বাঘ
তিন দিনের ব্যবধানে এবার পূর্ব সুন্দরবনের নদীতে বাঘ সাতরাতে দেখলেন বনরক্ষীরা
তিন দিনের ব্যবধানে এবার পূর্ব সুন্দরবনের নদীতে বাঘ সাতরাতে দেখলেন বনরক্ষীরা। রবিবার (২৬ জুলাই) সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের টাইগার পয়েন্ট এলাকার নদীতে সাঁতার কেটে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে নদীর অপর পাড়ে যেতে দেখেন তারা। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ রেজাউল করীম চৌধুরী জানান, রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরের দিকে চাঁদপাই রেঞ্জের স্মার্ট টীমের বনরক্ষীরা নিয়মিত টহলের সময় সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের টাইগার পয়েন্ট এলাকার নদীতে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে সাঁতার কেটে নদী পার হতে দেখেন। বাঘটি সাতরে নদী পাড় হয়ে লাফিয়ে সুন্দরবনে উঠে বনের মধ্যে চলে যায়। বনরক্ষীরা বাঘ সাতরানোর বিরল এ দৃশ্যটির ভিডিও ধারণ করেছেন। এর আগে, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের অফিস আঙ্গিনায় একটি বাঘিনী এসে প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থান নিয়ে আপন মনে ঘোরাঘুরি করে আবার সুন্দরবনের মধ্যে চলে যায়। তিনি আরো বলেন, টহলের সময় সচরাচর বাঘ দেখা যায় না। সুন্দরবনে এখন বনজীবী, পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কোলাহলমুক্ত পরিবেশে সুন্দরবনে বাঘ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী সাচ্ছন্দে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বন বিভাগের কঠোর নজরদারিতে বন অপরাধ কমে এসেছে। সুন্দরবনে আগের তুলনায় বাঘ ও হরিণের সংখ্যা বেড়েছে বলে ডিএফও জানিয়েছেন।
ছয় মাস পর সুস্থ হয়ে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক আবাসে ফিরছে বাঘিনীটি
সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় হরিণ শিকারিদের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়ে আহত বাঘিনীটি দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার পর সুস্থ হয়ে আবারও সুন্দরবনের প্রাকৃতিক আবাসে ফিরছে।আজ রোববার (১২ জুলাই) আহত বাঘিনীটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করবে বন বিভাগ। বন বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় হরিণ শিকারিদের পেতে রাখা একটি ফাঁদে আটকা পড়ে প্রায় ১০ বছর বয়সী বাঘিনীটি গুরুতর আহত হয়। দীর্ঘ সময় ফাঁদে আটকে থাকায় তার সামনের বাঁ পায়ের চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরা বাঘিনীটিকে উদ্ধার করে খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত চিকিৎসা, ড্রেসিং ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তোলা হয়। টানা ছয় মাসের চিকিৎসা শেষে বাঘিনীটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাই তাকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থল সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে একটি অসুস্থ রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে পুনরায় সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হচ্ছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরে বাঘিনীটি স্বাভাবিকভাবে বিচরণ করতে পারবে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।