোঃ জহিরুল বেপারী, সাং- হরিনা বাড়ি, থানা- পলাশবাড়ী,জেলা- গাইবান্ধাদের মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয়ের ও সেবনের উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখা অবস্থায় ১ নং আসামী এর পরিহিত প্যান্টের ডান পকেটে হতে সাদা পলিথিন দিয়ে মোড়ানো একটি পটলায় হালকা কমলা রঙের (৩৬) পিস মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারপূর্বক গ্রেফতার করা হয়। বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পলাশবাড়ী থানার মামলা নং ৩৩ তারিখ ২৯/৬/ ২০২৬ ইং ধারাঃ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ (৫)এবং ১ নং আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে উক্ত স্থানে অবস্থান কোরিয়া অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট বিভিন্ন মাদক সেবিদের নিকট বিক্রয় ও সেবন করার উদ্দেশ্যে তাহার নিজ হেফাজতে রাখিয়াছে।ধৃত ১ নং আসামে অবৈধ মাদকদ্রব্য কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখা এবং সেবন করায় পলাশবাড়ী থানার মামলা নং ৩৩ তাং ২৯/০৬/২০২৬,ধারা:২০১৮ ৩৬ এর (১)সারণির ১০( ক)/৩৬(৫) এবং ধৃত ২ নং আসামী মোঃ মাহি সরকার (২১) এবং ৩ নং আসামী মোঃতুষার মিয়া (১৯) দ্বয়ের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করার অপরাধে তাহাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারায় আলাদাভাবে পলাশবাড়ী থানার নন এফআইআর প্রসিকিউশন নং ৪০,তাং ২৯/০৬/২০২৬ দাখিল করা হইয়াছে।
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
সরকারের গৃহীত পাঁচ বছরমেয়াদি (২০২৬-২০৩০) ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ একটি বৃক্ষরোপণ উদ্যোগ শুরু করেছে।আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও বিজ্ঞান ভবন সংলগ্ন এলাকায় একটি লাল তেঁতুল গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শে গাছ লাগানোর উপযুক্ত স্থান আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ভবিষ্যতে অপরিকল্পিত গাছ কাটার প্রয়োজন না পড়ে। কর্মসূচির আওতায় বিরল প্রজাতির লাল তেঁতুল ছাড়াও পলাশ, পারুল ও রক্তচন্দনের চারা রোপণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার এবং চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ। এছাড়া বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলাসহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সরওয়ার মুর্শেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুরও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. তারানা নুপুর, অধ্যাপক ড. ফারহানা শাহরিন, অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস, ড. তানিয়া আক্তার, গবেষণা ও সম্প্রসারণ কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।
পলাশবাড়ীতে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত ১৩
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর জুনদহ বাজারে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে। সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বে মীমাংসিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডলের দুই ভাগ্নে কাকন ও নিরন বরিশাল ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের কর্মী এবং গাইবান্ধা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিনকে মারধর করেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডল, ৪ নম্বর বরিশাল ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি মিল্লাত সরকার মিলন, পলাশবাড়ী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম রেজা, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহীন, সাধারণ সম্পাদক তাবিজ, জবা, ডাবলু, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা বাস্তবায়ন পরিষদের গাইবান্ধা জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল হাসান মনা, জাকিরসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন। এছাড়া সংঘর্ষের পর রাতে পলাশবাড়ী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আজহারুল ইসলামের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তাঁর পিতা আবুল আলা মওদুদ এবং জামায়াতের কর্মী মিজান আহত হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএনপির নেতাকর্মীরা এ হামলা চালান। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে আশরাফুল ইসলাম, মিল্লাত সরকার মিলন ও শামিম রেজা পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষের পর জুনদহ বাজারে উভয় পক্ষের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত তৎপরতা চালাচ্ছে। পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারী আলম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আদম ব্যাপারির খপ্পরে পরে আর কত পরিবার সর্বশান্ত হবে
