সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হাতুড়ি হামলা:যুবদল ও শ্রমিকদলের দুই নেতা আটক
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
তানজিল জামন জয়, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর প্রতিনিধি সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হাতুড়ি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে কুয়াকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শহিদ সিকদার (ওরফে পঁচা শহিদ) এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি নাসির হাওলাদার। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) তাদের কলাপাড়া আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কুয়াকাটা মেরিন ড্রাইভ সড়কের হোটেল সৈকত সংলগ্ন এলাকায় সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা তাকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তার মাথা ও দুই পায়ে গুরুতর জখম হয়।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি কুয়াকাটায় এক তরুণীকে জোরপূর্বক হোটেল কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে বায়েজিদ শিকদারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিক কে এম বাচ্চু। ওই ঘটনার জেরেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন বলেও দাবি পরিবারের।
আহত সাংবাদিকের পরিবারের ভাষ্য, হামলায় কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বায়েজিদ শিকদার রানা, পৌর যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শহিদ শিকদার, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহিদ শিকদার, পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হারুন মুসল্লিসহ আরও চার থেকে পাঁচজন অংশ নেন। হামলার সময় কে এম বাচ্চু একা ছিলেন।
পরিবার আরও জানায়, সরকারি জমি থেকে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নারী-সংক্রান্ত ঘটনার প্রতিবাদ জানানোয় অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি কে এম বাচ্চু পরিবেশ, পর্যটন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিষয়ক বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশন, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য।
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুক বলেন, “বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে জেলা কমিটি না থাকায় আমাদের পক্ষে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, “সন্ত্রাসীদের দলে কোনো স্থান নেই। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, “মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”