হত্যা
খিলগাঁওয়ে স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার স্বামীর, আদালতে পাঠানো হয়েছে
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় নিজ ভাড়া বাসা থেকে কলেজছাত্রী গৃহবধূ সানজিদা আক্তার মারিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামী সাইফুল ইসলাম হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠিয়েছে। শুক্রবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ গোড়ান আলিয়া মাদ্রাসার পাশের একটি বাসা থেকে ১৮ বছর বয়সী মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে খিলগাঁও থানা পুলিশ। মারিয়া লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। খবর পেয়ে রাতেই সাইফুলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতের বড় ভাই মো. চান মিয়া বলেন, প্রায় ৮ মাস আগে কুমিল্লার হোমনার বাসিন্দা ফুডপান্ডার ডেলিভারিম্যান সাইফুলের সঙ্গে মারিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা দক্ষিণ গোড়ানের ওই বাসার নিচতলায় থাকতেন। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে প্রথমে সাইফুলকে ফোন দেন তিনি। সাইফুল বাসায় গিয়ে দেখতে বলেন। পরে স্বজনরা বাসায় গিয়ে রান্নাঘরের পাশের বারান্দায় মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় কালো দাগ ছিল। ৯ এ কল দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর ঢাকা মেডিকেলে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মারিয়ার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায়। বাবার নাম মো. মহসিন। খিলগাঁও থানার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খবর পাওয়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। মারিয়ার গলায় পাটের সুতলি পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রথমে এটি আত্মহত্যা বলে প্রচার হলেও তদন্তে হত্যা প্রমাণিত হয়। স্বামীর বাবা-মাকে নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পুলিশের। এ ঘটনায় শনিবার ১ জুলাই নিহতের ভাই চান মিয়া বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।
সাতক্ষীরায় নিখোঁজের দুই দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটনে তদন্তে পুলিশ
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুলপোতা গ্রামে নিখোঁজের দুই দিন পর আব্দুর রহমান নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আব্দুর রহমান একই এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে এবং পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় সরকারি আবাসন প্রকল্পে বসবাস করতেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ৮ জুলাই থেকে আব্দুর রহমান নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর শুক্রবার সকালে সরকারি আবাসন প্রকল্পের বসতঘরের পেছনে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিজ বাড়ির পেছন থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
রাফাত হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে কালিগঞ্জে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বারদহা বাজারে কিশোর রাফাত হোসেন (১৭) হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪ জুলাই রোজ শনিবার। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রুহুল কুদ্দুস গাজী। তিনি বলেন, একটি কিশোরের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে আড়াল করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন রাফাতের মা শাহানারা খাতুন, আব্দুল লতিফ সরদার, আজিজুল ইসলাম, আব্দুল মালেক, রফিকুল ইসলাম, রমজান আলী, আলতাফ হোসেন, আবুল কাশেম, মাছুম বিল্লাহ প্রমুখ। রাফাতের মা শাহানারা খাতুন অভিযোগ করেন, তার ছেলে স্থানীয় আক্তারের ফার্মে কর্মচারী হিসেবে কাজ করত। গত ১৩ জুন তাকে হত্যা করে ফার্মে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে শনিবার সকালে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শত শত নারী-পুরুষ কিশোর যুবক বৃদ্ধরাও অংশ নেন। আব্দুল লতিফ সরদার বলেন, স্থানীয় অর্থবিত্তের মালিক ও প্রভাবশালী আক্তারের মাদকাসক্ত ছেলে অলিদ এই রাফাতকে শুধু না নেশা টাকা যোগাড় করতে নানাজনকে নানা ভাবেই নির্যাতন নিপীড়ন এর আগেও করেছে। তবে এবার একেবারে করুণ শিকার হলো দিনমজুরের ছেলে রাফাত। দিনমজুরের সন্তান হওয়ায় রাফাতের পরিবার বিচার থেকে বঞ্চিত হবে এমনটি স্বাধীন দেশে হতে পারে না। আব্দুল মালেক বলেন, তদন্তে গাফিলতি জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে। রফিকুল ইসলাম বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়। রমজান আলী বলেন, অপরাধীরা যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আলতাফ হোসেন বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। আবুল কাশেম বলেন, রাফাতের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। মাছুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, একাধিক কর্মসূচি পালন ও পুলিশের কাছে বারবার আবেদন করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তারা অবিলম্বে রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। শফিকুল ইসলাম জানান, ১৩ জুন আক্তার হোসেনের মুরগির ফার্মে কর্মরত অবস্থায় সুকৌশলে ফার্ম মালিকের ছেলে অলিদ হোসেন এই হত্যা সংঘটিত করে। এবং ফার্মের নীচু বাঁশে ঝুলিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি পুলিশের কাছে বারবার জানানো স্বত্ত্বেয় পুলিশ কোনভাবেই নড়াচড়া করছে না। শফিকুল বলেন, গরীব বলে কি আমাদের বিচার পাওয়ার অধিকার নেই?
