বাংলাদেশ বার্তা টুডে
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড্ডয়ন ও শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত করার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এদিন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে আনন্দ র্যালি বের করে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়। র্যালি শেষে আনন্দমুখর পরিবেশে প্রশাসনিক ভবন চত্বরে কেক কাটা ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টেনিস কোর্ট প্রাঙ্গণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসন উদ্দিন শেখর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন, নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকার পরও আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও অ্যাওয়ার্ড প্রদানের ব্যবস্থা করেছি। প্রথমবারের মতো ডিনস কমপ্লেক্স চালু করেছি। সেই সাথে গবেষণাগার সমৃদ্ধিকরণ ও মেডিকেল সেন্টার সংস্কার করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ২০ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। আরো ৪৭ জন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আপগ্রেডেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। সার্বিকভাবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে আরো ১২০০ কোটি টাকার প্রজেক্ট পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সকলের সহায়তা কামনা করেন। সভাপতির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অপরিসীম চেষ্টায় এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের অবদানকে আমি গভীরভাবে স্মরণ করছি। আমি প্রত্যাশা করছি, একদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে তৈরি হবে। সেজন্য আমাদের সকলকে বিভেদ ভুলে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে অনুষ্ঠানের শুরুতে সবাইকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে স্বাগত বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান। ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ময়নুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন মানবিকী অনুষদের ডিন সুকান্ত বিশ্বাস, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান, কৃষি অনুষদের ডিন ড. জিলহাস আহমেদ জুয়েল ও রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান। এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রশাসনিক ভবন ও প্রধান ফটকে আলোকসজ্জা করা হয়।
নেত্রকোনায় পিতৃপরিচয় ও উত্তরাধিকারী স্বীকৃতি পেল ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশু: ধর্ষকের যাবজ্জীবন
নেত্রকোনা বারহাট্টায় দীর্ঘ ১৩ বছর পর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া কন্যাশিশু বিজ্ঞ আদালতের রায়ে ফিরে পেল তার পিতৃপরিচয়। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার রায়ে অভিযুক্ত ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদানের পাশাপাশি ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া কন্যা সন্তানকে পিতৃপরিচয় এবং ধর্ষকের সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত হেলাল উদ্দিন বারহাট্টা উপজেলার স্বল্পদশাল গ্রামের বাসিন্দা।
সুরের টানে দুই বাংলায় প্রশংসিত কবিয়াল রবিশংকর দে রুবেল
লোকসংস্কৃতি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের ধারক। সেই ঐতিহ্যকে আপন কণ্ঠে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছেন চট্টগ্রামের রাউজানের কৃতী লোকশিল্পী, কবিয়াল ও বুদ্ধ কীর্তনশিল্পী রবিশংকর দে রুবেল (রুবেল কান্তি দে)। কবিগান, পাল্টা কীর্তন, বুদ্ধ কীর্তন ও গুরু নিধি কীর্তনের অঙ্গনে তাঁর নাম আজ দুই বাংলার সংস্কৃতিপ্রেমীদের কাছে সুপরিচিত।
অতি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা পানি বৃদ্ধির আশংকা: জরুরি কন্ট্রোল রুম চালুর ঘোষণা উপজেলা প্রশাসনের
গত (৫ জুলাই) রবিবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে জেলার বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতায় প্লাবিত হয়েছে। এদিকে টানা বর্ষণে নদীর তীরবর্তী ইউনিয়ন কধুরখীল, পশ্চিম গোমদণ্ডী, চরখিদিরপুর, শাকপুরা ঘোষখীল, পশ্চিম শাকপুরা ও চরণদ্বীপ এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
শৈশবের সোনালী দিন এবং সময়ের নিষ্ঠুর আবর্তন
বাঙালির শৈশব মানেই রোদে পোড়া, বৃষ্টিতে ভেজা আর প্রকৃতির কোলে অবাধ স্বাধীনতা। ওসমান গনির স্পষ্ট মনে পড়ে সেই বিশাল, ছায়াবিড়ম্বিত জাম তলাটির কথা। গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে যখন চারদিক নিঝুম হয়ে যেত, তখন পাড়ার একঝাঁক ছেলেমেয়ে জড়ো হতো সেই গাছের নিচে। সেখানে ধনী-দরিদ্রের কোনো ভেদ ছিল না, ছিল না কোনো হিংসা বা প্রতিযোগিতা।
কালীগঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন যৌথ মহড়া পরিদর্শন সেনাপ্রধানের
