বাংলাদেশ বার্তা টুডে
নওগাঁয় সমতার গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাত, পলাতক এনজিওর নির্বাহী পরিচালক শাহিন গ্রেফতার
নওগাঁয় সমতার গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাত, পলাতক এনজিওর নির্বাহী পরিচালক শাহিন গ্রেফতার
কোটচাঁদপুরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ দীপা রানী সরকার। তিনি দুর্যোগকালীন সময়ে সকল সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং কোটচাঁদপুর উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্ট দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আসন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, আশ্রয়কেন্দ্রসমূহের প্রস্তুত অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থাপনা, জরুরি সেবা নিশ্চিতকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বিত কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কখনো পূর্বঘোষণা দিয়ে আসে না। তাই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম পরিকল্পনা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়োপযোগী প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও দুর্যোগ-সহনশীল কোটচাঁদপুর গড়ে তোলা সম্ভব। সভা শেষে দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
মান্দায় পানি বন্দি ২০০ পবিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করলেন প্রশাসন
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় টানা ভারি বর্ষণে পানি বন্দি হয়ে পড়েন ২০০ পরিবার।উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর গ্রামের আশ্রয়ণ ও আদর্শ গ্রামের এ বান্দি হন ওই পরিবার গুলো। বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় তিন দিন ধরে অনেক পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলেনি। রান্না করা খাবারের পরিবর্তে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা। জলাবদ্ধতার মধ্যে সাপ ও জোঁকের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণ ও উজানের কয়েকটি উপজেলা থেকে আসা পানিতে আশ্রয়ণ পল্লিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পল্লিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। বর্তমানে পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও চুলা পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু, বয়স্ক ও নারীরা। পল্লির বাসিন্দা বায়োজিদ হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পল্লিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। এখন পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি। রান্নার চুলা ডুবে গেছে, ঘরেও পানি উঠেছে। তিন দিন ধরে রান্না করা খাবার খেতে পারিনি। খুব কষ্টে দিন কাটছে।’ আরেক বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। চুলা তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করা যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে আছি। স্থানীয় দু’একজন নেতা ছাড়া আর কেউ খোঁজখবর করতে আসেনি।’ এ অবস্থায় আজ শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্দি ২০০ পরিবারের মধ্যে স্যালাইন, মোমবাতিসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সার্থী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, মৈনম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছার রহমান, মৈনম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহারুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সার্থী বলেন, ‘এটি বন্যা নয়; হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা। খবর পেয়ে শুক্রবার এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। মাননীয় সংসদ সদস্যের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় আজ পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে স্যালাইন, মোমবাতি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’
উপজেলা প্রশাসন'র পাশাপাশি বন্যাদূর্গতের পাশে দাঁড়াল সেনাবাহিনী; খোলা হল অস্থায়ী ক্যাম্প
সবুজ অরণ্য / বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা-ঃ গত পাঁচ দিনের বিরামহীন বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল আর কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে শহরতলি বোয়ালখালীর নিম্মাঞ্চল। কোথাও হাটুপানি থেকে কোমর সমান পানিতে বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। দেখা দিয়েছে নিরাপদ খাবার পানির সংকট। আজ (১১ জুলাই) শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টির দাপট কিছহটা কমে এলেও এখনো জলমগ্ন উপজেলার নিম্মাঞ্চল। কিছু কিছু এলাকায় এখনো বিপদ সীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি। টানা বর্ষণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে নিন্ম আয়ের কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় অব্যাহত রয়েছে সরকারি ত্রাণ ও জরুরি সেবা কার্যক্রম। এদিকে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে সরকারি বরাদ্দের ৯০০ প্যাকেট শুকনা খাবার। এছাড়া রয়েছে বোতলজাত বিশুদ্ধ খাবার পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও খাবার স্যালাইন। অপরদিকে বানবাসি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গঠন করা হয় ১০টি মেডিকেল টিম। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্যা ও দূর্যোগ মোকাবিলা করার সুবিধার্থে সমন্বয়ের জন্য উপজেলা পর্যায়ে চালু করা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। যেখান থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে দূর্যোগ পরিস্থিতি। কোনো এলাকা থেকে অভিযোগ বা সহায়তার আবেদন পাওয়া মাত্রই উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক। উল্লেখ্য যে, দূর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে গত (১০ জুলাই) শুক্রবার জেলার লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি এই ৭টি উপজেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’র আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় বোয়ালখালীর পানিবন্দি মানুষের পাশে থেকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেন।
