বাংলাদেশ বার্তা টুডে
বদলির ৮ দিন পরও বোদায় যোগদান করেননি বিতর্কিত এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন— সাদুল্লাপুরে বহাল থাকতে তদবিরের অভিযোগ
বদলির ৮ দিন পরও বোদায় যোগদান করেননি বিতর্কিত এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন— সাদুল্লাপুরে বহাল থাকতে তদবিরের অভিযোগ মোঃ আশরাফজ্জামান খান তরু বদলির আদেশ জারির আট দিন পেরিয়ে গেলেও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার আলোচিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন এখনো নতুন কর্মস্থল পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় যোগদান করেননি। বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তিনি এখনো ছাড়পত্র (রিলিজ) গ্রহণ করেননি৷ বরং বদলি ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে তদবির ও লবিংয়ের মাধ্যমে আরও কিছুদিন সাদুল্লাপুরে বহাল থাকার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বদলি বাতিল বা স্থগিত করতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এমনকি স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির মাধ্যমেও তদবির করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত ২০ এপ্রিল কাউনিয়া উপজেলায় বদলি এবং ২৪ মার্চ সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি হলেও তিনি সাদুল্লাপুর ছাড়েননি। একের পর এক বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ায় প্রশাসনিক মহল ও উপজেলা জুড়ে তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে জনমনে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে। সর্বশেষ বুধবার (২৪ জুন) রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ৩৮তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিনকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করা হয়। আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ বদলি আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সরকারের অর্পিত সম্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের সময় যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক জিল্লুর রহমান পলাশ এবং সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে বিভাগীয় তদন্তের প্রেক্ষাপটে তাকে বোদায় বদলি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বদলির এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেও তাকে অবমুক্ত (রিলিজ) করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি বোদায় যোগ দিতে অনাগ্রহী এবং বদলি স্থগিতে এখনো সক্রিয় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংবাদিক হেনস্থার ঘটনা ও বদলির আদেশের পর থেকে এসিল্যান্ড মো. জসিম উদ্দিন অনিয়মিতভাবে সাদুল্লাপুর ভূমি অফিসে আসছেন। গত ২১ জুন বিভাগীয় তদন্তে উপস্থিত হওয়ার পরদিন ধাপেরহাটের হাসানপাড়া মৌজায় সরকারের অর্পিত সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণের কাজে অংশ নেন। এরপর কয়েকদিন অফিসে অনুপস্থিত থেকে মঙ্গলবার ও বুধবার অল্প সময়ের জন্য দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাদুল্লাপুর ভূমি অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে কর্মস্থল ত্যাগ ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করার বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অফিসের কর্মচারীরা জানান, 'দুপুরের পর স্যার অফিসে হাজিরা দিয়ে চলে গেছেন। এর আগে দুপুর পর্যন্ত তিনি এসএসসি পরীক্ষার নলডাঙ্গা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা আমাদের জানা নেই।' তবে কর্মস্থল ত্যাগ বা যোগদান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে সাংবাদিক হেনস্থা এবং অর্পিত সম্পত্তি-সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বদলির আদেশ কার্যকর না করে তদবিরের উদ্দেশ্যে কর্মস্থল ত্যাগ করায় প্রশাসনিক মহলসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, তার এ আচরণ সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। ফলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জোরালো হচ্ছে। জসিম উদ্দীনের বদলি ও ছাড়পত্রের বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বোদায় যোগ দিতে অনাগ্রহী হওয়ায় তিনি এখনো রিলিজ নেননি। বদলি স্থগিত করে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে পদায়নের চেষ্টাও করছেন তিনি। বদলির আদেশের পরেও নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করার বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'বদলির আদেশ হওয়ার পরও তিনি কেন যোগদান করেননি, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাংবাদিক হেনস্থা ও অর্পিত সম্পত্তি-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে। পাশাপাশি নতুন অভিযোগগুলোরও যাচাই-বাছাই চলছে।' অন্যদিকে, বদলির আদেশ অমান্য করার ঘটনাকে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে দেখছে ভূমি মন্ত্রণালয়। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, 'বদলির আদেশ অমান্য করে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করা এবং তদবিরের আশ্রয় নেওয়া সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার পরিপন্থী। অভিযোগের সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তিনি আরও জানান, গত ৪ জুন ভূমি মন্ত্রণালয় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনে কোনো ধরনের তদবির না করার নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর মো. জসিম উদ্দিন সাদুল্লাপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে খাস জমি, নামজারি, ভূমি প্রশাসন এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। সাম্প্রতিক সাংবাদিক হেনস্থার ঘটনার পর এসব অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাদুল্লাপুর ও জামুডাঙ্গা মৌজার সরকারি খাস জমি উদ্ধার, সীমানা নির্ধারণ, নামজারি ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়মের পাশাপাশি সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি করা হয়েছে। এরই মধ্যে সরকারি খাস জমি ও মূল্যবান মেহগনি গাছ রক্ষায় অবহেলার অভিযোগ তদন্তে গত ২৬ জুন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতি ও একাধিক বদলির পরও একই কর্মস্থলে বহাল থাকা এবং সর্বশেষ বদলি আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রশাসনিক মহল ও জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি একটি প্রভাববলয় গড়ে তুলছেন, যা ভূমি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত বদলি আদেশ কার্যকর করে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করানো না হলে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
কালীগঞ্জে পানের বরজে মিললো ১২ কেজি ওজনের গাঁজা গাছ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একটি পানের বরজের ভেতর থেকে বিশাল আকৃতির একটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা গাছটির ওজন ১২ কেজিরও বেশি। এই ঘটনায় সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জেল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এই গাঁজা গাছটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ফারাশপুর গ্রামের একটি পানের বরজে অভিযান চালায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। এ সময় বরজের ভেতর অত্যন্ত গোপনে চাষ করা বিশাল আকারের ওই গাঁজা গাছটি উপড়ে জব্দ করা হয়। পরে ওজন মেপে দেখা যায় গাছটি ১২ কেজিরও বেশি। মাদক চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে ঘটনাস্থল থেকেই সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পানের বরজের আড়ালে অভিনব কায়দায় এই গাঁজার চাষ করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ১২ কেজির বেশি ওজনের গাছসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
জুলাইকে অপমান মানেই শহীদদের রক্তকে অপমান"—শাওনকে কড়া বার্তা রাশেদ খাঁনের
জুলাইকে নিয়ে অভিনেত্রী 'মেহের আফরোজ শাওনের' মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা জনাব নেতা 'রাশেদ খাঁন' নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে শাওনের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, জুলাই নিয়ে শাওনের কটূক্তি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অপরাধেরই শামিল। তিনি আরও লেখেন, "-এত রক্ত, এত ত্যাগের জুলাইকে যারা ধারণ করতে পারে না, বরং শেখ হাসিনার প্রতি দরদ দেখায়; তাদের শেখ হাসিনার কাছেই চলে যাওয়া উচিত।" রাশেদ খাঁনের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু সেই সমালোচনার আড়ালে জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, "জুলাই কোনো ব্যক্তি বা সরকারের সম্পত্তি নয়; এটি লাখো মানুষের আত্মত্যাগে অর্জিত জাতির গৌরব। এই অর্জনকে খাটো করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।" তিনি আরও মন্তব্য করেন, "বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে জুলাই নিয়ে শাওনের মতো পতিত দোসরদের নোংরামি বরদাস্ত করার সুযোগ নেই।" এদিকে, শাওনের মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাটে মাদকের ভয়াবহ গ্রাস যুবসমাজ রক্ষায় ‘মাদক বিরোধী ঐক্য পরিষদ
এক সময় যে সীমান্ত দিয়ে সাবান, শ্যাম্পু, চিনি, তেল কিংবা জিরার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চোরাচালান হতো, আজ সেই পথেই হালুয়াঘাটে ঢুকছে মরণনেশা মাদক। হালুয়াঘাটে কোনো মাদক উৎপাদন না হলেও প্রতিবেশী দেশ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুট দিয়ে আসা বিষাক্ত মাদকের ছোবলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় যুবসমাজ। কিছু অসাধু ও অর্থলোভী মানুষের কারণে আজ ঘরে ঘরে সন্তান ও পরিজনেরা অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যারা আমাদের মৌলিক চাহিদাকে পুঁজি করে চোরাচালান করত, তারাই আজ সুকৌশলে আমাদের যুবসমাজের শরীর, মন ও মানসিক চিন্তাশক্তি কেড়ে নিতে মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছে। এই দেশদ্রোহীদের রুখে দিতে এবং হালুয়াঘাটকে দেশের এক নম্বর মাদকমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছে একঝাঁক উদ্যমী তরুণ। গঠিত হয়েছে ‘মাদক বিরোধী ঐক্য পরিষদ’ এক মঞ্চে প্রশাসন, আলেম সমাজ ও তরুণ প্রজন্ম মাদকের এই করাল গ্রাস থেকে হালুয়াঘাটকে মুক্ত করতে ‘মাদক বিরোধী ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এক অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে উঠেছে। এই সামাজিক আন্দোলনে শামিল হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ওলামা ও আলেম সমাজ শিক্ষিত তরুণ, ছাত্রসমাজ এবং অভিজ্ঞ মুরুব্বিগণ লক্ষ্য দেশের এক নম্বর মাদকমুক্ত উপজেলা সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো হালুয়াঘাট থেকে মাদক সেবনকারী ও অসাধু মাদক ব্যবসায়ীদের সমূলে নির্মূল করা। অর্থের লোভে যারা নিজেদের সমাজ ও যুবসমাজকে ধ্বংস করছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে এলাকার বিজ্ঞ মুরুব্বি ও সচেতন নাগরিকরা অত্যন্ত আশাবাদী। তারা মনে করছেন, তরুণদের এই ঘুম ভেঙে জেগে ওঠা এবং প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা অচিরেই হালুয়াঘাটকে একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত আদর্শ উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।