বুধবার ( ৮ জুলাই) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়নের নতুনবাজার এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন যৌথ মহড়া পরিদর্শন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জামান । আজ দুপুর ১২টার দিকে তিনি সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার যোগে মহড়াস্থলে পৌঁছান এবং সেনাবাহিনীর রণকৌশল ও প্রস্তুতি প্রত্যক্ষ করেন। মহড়া পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধান উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদা প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি যেকোনো দুর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়াতে সেনাসদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় সেনাপ্রধানের সঙ্গে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল নোমান, জেলা পুলিশ সুপার আশিস বিন হাসান , কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ। সহ সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনীর নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এই গ্রীষ্মকালীন মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঝিনাইদহে ৪ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামুল্যে সার ও বীজ বিতরণ
গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঝিনাইদহে ৪ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামুল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই)সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ সার ও বীজ বিতরণ করা হয়। সে সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা-নূর-এ নবী, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার জুনাইদ হাবীব, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মীর রাকিবুল ইসলাম, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। কৃষি বিভাগ জানায়, খরিপ মৌসুমে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ৪ হাজার কৃষকের প্রত্যেককে ৭ প্রকার সবজি বীজ, ১৫ কেজি ডিএপি ও ১৫ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে।
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাউজানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানির তীব্র স্রোতে একটি সেতুর অংশ ধসে পড়ায় সড়কের একপাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। অপর পাশ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে রাউজান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পানির প্রবল স্রোতে একটি সেতুর অংশ ধসে পড়ে। গত দুই দিনের টানা বর্ষণে রাউজান পৌরসভাসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্নাসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাবুয়া খালের ভাঙন রোধে সম্প্রতি জিও ব্যাগ ও ব্লক স্থাপন করা হলেও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে তা কার্যকর হয়নি। জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে খালটি প্রশস্ত করার পর পানির প্রবাহ ও স্রোতের বেগ বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ে। মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলার অধিকাংশ সড়ক প্রায় যানবাহনশূন্য ছিল। পানির তীব্র স্রোতের কারণে বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন আটকে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে উপজেলার আরও অনেক গ্রামীণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। পরিস্থিতির খবর পেয়ে রাউজান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। বিশেষ করে মদুনাঘাট সড়কের ভাঙনের বিষয়টি অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর উদ্যোগে বিভাগের প্রকৌশলীরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি সংস্কার কাজ শুরু করেন। রাউজান উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফিরোজ আহমদ বলেন, “আমাদের অভিভাবক গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন। ভাঙন কবলিত সড়ক ও সেতু এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ চলছে।” উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাবের সুলতান কাজল জানান, পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ইতোমধ্যে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে। যেকোনো দুর্যোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে মানুষের পাশে থাকবেন। সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে রাউজান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পানিবন্দি ও অসহায় পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন তরুণ সমাজসেবক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ হাসান বাহাদুর। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেন। রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. রাহাতুল ইসলাম বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ইউএনও'র উদ্যোগে দূর হল পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধতা; স্বস্তিতে দু'শতাধিক পরিবার
গত রবিবার থেকে অবিরাম ভারি বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে বোয়ালখালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। এই অতি বৃষ্টিতে পৌর এলাকার পশ্চিম গোমদন্ডী ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের প্রায় ২শত পরিবারের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ার খবর আসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুকের কাছে। পানিবন্দি মানুষের খবর জানতে পেয়ে আজ (৮ জুলাই বুধবার) বিকালে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তিনি ছুটে যান ঘটনাস্থলে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে যোগদেন পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার উদ্যোগে। উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাকে এমন দূর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লূত হন তারা। ভুক্তভোগীরা জানান, পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের হাজিরপুল এলাকায় সড়কের কালভার্ট ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। এসময় ভুক্তভোগীরা বাধা দেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেন। কিন্তু তখন এর কোন সমাধান হয়নি। ফলে গত ক'দিনের টানা বৃষ্টির কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমের মত জলাবদ্ধ হয়ে ৮/১০ বাড়ির প্রায় ২শত পরিবার জলাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হন। উপজেলা প্রশাসন এমন উদ্যোগে সাধুবাদ জানায় স্থানীয় বাসিন্দারা। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করে দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আশা করি কালভার্ট পুরোটা পরিস্কার করে দিলে মানুষ আরো বেশি এর সুফল পাবে। এতে এলাকাবাসী স্থায়ীভাবে পানিবন্দি হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমি সে স্থানে যাই। দ্রুততার সঙ্গে মানুষের এ দুর্ভোগ নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। তিনি আরো বলেন, যারা খাল ও কালভার্ট ভরাট করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে অবিলম্বে তা নিজ উদ্যোগে অপসারণ না করলে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এ সময় পানিবন্দী মানুষের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শ্রীপুরে দুই দিনে পোশাক কারখানার শতাধিক শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি, কারখানা কর্তৃপক্ষ বলেছে এসব "জ্বীনের আছর"
গাজীপুরের শ্রীপুরে টেপিরবাড়ি এলাকার অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় রহস্যজনক গণঅসুস্থতার ঘটনা দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার অন্তত ৭০ শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার পর বুধবার (৮ জুলাই) সকালেও একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩৫ জন শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। গতকালকে ৭০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে গুরুতর অসুস্থ ৭জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয় । দুই দিনে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হওয়ায় কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন বা চিকিৎসকরা। এদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের ওপর এসব ‘জ্বিনের আছর’ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকে কারখানায় কয়েকটি মসজিদের ইমাম এনে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। অন্যদিকে শ্রমিকরা কুসংস্কারের পরিবর্তে ঘটনার বৈজ্ঞানিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। কারখানার জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সঞ্জীব বলেন, বুধবার সকাল থেকে উৎপাদন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবার শ্রমিকরা অসুস্থ হতে থাকেন। তাদের ধারণা, এটি ‘জ্বিনের আছর’ হতে পারে। সে কারণেই কয়েকজন ইমাম এনে দোয়া পড়ানো হয়েছে। তবে শিল্প পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সকাল থেকেই একের পর এক শ্রমিক বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা, পেটে ব্যথা ও বমি বমি ভাবের মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসতে থাকেন। মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুধবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন শ্রমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কারখানার সুইং অপারেটর মো. হাবিব বলেন, ‘আজও ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়েছেন। তাদের বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব দেখা দিয়েছে।’ এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কারখানার পঞ্চম তলায় প্রথম এক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বিভাগের আরও শ্রমিক আক্রান্ত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেদিন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং অন্তত ৭০ শ্রমিককে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ২৪ জুন কারখানার শ্রমিক লিজা আক্তারের মৃত্যুর পর থেকেই কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভও হয়েছিল। এর মধ্যেই টানা দুই দিনের গণঅসুস্থতা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শ্রমিক আশিক নুর বলেন, ‘একজন শ্রমিকের মৃত্যুর পরও আমরা নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাইনি। এখন আবার একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হচ্ছে। আমরা প্রকৃত কারণ জানতে চাই।’ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকিতে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম আলহেরা হাসপাতালে রয়েছেন। পর্যবেক্ষণ শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শ্রমিকরা কী কারণে অসুস্থ হচ্ছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরপর একজন শ্রমিকের মৃত্যু এবং দুই দিনে শতাধিক শ্রমিকের রহস্যজনক অসুস্থতার ঘটনায় শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় কুসংস্কার বা অনুমানের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। কর্মপরিবেশ, কারখানার বায়ুর মান, সম্ভাব্য রাসায়নিক পদার্থের প্রভাব, খাদ্য ও পানির মানসহ সব দিক বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শ্রমিকদেরও দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হোক ।
আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.)-এর ৬ষ্ঠ বার্ষিক ঈসালে সাওয়াব মাহফিল: ১২ জুলাই ২০২৬ইং
আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.)-এর ৬ষ্ঠ বার্ষিক ঈসালে সাওয়াব মাহফিল ১২ জুলাই ২০২৬ইং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ, পীরে কামিল হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব কিবলাহ (রহঃ) - এর ৬ষ্ঠ বার্ষিক ঈসালে সাওয়াব মাহফিল আগামী ১২ জুলাই ২০২৬ইং রোববার ঐতিহ্যবাহী লন্ডন ব্রিকলেন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত মাহফিল সফল করার লক্ষে আল্লামা দুবাগী (রহ.) ঈসালে সওয়াব মাহফিল কমিটির উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা গত ৫ই জুলাই ২০২৬, রোববার বিকাল ৪টায় ব্রিকলেন মসজিদের হল রুমে আল্লামা জিল্লুর রহমান চৌধুরী দুবাগীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা অলিউর রহমান চৌধুরী দুবাগী, মাওলানা মহবুবুর রহমান চৌধুরী দুবাগী, মাওলানা আমিনুল ইসলাম জলঢুপী, প্রফেসর মিসবাহ উদ্দিন কামাল, আলহাজ্ব সেলিম রহমান, মশিউর রহমান চৌধুরী মিটু, নিজাম উদ্দিন, আলহাজ্ব মতিউর রহমান শাহী, আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম প্রমুখ। আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.)-এর মাজার শরীফ জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু হবে মাহফিলের কার্যক্রম। এরপর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে:- খতমে কুরআন, খতমে খাজেগান, দালাইলুল খায়রাত শরীফের খতম, যিকর মাহফিল, বিষয়ভিত্তিক বয়ান, স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা, মিলাদ শরীফ ও দোয়া। মাহফিলে সভাপতিত্ব করবেন আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহঃ)-এর সুযোগ্য উত্তরসূরী তাঁর বড় ছাহেবজাদা হযরত আল্লামা জিল্লুর রহমান চৌধুরী দুবাগী। মাহফিলে ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ:) এর ভক্ত ও মুরিদানসহ সর্বস্তরের মুসলমানদের সমাগম হবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন। আগত মেহমানদের খাবারের আয়োজন করা হবে। মাহফিলে বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত পীর-মাশায়িখ, আলিম-উলামা, ইসলামী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ, বিভিন্ন্ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মাহফিলে উপস্থিত হবেন। মাহফিলকে সফল ও স্বার্থক করে তুলতে ঈসালে সওয়াব মাহফিল কমিটির পক্ষ থেকে সর্বস্তরের মুসলিম জনতার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পীরে কামিল হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব (রহ.) যুক্তরাজ্যে এক সুপরিচিত ওলী-আল্লাহর নাম। তিনি ছিলেন ইউকে ওলামা সোসাইটি'র প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি, আনজুমানে আল-ইসলাহ ইউকে'র প্রতিষ্ঠাতা ও লন্ডন দারুল হাদীস লাতিফিয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। একাধারে সুদীর্ঘ প্রায় অর্ধ শতাব্দী বিলাতে ইসলাম প্রচার ও প্রচারের আন্জাম দিয়ে দ্বীনের বহুমুখী খিদমতই তাঁর ব্যাপক পরিচিতির অন্যতম কারণ। আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.)-এর জীবন আল্লাহর রাহে সর্বোতভাবে নিবেদিত ছিল। তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান, একটি উৎকৃষ্টতর চিন্তাচেতনার আলোকবর্তিকা। ইলমে হাদিস, ইলমে তফসীর, ইলমে ফিকহ, ইলমে ক্বিরাত, ইলমে তাসাউফ, দাওয়াত-তাবলিগ, সমাজ সংস্কার, ওয়াজ-নসিহত, শিক্ষকতা, আরবী, উর্দু ও বাংলা ভাষায় বই রচনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামের খেদমতে ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর, ইয়েমেন, সিরিয়া, কুয়েত, ফিলিস্তিন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, ইউরোপ, আমেরিকা-সহ পৃথিবীর বহু দেশের আকাবির উলামায়ে কেরামের সঙ্গে উঠা বসার সুযোগ হয়েছে তাঁর। সে সব দেশের মশহুর মুহাক্কিক উলামা-মাশায়িখদের সাথে ইলমী আলোচনা করেছেন, হাদীসের সনদ আদান-প্রদান করেছেন।সমাজের অসহায়-দুঃস্থ মানুষের সেবায় তাঁর রয়েছে বহুবিধ খিদমত। তিনি যেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তিনি এক বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা ও মহান ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তিনি আপন কর্মের দ্বারা তাঁর মুরিদীন-মুহিব্বীন-সহ সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে বিশাল এক জায়গা দখল করে গেছেন। হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব কিবলাহ (রহ.) ১৯২৯ সালে ভারত সীমান্তবর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। প্রায় শতবর্ষব্যাপী জীবন অতিবাহিত করে ২০২০ সালের ১০ই জুলাই শুক্রবার জুম্মার পূর্বক্ষণে আল্লামা দুবাগী ছাহেব (র.) লন্ডনে অসংখ্য ভক্ত বৃন্দকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে পরপারে পাড়ি জমান।
মঠবাড়িয়ায় যুবককে আটক করে মুক্তিপণ আদায়, গ্রেফতার-১
