জামায়াতের লংমার্চ ও সংসদের বক্তব্যে মিল নেই, তারা রাজনৈতিক দ্বিচারিতা করছে: চরমোনাই পীর
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
তানভীর আজাদ জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া :
জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চের দাবি এবং জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে দ্বিমুখী নীতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন দাবিতে লংমার্চ করার পর সংসদে গিয়ে সম্পূর্ণ উল্টো বক্তব্য দেওয়া তাদের রাজনৈতিক দ্বিচারিতার স্পষ্ট প্রমাণ।
মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের ফজলুল উলম মাদ্রাসায় একটি কর্মী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের ইসলামী পরিচয় সংকটে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদের বক্তব্যের উদ্ধৃতি টেন চরমোনাই পীর বলেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় লোগো থেকে ‘আকিমুদদ্বীন’ কথাটি বাদ দিয়েছে। இதன் ফলে সেখানে ইসলামের কোনো অস্তিত্ব থাকছে না এবং দলটিকে ইসলামী দল বলার কোনো সুযোগ নেই। অতীতে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কিংবা দলের আমীরের বক্তব্যেও শরিয়া আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কারণে জামায়াত এখন তাদের মৌলিক ইসলামী পরিচয় হারাচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী বিদ্যুৎসহ নানা দাবিতে রাজপথে লংমার্চ করেছিল। অথচ সেখান থেকে ফিরে দলের আমীর সংসদে গিয়ে বললেন যে বর্তমান বিদ্যুতের সমস্যা এই সরকারের সৃষ্টি নয়। তাহলে এত তেল-পুড়িয়ে কেন তারা সেই লংমার্চ করেছিলেন? সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন দ্বিমুখী আচরণ কেন ।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনের কার্যক্রমে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, বিগত নির্বাচন নিয়ে নানা সংশয় থাকলেও তারা তা মেনে নিয়েছিলেন। তবে বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তীকালীন আমলের চেয়েও দেশকে আরও বেশি খারাপ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আমরা পাতি শৃগালের কাছে মুরগি বর্গা দিয়েছি।
এ সময় বিএনপির সমালোচনা করে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে শরিয়া বিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন না করার ওয়াদা দিলেও বিএনপি তা রক্ষা করছে না। ইতিমধ্যে তারা সংসদে শরিয়া বিরোধী আইন অনুমোদন করেছে বলে অভিযোগ করে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, এই ধরনের আইন থেকে সরে না আসলে কঠোর প্রতিবাদ ও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে দল।
কর্মী সমাবেশে কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইসলামী আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আখন্দ ও সেক্রেটারি জিএম তাওহীদ আনোয়ারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।