সুন্দরবনে বনরক্ষীর অভিযানে তিনটি নৌকাসহ ২৪ বোতল কীটনাশক ও শুঁটকি তৈরীর চাটাই জব্দ
পূর্ব সুন্দরবনের চরাপুটিয়া টহল ফাঁড়ির শিয়ালা এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে বনরক্ষীরা অভিযান চালিয়ে তিনটি নৌকাসহ ২৪ বোতল কীটনাশক ও শুঁটকি তৈরীর চাটাই জব্দ করেছেন। এ সময় জেলেরা সুন্দরবনে পালিয়ে যায়। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব সুন্দরবনের চরাপুটিয়া টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে নিয়মিত টহল কালে সুন্দরবনের শিয়ালা এলাকার সাইডখালে তিনটি জেলে নৌকা দেখতে পেয়ে এগিয়ে যায়। বনরক্ষীদের দেখতে পেয়ে নৌকা আরোহী অজ্ঞাত পরিচয়ের জেলেরা নৌকা ফেলে সুন্দরবনের মধ্যে পালিয়ে যায়। পরে বনরক্ষীরা নৌকায় তল্লাশী করে ২৪ বোতল কীটনাশক, তিনটি টোনা জাল ও শুঁটকি তৈরীর চাটাই এবং অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করেন। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে বনরক্ষীরা সুন্দরবনে বিষদস্যুদের একটি অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে। অজ্ঞাত পরিচয়ের জেলেরা সুন্দরবনের খালে বিষ দিয়ে মাছ ধরে বনের মধ্যে মাছ শুঁটকি করার জন্য সরঞ্জাম নিয়ে অবৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করে। এমনিতে এখন সুন্দরবনে মাছ ধরায় তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারী রয়েছে বলে এসিএফ জানিয়েছেন।
ঝিনাইদহে ৫০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক
ঝিনাইদহে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা। এক শ্রেণির নারী মাদক কারবারি কৌশলে ছড়িয়ে দিচ্ছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণীদের টার্গেট করে মাদকের মরণফাঁদে ফেলছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। মাদকের অর্থ জোগাতে পরবর্তীতে তাদের জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে অনৈতিক দেহ ব্যবসায়। ঝিনাইদহের ডিবি পুলিশের অগ্রগামী ভূমিকার কারণে প্রায়ই গ্রেপ্তার হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা, আর গ্রেপ্তারের সূত্র ধরেই সামনে আসছে একের পর এক নারী মাদক ব্যবসায়ী। ঝিনাইদহ পৌরসভার কালিকাপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কালিকাপুর পশ্চিমপাড়ায় জনৈক রাকিবুল ইসলামের বাড়ির সামনে রাস্তার ওপর তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন: মো. রাজিব মন্ডল (৩৫), পিতা- মো. রমজান মন্ডল, সাং- লাউদিয়া; মো. ইমরান হোসেন (ইমন) (২৫), পিতা- মো. আসাদুজ্জামান, সাং- ভড়ুয়াপাড়া; এবং মুনিয়া উম্মেজান অর্ণি (২৪), পিতা- আব্দুল ওয়াদুদ, সাং- দুধম্বর চরপাড়া, শৈলকুপা (বর্তমানে কালিকাপুর পশ্চিমপাড়ার মোল্লাপাড়ায় ভাড়াটিয়া)। পুলিশ জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। ঝিনাইদহ পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে, তবুও নিত্যনতুন কৌশল পাল্টাচ্ছে মুখোশের আড়ালে থাকা মূলহোতারা। মাদক ব্যবসায়ীদের নতুন কৌশলের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ঝিনাইদহের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় আলিশান বাসা ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে মাদকের আস্তানা ও মিনি পতিতালয়। নারী মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের নারীত্বের পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে চালাচ্ছে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ঝিনাইদহ শহরে নারীদের দিয়ে 'এসকর্ট সার্ভিস' চালাচ্ছে মুর্শিদা নামের এক অঘোষিত 'আপা'। এছাড়াও আরও কিছু অতিপরিচিত নাম শহরের বাতাসে ভেসে বেড়ায়, তাদের মধ্যে অন্যতম, তানিয়া, শাম্মী, জ্যোতি, অ্যানী, মারিয়া, তন্নীসহ আরও অনেকে। যাদের সঙ্গে জেলার অধিকাংশ ক্ষমতাধর রাজনৈতিক নেতা, ক্যাডার বা মাস্তানদের রয়েছে দহরম-মহরম সম্পর্ক। এই সকল মেয়েরা স্থানীয় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের সাথে সখ্য গড়ে তুলে প্রথমে তাদের মাদকাসক্ত করছে, পরবর্তীতে খরচের টাকা জোগাড়ের প্রলোভন দেখিয়ে দেহ ব্যবসায় নামাচ্ছে। ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন স্থানে যে সকল মিনি পতিতালয় গড়ে উঠেছে, সেসব স্থানে চলে নিয়মিত মাদকের আড্ডা, কেনাবেচা ও দেহ ব্যবসা। আর সব থেকে ভয়াবহ যে বিষয়টি নিয়মিত ঘটছে সেটি হলো 'হানি ট্র্যাপ'। এই সকল বাসা-বাড়িতে কৌশলে মেয়েদের দিয়ে শহরের অভিজাত শ্রেণির মধ্যবয়স্ক লোকজন ডেকে এনে লুটে নেওয়া হচ্ছে সবকিছু। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করে সারা জীবন তাদেরকে চুষে খাচ্ছে এই সিন্ডিকেট। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই সমস্ত সিন্ডিকেটকে আশ্রয় দিচ্ছে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা পরিচয়দানকারীরা। এই সকল অপকর্মের দৌরাত্ম্যে ঝিনাইদহের তরুণ সমাজ এক চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অভিভাবক মহলে বিরাজ করছে তীব্র উদ্বেগ। স্থানীয়দের একটাই দাবি মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড রুখে দিতে জেলা পুলিশ প্রশাসন যেন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে কঠোর ও অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে। ঝিনাইদহের সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল গ্রেপ্তার নয়, বরং এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনলেই কেবল এই জনপদকে মাদকমুক্ত রাখা সম্ভব।