কালিগঞ্জে মাছের ঘেরের সামনে থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামে সনজিব সরকার (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আজ বুধবার (১ জুলাই) ভোরে ঠেকরা-দক্ষিণশ্রীপুর খেজুরতলা সড়কের বড় খালের মাথা সংলগ্ন একটি মাছের ঘেরের সামনে থেকে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত সনজিব সরকার উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের গোপাল চন্দ্র সরকারের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সনজিব সরকার তার বাবার সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হন। পরে রাত ১০টার দিকে তার বাবা বাড়িতে ফিরে এলেও সনজিব আর বাড়ি ফেরেননি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তার কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে গভীর রাতে স্থানীয়রা তার নিজস্ব মাছের ঘেরের বাসার সামনে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা অন্যত্র সনজিবকে হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে রাতের অন্ধকারে তার মরদেহ নিজস্ব মাছের ঘেরের সামনে ফেলে রেখে গেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। এদিকে রহস্যজনক এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়ার পাশাপাশি তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, সনজিবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তাই তারা একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভাঙ্গায় গ্রামবাসীর দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিতে প্রাণ গেলো যুবকের
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় স্কুলে যাতায়াতকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে সুমন শেখ (২১) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার পূর্ব হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন শেখ কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে। তিনি একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের বড় ভাই জিহাদ শেখ। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাতায়াতের পথ নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে সুমনকে লক্ষ্য করে শর্টগান থেকে গুলি ছোড়া হলে একটি গুলি তার গলায় বিদ্ধ হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, "দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। নিহতের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
চুয়াডাঙ্গায় শ্বশুর বাড়িতে এসে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কু/পি/য়ে জখম, স্বামী আটক
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে শ্বশুরবাড়িতে এসে ঘুমন্ত স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী রাতুলকে আটক করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত স্ত্রী মোছাম্মৎ রোজিনা খাতুন (১৮) বর্তমানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে জীবননগর উপজেলার বালিয়ারহুদা ইউনিয়নের ষষ্ঠীতলা গ্রামে। আহত রোজিনা খাতুন উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ষষ্ঠীতলা গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে গড়াইটুপি গ্রামের বাসিন্দা রাতুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে রোজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তার স্বামী। নির্যাতনের কারণে প্রায় দুই মাস আগে রোজিনা বাবার বাড়িতে চলে আসেন এবং সেখানেই অবস্থান করছিলেন। স্বজনরা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় রাতুল শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে আপ্যায়ন করে রাতে বাড়িতেই থাকার ব্যবস্থা করেন। গভীর রাতে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রাতুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘুমন্ত রোজিনার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। রোজিনার চিৎকার শুনে তার বাবা-মা ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রাতুলকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়। আহত রোজিনাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রোজিনার মা রেশমা খাতুন বলেন, “বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন চলছিল। শনিবার রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে।” জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. হাসিব জানান, ভোর ৫টার দিকে আহত রোজিনাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর আঘাতের প্রকৃত মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। এ বিষয়ে জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক সোলয়মান শেখ বলেন, “অভিযুক্ত রাতুল পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে আহত রোজিনার সঙ্গে কথা বলেছে। এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পোল্ট্রি ফার্মের কর্মচারী রাফাতের রহস্যজনক মৃত্যু: সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কমলাপুরে একটি পোল্ট্রি ফার্মের কর্মচারী রাফাতের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে মৃতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিহতের স্বজনরা ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, কালিগঞ্জ উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের শফিকুল সরদারের ১৯ বছর বয়সী ছেলে রাফাত আশাশুনি উপজেলার শীতলপুর গ্রামের আক্তারুজ্জামানের মালিকানাধীন কমলাপুর এলাকার একটি পোল্ট্রি ফার্মে কর্মরত ছিলেন। গত ১৩ জুন রাতে তিনি প্রতিদিনের মতো ফার্মের ভেতরেই ঘুমিয়ে ছিলেন। তবে পরদিন সকালে হঠাৎ করেই রাফাতের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফার্মের একটি রডের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে রাফাতের পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এটিকে আত্মহত্যা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হচ্ছে। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নিহতের মরদেহে স্পষ্ট রক্তের দাগ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিশেষ করে তার অণ্ডকোষ রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা কোনোভাবেই আত্মহত্যার লক্ষণ নয় বরং এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের স্পষ্ট আলামত। মানববন্ধনে নিহত রাফাতের মা শাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের সন্তান হারানোর বিচার চেয়ে বলেন, তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করার দাবি জানান। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও অভিযোগ করেন, এত বড় একটি ঘটনা ঘটার পরও পুলিশ হত্যা মামলা গ্রহণ করতে গড়িমসি করছে। তারা অবিলম্বে এই ঘটনায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা রুজু করার দাবি জানান। একই সাথে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। উক্ত মানববন্ধনে নিহত রাফাতের মা শাহানারা বেগম ছাড়াও তাঁর চাচা মো. আব্দুল লতিফ, মো. রুহুল কুদ্দুস, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. আজিজুল ইসলাম, মো. আইনুল ইসলাম এবং নুর নাহার, শাইদা খাতুন, সুফিয়া খাতুন, ফরিদা খাতুন ও শরিফা খাতুনসহ এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
গাইবান্ধা সাঘাটায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচন কেন্দ্র করে হত্যা
গাইবান্ধার সাঘাটায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং শিমুল তাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। এই হামলায় সালাউদ্দিন নামে আরও এক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে মুকুলের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় সাইফুল ও সালাউদ্দিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তারা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুকুল, তার ভাই পলাশ ও সহযোগী আশরাফ তাদের ওপর চড়াও হন এবং ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে সাইফুলকে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সালাউদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম হোসেন এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় বোনারপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফোনে ডেকে নেওয়ার পর নিখোঁজ, ১৭ ঘন্টা পর স্কুলের নৈশপ্রহরীরমরদেহ উদ্ধার
ফোনে ডেকে নেওয়ার পর নিখোঁজ, ১৭ ঘন্টা পর স্কুলের নৈশপ্রহরীর মরদেহ উদ্ধার
রাউজানে যুবকের মরদেহ উদ্ধার : পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, পুলিশের ভিন্ন বক্তব্য
রাউজানে যুবকের মরদেহ উদ্ধার : পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, পুলিশের ভিন্ন বক্তব্য
পাবনায় নামাজরত অবস্থায় পিতাকে কুপিয়ে হত্যা করল ছেলে
পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের পুরাতন ভাদুরডাঙ্গী গ্রামে নামাজরত অবস্থায় নিজাম প্রামানিক (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার মাদকাসক্ত ছেলে মোস্তফা প্রামানিক (৩০)। রোববার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত নিজাম প্রামানিক ওই এলাকার মৃত ইন্তাজ প্রামানিকের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।