দৌলতপুরে পারি/বারিক সংঘ/র্ষে যুব/কের মৃত্যু, হাসপা/তালে বাবা,আটক ২
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে হামলায় গুরুতর আহত মামুন মোল্লা (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। একই ঘটনায় তার বাবা মোজা মোল্লা (৭৫) আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের শুকারঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মামুন মোল্লার মৃত্যু হয়। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কয়েকদিন আগে এলাকায় গরু চুরির একটি ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে একটি টর্চলাইট উদ্ধার হয়। সেটি মামুন মোল্লার বলে সন্দেহ করেন তার কয়েকজন চাচাতো ভাই। এ নিয়ে আগে থেকেই চলমান জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এর জেরেই শুক্রবার বিকেলে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, জাব্বার মোল্লাসহ কয়েকজন লাঠি ও লোহার শাবল দিয়ে মামুন মোল্লাকে মারধর করেন। ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার বাবা মোজা মোল্লাকেও আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে মামুনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে তার মৃত্যু হয়। নিহতের ভাগ্নে সৌরভ বলেন, দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধ এবং গরু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, হামলায় আহত মামুন মোল্লা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় উজ্জ্বল মোল্লা (৪৮) ও জাব্বার মোল্লা (৩৫) নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আইনগত প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের ভেলাজানে ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন
জমজমাটপূর্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে সদর উপজেলার ভেলাজানে “মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি” ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করা হয়। শুক্রবার বিকেলে ভেলাজান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। “খেলায় শক্তি খেলায় বল, মাদক ছেড়ে খেলতে চল” এই স্লোগানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল চিলারং ইউনিয়ন শাখার আয়োজনে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চিলারং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো: আসাদুজ্জামান আসাদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন প্রধান অতিথি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: আব্দুল হামিদ, গেস্ট অব অনার জেলা যুবদলের সভাপতি মো: আবু হানিক মুক্তা, সাধারণ সম্পাদক মো: জাহিদুর রহমান জাহিদ, বিশেষ অতিথি সদর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা ডানো, চিলারং ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মো: আমিনুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক মো: বজলুর রহমান, মো: আইয়ুব আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চিলারং ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও খেলা পরিচালানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: ফারুক হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি আবু হানিফ মুক্তা ও সাধারণ সম্পাদক মো: জাহিদুর রহমান জাহিদের সার্বিক তত্তাবধানে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী খেলায় রায়পুর ইউনিয়ন যুবদল টিম টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন যুবদল টিমকে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ গোলে সমতায় শেষ হয়। খেলা পরিচালননা প্যানেলে ছিলেন জেলা ফুটবল রেফারীজ এসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মো: আসাদুজ্জামান শামিম, সদস্য মো: দারুল ইসলাম ও মো: মনিরুজ্জামান। ধারা বর্ণণা করেন স্বনামধন্য ধারাভাষ্যকার মো: হারুন অর রশিদ। উল্লেখ্য যে, টুর্নামেন্টে সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন যুবদলের টিম অংশগ্রহণ করছে।
স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও পাকা হয়নি ২ কিমি সড়ক, চরম দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুহুলী বাজার থেকে কমলাবাড়ী ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও পাকা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতায় রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক ও নিত্যযাত্রীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, এটি রাস্তা নয়, যেন ধান লাগানোর জন্য প্রস্তুত করা ক্ষেত! সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে কাদা ও জলাবদ্ধতা। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে থাকায় পথচারী, মোটরসাইকেল, ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দূর্ভোগ চরমে। অনেক সময় যানবাহন কাদায় আটকে যাওয়ায় যাতায়াতে বাড়ছে সময় ও খরচ। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দুহুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুহুলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কয়েক শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষাকালে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়ে আহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক শিশুদের স্কুলে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় সময়মতো ফসল বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি কাঁচাই রয়ে গেছে। জনপ্রতিনিধিদের সদিচ্ছার অভাবে আজও কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি। পথচারী রহমান মিয়া বলেন, “বহু বছর ধরে রাস্তা পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছি।জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার গেলেও আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাইনি। দেখি এবার নতুন সরকারি উদ্যেগ নেয় কি না! এলাকাবাসীর দাবি, এটি শুধু একটি গ্রামের রাস্তা নয়; প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ পথচারী এই সড়ক ব্যবহার করেন। তাই জনদুর্ভোগ লাঘব এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, “রাস্তাটিকে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় রোড আইডির জন্য প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গেজেট সম্পন্ন হলে সরকারি বরাদ্দ ও উপযুক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
ভোমরা স্থলবন্দরে রপ্তানি বাণিজ্যে ধস: বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ঘাটতি
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় ধরনের ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে। বহুমুখী উদ্যোগের অভাব এবং নানামুখী অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বন্দরটি দিয়ে রপ্তানি আয়ে বিপর্যয় নেমে এসেছে। কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৯৯ মেট্রিক টন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছে, যা থেকে সরকারের আয় হয়েছে ১৮৯২ কোটি ৫৩ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা। অথচ এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এখান থেকে ২৮ লাখ ৬ হাজার ৩০ মেট্রিক টন পণ্য রপ্তানির বিপরীতে আয় হয়েছিল ৩৪০৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমেছে ১৫১৪ কোটি ৪১ লাখ ২৭ হাজার ৪ টাকা, যা সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ২,৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার ঘাটতি নির্দেশ করছে। ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতির জন্য জ্বালানি সংকট, গ্যাস ও বিদ্যুতের উচ্চমূল্য, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়াকে প্রধানত দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট কমিয়ে দেওয়ায় এবং রপ্তানি প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা পেতে নয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যবসায়ীরা পুঁজি সংকটে ভুগছেন। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বন্দরের অপর্যাপ্ত অবকাঠামো রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও সংকুচিত করে ফেলেছে। বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের ভাষ্যমতে, ভোমরা বন্দর দিয়ে মূলত স্বল্প পরিসরে ওয়েস্ট কটন ও মশারি রপ্তানি হলেও, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টস শিল্পের কোনো পণ্য এখানে দেখা যায় না। অথচ দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বর্তমানে এই খাতের প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় পুরো রপ্তানি বাণিজ্য এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এলসি খোলা, মাল খালাসসহ বন্দরের বিভিন্ন স্তরে অস্পষ্ট ব্যয় এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন না হলে এই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। এখনই প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নীতিসহায়তা না পাওয়া গেলে সামনে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ আরও সংকীর্ণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রীপুরে কাভার্ডভ্যান চাপায় স্বামী স্ত্রী নিহত , ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেল নয় মাসের শিশু নুর
গাজীপুরের শ্রীপুরে কাভার্ডভ্যান চাপায় রাকিব হাসান (৪২) ও বিথী আক্তার (২৭) নামে দুজন স্বামী স্ত্রী মারা গেছেন। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে তাদের ৯ মাস বয়সী শিশুকন্যা নূর। গুরুতর আহত শিশুকন্যাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে স্ত্রী বিথী আক্তার ও হাসপাতালে নেওয়ার পর স্বামী রাকিবের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই )দুপুরে উপজেলার গিলারচালা গ্রামে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। নিহতরা হলেন পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার উত্তর রানীপুর গ্রামের সেকান্দার আলী বেপারীর ছেলে রাকিব হাসান ও তার স্ত্রী বিথী আক্তার । স্বামী স্ত্রী দুইজন ডেনিম্যাক লিমিটেড নামে একটি কারখানায় মানবসম্পদ বিভাগে কর্মকর্ত ছিলেন। নিহত রাকিবের খালাতো বোন মরিয়ম বেগম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটি আসেন তিনি। গাড়ি চাপা দেওয়ার সময় শিশুকন্যা মায়ের কোলে ছিল। গাড়ি চাপা দেওয়ার সময় মেয়ে শিশুকে ছুড়ে মারে মা। এজন্য ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়। শিশুর অবস্থা বেশি ভালো না। শ্রীপুর থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ডেনিম্যাক লিমিটেড কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা শাহিনুর আলম বলেন, দুপুরের বিরতিতে রাকিব হাসান তার স্ত্রীকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুত গতির একটি কাভার্ডভ্যান তাদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই রাকিবের স্ত্রী মারা যায়। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থা রাকিবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়েছে। রাকিব হাসান ডেনিম্যাক লিমিটেড কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ছিলেন। তার স্ত্রীও একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ডা. সায়নী মজুমদার বলেন, রাকিব বিথী দম্পতিকে মৃত্যু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের শিশুকন্যাকে জীবিত অবস্থায় আনা হয়েছে। শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা রেফার্ড করা হয়েছে। মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল হতে গুরুতর আহত একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ঘটনাস্থল হতে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত শিশুকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘাতক চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে গেছে। এবিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
পানিবন্দি পরিবারের মাঝে ২য় দিনের মতো চলছে চাউল বিতরণ
টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মীরপাড়া ও বহদ্দারপাড়া এলাকার পানিবন্দি পরিবারের মাঝে আজও চলছে চাল বিতরণ। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে বহদ্দারপাড়া এবং বিকেলে মীরপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহর পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সদস্য শওকত আলমের নির্দেশনায় বোয়ালখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও বিএনপি নেতা হাজি আবু আকতার'র উদ্যোগে এ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রথম দিনে দুইটি এলাকায় মোট ৬০০টি পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। আজ ২য় দিনে আয়োজকরা জানান, দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সৌহার্দ্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রত্যয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের অভিষেক
সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সিনিয়র সাংবাদিক মো. শাহজাহান মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. খিজির উদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুদীপ্ত শামীমের যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সামিউল ইসলাম, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুহা. একরামুল হক, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইখতিয়ার উদ্দিন ভূঁইয়া নিপন, সদস্য সচিব মো. মিজানুর রহমান লিপু, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মালেক এবং প্রেসক্লাবের সিনিয়র সভাপতি এম. এ. মাসুদসহ অনেকে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান বলেন, স্বাধীন, সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি সাংবাদিকদের ব্যক্তিস্বার্থ ও পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে থেকে সত্যনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গুজব ও অপসাংবাদিকতা পরিহার করে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও জনদুর্ভোগ নির্ভীকভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে গণমাধ্যম জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ সময় সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য, পেশাগত সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনা শেষে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক হিসেবে প্রেসক্লাবের লোগোসংবলিত মগ উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের সমাপনীতে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতা চর্চার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বারহাট্টায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ
নেত্রকোনার বারহাট্টায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ-২ মৌসুমে উফশী রোপা আমন ধান ও শাকসবজির আবাদ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে (১১ জুলাই) শনিবার সকালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাক্তার আনোয়ারুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা এবং বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম। কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে উন্নতমানের উফশী রোপা আমন ধানের বীজ, বিভিন্ন শাকসবজির বীজ এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক দলের সভাপতি সালাউদ্দিন মিলকি, জেলা নেতৃবৃন্দ, বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আশিক আহমেদ কমল, বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী তালুকদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক আজাদ, বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ফারুক ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, বিগত সরকারের আমলে এই ক্ষুদ্র কৃষকের বীজ বিতরণেও নানান অনিয়ম আমরা দেখেছি।তাই এবার একদম সঠিক কৃষকদের হাতেই এই প্রণোদনা তুলে দেওয়া হয়েছে।আমাদর বিএনপি সরকারের আমলেই কৃষকদের উন্নয়ন হয়েছে।এবারও এই দ্বারা অব্যাহত থাকবে।
বন্যায় চট্টগ্রামের কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় ক্ষতি বেশি