আসন্ন আশ্রাফপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় এম. আবু ফয়েজ
আসন্ন ১২ নং আশ্রাফপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এম. আবু ফয়েজকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর সমর্থকদের দাবি, শিক্ষা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পরিচিত মুখ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। জানা যায়, এম. আবু ফয়েজ ১২ নং আশ্রাফপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের চাঁঙ্গিনীর একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয় কৃষক ও ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল মতিনের সাত সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। শিক্ষাজীবনে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া অধিভুক্ত) থেকে ইসলামিক স্টাডিজ ও হাদিস বিভাগে ফাযিল (বিএ) এবং কামিল (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে সেন্ট্রাল ল' কলেজ, ঢাকা থেকে এলএলবি এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলএম ডিগ্রি লাভ করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৯৬ সালে চাঁদপুর -১,কচুয়া উপজেলা থেকে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাহেবের হাতে হাত রেখে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ১ নং সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ফোরামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান সাহেবের দীর্ঘ ৯ টি স্কাইপ মিটিংয়ের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির 'আহবায়ক' হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি কচুয়া উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির টিম লিডার হিসেবে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা জজকোর্টে ( শিক্ষানবিশ) আইনজীবী হিসাবে নিয়মিত প্রাকটিস করছেন। তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং একাধিকবার হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি চাঁঙ্গিনী দক্ষিণপাড়ার বাইতুর নূর জামে মসজিদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাইতুর রাসূল (সা.) ইসলামিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক, ড্রিমফিল ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা এবং আশ্রাফপুর আহসানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এম. আবু ফয়েজ উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে সমতার ভিত্তিতে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। উল্লেখ্য যে, এম. আবু ফয়েজের আপন সহোদর বড় ভাই এ্যাড. কাজী মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হোসেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিপ্লবী সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে এম. আবু ফয়েজ বলেন, “জনগণ যদি আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেন, তাহলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করব। সকলের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।” উল্লেখ্য, আসন্ন আশ্রাফপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে নির্বাচন ঘিরে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।
কালীগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ, টেকসই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ৫০০টি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার ( জুলাই ) উপজেলার সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর–সুন্দরপুর-পান্নাতলা সড়কে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু তালিব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সৈয়দ শাহরিয়ার আকাশ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুর রহমান মিলন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. আবু তালিব বলেন, “সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সামাজিক আন্দোলন হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
নওয়াপাড়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশাসন কে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