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এক যুবককে আটকে রেখে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং ৩০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদল নেতা কেএম ইলিয়াস সাদ্দার (২৬) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী মোসা. সুমি আক্তার বাদী হয়ে ইলিয়াসকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ২–৩ জনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করলে থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে শহরের অঙ্গন মনিরের ভাড়াটিয়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেফতারকৃত ইলিয়াস উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের ভেচকি গ্রামের মোঃ সেলিম খানের ছেলে। থানা ও মামলা সূত্রে জানাযায়, সুমি আক্তারের তাঁর আট বছরের ছেলে ও তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে মঠবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার অঙ্গন মনিরের বাসায় ভাড়া থাকেন। একই বাসায় অভিযুক্ত কেএম ইলিয়াস সাদ্দারও ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। বিগত প্রায় ৬ বছর আগে মোবাইল গেম খেলার সুবাদে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মোঃ ইমন (২২)-এর সাথে সুমি আক্তারের ভাইয়ের পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরে ইমনের পরিবারের সাথে সুমির পরিবারের একটি সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৫ জুলাই রবিবার সন্ধ্যায় ইমন মঠবাড়িয়ায় সুমি আক্তারের ভাড়া বাসায় বেড়াতে আসেন এবং রাতে সেখানেই অবস্থান করেন। পরের দিন সোমবার ইমন পৌর শহরের মেগাফুট রেস্টুরেন্টে গেলে যুবদল নেতা ইলিয়াস ও তার সহযোগীরা ইমনকে কৌশলে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটকে রেখে ওই গৃহবধুর সাথে অবৈধ সম্পর্ক আছে বলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেখিয়ে ১ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। প্রাণনাশের হুমকির মুখে ইমনের বড় ভাই বিভিন্ন বিকাশ নম্বর থেকে ইমনের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা পাঠানোর পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী মোসা. সুমি আক্তার বাদী হয়ে ইলিয়াসকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ২–৩ জনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা করেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, যুবদল নেতা কেএম ইলিয়াস কয়েক মাস আগে প্রতারনা মামলায় জেল খেটে জামিনে আসছে। সালমান আহসান বাবু মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি 01752971387
মঠবাড়িয়ায় কে এম লতিফ ইনস্টিটিউশনের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি গঠন
দক্ষিণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী কে, এম, লতিফ ইনস্টিটিউশনের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি অনুমোদিত হয়েছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রুহুল আমিন দুলাল। এছাড়া অভিভাবক সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জনাব মো. মিজানুর রহমান, যিনি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শ্রীমতী ইন্দিরা রানী চৌধুরী। বিষয়টি আজ বুধবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান নিশ্চিত করেছে। নবগঠিত এই অ্যাডহক কমিটির প্রতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসী আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। সালমান আহসান বাবু মঠবাড়িয়া পিরোজপুর 01752-971387
প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে নিজ ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের পাড়াপরমানন্দ গ্রামের ফকিরবাড়ী এলাকায় নিজ বাড়ির পাকঘরে আগুন লাগিয়ে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন ২০২৬ রাত আনুমানিক ১২টার দিকে পূর্বশত্রুতার জেরে কাজল মিয়া (৫০), পিতা—মৃত আব্দুল হেলিম এবং তার স্ত্রী মোমেছানা ওরফে মমতা (৪০) নিজেদের বাড়ির রান্নাঘরে আগুন দেন—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। পরে এ ঘটনায় কাজল মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে চরমারিয়া গ্রামের বাসিন্দা উবায়দুল হক (৩৮), পিতা—মৃত আবু বকর ছিদ্দিক-সহ আরও ৫ থেকে ৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের অভিযোগ, নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানির উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তবে এ বিষয়ে কাজল মিয়া বা তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এদিকে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঝিনাইদহে স্কুল শিক্ষিকাকে পিটিয়ে জখম
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা বাজার এলাকার ত্রিমোহনীতে এক স্কুল শিক্ষিকাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী। আহত ওই শিক্ষিকার নাম ফারজানা ইয়াসমিন। তিনি উত্তর নারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। বর্তমানে তিনি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার বিবরণ লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর শিক্ষিকা ফারজানা ইয়াসমিন তাঁর নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একই এলাকার আব্দুস সালাম মিয়ার ছেলে শিপন মিয়ার নেতৃত্বে ৬/৭ জনের একটি সন্ত্রাসী দল ফারজানার মালিকানাধীন ‘হিরা অটো রাইস মিলের’ মূল্যবান যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। টের পেয়ে শিক্ষিকা বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধর করে মারাত্মক জখম করে। সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে ফারজানা ইয়াসমিন দৌড়ে গিয়ে স্থানীয় আরশাদ আলীর চালের আড়তে আশ্রয় নেন। হামলার সময় সন্ত্রাসীরা তাঁর গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অভিযুক্তের ব্যাকগ্রাউন্ড ও পুলিশি পদক্ষেপ এলাকাবাসীর অভিযোগ, মূল অভিযুক্ত শিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দীর্ঘদিনের রেকর্ড রয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে ফারজানা ইয়াসমিন বাদী হয়ে শিপনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬/৭ জনকে আসামি করে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"