গাইবান্ধার আদম ব্যাপারি ফরহাদের বিরুদ্ধে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ। সুত্রে জানাযায়, গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পাচ-গাছী শান্তিরাম এলাকার জনৈক লথিব মিয়ার ছেলে বখতিয়ার রহমান খলজির নিকট মৃত জাফর কারীর ছেলে মোঃ ফরহাদ হোসেন বর্তমান ঠিকানা সুন্দরজাহান মোড় প্রফেসর কলোনি গাইবান্ধা ২২/০১/২২ ইং তারিখে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে এক লক্ষ নব্বই হাজার টাকা নেয়। টাকা নেয়ার পর থেকে তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন।অনেক ঘুরাঘুরির পর তিনি দুটি মামলা করেন মামলা নং সিআর ৩৩১/২২ এবং সিআর ৭৯/২৩। মামলার কথা শুনে স্থানীয় ভাবে স্থানীয় ইউপি সদস্যর সহযোগীতায় ধুপনি ফাড়ি থানায় বিষয়টি আপোষ মিমাংসার জন্য একটি বৈঠক হয়।বৈঠকে উক্ত টাকা ফেরত দেয়ার মর্মে ষ্টাম্পে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্ত আজ অবধি তিনি ভুক্তভোগী কে এক টাকা পরিশোধ করেন নি। বিধায় ভুক্তভোগীর পরিবার দেনার দায়ে দিন মজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নাম প্রকাশ্যে অনেকে জানান আদম ব্যাপারি ফরহাদ সুন্দরগঞ্জের এবং অনন্য একালাকায় অনেকের নিকট টাকা নিয়ে গাইবান্ধা শহরের প্রফেসার কলোনিতে বহুতল বাসা নির্মাণ করছেন। যাতে আর কোন পরিবার কে এমন সর্বশান্ত করতে না পারে এবং তারা জানান ভুক্তভোগীর টাকা ফেরত প্রদান সহ আদম ব্যাপারি ফরহাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অনুরোধ করেন।
কালীগঞ্জে পাইপ কারখানা থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার!
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৪ নং নিয়ামতপুর ইউনিয়নের কচাতলা এলাকার একটি পিভিসি (PVC) পাইপ কারখানা থেকে নাসিরুদ্দিন (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৯ জুন) রাতে তাঁর নিজস্ব ফ্যাক্টরি থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, নিহত নাসিরুদ্দিনের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কচাতলা বাজারে ঘর ভাড়া নিয়ে পাইপের ব্যবসা ও কারখানা পরিচালনা করছিলেন। সোমবার রাতে দীর্ঘক্ষণ ফ্যাক্টরি থেকে বের না হওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে কারখানার ভেতর থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।
পাহাড়ে ফলের সমাহার: মহালছড়িতে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন
"করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) সকাল ১০.৩০ টায় মহালছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গণে এ মেলার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ এরফানুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আনোয়ার হোসেন, সভাপতি, মহালছড়ি উপজেলা বিএনপি, ডাঃ সুপর্ণা দে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, দীপক সেন, সভাপতি, মহালছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাব। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা,সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, কৃষক-কৃষাণী, শিক্ষার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ফল সংরক্ষণের মাধ্যমে সারা বছর ফলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সবাইকে ফল চাষে আরও আগ্রহী হতে হবে। তিনি কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে ফল চাষে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মেলায় বিভিন্ন জাতের দেশীয় ও বিদেশি ফল, উন্নত জাতের ফলের চারা, কৃষি প্রযুক্তি এবং ফল সংরক্ষণ বিষয়ক বিভিন্ন স্টল প্রদর্শন করা হয়। তিন দিনব্যাপী এ মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য ফল চাষ, পরিচর্যা ও সংরক্ষণ বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হবে বলে আয়োজকরা জানান।
সাতক্ষীরায় বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, খুলনার বাস্তবায়নে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কালেক্টরেট চত্বর হতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, খুলনার শ্রম পরিদর্শক মোহাম্মদ এহসানুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম টুটুল, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম মনিরুল ইসলাম মিনি, সুশীলনের উপ-পরিচালক জি. এম. মনিরুজ্জামান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক সিরাজ সরদার, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ শাহীন, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সামাদ, সহসভাপতি শেখ মিলন হোসেন এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নেতা হাফিজুর রহমান। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সুশীলন ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের যৌথ উদ্যোগে দেবহাটা উপজেলার ৫৯ জন শিশুকে শিশুশ্রম থেকে উদ্ধার করে স্কুলে পাঠানো হয়েছে, যে কারণে দেবহাটা উপজেলাকে মডেল শিশুশ্রম মুক্ত উপজেলা ঘোষণা করার উদ্যোগ চলছে। বক্তারা আরও বলেন, শিশুশ্রম নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন, অভিভাবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের জন্য বিশেষ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। প্রতিটি পরিবারকে সচেতন করে শিশুদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
