চীন
ইরান ইস্যুতে রাশিয়া–চীনের নতুন অবস্থান: বদলে যাচ্ছে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রাজনীতি?
ইরান ইস্যুতে রাশিয়া–চীনের নতুন অবস্থান: বদলে যাচ্ছে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রাজনীতি? উপশিরোনাম: নিরাপত্তা পরিষদে ইরানবিষয়ক স্বাধীন নিষেধাজ্ঞা-মনিটরিংয়ের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব আটকে যাওয়ায় তৈরি হচ্ছে নতুন রিপোর্টিং-শূন্যতা; সামনে আরও বড় কূটনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা। বিশেষ প্রতিনিধিঃ সঞ্জয় মজুমদার। নিউইয়র্কে ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ম্যান্ডেট বাড়ানোর প্রস্তাবে রাশিয়া ও চীন ভেটো দেওয়ায় ওই পর্যবেক্ষণ কাঠামোর কার্যক্রম কার্যত শেষের দিকে চলে গেছে। প্রস্তাবটির পক্ষে ১১টি দেশ ভোট দিলেও রাশিয়া ও চীনের ভেটোর কারণে তা পাস হয়নি; পাকিস্তান ভোটদানে বিরত ছিল। ইরানবিষয়ক এই Panel of Experts মূলত জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, সম্ভাব্য লঙ্ঘন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের দায়িত্ব পালন করত। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, প্যানেলের বর্তমান ম্যান্ডেট সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা ছিল এবং এর কাজের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নসংক্রান্ত তথ্য যাচাই, লঙ্ঘনের ঘটনা বিশ্লেষণ এবং নিরাপত্তা পরিষদকে সুপারিশ দেওয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল। রাশিয়া ও চীনের ভেটোর পেছনে মূল বিরোধটি শুধু একটি মনিটরিং ম্যান্ডেট নিয়ে নয়; এর সঙ্গে ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার বর্তমান আইনি অবস্থান নিয়েও গভীর মতপার্থক্য রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ও চীন যুক্তি দিচ্ছে যে ইরান-সংক্রান্ত পূর্ববর্তী জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলো ২০১৫ সালের পারমাণবিক সমঝোতার পরবর্তী কাঠামোর অধীনে আর কার্যকর নেই। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও চুক্তি-সংক্রান্ত বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞা কাঠামো পুনরায় কার্যকর হয়েছে। তেহরান অবশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এই মতপার্থক্যকে আরও জটিল করেছে তথাকথিত “snapback” প্রক্রিয়া। Security Council Report-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পশ্চিমা দেশগুলোর দৃষ্টিতে পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহাল হওয়ার পর সেগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু রাশিয়া ও চীনের আপত্তির কারণে প্যানেলকে কার্যকরভাবে পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়নি এবং এর ফলে ইরানবিষয়ক স্বাধীন রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে একটি বড় শূন্যতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এখানেই এবারের সিদ্ধান্তের কূটনৈতিক তাৎপর্য সবচেয়ে বেশি। একটি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর আছে কি না—এটি এক বিষয়; কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কে কীভাবে লঙ্ঘন করছে, কোন সরঞ্জাম বা প্রযুক্তি কোথায় যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো কী পদক্ষেপ নিচ্ছে—এসব স্বাধীনভাবে যাচাই করার সক্ষমতা আরেক বিষয়। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ম্যান্ডেট শেষ হলে সেই তথ্য যাচাই ও নিরাপত্তা পরিষদে নিয়মিত রিপোর্টিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক পথ দুর্বল হয়ে পড়বে। Security Council Report এটিকে সম্ভাব্য “reporting vacuum” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের কাঠামোর বাইরে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-র নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের ভূমিকা রয়েছে। তবে Security Council Report উল্লেখ করেছে, বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে IAEA-এর যাচাই কার্যক্রমও নানা সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি যাচাই—দুটি আলাদা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত, উপসাগরীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ নিয়ে উদ্বেগ ইতোমধ্যেই তীব্র। একই সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হচ্ছে। ফলে ইরান ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বিভাজন সাধারণ পরিষদের বৃহত্তর কূটনৈতিক আলোচনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ২০ সেপ্টেম্বরের রয়টার্স প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের সমাবেশের সময় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও ইরান সংকট অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে উঠেছে। এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাশিয়া ও চীনের সমন্বিত অবস্থান। দুই দেশ একই বিষয়ে ভেটো দেওয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে ইরান ইস্যুতে রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, AI এবং ইরানের সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছে; ২৪ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকেও এসব বিষয় আলোচনায় থাকার কথা রয়েছে। ইরান ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব হতে পারে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক বৃদ্ধি। একদিকে পশ্চিমা দেশগুলো স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে পারে; অন্যদিকে রাশিয়া ও চীন জাতিসংঘের বাইরে বিকল্প কূটনৈতিক কাঠামো বা রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিতে পারে। Security Council Report-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগের একটি নিষেধাজ্ঞা-মনিটরিং ব্যবস্থা ভেটোর মুখে পড়ার পর কিছু দেশ জাতিসংঘের বাইরে বহুপাক্ষিক পর্যবেক্ষণ কাঠামো তৈরির পথ নিয়েছিল। ফলে ইরানকে ঘিরে বর্তমান সংকট শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি বা নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকছে না; এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কর্তৃত্ব, স্বাধীন পর্যবেক্ষণব্যবস্থা এবং বড় শক্তিগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার সক্ষমতারও পরীক্ষা হয়ে উঠছে। সামনে যদি নতুন কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা না হয়, তাহলে ইরানবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের দাবি, তার আইনি বৈধতা এবং স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই—এই তিনটি প্রশ্নই আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম বিতর্কিত ক্ষেত্র হয়ে থাকতে পারে।
