ইসলাম
রবিউল আউয়াল মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য : মাওলানা শাহ্ মুহাঃ মাসউদুর রহমান
রবিউল আউয়াল মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য রবিউল আউয়াল—সীরাত ও শরিয়াহর প্রতি পুর্ণ আনুগত্যের মাস। ১)ربيع الأول- মাস, এই মাসেই আমার প্রাণ-প্রিয় নবী, হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিধন্য মাস। আমরা মহা সৌভাগ্যবান—আমরা সেই মহান নবী ﷺ-এর উম্মত হওয়ার কৃতিত্ব লাভ করেছি। এই মহা নিয়ামতের স্বীকৃতি হলো তাঁর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা হৃদয়ে ধারণ করা, তাঁর সীরাত জানা এবং তাঁর শরিয়াহর প্রতি পুর্ণ আনুগত্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করা। তাই রবিউল আউয়াল (ربيع الأول) কে শুধু আবেগ ও বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিকতার মাস না বানিয়ে সীরাত পাঠ, দরুদ পাঠ এবং নবীজির ﷺ জীবন-আদর্শের চর্চার মাস হিসেবে গ্রহণ করি। ২) সিরাতুন্নবী ( سيرةالنبي ) ﷺ আদর্শ জীবন ও চরিত্র গঠন: উত্তম নমুনা: নবীজিﷺ জীবন ব্যক্তিগত,সামাজিক ও রাস্ট্রীয় জীবনের পূর্ণাঙ্গ মডেল। ধর্ম,দলমত নির্বিশেষে সদাচরণ ও মানবিকতা: ক্ষমা, দয়া, সততা ও বিনয়ী শেখায়। চরিত্রের বিকাশ: লোভ ও অহংকার দূর করে মনকে পবিত্র ও প্রশান্তি দেয়। ৩) সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা: ন্যায়বিচার: ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদহীন সমাজ গঠনে দিকনির্দেশনা। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান: ভিন্ন মত ও ধর্মের মানুষের সাথে সম্পর্কের নিয়ম। নেতৃত্বের গুণাবলি: রাষ্ট্র ও পরিবার পরিচালনায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার শিক্ষা। ৪) ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—জীবনের সর্বস্তরে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ ও আদর্শ তথা শরিয়াহ বাস্তবায়নের চেষ্টা করি। ৫) শরিয়াহ:আইন ও বিচার,নৈতিকতা ও ইবাদত,ব্যক্তি,সমাজ ও রাস্ট্রে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অনুশাসন মেনে চলা।অর্থব্যবস্থা: সুদহীন লেনদেন, যাকাত প্রদান এবং শরিয়া-সম্মত উপায়ে ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিচালনা করা। শরিয়াহর মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাস্ট্র সুরক্ষায় সর্বশ্রেণী মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল পরিনত হয়, যেমন দুর্নীতি, দুঃশাসন, মাদক নির্মুল,নারী ও শিশু ধর্ষণ, বলৎকার সহ সকল অপরাধ সম্পুর্ণ ধ্বংস করে দেয়। নবীজির ﷺ আদর্শ তথা শরিয়াহর আলোকে ব্যক্তি ও পরিবার গড়লে সমাজ সুন্দর হবে, আর সমাজ সুন্দর হলে রাষ্ট্রেও শান্তি ও কল্যাণের সুবাতাস প্রবাহিত হবে—ইনশাআল্লাহ। আসুন, রবিউল আউয়াল( ربيع الأول ) মাসে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই— সীরাত জানব, সুন্নাহ মানব, নবীজির ﷺ আদর্শে শরিয়াহর প্রতি পুর্ণ আনুগত্যে জীবন গড়ব। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাঁর প্রিয় হাবীব ﷺ-এর সত্যিকারের উম্মত হিসেবে কবুল করুন। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ﷺ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মাওলানা শাহ্ মুহাঃ মাসউদুর রহমান, সহ-সভাপতি আইএবি ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ শাখা।
রবিউল আউয়াল: নবীপ্রেমের আবেগ থেকে সুন্নাহর বাস্তব জীবনে
