সংস্কারের অভাবে বেহাল বড়বিলের সড়ক, বিপাকে ২ হাজার মানুষ ‎

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ এএম

মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, ‎রংপুর প্রতিনিধি :

‎রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আব্দুল মাজেদের বাড়ি থেকে তেলিপাড়া এবং শালমারা কবরস্থান থেকে মকসুদুলের বাড়ি সংলগ্ন পাকা মসজিদ পর্যন্ত সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, কাদায় পরিণত হয় পুরো সড়ক। বিশেষ করে কালভার্টের দুই পাশের গর্ত রাতের অন্ধকারে হয়ে উঠে মৃত্যু ফাঁদ। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার মানুষের।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত—তা বোঝার উপায় থাকে না। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা।

‎স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর বলেন, সড়কের বড় বড় গর্তের কারণে চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছে। এমনকি সামাজিক অনুষ্ঠানেও ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক সময় বরযাত্রী বহনকারী গাড়িও এ পথে চলতে পারে না।

‎মুকুল মিয়া বলেন, কয়েক দিন আগে তার বাড়িতে আসা এক অতিথি ভ্যানসহ সেতুর পাশের গর্তে পড়ে আহত হয়েছেন। প্রতিদিনই এমন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

‎আরিফ মিয়া নামে একজনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এই সড়কই এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ। কৃষিপণ্য বাজারজাত করা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও উপজেলা সদরে যাতায়াত—সবকিছুর জন্যই এই সড়কের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

‎এই এলাকার ভ্যানচালক বাবলু মিয়া বলেন, বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে ডুবে যায়। তখন ভ্যান চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কয়েক দিন আগে গর্তে পড়ে তিনি নিজেও আহত হয়েছেন।

‎আরেক ভ্যানচালক সুরুজ মিয়া জানান, সড়কের করুণ অবস্থার কারণে অনেক সময় রাতে ভ্যান বাড়িতে নেওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িতে রেখে সকালে আবার নিয়ে বের হতে হয়। চার বছর ধরে সড়কটির সংস্কার হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

‎কথা হয় স্থানীয় দোকানদার কাদের এর সঙ্গে তিনি জানান, রাস্তার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। 

‎স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীরা। জরুরি মুহূর্তে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। কেউ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, ভ্যানও ঠিকমতো নিয়ে যাওয়া যায় না। অনেক সময় রোগীকে কোলে করেই অপেক্ষাকৃত ভালো সড়ক পর্যন্ত নিতে হয়।

‎তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সংস্কার করা হলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে।

‎এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শাহীনুর রহমান শাহিন বলেন, চলতি বছরের অতিবৃষ্টিতে সড়কটি আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

‎এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করে সংস্কারকাজ শুরু করা হোক। তাদের আশা, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রায় ২ হাজার  মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com