ট্রাম্প–শি বৈঠকের আগে নতুন সমীকরণ: বাণিজ্য, তাইওয়ান ও AI-তে কোন পথে যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ক?
ট্রাম্প–শি বৈঠকের আগে নতুন সমীকরণ: বাণিজ্য, তাইওয়ান ও AI-তে কোন পথে যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ক? সাবহেডলাইন ২৪ সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন বৈঠক ঘিরে শুল্ক-সমঝোতা, বিরল খনিজ, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা ও তাইওয়ান ইস্যুতে নতুন দরকষাকষি বিশেষ প্রতিনিধিঃ সঞ্জয় মজুমদার। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা যখন বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার একাধিক ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা পেয়েছে, তখন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে নজর পড়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় ট্রাম্প–শি শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য-সমঝোতা, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ক একদিকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ থাকলেও অন্যদিকে দুই দেশ অর্থনৈতিক সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে শুল্ক ও বাণিজ্যসংক্রান্ত অস্থায়ী সমঝোতা নভেম্বরের দিকে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এর আগে দুই পক্ষ নতুন করে শুল্ক কমানো, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কিছু পণ্যের বাজার-প্রবেশ নিয়ে আলোচনা করছে। চীন দ্রুত শুল্ক কমানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এখন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যতম বড় চাপের জায়গা। বিশেষ করে বিরল মাটি বা রেয়ার আর্থ খনিজের পরিশোধন ও সরবরাহে চীনের বড় ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র উন্নত সেমিকন্ডাক্টর, AI প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর ওপর চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত করার নীতি অনুসরণ করছে। ফলে বাণিজ্যিক সম্পর্কের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা ক্রমেই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। তাইওয়ানও বৈঠকের সবচেয়ে সংবেদনশীল রাজনৈতিক বিষয়গুলোর একটি। সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ান বড় ধরনের সামরিক মহড়া করেছে, যেখানে ড্রোন ও প্রচলিত অস্ত্রব্যবস্থার সমন্বিত ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রি এবং তাইওয়ানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বেইজিংয়ের উদ্বেগ রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই নেতার অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিশেষ নজরে থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধও যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণে যুক্ত হয়েছে। ইরান, হরমুজ প্রণালি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের স্বার্থ পুরোপুরি এক নয়। চীনের ইরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং একই সময়ে হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে। চীনের কৌশলগত তেল মজুত ও বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থাও বর্তমান জ্বালানি সংকটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কাছে বিস্ফোরণ ও ধোঁয়া দেখা যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে হুথিদের হামলা ও লোহিত সাগর এবং হরমুজকেন্দ্রিক সরবরাহ-ঝুঁকি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ২৪ সেপ্টেম্বরের বৈঠককে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য আলোচনার পর্ব হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। এটি একই সঙ্গে প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, তাইওয়ান, মধ্যপ্রাচ্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর দুই পরাশক্তির অবস্থান বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্ত। তবে বৈঠক থেকে বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বরং স্বল্পমেয়াদি উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যমান বাণিজ্যিক সমঝোতা ধরে রাখার সম্ভাবনাকেই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এর প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন শুল্ক সংঘাত শুরু হলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা, প্রযুক্তি পণ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। বিপরীতে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক কমানো বা সরবরাহব্যবস্থা স্থিতিশীল করার সমঝোতা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ কিছুটা কমতে পারে। তাই ওয়াশিংটনে ট্রাম্প–শি বৈঠকের ফলাফল শুধু দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির পরবর্তী পর্যায়ের দিকনির্দেশনাও স্পষ্ট করতে পারে।
একই মঞ্চে মোদি–শি–পুতিন: BRICS কি নতুন কূটনৈতিক শক্তিকেন্দ্রের জন্ম দিচ্ছে?
