মঠবাড়িয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষকের ভিডিও ভাইরাল: শিক্ষক বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
সালমান আহসান বাবু, মঠবাড়িয়া:
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার টিকিকাটা নূরিয়া কামিল মাদ্রাসার এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। অনৈতিক অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ার একটি ভিডিও সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর উক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে রবিবার ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মোঃ মনিরুজ্জামান বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা এবং দুই সন্তানের জনক। ২০২৩ সালে এনটিআরসিএ-এর (NTRCA) সুপারিশে টিকিকাটা নূরিয়া কামিল মাদ্রাসায় বাংলা বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।
যানাগেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মোঃ মনিরুজ্জামান মাদ্রাসায় যোগদানের পর প্রতিষ্ঠানের কাছেই একটি বাসা ভাড়া নেন। প্রাইভেট পড়ানোর সূত্র ধরে এক ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই নারী প্রবাসীর স্ত্রী হওয়ায় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জানা গেছে, তাদের সম্পর্কের বিষয়টি আড়াল করতে তারা একই ভবনের পাশাপাশি ফ্ল্যাটও ভাড়া নেন। সেখানে বিষয়টি স্থানীয়দের জানাজানি হয়ে গেলে পরবর্তীতে তারা বাসা পরিবর্তন করেন। তবে কৌশলে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। কৌশলে যোগাযোগ রাখার একপর্যায়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়রা তাকে একটি বাসার খাটের নিচ থেকে বের করে মারধর করছে। ঘটনার সময় শিক্ষক মনিরুজ্জামান তার প্রথম স্ত্রীর কাছে ফোন করে টাকার জন্য সাহায্য চাইলে প্রথম স্ত্রী তাকে ভর্ৎসনা করেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কোথাও তাদের বিয়ের বিষয়ে কোনো কথা বলতে শোনা যায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক মনিরুজ্জামান জানান, গত ৩০ জুন আমি ওই নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। যারা ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছিল, তারা আমার কাছে টাকা দাবি করেছিল। তা না পেয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিডিওটি নেটে ছড়িয়ে দিয়েছে।
কাজী মোঃ ইয়াকুব আলীও বিয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিয়ের প্রায় ২০-২৫ দিন আগেই ওই নারী তার আগের প্রবাসে থাকা স্বামীকে ডিভোর্স দেন। তাদের বিয়ের যাবতীয় কাগজপত্র থানায় জমা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর জানান, গত ১৭ জুলাই রুবেল নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাসা থেকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে ভিডিও করে। কেউ কেউ তার কাছে এক লাখ টাকা দাবিও করেছিল। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও ভিডিও প্রকাশের পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তারা বিয়ে করেছেন কি না, তা আমাদের আগে জানা ছিল না। তিনি আরও জানান, প্রায় ২-৩ মাস আগেই ওই প্রবাসীর বোন শাহিনুর লিখিত অভিযোগ দিলে উক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক থানায় বিয়ের বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনও নিশ্চিত নন।