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের কৃষি ও মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে হাজারো কৃষক ও মৎস্যচাষীর উদ্বেগ। একদিকে পুকুর ও ঘেরের পাড় ভেঙে ভেসে গেছে কোটি টাকার মাছ, অন্যদিকে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে তলিয়ে গেছে আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও মৌসুমি সবজির আবাদ। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় চট্টগ্রামের ১৫৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার পুকুর ও চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে ২ হাজার ৫০০টি পুকুর, ৩১০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গিয়ে ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে সাতকানিয়ায়। সেখানে ৪৬৬ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব পাওয়া গেছে। এ ছাড়া লোহাগাড়ায় ১ হাজার ৬২০টি পুকুরে ৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, কর্ণফুলীতে ৫৫৭টি পুকুরে ৬ কোটি ৮ লাখ টাকা, চন্দনাইশে ৩৮৩টি পুকুরে ৫ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, বোয়ালখালীতে ৭৫৬টি পুকুরে ৪ কোটি ৫১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, পটিয়ায় ১ হাজার ৪৩৫টি পুকুরে ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, ফটিকছড়িতে ৫৩৩টি পুকুরে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা, হাটহাজারীতে ১৭০টি পুকুরে ১ কোটি ৯৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা, আনোয়ারায় ১ হাজার ১০০টি পুকুর ও ১০টি চিংড়ি ঘেরে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সন্দ্বীপে ৪১২টি পুকুরে ১ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মিরসরাইয়ে ৯৭টি পুকুরে ৯৮ লাখ টাকা, রাঙ্গুনিয়ায় ২৭০টি পুকুরে ৯৮ লাখ ৭ হাজার টাকা, রাউজানে ৯০টি পুকুরে ৯৩ লাখ টাকা এবং সীতাকুণ্ডে ১০টি পুকুরে ১৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। আউশ ধানের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপ উপজেলায়। এর মধ্যে বাঁশখালীতে ২ হাজার ১৫০ হেক্টর, চন্দনাইশে ২ হাজার ১২০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং সন্দ্বীপে ১ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া সাতকানিয়া, পটিয়া, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, ফটিকছড়ি, রাউজান, আনোয়ারা, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, মিরসরাই, কর্ণফুলীসহ জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও কম-বেশি আউশের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। চন্দনাইশে ৮৩০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ৭০০ হেক্টর, সন্দ্বীপে ৬০০ হেক্টর, ফটিকছড়িতে ৪৭৫ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ৪৬০ হেক্টর, পটিয়ায় ৪৫৫ হেক্টর, বাঁশখালীতে ৪০০ হেক্টর এবং রাউজানে ৩১০ হেক্টর জমির সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি লোহাগাড়া, আনোয়ারা, বোয়ালখালী, কর্ণফুলী, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী ও মিরসরাইসহ অন্যান্য উপজেলাতেও বিভিন্ন মাত্রায় সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমনের বীজতলাও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পানিতে তলিয়ে গেছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ইতিমধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ৪০ লাখ টাকা দিয়ে শুকনো খাবার ক্রয় করে তা বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজলায় ২০০ মেট্রিক টন চাউল বিতরণ ইতিমধ্যে করা হয়েছে। সাতকানিয়ায় ভয়াবহতা দেখে, আমি মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে সাতকানিয়া আলাদা বরাদ্দ পাবে। বরাদ্দগুলো পেলে ত্রাণ কার্যক্রম আরো বেগবান হবে। বন্যার বড় আঘাত পড়েছে কৃষিখাতে। বিশেষ করে আউশ ধান ও মৌসুমি সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে পুনরায় যাচাই করে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং পুনরায় আবাদে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তার সুপারিশ করা হবে। জেলা মৎস্য কার্যালয়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও দিঘি, ৩২০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ৪ হাজার ১১২ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মাছ ও মৎস্যসম্পদের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯১ কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
ধরলার ভয়াল ভাঙ্গনে হুমকিতে লালমনিরহাট শহররক্ষা বাঁধ
ধরলা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ইটাপোতা ও কুরুল এলাকায় শহররক্ষা বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাঁধের প্রায় ৬০ মিটার এলাকায় বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে মোগলহাট ও কুলাঘাট ইউনিয়নের অন্তত আটটি গ্রামের প্রায় ৩৫০ বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতিদিনই নদী গিলে খাচ্ছে নতুন নতুন জমি। ফলে ফসলি জমি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন ধরলাপাড়ের শত শত কৃষক। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার ধরলা নদীর ডান তীরে নির্মিত ১৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধই মূলত লালমনিরহাট শহররক্ষা বাঁধ হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে প্রায় ১০ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার অংশ বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙনের কারণে বাঁধটির বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। পাউবো বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়তে পারে পুরো বাঁধ। আর সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে লালমনিরহাট শহরসহ বিস্তীর্ণ জনপদ ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ২০১৭ সালের বন্যার স্মৃতি এখনও আতঙ্কের নাম। ওই বছরের ভয়াবহ বন্যায় কুলাঘাট ইউনিয়নের শিবেরকুটি এলাকায় শহররক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০০ মিটার অংশ ধসে যায়। এর ফলে ধরলার পানি দ্রুত লালমনিরহাট শহরে ঢুকে পড়ে। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকা পর্যন্ত তলিয়ে যায়। সেই বন্যায় শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে পুরো সদর উপজেলা। মোগলহাট ইউনিয়নের কুরুল গ্রামের ৭৭ বছর বয়সী কৃষক যাত্রামোহন বর্মণের জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠেছে ধরলা নদী। এক যুগ আগে নদীভাঙনে তার ১০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। এরপর অবশিষ্ট ছিল সাত বিঘা। কিন্তু গত এক সপ্তাহেই আরও তিন বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। এখন বাকি চার বিঘাও ভাঙনের মুখে। নদীর পাড়ে বসে চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘ধরলা নদী হামাকগুলাক শ্যাষ করি ফ্যালাইছে। যেইকনা ভুঁই আছলো তাঙ এ্যালা নদীত চলি যাবার নাইকছে। হামরাগুলা ক্যাং করি বাঁইচমো। মরা ছাড়া হামারগুলার কোন পথ খোলা নাই।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘নদী বান্ধিতে যে টাকা খরচ হয় তার চেয়ে ৫০ গুণ বেশি টাকার জমি নদীত চলি যায়। সরকার যায়, সরকার আইসে—কাইও হামার কষ্ট বোঝে না। এ্যালাং নদীটা বান্ধি দিলেও হামারগুলার কিছু ভুঁই বাইচবে।’ বুমকা এলাকার কৃষক পুলিন চন্দ্র বর্মণও নদীভাঙনের নির্মম শিকার। গত এক যুগে তার ১৩ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট ছিল ছয় বিঘা। গত এক সপ্তাহে আরও দুই বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। এখন মাত্র চার বিঘা জমি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আবাদ ছাড়া হামরাগুলা আর কিছুই কইরবার পাই না। অল্প এ্যাকনা জমি আছে, তাকো যদি নদীত যায় তা হইলে হামারগুলার মরণ ছাড়া কোন উপায় নাই। জমিই হলো হামারগুলার জীবন, সেই জমি চলি যাবার নাইকছে।’ ইটাপোতা এলাকার কৃষক মন্টু মিয়া (৫৫) বলেন, শহররক্ষা বাঁধের যে অংশে ভাঙন শুরু হয়েছে, সেটি দ্রুত রক্ষা করা না গেলে কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি এবং কয়েক হাজার বসতভিটা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে। তার মতে, এই বাঁধটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা গেলে ধরলার ডান তীরের দীর্ঘদিনের ভাঙনও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বলেন, ২০১৭ সালে বাঁধের ছোট একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার পর যে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা এখনও মানুষ ভুলতে পারেনি। এবারও যদি শহররক্ষা বাঁধ রক্ষা করা না যায়, তাহলে শুধু লালমনিরহাট শহরই নয়, আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা ও নদীভাঙনের মুখে পড়বে। এতে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েক হাজার কোটি টাকার আবাদি জমি, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, ধরলা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পটি গত ১৫ এপ্রিল প্রি-একনেক (পিইসি) সভায় অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে এটি একনেকের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে শহররক্ষা বাঁধ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং ধরলার ডান তীরের ভাঙনও রোধ করা যাবে। কিন্তু চলতি অর্থবছরের মধ্যেই কাজ শুরু করা না গেলে ধরলার ডান তীরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’ ধরলার অব্যাহত ভাঙন শুধু কৃষকের জমিই গ্রাস করছে না, ধীরে ধীরে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে পুরো লালমনিরহাট শহরকেও। স্থানীয়দের দাবি, বর্ষার ভরা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন ও স্থায়ী নদীশাসনের কাজ শুরু করা জরুরি। অন্যথায় ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
খিলগাঁওয়ে স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার স্বামীর, আদালতে পাঠানো হয়েছে
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় নিজ ভাড়া বাসা থেকে কলেজছাত্রী গৃহবধূ সানজিদা আক্তার মারিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামী সাইফুল ইসলাম হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠিয়েছে। শুক্রবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ গোড়ান আলিয়া মাদ্রাসার পাশের একটি বাসা থেকে ১৮ বছর বয়সী মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে খিলগাঁও থানা পুলিশ। মারিয়া লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। খবর পেয়ে রাতেই সাইফুলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতের বড় ভাই মো. চান মিয়া বলেন, প্রায় ৮ মাস আগে কুমিল্লার হোমনার বাসিন্দা ফুডপান্ডার ডেলিভারিম্যান সাইফুলের সঙ্গে মারিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা দক্ষিণ গোড়ানের ওই বাসার নিচতলায় থাকতেন। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে প্রথমে সাইফুলকে ফোন দেন তিনি। সাইফুল বাসায় গিয়ে দেখতে বলেন। পরে স্বজনরা বাসায় গিয়ে রান্নাঘরের পাশের বারান্দায় মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় কালো দাগ ছিল। ৯ এ কল দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর ঢাকা মেডিকেলে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মারিয়ার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায়। বাবার নাম মো. মহসিন। খিলগাঁও থানার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খবর পাওয়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। মারিয়ার গলায় পাটের সুতলি পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রথমে এটি আত্মহত্যা বলে প্রচার হলেও তদন্তে হত্যা প্রমাণিত হয়। স্বামীর বাবা-মাকে নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পুলিশের। এ ঘটনায় শনিবার ১ জুলাই নিহতের ভাই চান মিয়া বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।