একই মঞ্চে মোদি–শি–পুতিন: BRICS কি নতুন কূটনৈতিক শক্তিকেন্দ্রের জন্ম দিচ্ছে? সাবহেডলাইন: নয়াদিল্লি সম্মেলনে ভারত–চীন সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত, রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ—বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণ বিশেষ প্রতিনিধি: সঞ্জয় মজুমদার নয়াদিল্লিতে ১২–১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত ১৮তম BRICS সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একই কূটনৈতিক মঞ্চে অবস্থান করছেন। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক বাণিজ্য-ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের দাবির মধ্যে এই সম্মেলন BRICS-এর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ তৈরি করেছে। সম্মেলনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো ভারত ও চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগ। ১২ সেপ্টেম্বর মোদি ও শি জিনপিং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুই নেতা সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সীমান্ত পরিস্থিতিসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। সাত বছর পর শির ভারত সফর হওয়ায় বৈঠকটি বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এই rapprochement বা সম্পর্কোন্নয়নের সম্ভাবনাকে অতিরিক্ত আশাবাদীভাবে দেখার সুযোগ নেই। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত অবিশ্বাস পুরোপুরি দূর হয়নি। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক গভীর হলেও ভারতের বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১৫৫.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ। ১১ সেপ্টেম্বর মোদি ও পুতিন বৈঠকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। ভারতের সরকারি বিবৃতিতে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং BRICS-এর বহুপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে BRICS-এর সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের মধ্যেও অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত একই জোটে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে তাদের অবস্থান সব বিষয়ে অভিন্ন নয়। তারপরও ১২ সেপ্টেম্বর BRICS একটি যৌথ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সংযমের আহ্বান জানায় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে। BRICS-এর ঘোষণায় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের প্রশ্নও সামনে এসেছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় Global South-এর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া পশ্চিমা-নির্ভর আন্তর্জাতিক কাঠামোর বিকল্প ও অধিক বহুমেরু ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান জোরদার করছে। তবে ভারত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে যে BRICS কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে জোট নয়। এখানেই BRICS-এর প্রকৃত কৌশলগত প্রশ্নটি সামনে আসে। এটি কি পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার বিকল্প শক্তিকেন্দ্র হয়ে উঠবে, নাকি বিভিন্ন জাতীয় স্বার্থের সমন্বয়কারী একটি কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই থাকবে? কারণ সদস্যদেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থ, নিরাপত্তা অগ্রাধিকার ও পররাষ্ট্রনীতি এক নয়। ফলে অভিন্ন ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি যৌথ নীতি বাস্তবায়ন করা অনেক বেশি কঠিন। বর্তমান বাস্তবতায় BRICS-এর প্রভাব কেবল অর্থনীতি বা বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, ইউক্রেন সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার—প্রতিটি ক্ষেত্রেই জোটটি নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ভারতকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্যও এর গুরুত্ব রয়েছে। BRICS যদি বাণিজ্য, উন্নয়ন অর্থায়ন, স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন, জ্বালানি সহযোগিতা ও Global South-এর কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য নতুন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে ভূরাজনৈতিক বিভাজন বাড়লে আমদানি ব্যয়, পরিবহন ব্যয় ও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। সব মিলিয়ে নয়াদিল্লির BRICS সম্মেলনকে শুধু তিন নেতার বৈঠক হিসেবে দেখলে এর গভীরতা বোঝা যাবে না। মোদি–শি–পুতিনের একই মঞ্চে উপস্থিতি একটি পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থার প্রতীক হলেও, BRICS সত্যিই নতুন বৈশ্বিক শক্তিকেন্দ্র হয়ে উঠবে কি না—তার উত্তর নির্ভর করবে সদস্যদেশগুলো তাদের পারস্পরিক মতপার্থক্য কতটা সামলে বাস্তব অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতায় রূপ দিতে পারে তার ওপর। ১২–১৩ সেপ্টেম্বরের নয়াদিল্লি সম্মেলন সেই পরীক্ষারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর : নতুন অধ্যয়ের সুচনা