যশোরের অভয়নগরে জাতীয় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের যশোর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ আবুল বাশারের ওপর ককটেল (হাত বোমা) নিক্ষেপের ঘটনায় উত্তাল যশোর, অভয়নগর, নওয়াপাড়ার সাংবাদিক মহল। হামলাকারীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা ও হুশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। যশোরের নওয়াপাড়ায় সাংবাদিক আবুল বাশারের ওপর ককটেল (হাত বোমা) হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। আজ দুপুরে নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিক মোঃ আবুল বাসার একজন সাহসী প্রতিভাবান, তার কলমে সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধ অনুসন্ধানি রিপোট প্রকাশ পায়, তিনি যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন এর সদস্য, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর এমন কাপুরুষোচিত হামলা আমরা সাংবাদিক সমাজ কোনোভাবেই মেনে নিবো না। সভায় বক্তারা বলেন, আজ আবুল বাশারের ওপর হামলা হয়েছে, আগামীকাল যে আমাদের ওপর হবে নাতার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। এ সময় বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একইসঙ্গে প্রশাসন কে হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা। নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের অভয়নগর ইউনিট প্রধান ও দৈনিক প্রভাতফেরীর নির্বাহী সম্পাদক হারুণ অর রশীদ, ডেপুটি ইউনিট প্রধান মোঃ কামরুল ইসলামসহ প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া এটিএন নিউজের স্টাফ রিপোর্টার নজরুল ইসলাম মল্লিকসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা সংহতি জানিয়ে সভায় উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।
কালিগঞ্জে মাছের ঘেরের সামনে থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামে সনজিব সরকার (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আজ বুধবার (১ জুলাই) ভোরে ঠেকরা-দক্ষিণশ্রীপুর খেজুরতলা সড়কের বড় খালের মাথা সংলগ্ন একটি মাছের ঘেরের সামনে থেকে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত সনজিব সরকার উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের গোপাল চন্দ্র সরকারের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সনজিব সরকার তার বাবার সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হন। পরে রাত ১০টার দিকে তার বাবা বাড়িতে ফিরে এলেও সনজিব আর বাড়ি ফেরেননি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তার কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে গভীর রাতে স্থানীয়রা তার নিজস্ব মাছের ঘেরের বাসার সামনে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা অন্যত্র সনজিবকে হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে রাতের অন্ধকারে তার মরদেহ নিজস্ব মাছের ঘেরের সামনে ফেলে রেখে গেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। এদিকে রহস্যজনক এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়ার পাশাপাশি তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, সনজিবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তাই তারা একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্ধ ঘোড়াকে আশ্রয় দেওয়া কলারোয়ার কলেজছাত্র সোহানকে "মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর" আর্থিক সহায়তা প্রদান
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া গ্রামে এক অনন্য মানবিকতার নজির সৃষ্টি করেছে কলেজছাত্র সোহান। একটি অসহায় অন্ধ ঘোড়াকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে আশ্রয় ও লালন-পালনের দায়িত্ব নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এই তরুণ। সোহানের এই মহতী উদ্যোগের খবর জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাতে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা সোহানের বাড়িতে গিয়ে তার হাতে আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন। জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের নির্দেশনায় বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়ার পর এই সহায়তা পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় একটি অন্ধ ও অসুস্থ ঘোড়া শ্মশানের পাশে পড়ে আছে। অনেকেই বিষয়টি দেখেও এড়িয়ে গেলেও চান্দুড়িয়া গ্রামের ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার্থী সোহান স্থির থাকতে পারেনি। সে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ঘোড়াটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে স্থানীয় পশুচিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান যে, ঘোড়াটির দুটি চোখই স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে এবং চিকিৎসার মাধ্যমেও দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। চিকিৎসকের এমন মন্তব্যের পরও সোহান ঘোড়াটিকে ফেলে না দিয়ে নিজের পরিবারের সহযোগিতায় সেটির সম্পূর্ণ পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়। এই বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সোহান জানায়, দুচোখ অন্ধ হলেও এটি একটি জীবন্ত প্রাণী। চোখের সামনে একটি প্রাণীকে এভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দিতে না পেরেই সে সেটিকে বাড়িতে নিয়ে এসেছে এবং যতদিন প্রাণীটি বেঁচে থাকবে, ততদিন তারা এর যত্ন নেবে। ছেলের এই মানবিক কাজে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন তার বাবা নাঈম হোসেন। তিনি জানান, ছেলের আগ্রহের কারণেই ঘোড়াটিকে তারা বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন এবং সাধ্যমতো দেখাশোনা করছেন। মানুষ হিসেবে অসহায় প্রাণীর পাশে দাঁড়ানো সবারই দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেন। বর্তমান স্বার্থকেন্দ্রিক সমাজে একটি অসহায় ও দৃষ্টিহীন প্রাণীর প্রতি সোহানের এমন অকৃত্রিম মমত্ববোধ মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার এই মানবিক উদ্যোগটি এখন পুরো এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।
হাবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কংগ্রেস ‘ICBISET-2026’ অনুষ্ঠিত
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো ‘International Congress on Biomedical Intelligence, AI Innovation and Sustainable Emerging Technologies (ICBISET-2026)’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োমেডিক্যাল ইন্টেলিজেন্স এবং টেকসই উদীয়মান প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ কংগ্রেসে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জ্ঞান বিনিময় এবং গবেষণা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ভবনের কনফারেন্স রুমে কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও অফলাইন পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের IEEE HSTU Student Branch Chapter-এর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামুল্যা। অনুষ্ঠানে প্রধান মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সদস্য, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং IEEE Computer Society Bangladesh Chapter-এর সাবেক চেয়ার অধ্যাপক ড. এম. সোহেল রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জামিল সুলতান এবং একই অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. দেলোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, IEEE-এর সিনিয়র সদস্য এবং IEEE HSTU Student Branch Chapter-এর উপদেষ্টা ড. তানজিনা সুলতানা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামুল্যা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োমেডিক্যাল ইন্টেলিজেন্স এবং টেকসই উদীয়মান প্রযুক্তি আগামী দিনের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের অন্যতম চালিকাশক্তি। এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন দেশি-বিদেশি গবেষকদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, গবেষণামুখী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে হাবিপ্রবি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এ কংগ্রেসে উপস্থাপিত গবেষণা ও মতবিনিময় স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিক্ষা, শিল্প এবং টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভাপতির বক্তব্যে ড. তানজিনা সুলতানা জানান, চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে IEEE CIS HSTU Student Branch Chapter-এর উদ্যোগে আরও বৃহৎ পরিসরে একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স বা সিম্পোজিয়াম আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। কংগ্রেসের দ্বিতীয় পর্ব সন্ধ্যা ৭টা থেকে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা কীনোট বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) অধ্যাপক এবং IEEE Computer Society Bangladesh Chapter-এর চেয়ার ড. মো. ওবায়দুর রহমান, মালয়েশিয়ার মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন, যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষণা সহযোগী ড. মো. আল আমিন, দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (KAIST)-এর পোস্টডক্টরাল গবেষক ড. ইরফান উল্লাহ এবং জার্মানির পাডারবর্ন ইউনিভার্সিটির গবেষণা সহযোগী ও পিএইচডি গবেষক উমাইর কুদুস। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ আন্তর্জাতিক কংগ্রেসের অফলাইন পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিবিদরা অংশগ্রহণ করেন। অনলাইন পর্বে দেশ-বিদেশের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গবেষণালব্ধ জ্ঞান, প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী ধারণা বিনিময় করবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক এই কংগ্রেস গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে যৌথ উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক একাডেমিক যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণঃ এখন সময়ের দাবি
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) এর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী দেশে সর্বমোট ৩৫ হাজারের বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) রয়েছে। স্তরভিত্তিক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আনুমানিক সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো: মাধ্যমিক বিদ্যালয় (হাই স্কুল): সারা দেশে প্রায় ১৯,৭৫৭টি। স্কুল অ্যান্ড কলেজ (উভয় স্তর): প্রায় ১,৩৮২টি। উচ্চমাধ্যমিক কলেজ: ইন্টারমিডিয়েট ও ডিগ্রি মিলিয়ে প্রায় ২,৬৬৪টি। মাদ্রাসা: প্রায় ৯,২৬৫টি। কারিগরি ও ভোকেশনাল: প্রায় ২,২২৫টি। শিক্ষাখাতের সঠিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ও সামগ্রিক ডাটাবেজ তৈরি করতে নিয়মিতভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর জরিপ ও