হিন্দু
শারদাঞ্জলি ফোরামের উপজেলা ও জেলা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সদস্য সংগ্রহ শুরু
সনাতন ধর্মের আদর্শ প্রচার, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শিক্ষা বিস্তার এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী উপজেলা ও জেলা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন শারদাঞ্জলি ফোরাম। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, সনাতন ধর্মের মূল চেতনা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া, গীতা শিক্ষার প্রসার, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর কমিটি গঠনের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি, মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং দুস্থ-অসহায় মানুষের সেবায় সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। শারদাঞ্জলি ফোরামের পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মের আদর্শে বিশ্বাসী, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা চর্চায় আগ্রহী এবং স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সমাজ ও মানবকল্যাণে কাজ করতে ইচ্ছুক সকলকে সদস্য হিসেবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনের এক বার্তায় বলা হয়, “সনাতন ধর্ম ও গীতা শিক্ষার প্রসারে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের সক্রিয় অংশগ্রহণই একটি শক্তিশালী, সুশৃঙ্খল ও মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে সনাতন ধর্মের আদর্শ ও মানবকল্যাণের বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিই।” সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, দেশব্যাপী সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে শারদাঞ্জলি ফোরাম একটি সুসংগঠিত, কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মন্দিরভিত্তিক বিবাহ উপলক্ষে সারারাত গীতা পাঠ ও ধর্মীয় সঙ্গীতের আয়োজন
সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক চেতনাকে ধারণ করে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চক্রশালা শ্রীশ্রী লোকনাথ সেবাশ্রমে আগামী ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশিষ্ট গীতা পাঠক ও সংগীতশিল্পী শ্রী মিশন দত্ত সপু ও শ্রীমানি রিম্পা দাশ গুপ্তার সহিত শুভ বিবাহ অনুষ্ঠান। ব্যতিক্রমধর্মী এ মন্দিরভিত্তিক বিবাহকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আয়োজক সূত্রে জানা যায়, বিবাহ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সারারাতব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ পাঞ্চজন্য গীতা পাঠক ও যন্ত্রশিল্পী সমন্বয় পরিষদ-এর কেন্দ্রীয় কমিটিসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলা শাখার গীতা পাঠক, যন্ত্রশিল্পী ও ভক্তিমূলক সংগীতশিল্পীরা অংশগ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠানে একটানা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, ভজন, কীর্তন ও ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গীতা অনুরাগী, ধর্মপ্রাণ সনাতন ধর্মাবলম্বী, ভক্তবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী ও সুধীজনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। আয়োজক পরিষদের পক্ষ থেকে সকল গীতা পাঠক, শিল্পী, ভক্তবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নবদম্পতির জন্য আশীর্বাদ প্রার্থনা এবং ধর্মীয় আয়োজনকে সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আয়োজকদের বিশ্বাস, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ ও ভক্তিমূলক সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই মন্দিরভিত্তিক বিবাহ অনুষ্ঠান সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং সমাজে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
লাখো ভক্তের ঢলে শুরু হলো ধামরাইয়ের ৪০০ বছরের ঐতিহাসিক যশোমাধবের রথযাত্রা
‘হরি বোল’ ধ্বনি আর শঙ্খ-উলুধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। লাখো ভক্তের আকুল প্রার্থনা আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যের স্মারক ঢাকার ধামরাইয়ের শ্রীশ্রী যশোমাধবের ঐতিহাসিক রথযাত্রা উৎসব। আজ ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ রথযাত্রার প্রথম দিনে দুপুরের পর থেকেই ধামরাইয়ের রথ চত্বর ও এর আশপাশের এলাকা রূপ নেয় এক জনসমুদ্রে। বর্ণিল সাজে সাজানো শ্রীশ্রী যশোমাধবের বিশালাকার রথটি টেনে নিতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন লাখো সনাতন ধর্মাবলম্বী ও দর্শনার্থী। বিকেল গড়াতেই শুরু হয় মূল আকর্ষণ—মহাপুণ্য লাভের আশায় হাজারো ভক্তের রথের দড়ি টানার উৎসব। ঐতিহাসিক এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ধামরাই পৌর এলাকায় বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাসব্যাপী মেলা। রথের প্রথম দিনেই মেলা প্রাঙ্গণ ও পুরো ধামরাইজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। রথটান দেখতে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নন, সব ধর্মের ও সব বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা ধামরাইয়ের চিরন্তন অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অপূর্ব নিদর্শন। রথযাত্রা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ প্রথম দিনে মাধবজিকে রথে চড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁর শ্বশুরবাড়ি (শ্রীশ্রী যশোমাধবের বাপের বাড়ি বা গুন্ডিচা মন্দির)। সেখানে ৯ দিন অবস্থানের পর আগামী (উল্টো রথের তারিখ লিখুন) উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় রথযাত্রার প্রথম দিনটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
শ্রীপুরে রথযাত্রা উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত
মাগুরার শ্রীপুরে শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা মহারানীর রথযাত্রা উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আয়োজনে খামারপাড়া শ্রী শ্রী গিরিধারী জিউ মন্দির ও আশ্রম চত্বরে এ অনুষ্ঠান হয়। খামারপাড়া শ্রী শ্রী গিরিধারী জিউ মন্দির ও আশ্রমের সেবাইত নিতাই কুমার দাস ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাগুরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আলী আহম্মেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজমুল ইসলাম, শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওলি মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম জোয়ার্দার, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বদরুল আলম হিরো, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব খন্দকার আব্বাস উদ্দীন ও মুন্সি রেজাউল করিম, উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নারগিস সুলতানা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার খলিলুর রহমান প্রমুখ। উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অপূর্ব মিত্র'র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মনোরঞ্জন সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নালিম, জহুরুল ইসলাম মিলন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা খলিলুর রহমান ও মাসুদ মজুমদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জিয়াউল হক ফরিদ, ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী সোহেলসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে গিরিধারী আশ্রম থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বক্তারা রথযাত্রার ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
ঝিনাইদহে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন
গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননা ও মন্দির গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের নেতৃত্বে ঝিনাইদহে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। শনিবার (২০জুন) শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও কালীগঞ্জ উপজেলা শহরে এ কর্মসূচীর আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ঝিনাইদহ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কানন কুমার দাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাবেক যুবলীগ নেতা বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সাবেক মেয়র মিন্টুর বিশ্বস্ত সহচর চন্দন বসু মুক্ত, সদস্য সচিব ওয়ার্কাস পার্টির অরুণ কুমার ঘোষ, যুগ্ম আহ্বায়ক ও আলীগ নেতা প্রসেনজিৎ ঘোষ শিপন, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাধন সরকার, ছাত্র ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিনয় কুমার বিশ্বাসসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এদিকে একই দাবীতে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা শহরে পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাবু রবীন্দ্রনাথ দত্তের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, প্রশান্ত কুমার খাঁ, বিল্লব বিঞ্চু, সুরজিৎ কুমার মন্ডল, এনজিও নেতা শিবুপদ বিশ্বাস, পংকজ সাহা ( কালীবাড়ি), অমিত শিকদার, বলরাম দাস, মিঠুন পাল, প্রান্ত বিশ্বাস ও দিবস কুমার পাল। বক্তারা গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকায় সংঘটিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও উপাসনালয় নিয়ে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
দুর্গা পুজায় ৪ দিন ছুটি ঘোষণা
প্রতি বছর সারা দেশে দুর্গা পুজা উদযাপন হয়, এ বছর একটু ব্যতিক্রম, এবার সেই পুজায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে ৪ দিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এই ছুটির দিনগুলিতে অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।