চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে পুঠিয়ায় আটক মানিক চাঁদ

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ পিএম

পুঠিয়া(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর পুঠিয়া থানা পুলিশ চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে মানিক চাঁদ (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। তিনি পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার বেজ পাতিয়াটা এলাকার আব্দুস ছালামের ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুঠিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শওকত হোসাইনের সঙ্গে অভিযুক্ত মানিক চাঁদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে মানিক চাঁদ একটি প্রাইভেটকারে করে শওকতের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) প্রদর্শন করেন এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই প্রলোভনে শওকত হোসাইন ও তার দুই বন্ধু সম্মত হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তের স্ত্রী খাদিজা ইয়াসমিনের নামে ইসলামী ব্যাংকের একটি হিসাবে মোট ১৬ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পর কয়েক দফা তাদের ঢাকায় নিয়ে বিভিন্ন কাগজপত্র ও স্বাক্ষর গ্রহণ করা হলেও চাকরির কোনো অগ্রগতি হয়নি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত নানা সময়ক্ষেপণ করেন এবং পরে হুমকি-ধমকিও দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ২৬ জুলাই পারিবারিকভাবে বিষয়টির মীমাংসার কথা বলে মানিক চাঁদ তাদের বাড়িতে যান। এ সময় বিভিন্ন এলাকার পাওনাদাররা খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুঠিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। এরপর ভুক্তভোগীরা থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানিক চাঁদ রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ঘটনায় বহু মানুষ বছরের পর বছর ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও তারা দাবি করেন।

তাদের আরও অভিযোগ, অতীতেও মানিক চাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করেছিল। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তার নাম উঠে এসেছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০১৬ ও ২০২২ সালে প্রচারিত অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান "তালাশ"-এও তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও প্রতারণার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বারবার আইনি প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

 

এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, “গত রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসে। পরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি জানতে পারি। ভুক্তভোগীরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com