চীন ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রদ্বয়ের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক। বাংলাদেশ—চীন সম্পর্ক প্রাচীন ও প্রায় তিন হাজার বৎসরের পুরোনো। বাঙালি সভ্যতা ও চীনা সভ্যতার মাঝে খ্রিষ্টের জন্মেরও হাজার বৎসর আগে থেকে যোগাযোগ আছে। প্রাচীনকাল থেকে ব্রহ্মপুত্র নদীর মাধ্যমে চীন এবং বাংলায় মানুষের যোগাযোগ স্থাপিত হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে চীন বাংলাদেশর আধুনিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের উন্নয়নের এক অন্যতম অংশীদার চীন এবং বাংলাদেশ চীনের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবসায়িক পক্ষ। সম্প্রতি ২০১৭ সালেপ্রধানমন্ত্রীর বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ সালের ২ জানুয়ারি প্রথম বিদেশ সফর ছিল চীনে। ২০০২ সালে জোট সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া চীন সফর করেন। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজির সঙ্গে দেখা করেন এবং এক চীন নীতির প্রতি সমর্থন জানান। চীন সফর কূটনীতির কৌশলগত পরিবর্তন : প্রধানমন্ত্রীর সফরকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা। অতীতে ভারত কেন্দ্রিক প্রাধান্য থেকে সরে এসে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্র নীতিতে একে কৌশলগত পরিবর্তন বলে মনে করেন তারা। কারণ চীন বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান অংশীদার। বাংলাদেশের বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের একটি প্রধান অংশ চীনকেন্দ্রিক। তাই বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে চীন সফর জরুরি ছিল বলে মনে করেন কূটনীতিকরা চীন সফর কূটনীতির কৌশলগত পরিবর্তন কূটনীতির কৌশলগত পরিবর্তন প্রধানমন্ত্রীর সফরকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা। অতীতে ভারত কেন্দ্রিক প্রাধান্য থেকে সরে এসে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্র নীতিতে একে কৌশলগত পরিবর্তন বলে মনে করেন তারা। কারণ চীন বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান অংশীদার। বাংলাদেশের বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের একটি প্রধান অংশ চীনকেন্দ্রিক। তাই বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে চীন সফর জরুরি ছিল বলে মন হয়। বিএনপি সরকারের সঙ্গে অতীতে চীনের সম্পর্কে কয়েকবার টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। বিএনপি কয়েক বছর আগে থেকেই চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন কিংবা চীনের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার একটা কৌশল নেয়। অতীতে তাইওয়ান ঘিরে ঢাকার অবস্থান বিএনপি সরকারকে বিপাকে ফেলে দেয়। আবার ২০২১ সালে চীনের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ঘিরে বিএনপি বিবৃতি দেয়। সেটি নিয়েও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিরোধ ঘটে। তবে এবার বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়ে ‘এক চীন নীতি’-কে স্বীকৃতি দেয়। সেটি সম্পর্ক উন্নয়নের কৌশলগত অবস্থান। যৌথ ঘোষণাতেও দুই দেশ একে অপরের মৌলিক স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগের বিষয়ে দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ পুনরায় ‘এক চীন নীতি’র প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনও প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে। বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করে যে বিশ্বে একটিই চীন রয়েছে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিং সরকারই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ সরকার। অন্যদিকে, চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। ‘সরকার ঐ সময় একটা ভুল করে বসেছিল, কিন্তু সেই ভুল থেকে তারা দ্রুত বেরিয়েও এসেছে। আর সেই ভুলটাকে মনে করিয়ে দেওয়াতে চীনেরও কোনও স্বার্থ নেই। চীনের স্বার্থ বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোতে। আর বাংলাদেশ যেহেতু ঐ অবস্থান থেকে সরেই এসেছে, এ বিষয়ে তাদের আর চাওয়ার কিছু নেই। সুতরাং এটা নিয়ে অস্থির হওয়ার কিছু নেই। এখন আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, আমরা যাতে ভবিষ্যতে আবার একই রকম ভুল না করি। একই ভুল আবার যেন করে না বসি।’ চীন সফরে প্রাপ্তি প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের চীন সফরে বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপলে’ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের উপস্থিতিতে চুক্তিগুলো সই হয়। মোট ১৭টি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা এমওইউ সই হয়েছে। তার মধ্যে ১৩টি বাংলাদেশ এবং চীনের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই দেশের বিভিন্ন গভর্নমেন্টের মিনিস্ট্রি টু মিনিস্ট্রি সই হয়েছে। আর তিনটি হয়েছে বাংলাদেশের বিডার সঙ্গে চীনের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের এবং একটা সই হয়েছে পলিটিক্যাল পার্টি টু পলিটিক্যাল পার্টি অর্থাৎ দুটি দেশের বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে রাজনৈতিক দলগুলো রয়েছে তাদের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন বলেন - গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের অধীনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে এমওইউ হয়েছে এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে একটি পৃথক কো-অপারেশন প্ল্যান সই হয়েছে। এছাড়া টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে সহযোগিতায় দুটি পৃথক এমওইউ এবং বাংলাদেশ থেকে জাতীয় ফল কাঁঠাল রফতানি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। যৌথ ইশতেহারে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশ-চীন একটি যৌথ ইশতেহার তৈরি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পক্ষ বিশ্বাস করে চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের সুযোগ বয়ে আনবে। নতুন যুগে দুই দেশ ও দেশের জনগণের জন্য আরও বেশি সুফল বয়ে আনতে উভয়পক্ষ তাদের ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’ বা ‘সামগ্রিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে’ আরও এগিয়ে নিয়ে যৌথভাবে ‘চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভাগ্যের কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে। উভয়পক্ষ উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারা বজায় রাখতে, শাসন পরিচালন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়াতে এবং সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি কৌশলগত সংলাপের ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে। এ ছাড়া কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক একটি ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ ব্যবস্থার পথ খোঁজার বিষয়েও উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। শিক্ষা জনশক্তি উন্নয়নে, সামাজিক উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং কৃষি গবেষণায় চীনের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব কিছু মিলিয়ে চীনের সঙ্গে আমাদের বহুদিন ধরে যে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব; সেই সম্পর্কটাকে আর নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য এই সফরটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অনেকে মনে করেন, এই সফরে ১৭টির মতো চুক্তি, প্রটোকল অথবা স্মারক সই হয়েছে এবং সেগুলো সবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। আমি মনে করি, এই চুক্তিগুলো আমাদের দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করতে জোরালো ভূমিকা রাখবে। সেজন্য আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী এই সফরটা অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং এর মাধ্যমে আমাদের পররাষ্ট্র-সম্পর্কের অগ্রগতির নতুন দুয়ার উন্মোচন হবে, এবং নতুন নতুন ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা এগিয়ে যাবে।’ এটাই সবার প্রত্যাশা। সহকারী অধ্যাপক, আবুবকর বিশ্বাস মকসেদ আলী কলেজ, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ।
চীনের রিয়েল-এস্টেট বিনিয়োগ বাজারে সম্পত্তি পুনর্নির্মাণের জন্য ভারী মূল্য দিতে হচ্ছে
কোন সন্দেহ নেই যে চীনের রিয়েল-এস্টেট বুদবুদ ফেটে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। বেইজিং প্রায় এক দশক ধরে দেশের ঐতিহাসিকভাবে অনুমানমূলক সম্পত্তি বাজার থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যয় করেছে, যা মাঝে মাঝে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এক চতুর্থাংশকে শক্তি দিয়েছিল। তবে, কাঠামোগত বিকৃতি যা বুদবুদকে পুঁজি করে তা এখনও বিদ্যমান, যদিও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধির উপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করছে।
নীলফামারীর হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হবে: প্রধান উপদেষ্টা
উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা প্রকল্পটি গতকাল রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর সভায় অনুমোদন পেয়েছে।