নিবন্ধন হালনাগাদ করা হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই এমপিওভুক্ত (মান্থলি পে অর্ডার)। ব্যানবেইসের (BANBEIS) বাৎসরিক প্রতিবেদনে এসব বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়। এমপিওভুক্ত শিক্ষক কে? এমপিওভুক্ত শিক্ষক হলেন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) শিক্ষক যারা সরকারের কাছ থেকে মাসিক বেতন-ভাতা পান। “এমপিও” (MPO) এর পূর্ণরূপ হলো “মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার” (Monthly Payment Order), যা দ্বারা এই শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়। এমপিওভুক্তির মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা পান। বাংলাদেশে শিক্ষার ৯৩ শতাংশই বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে,দীর্ঘমাসাধিককাল সময় ধরে ভাবখানা দেখে মনে হচ্ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মানুষের কাতারেই পড়েন না! তাদের দাবিদাওয়া বলতে কিছুই নেই বা থাকতে পারে না। অথচ আমাদের দেশে মাধ্যমিক শিক্ষা বলতেই বুঝায় বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা। সরকারী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র। অন্যদিকে, দেশে মাধ্যমিক থেকে কলেজ পর্যন্ত ৯৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় বেসরকারিভাবে। বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান আছে প্রায় ৩৭ হাজার। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী প্রায় ৫ লাখ। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে সাড়ে ২৬ হাজার। এগুলোর ৪ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী সরকার থেকে মূল বেতন ও কিছু ভাতা পান। স্বল্প বেতনে বাড়ি হতে অনেক দূরে গিয়ে তাদের চাকরি, আর্থিক নিরাপত্তা না থাকা এমন মানুষদের চাকরি এখনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ভরপুর। তাই এমপিও সিস্টেম রাখাটা কতোটুকু যুক্তিসংগত তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একটি হিসেবে দেখা যায়- যদি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের বেতনের পুরো অংশ সরকারি কোষাগারে জমা নিয়ে শিক্ষার পুরো দায়িত্ব সরকার নেয় তাহলে সরকারের লাভ বেশী হতো। এমনিতেই বেসরকারি শিক্ষকরা বর্তমানে বেতন স্কেলের শতভাগ, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেয়ে থাকেন। এছাড়াও আছে বাড়ি ভাড়া আর সামান্য মেডিক্যাল ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা। আমরা বেসরকারি শিক্ষকগণ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করার পর জাতীয়করণের অনেক কাছাকাছি চলে এসেছি। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক বিশৃঙ্খলার বদনামতো আছেই। ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে যত্রতত্র অর্থ আদায়ে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষা একটি ব্যবসায়িক পণ্য পরিণত হয়েছে। জাতীয়করণ হলে শিক্ষা বিতরণের মহান কারিগর শিক্ষকগণ লাভবান হবে না শুধু জাতিও লাভবান হবে। তারা তাদের দোরগোড়ায় পছন্দের সরকারি স্কুল-কলেজ পাবে সাথে তাদের আর্থিক সাশ্রয়ও হবে। ছাত্রছাত্রীদের হতে আদায়কৃত অর্থসহ প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয় রাষ্ট্রিয় কোষাগারে নিয়ে শিক্ষার পুরো দায়িত্ব সরকার নিলে এটাই হবে জাতীয়করণের সহজ সরল কাজ। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাত্র ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা, এক হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। অথচ একই কারিকুলামের অধীন একই সিলেবাস, একই অ্যাকাডেমিক সময়সূচি, একইভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে নিয়োজিত থেকেও আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে এক বড় ধরনের বৈষম্য। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বেতন স্কেল সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বেতন স্কেলের একধাপ নিচে দেওয়া হয়। তাছাড়া উচ্চতর স্কেলপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন স্কেল ও সহকারি প্রধানদের বেতন স্কেল সমান হওয়ায় সহকারি প্রধান মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন ভাতা এখনো সরকারি অনুদান থেকে দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে তাদের বেতন ভাতা কখন ছাড় হবে তা জানার জন্য সংবাদ মাধ্যমের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। বেতনের খবর এক তারিখের মধ্যে প্রচারিত হলেও ব্যাংকে জমা হতে মাসের ১০/১২ তারিখ চলে যায়। তারপরে পরিচালনা পর্ষদ সভাপতির দস্তখতসহ বেতন বিল তৈরি করে ব্যাংকে জমা দিতে আরো এক সপ্তাহ লেগে যায়। তাই বেসরকারি শিক্ষকদের পকেটে বেতনের টাকা আসতে মাসের বিশ তারিখ হয়ে যায়। ডিজিটাল বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেলেও শিক্ষা বিতরণের মহান কারিগরদের বেতন এখনো অনুদান সহায়তা- এটা তাদের জীবনে এক ধরনের ‘চলিতেছে সার্কাসে’র মতো। বেসরকারি শিক্ষকরা এমনিতেই এমপিও সিস্টেমের জটিল নিয়মের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। একজন শিক্ষক ইচ্ছা মতো তাদের পছন্দের বাড়ির কাছের প্রতিষ্ঠানে বদলি হতে পারছেন না। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরে যাওয়ার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী টাকা পাওয়ার আগেই অর্থাভাবে বিনাচিকৎসায় মৃত্যুবরণ করেন। তাছাড়া কয়েক বছর ধরে কোনও ধরনের সুবিধা না দিয়েই অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট খাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কাটা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অমানবিক। ১৯৭৩ সালে একটি যুদ্ধবিধস্ত দেশে প্রায় ৩৭ হাজার প্রাথমকি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছিলেন। ১৯১৩ সালে প্রায় ২৬ হাজার বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয় । এ অবস্থায় দেশ ও জনগণের স্বার্থে দ্রুত জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়ন, শিক্ষায় বিনিয়োগে ইউনেস্কো আইএলও’র সুপারিশগুলো বাস্তবায়নসহ সবার জন্য শিক্ষা গ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষা জাতীয়করণ প্রয়োজন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাঠ্যক্রম, আইন এবং একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত হলেও সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে বেতনের ১০ হারে কেটে রাখলেও বৃদ্ধ বয়সে যথাসময়ে এ টাকা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নেই। অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যান। প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা: তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন,আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশ নেত্রী, আপোষহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ওয়াদা করেছিলেন ২০১০ সালের ১২ এপ্রিল চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান স্যার ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ওয়াদা করেছিলেন বি এন পি রাষ্ট্র পরিচালনা সুযোগ পেলে প্রথম কাজ হবে দেশের এম পি ও ভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জীবন মানের উন্নয়ন করার জন্য চাকরি জাতীয়করণ করা হলে। দীর্ঘদিন আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সমস্যাটি মানবিক কারণে সহৃদয়তার সঙ্গে বিবেচনা করুন। আপনার মানবিক দয়ালু হস্তক্ষেপেই পাঁচ লাখ জীবন স্বাচ্ছন্দময় হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষকদের শ্রম ও মেধার মূল্যায়ন করা এখন রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। একরামুল ইসলাম তুষার, সহকারী অধ্যাপক, অধ্যাপক, আবুবকর বিশ্বাস মকছেদ আলী কলেজ, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ।
গণঅধিকার পরিষদের নেত্রীসহ তিন নারীর ইয়াবা সেবন এবং নানান অপকর্ম নিয়ে গুঞ্জন
গণঅধিকার পরিষদের রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন মিতুর ইয়াবা সেবনের এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানান গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে সাবিনা ইয়াসমিন মিতু গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষনেতা নুরুল হক নুরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। নেশাই নয় বিভিন্ন বড় ধনাঢ্য পরিবারের খোঁজ খবর নিয়ে তাদের প্রমের ফাদে ফেলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় তারা প্রয়োজনে ফাঁদে ফেলে একাধিক বিয়ের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে স্থানীয় এক সংবাদকর্মী খবর প্রকাশ করলে তাকে নানান হুমকি প্রদান করা হয়। হুমকি দিয়ে তারা বলেন মন্ত্রী নুরুল হক নুরও নাকি তাদের কথায় ওঠাবসা করেন। উক্ত সংবাদকর্মীকে রিজিক বন্ধের হুমকিও দেন মিতু। জানা গেছে, নেত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মিতুর মাদক সেবনের একটি ভিডিও এবং কিছু অনৈতিক কাজের তথ্য স্থানীয় এক সাংবাদিকের হাতে আসে। এই সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করা হলে, সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সেই সাংবাদিককে নুরুল হক নুরের দলীয় প্রভাব ও ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে তীব্র হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় সকল সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিক নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় এবং সচেতন মহল সাবিনা ইয়াসমিন মিতুসহ এই সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শাস্তি প্রদানের জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন।
ভাঙ্গায় গ্রামবাসীর দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিতে প্রাণ গেলো যুবকের
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় স্কুলে যাতায়াতকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে সুমন শেখ (২১) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার পূর্ব হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন শেখ কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে। তিনি একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের বড় ভাই জিহাদ শেখ। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাতায়াতের পথ নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে সুমনকে লক্ষ্য করে শর্টগান থেকে গুলি ছোড়া হলে একটি গুলি তার গলায় বিদ্ধ হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, "দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। নিহতের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"