হাবিপ্রবিতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। হাবিপ্রবি স্কুল মাঠে স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির সূচনা করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষে গঠিত বৃক্ষরোপণ উপ-কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য কৃষিবিদ প্রফেসর ড. সাইফুল হুদা, প্রফেসর ড. মো. হাসানুজ্জামান, প্রফেসর ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান, প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান, প্রফেসর ড. মো. আদনান আল বাচ্চু, প্রফেসর ড. মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান, প্রফেসর ড. মো. এরফান আলী খোন্দকার, প্রফেসর মো. মামুনার রশীদ, প্রফেসর ড. মারুফ আহমেদ এবং প্রফেসর ড. মো. হাফিজুর রহমান হাফিজসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য প্রফেসর ড. মো. মহিদুল হাসান-এর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের মানুষের কল্যাণে নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন। কৃষি ও পরিবেশের গুরুত্ব অনুধাবন করে তিনি যেমন খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তেমনি সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছিলেন। বক্তারা আরও বলেন, তাঁর আদর্শ ধারণ করে একটি সবুজ, শ্যামল ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মাসব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছের চারা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমও চলবে। উদ্বোধনী দিনে শিশুদের মাঝে প্রায় পাঁচ শতাধিক গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সম্পৃক্ত করবে।
কালীগঞ্জ পৌরসভার বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১:৩০ মিনিটে কালীগঞ্জ পৌরসভা সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পৌর প্রশাসক ও কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের সভাপতিত্বে পৌরসভার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা জুলফিকার আলী এ বাজেট ঘোষণা করেন। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৫১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক,সুধীবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের উপস্থিতিতে এ বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ ৪ আসনের বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক সফল প্যানেল মেয়র, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জননেতা হামিদুল ইসলাম হামিদ। এ বাজেটের মাধ্যমে পৌরবাসীর উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের অঙ্গীকার আরও দৃঢ় হবে—এমন প্রত্যাশা সবার।
পে-স্কেল : বেসরকারি চাকরিজীবীর ভবিষ্যৎ কী?
বেসরকারি খাতে কোনো নির্দিষ্ট 'জাতীয় পে স্কেল' নেই, তাই সরকারি চাকরির মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পে স্কেল শুরুর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা ইতিহাস নেই। মূলত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব নীতি, কাজের ধরন, সক্ষমতা এবং বাজার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আলাদা আলাদা বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল তৈরি ও বাস্তবায়ন করে থাকে। বাংলাদেশে শুধুমাত্র সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যই সরকার নির্ধারিত জাতীয় বেতন স্কেল বা পে-স্কেল চালু রয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই সর্বপ্রথম সরকারি কর্মচারীদের জন্য জাতীয় পে স্কেল কার্যকর করা হয়। এবার, দীর্ঘ ১১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল বা নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এই বর্ধিত সুবিধা কার্যকর হতে পারে– এই খবরে বেসরকারি চাকরিজীবীর ভবিষ্যৎ কী? সরকারি দফতরে আনন্দের হাওয়া, ঠিক তখনই দেশের বেশির ভাগ মানুষের মনে একটি বড় প্রশ্ন। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির এই মহোৎসবের বিপরীতে দেশের অর্থনীতি সচল রাখা কোটি কোটি বেসরকারি চাকরিজীবীর ভবিষ্যৎ কী? নতুন পে-স্কেলের আলো কি কোনোভাবেই পৌঁছাবে বেসরকারি খাতে? নাকি তারা পাবেন শুধু নতুন করে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির? বিভন্ন তথ্য অনুযায়ী, এবারের পে-স্কেল একযোগে নয়, বরং ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। প্রথম পর্যায়ে সংশোধিত মূল বেতনের একটি অংশ এবং পরবর্তী সময়ে অন্যান্য ভাতা সমন্বয়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগে জনপ্রশাসনে কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধির আশা করা হলেও, দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৯৫ শতাংশ ধরে রাখা বেসরকারি খাতের কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বলছে: শিল্প, তৈরি পোশাক, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও গণমাধ্যমসহ অর্থনীতির সব প্রধান চালিকাশক্তিই বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বছরের পর বছর ধরে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য গড়ে ওঠেনি কোনো সমন্বিত চাকরি-নীতিমালা, সুনির্দিষ্ট বেতনকাঠামো কিংবা কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। কয়েক বছর আগে বেসরকারি খাতের জন্য একটি খসড়া ‘সার্ভিস রুলস’ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হলেও তা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আজও আলোর মুখ দেখেনি। সম্প্রতি বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ঝড় উঠেছে। বেসরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশের দাবি–সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি বেসরকারি কর্মীদের জন্যও ন্যূনতম কর্মসংস্থানের মানদণ্ড, চাকরির নিরাপত্তা, উৎসব ভাতা ও সার্বিক শ্রমবান্ধব নীতিমালা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেলের বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত হলেও বেসরকারি খাতের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো সুবিধার রূপরেখা এই মুহূর্তে নেই। তবে বেসরকারি কর্মীদের সুরক্ষায় শ্রম নীতিমালা সংস্কারের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হতে পারে। পে-স্কেল: সচিব কমিটির সভায় যেসব সিদ্ধান্ত হলো সরকারি পে-স্কেল সরাসরি বেসরকারি খাতের জন্য প্রযোজ্য নয়। তবে সরকারি বেতন বৃদ্ধি পরোক্ষভাবে বেসরকারি খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও কর্মীদের বেতন, মহার্ঘ ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়। গত পে-স্কেলগুলোতে সরকারি কাঠামো ঘোষণার পর বেসরকারি খাতে যে সুবিধাগুলো সাধারণত প্রসারিত হয়েছে: মূল বেতন ও ইনক্রিমেন্ট বৃদ্ধি: সরকারি কাঠামোতে মূল বেতন বাড়ার কারণে বেসরকারি কোম্পানিগুলো বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং প্রারম্ভিক মূল বেতন সমন্বয় করতে বাধ্য হয়। ভাতা সমন্বয়: সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও টিফিন ভাতা বৃদ্ধির পর বেসরকারি খাতের কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোও কর্মীদের জন্য এই ভাতাগুলো বাড়িয়ে থাকে। বোনাস ও প্রণোদনা: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসব বোনাস ও বিশেষ সুবিধার প্রভাব পড়ে বেসরকারি খাতেও। এমপিওভুক্ত শিক্ষক: সরকারি পে-স্কেলের পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত (MPO) শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হয়। শ্রম আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও গ্র্যাচুইটি: নতুন পে-স্কেলে সরকারি পেনশনের হার ও গ্র্যাচুইটি বাড়লে বেসরকারি খাতের কর্মীরাও বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং টার্মিনেশন বেনিফিট পাওয়ার ক্ষেত্রে জোরালো দাবি উত্থাপন করতে পারেন। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পে স্কেল, বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কী বাংলাদেশে দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বা নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে সরকার, বেসরকারি চাকরিজীবীরাও কী সুবিধা বর্তমানে কার্যকর নবম জাতীয় পে-স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের নিয়মিত ও বিশেষ সুবিধা বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পেতে পারেন এটাই সবার প্রত্যাশা। একরামুল ইসলাম তুষার, সহকারী অধ্যাপক, আবুবকর বিশ্বাস মকছেদ আলী কলেজ, কালীগঞ্জ ঝিনাইদহ।
পুকুর দখলমুক্ত করার দাবিতে শ্যামনগরে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট হাটখোলা গ্রামে জনসাধারণের একমাত্র খাবার পানির পুকুরটি অবৈধ দখলদারের হাত থেকে মুক্ত করার দাবিতে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। আজ রবিবার সকালে ধুমঘাট হাটখোলা এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ধুমঘাট হাটখোলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হোসেন, জগদীশ মন্ডল, আব্দুল আলীমসহ আরও অনেকে। বক্তারা অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান, তাদের এলাকায় এটিই একমাত্র খাবার পানির পুকুর, যার পানির ওপর নির্ভর করে স্থানীয় প্রায় চার থেকে পাঁচশত পরিবার জীবন ধারণ করে আসছে। কিন্তু গত আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পুকুরের উত্তর পাশে বসবাসকারী মৃত শমসের গাইনের ছেলে মোঃ আব্দুল গফুর পুকুরটি জোরপূর্বক নিজের দখলে নিয়ে নেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুরটি দখলে নেওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের পানি সংগ্রহে চরম বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি পুকুরের পাড়ে গবাদিপশু চড়াতে বা ঘাস খাওয়াতেও নিষেধ করছেন অভিযুক্ত আব্দুল গফুর। এলাকাবাসীর গরু-ছাগল যেন পুকুর পাড়ের ঘাস খেতে না পারে, সেজন্য তিনি সেখানে বিষাক্ত স্প্রে করে ঘাস মেরে ফেলেছেন বলেও বক্তারা অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় চরম ক্ষিপ্ত হয়ে গত শুক্রবার এলাকার সাধারণ মানুষ পুকুরের চারপাশের অবৈধ ঘেরা ও বেড়া উপড়ে ফেলে দেয়। বক্তারা আরও জানান, পুকুর দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল গফুর দাবি করেন তিনি সরকারের কাছ থেকে ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিট) নিয়েছেন। তবে আজ পর্যন্ত তিনি স্থানীয় কাউকেই সেই ডিসিআর-এর কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এমতাবস্থায় ৪-৫ শত পরিবারের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে এবং জনস্বার্থে পুকুরটি অবিলম্বে দখলমুক্ত করার জন্য শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা যাতে পূর্বের মতো শান্তিপূর্ণভাবে এই পুকুরের পানি ব্যবহার করে জীবন ধারণ করতে পারেন, সেজন্য প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
সীমান্তে জব্দকৃত ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মা/দ/ক ধ্বংস করল বিজিবি
সাতক্ষীরায় বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত এলাকা থেকে জব্দ করা প্রায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ এসব মাদক ধ্বংস করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪৮ জনকে আটক এবং ১২৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ছিল। ধ্বংস করা বিপুল পরিমাণ মাদকের মধ্যে ছিল ৩ হাজার ৭৯১ বোতল মদ, ৪ হাজার ৫২৪ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ৪৭ হাজার ২৭০টি ইয়াবা, ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৬৯টি বিড়ি ও সিগারেট, ৩৩ দশমিক ৪ কেজি গাঁজা, ৬৩ লাখ ১৩ হাজার ১২০ পিস বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, ৩৫ কেজি তামাকের গুঁড়া, দুই বোতল লিকুইড সিসা এবং মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত ১০০ কেজি বটপাতা। এছাড়া ৭২ দশমিক ৫০ মিলিগ্রাম এলএসডি, ৮ দশমিক ৫৮৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং আফিম তৈরির ২০ বোতল রাসায়নিকও ধ্বংস করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গঠনে বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। মাদক একটি সামাজিক মহামারি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। একই সাথে তিনি মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিজিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের লক্ষ্যে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হচ্ছে। মাদক ধ্বংসকরণ এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ, খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।
কালীগঞ্জে ইসলাম ধর্ম নিয়ে ক/টু/ক্তি একজন গ্রেফতার
ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করায় প্রশান্ত কুমার নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ । রবিবার( ২৮ জুন) দুপুর ২ টার দিকে শহরের কলেজ পাড়া থেকে তাকে আটক করা হয় । আটক প্রশান্ত কুমার কলেজপাড়ার বাসিন্দা । আজ বেলা ১২ টার দিকে কলেজপাড়ার একটি চায়ের দোকানে সনাতন ও ইসলাম ধর্মের কয়েক ব্যক্তি ধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করছিল । সে সময় প্রশান্ত কুমার নামের ওই ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করলে মুসলমানদের ভিতর ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় । ঘটনার সময় কয়েকজন সনাতন ধর্মলম্বীরা প্রশান্তের কথার প্রতিবাদ করে মুসলমানদের প্রতি শান্ত থাকার আহবান জানান। ক্রমেই পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ প্রশান্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় । এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার এসআই আ খ ম মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনে ওই ব্যক্তিকে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। আপাতত আমি এটুকু বলতে পারবো ।