রবিউল আউয়াল: নবীপ্রেমের আবেগ থেকে সুন্নাহর বাস্তব জীবনে মোহাম্মদ হাসান ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল। মুসলিম উম্মাহর কাছে এ মাসের তাৎপর্য অনন্য। কারণ, মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক, আল্লাহর প্রিয় হাবিব ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক অধ্যায় এ মাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে তাঁর জন্ম ও ইন্তেকালের স্মৃতি এ মাসকে মুসলিম হৃদয়ে গভীর আবেগ, ভালোবাসা ও আত্মজিজ্ঞাসার মাসে পরিণত করেছে। তবে রবিউল আউয়ালকে ঘিরে আবেগের পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক জ্ঞান ও ভারসাম্য। এ মাসের নির্দিষ্ট কোনো দিনকে শরিয়ত স্বতন্ত্রভাবে বিশেষ ইবাদতের জন্য নির্ধারণ করেছে—এমন সুস্পষ্ট প্রমাণ কোরআন-সুন্নাহয় নেই। তাই এ মাসের মর্যাদা উপলব্ধি করতে গিয়ে যেমন অতিরঞ্জন পরিহার করতে হবে, তেমনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসাকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শ অনুসরণের অঙ্গীকারে রূপ দিতে হবে। রহমতের নবীর আগমন আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭) তিনি এমন এক সময়ে পৃথিবীতে আগমন করেন, যখন আরব সমাজসহ পৃথিবীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শিরক, কুসংস্কার, সামাজিক অবিচার, জুলুম ও নৈতিক অবক্ষয় গভীরভাবে বিস্তার লাভ করেছিল। মহানবী (সা.) মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আহ্বান করেছেন। শিরকের পরিবর্তে তাওহিদ, জুলুমের পরিবর্তে ন্যায়, অজ্ঞতার পরিবর্তে জ্ঞান এবং অনৈতিকতার পরিবর্তে তাকওয়া ও উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর দাওয়াত শুধু একটি নির্দিষ্ট জাতি বা ভূখণ্ডের জন্য ছিল না; বরং তা ছিল সমগ্র মানবজাতির জন্য। জন্মতারিখ নিয়ে মতভেদ, সোমবারের বিষয়টি নিশ্চিত রবিউল আউয়ালের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মের স্মৃতি জড়িত থাকলেও তাঁর জন্মের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে সহিহ হাদিসের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে জানা যায়, তিনি সোমবার জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘এ দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এ দিন আমার ওপর ওহি নাজিল হয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২) এ হাদিস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—নবীজির জন্মের স্মরণ কেবল আবেগের বিষয় নয়; বরং তাঁর জীবনের শিক্ষা, তাঁর ইবাদত ও তাঁর সুন্নাহর সঙ্গে নিজেদের জীবনকে সম্পৃক্ত করার বিষয়। নবীপ্রেম ঈমানের দাবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা একজন মুমিনের ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদেরই একজন রাসুল পাঠিয়েছেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৪) রাসুল (সা.)-এর আগমন ছিল মানবজাতির জন্য আল্লাহর এক মহান নিয়ামত। তাঁর প্রতি ভালোবাসা তাই কোনো সাময়িক আবেগ নয়; এটি ঈমানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। কিন্তু প্রশ্ন হলো—সত্যিকারের নবীপ্রেমের পরিচয় কী? নবীপ্রেম শুধু তাঁর নাম শুনে আবেগাপ্লুত হওয়া নয়, শুধু মুখে ভালোবাসার কথা বলা নয়, কিংবা শুধু নির্দিষ্ট সময়ে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করাও নয়। সত্যিকারের নবীপ্রেমের প্রমাণ হলো—তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা, তাঁর সুন্নাহকে ভালোবাসা, তাঁর চরিত্র অনুসরণ করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর দেখানো পথকে অগ্রাধিকার দেওয়া। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আল-আহজাব, আয়াত: ২১) অতএব, নবীপ্রেমের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনেই। আমাদের পরিবারে আমরা কেমন? প্রতিবেশীর সঙ্গে আচরণ কেমন? ব্যবসায় সততা কতটুকু? দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষায় আমরা কতটা সচেতন? রাগের সময় আমরা কতটা সংযমী? ক্ষমা করার মানসিকতা কতটুকু? এসব প্রশ্নের উত্তরেই প্রতিফলিত হবে আমাদের নবীপ্রেমের বাস্তবতা। মহান চরিত্রের সর্বোত্তম আদর্শ রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন উত্তম চরিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ। আল্লাহ তাআলা তাঁর চরিত্রের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ (সুরা আল-কলম, আয়াত: ৪) তিনি ছিলেন সত্যবাদী, আমানতদার, দয়ালু, ক্ষমাশীল, বিনয়ী ও ন্যায়পরায়ণ। শত্রুর প্রতিও তিনি মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায়, নারী, শিশু ও দুর্বল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা মানবসভ্যতার জন্য অনন্য শিক্ষা। আজ আমরা যদি তাঁর প্রতি ভালোবাসার দাবি করি, তাহলে আমাদের কথাবার্তা, আচরণ, লেনদেন, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক দায়িত্বে তাঁর আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। দরুদ ও সালামের মাধ্যমে নবীপ্রেমের প্রকাশ আল্লাহ তাআলা মুমিনদের রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠান। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠাও এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।’ (সুরা আল-আহজাব, আয়াত: ৫৬) তাই রবিউল আউয়াল হোক বেশি বেশি দরুদ পাঠের উপলক্ষ। তবে দরুদ শুধু একটি মাসের আমল নয়; বরং একজন মুমিনের সারা জীবনের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী পড়তে হবে, তাঁর হাদিস জানতে হবে, তাঁর চরিত্র সম্পর্কে জানতে হবে এবং তাঁর সুন্নাহকে নিজের জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে। রবিউল আউয়ালে আমাদের করণীয় রবিউল আউয়ালকে কেন্দ্র করে কোরআন-সুন্নাহয় প্রমাণিত নয়—এমন কোনো নির্দিষ্ট আমলকে শরিয়ত নির্ধারিত বিশেষ ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। বরং এ মাসকে আত্মশুদ্ধি, নবীজির জীবনচর্চা এবং সুন্নাহ অনুসরণের অঙ্গীকারের মাস হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। এ মাসে বিশেষভাবে— এক. বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করা। দুই. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী, হাদিস ও শামায়েল অধ্যয়ন করা। তিন. তাঁর সুন্নাহ সম্পর্কে জানা এবং বাস্তব জীবনে তা অনুসরণের চেষ্টা করা। চার. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা এবং ফরজ ইবাদতে যত্নবান হওয়া। পাঁচ. কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও নফল ইবাদত বৃদ্ধি করা। ছয়. সোমবার নফল রোজা রাখার সুন্নাহ পালনের চেষ্টা করা। সাত. সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন, চরিত্র ও শিক্ষা সম্পর্কে জানানো। আট. সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ক্ষমাশীলতা, দয়া ও ন্যায়পরায়ণতার মতো নবীজির গুণাবলি নিজেদের জীবনে ধারণ করা। ভালোবাসা হোক জীবনের পরিবর্তনের শক্তি রবিউল আউয়াল আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আত্মজিজ্ঞাসা হাজির করে—আমরা কি সত্যিই রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ভালোবাসি? যদি ভালোবাসি, তাহলে তাঁর সুন্নাহ আমাদের জীবনে কতটা আছে? আমাদের নামাজে, ব্যবসায়, পারিবারিক সম্পর্কে, সামাজিক আচরণে, কথাবার্তায়, মানুষের অধিকার রক্ষায় এবং নৈতিকতার চর্চায় তাঁর আদর্শ কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে? নবীপ্রেমের সবচেয়ে সুন্দর প্রকাশ হলো নিজের জীবনকে তাঁর আদর্শের আলোয় পরিবর্তন করা। কারণ ভালোবাসা শুধু অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ থাকলে তার পূর্ণতা আসে না; ভালোবাসা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের কর্ম ও চরিত্রে প্রকাশ পায়। রবিউল আউয়াল তাই শুধু স্মরণের মাস নয়—এটি আত্মশুদ্ধিরও আহ্বান। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীতে একজন মহান আদর্শ মানুষ এসেছিলেন, যাঁর জীবন ছিল মানবতার জন্য পথনির্দেশ। তাঁর জীবনকে জানার, তাঁর শিক্ষা বোঝার এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে প্রকৃত কল্যাণ। আসুন, রবিউল আউয়ালকে সামনে রেখে আমরা একটি অঙ্গীকার করি—রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে শুধু মুখে ভালোবাসব না; বরং তাঁর সুন্নাহকে জীবনের পথ বানাব। তাঁর চরিত্র অনুসরণ করব, তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করব, তাঁর জীবন ও শিক্ষা অধ্যয়ন করব এবং পরিবার ও সমাজে তাঁর আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। কারণ সত্যিকারের নবীপ্রেম হলো—মুহাম্মদ (সা.)-কে ভালোবাসা, তাঁর সুন্নাহকে ভালোবাসা এবং তাঁর দেখানো পথে জীবন পরিচালনা করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর প্রিয় হাবিব হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক এবং তাঁর আদর্শে জীবন গড়ার সামর্থ্য দান করুন। আমাদের দরুদ ও সালাম কবুল করুন এবং কিয়ামতের দিন তাঁর শাফায়াত নসিব করুন। আমিন। লেখক: মোহাম্মদ হাসান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
কোরআন ও হাদিসের আলোকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ): হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” উম্মতের দুর্যোগপূর্ণ সন্ধিক্ষণে তৎকালীন নেতৃস্থানীয় আয়েম্মা ও মুজতাহেদীনরা হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম ও তদীয় সাহাবায়ে কেরামদের ঈমান-আকায়েদ যা ছিল, তা কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াসের মাধ্যমে নিরীক্ষণ করে অসংখ্য কিতাব সংকলন করে সমাজের সম্মুখে রেখে গেছেন। যারা তার অনুসারী তারাই আহলুস সুন্নাত আল জামায়াত নামে অভিহিত। এ দল আজ থেকে প্রায় ১৪৪৮ বছর যাবত পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে। এ দলের মুখপাত্রগণ ঈমান আকায়েদ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীর মীমাংসা করতেন দলিল চতুষ্টয়ের ভিত্তিতে। তাই আমাদের সর্বদা এ মূলনীতি স্মরণ রাখতে হবে। বর্তমান যুগে সমাজকে বিভ্রান্তির ধূম্রজালে পতিত করতে ঈমান হারা করার জন্য কয়েকটি ক্ষুদ্রতম দল মাথাচারা দিয়ে উঠছে। তারা ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম, কিয়াম, ফরয নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করাসহ আরো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করতেছে। তাদের এ অন্ধ চোখকে খুলে দিতে, পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামকে সামনে রেখে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিতর্কের সমাধানকল্পে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে আমাদের এ সামান্য আয়োজন। অভিধানের দৃষ্টিতে মিলাদ, মওলেদ এবং মওলুদ এই তিনটি শব্দের অর্থ নির্মরূপ। আরবি ভাষায় সর্বশ্রেষ্ঠ অভিধান লেসানুল আরব ও বৃহত্তম অভিধান তাজুল আরূছ, কামুস, মুহকাম, তাহজীব, আছাছ, ছেহাহ, ও জওহরি এবং মিছবাহ প্রভৃতি লোগাতে (অভিধানে) বর্ণিত আছে যে, অলিদ, মওলুদ শব্দের অর্থ নবজাত শিশু। মওলুদুর রেজাল অর্থ মানুষের জন্মকাল, জন্মস্থান। মিলাদুর রেজাল অর্থ মানুষের জন্মকাল, জন্মদিন। মিলাদ শব্দটি জন্মকাল ও জন্মদিন ব্যতীত অন্য কোনো অর্থে ব্যবহত হয় না। সুতরাং মিলাদুন্নবী, মাওলেদুন্নবী ব্যাখ্যাই হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম-এর জন্ম কাহিনী ও তৎসংশ্লিষ্ট ঘটনাবলী আলোচনা করা। (আর আমরা সকলেই জানি ঈদ অর্থ খুশি বা আনন্দ প্রকাশ করা। ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ব্যাখ্যাই হচ্ছে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্মদিন বা জন্মকাহিনী ও তৎসংশ্লিষ্ট আলোচনা করা বা খুশি উদযাপন করা। এ মাসেই প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম ধরার বুকে আগমন করেছেন। এ জন্যই সুন্নি ওলামায়ে কেরামগণ এ বরকতময় মাসটিকে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন এবং পালন করে থাকেন।) পবিত্র কোরআন-এর আলোকে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম :এখানে পবিত্র কোরআনের কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করা হলো। যা দ্বারা প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম-এর মিলাদ পালন করা শুধু বৈধ নয়, বরং উত্তম আমল হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। যা নিচে বর্ণনা করা হলো- ১ম আয়াত : মহান আল্লাহ তায়াআলা পবিত্র কালামুল্লাহ শরিফে ইরশাদ ফরমান- হে মানবকুল! তোমাদের কাছে উপদেশ বাণী এসেছে, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এবং অন্তরের ব্যাধির নিরাময়, হিদায়েত ও রহমাত মুসলমানদের জন্য। হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম আপনি বলুন, আল্লাহ’র অনুগ্রহ এবং তাঁর দয়ায় সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হওয়া উচিত। এটিই উত্তম সে সমুদয় থেকে যা তাঁরা সঞ্চয় করেছে। (সুরা ইউনুস : ৫৭-৫৮) অত্র আয়াতে কারিমায় হিদায়েত ও রহমাত পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। এবং এটি সমস্ত আমলের চেয়ে উত্তম বলা হয়েছে। এখন বিচার এই যে, হিদায়েত ও রহমাত, দ্বারা উদ্দেশ্য কি? এ সম্পর্কে বিশ্ব বিখ্যাত ‘তাফসিরে তাবায়ী’ শরিফের মধ্যে ইমাম ইবনে জারীর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাছ থেকে বর্ণনা করেছেন, হেদায়েত দ্বারা উদ্দেশ্য ইসলাম আর ‘রহমাত’ দ্বারা উদ্দেশ্য কোরআন। হাফেজে হাদিস আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়ুতি রাহমাতুল্লাহি তাআলা আলাইহি তার বিশ্বনন্দিত তাফসির ‘আদদুরূল মানসুর’ এর মধ্যে একই সাহাবি থেকে বর্ণনা করেছেন।‘রুহুল মায়ানি’তে আল্লামা নিসারুদ্দীন মাহমুদ আলুসী রাহমাতুল্লাহি তাআলা আলাইহি এরুপ বর্ণনা করেন। তাফসিরের বর্ণনায় এ স্পষ্টভাবে বোঝা যায় তোমরা মহামূল্যবান সম্পদ পেয়েছ এজন্য ঈদ পালন কর বা খুশি উদযাপন কর। পবিত্র কোরআনের সূরা আম্বিয়ার ১০৭ নং আয়াতে আল্লাহ তায়াআলা বলেন, আর আমি আপনাকে জগৎসমূহের জন্য একমাত্র রহমাত হিসেবেই প্রেরণ করেছি। এখানে রহমাত বলতে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামকে বলা হয়েছে। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, আর তোমরা সেই নিয়ামতের কথা স্মরণ কর। যা আল্লাহ তায়াআলা তোমাদেরকে দান করেছেন। (সূরা আল ইমরান : ১০৩) আল্লাহ তায়াআলা দুনিয়াতে যত নিয়ামত দান করেছেন তার মধ্যে সর্বোত্তম নিয়ামত হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম। এ দুটি আয়াতের আলোচনায় এ স্পষ্ট প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম-এর দুনিয়াতে আগমনের দিন আনন্দ উৎসব তথা ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম পালন করা সর্বোত্তম আমল। ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম উদযাপন করা প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম-এর আনুগত্যের বহি:প্রকাশ। যেমন আল্লাহ তায়াআলা বলেন, তোমরা আল্লাহ’র কথা মান্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা সৎশাসক তথা ইমাম, মুজতাহিদ সৎশাসক শরিয়াতের আইনজ্ঞ মাযহাবের ইমামগণ তাদের আনুগত্য কর। উপরিউক্ত আলোচনায় আমরা জানতে পারি পবিত্র কোরআনে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আলোচনা রয়েছে। এবং এটাকে উত্তম আমল বলা হয়েছে। সুতরাং এটা আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে মহান ইবাদাতে পরিণত। হাদিসের আলোকে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম: প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম ও সাহাবায়ে কিরাম রাদি-আল্লাহু তাআলা আনহুদের যুগেও মিলাদ শরিফ পালিত হয়েছে। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মিলাদ সম্পর্কে প্রায় ২১৮টি হাদিস রয়েছে। এখানে তার কয়েকটি হাদিস আলোকপাত করা হলো। হযরত ইবনে আব্বাস রাদি-আল্লাহু তায়াআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন, আমি আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে পরস্পরা ধারায় বৈবাহিক সূত্রে মিলনের ফলে মানবরূপে আমার পিতা-মাতা থেকে জন্মলাভ করেছি। ব্যভিচার বা যিনার মাধ্যমে নয়। (ইবনে সাদ, ইবনে আসাকির, তাবরানী, মাসনাদে ওমর, আবু নাঈম, ইবনে আবি শাইবা, মাসনাদুল ফেরদাউস) হযরত আনাস রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম ভাষণে বলেছেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মোতালেব ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুশাই ইবনে মালেক ইবনে নফর ইবনে কিনানা ইবনে খুযাঅহ ইবনে মুফরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে যুফার ইবনে নাযার। যে স্থানে মানুষ দু’দলে বিভক্ত হয়েছে সেখানে আল্লাহতা’আলা আমাকে উত্তম দলে রেখেছেন। আমি আমার পিতা-মাতা থেকে জন্মগ্রহণ করেছি। হযরত ইরবাদ্ব ইবনে সারিয়াহ রাদি-আল্লাহু তায়াআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন, তখন থেকে আমি আল্লাহ তায়াআলার বান্দা এবং নবীকুলের সর্বশেষ নবী, যখন আদম আলাইহি-সসালাওয়াতু ওয়া-সাল্লাম মাটির সঙ্গে মিশ্রিত ছিলেন। আমি তোমাদের আরও জানাচ্ছি যে, আমি হলাম আমার পিতা নবী হযরত ইবরাহিম আলাইহি-সসালাওয়াতুু ওয়া-সাল্লাম-এর দোয়ার ফসল এবং নবী হযরত ঈসা আলাইহি-সসালাওয়াতু ওয়া-সাল্লামের সুসংবাদ, আর আমার মাতার স্বপ্ন। নবীদের মাতাগণ এভাবেই স্বপ্ন দেখতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের মাতা তাকে প্রসবের সময় এমন এক নূর প্রকাশ পেতে দেখলেন যার আলোতে সিরিয়ার মহলগুলো দেখা যাচ্ছিল। (মুসনাদে আহম্মদ, তাবরানী, হাকেম, বায়হাকি, আবু নাঈম) হযরত আনাস রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন, আমি আমার রবের নিকট থেকে সম্মানিত যে, আমি খাতনা অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়েছি। আমার লজ্জাস্থান কেউ দেখেনি। (তাবারানী আওসাত) “হযরত আবু কাতাদাহ আনসারী খাজরাজি রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের কাছে সোমবার রোজা রাখা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উত্তরে বলেন, এদিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এইদিনে আমার প্রতি নবুয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। (মুসলিম শরিফ ৩৬৪পৃষ্ঠা, মুসনাদে আবী শাইবা) প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম নিজেই নিজের মিলাদ বর্ণনা করেছেন :হযরত মুতালেব ইবনে আবু ওয়াদাহ রাদি-আল্লাহু তায়াআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত আব্বাস রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম সম্পর্কে কারো কাছ থেকে যেন কিছু বিরূপ সমালোচনা ও কথাবার্তা শুনে তার কাছে এসে তা বললেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম মিম্বরের উপর বসে উপস্থিত সাহাবিদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কে? তোমরা জান কী? সাহাবিগণ বললেন, আপনি আল্লাহ’র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম। আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক! তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বললেন, আমি হচ্ছি আবদুল্লাহ’র পুত্র আব্দুল মুত্তালিবের নাতি। আল্লাহ তায়াআলা সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করে আমাকে সর্বোত্তম সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অত:পর সৃষ্টিকুলকে দু’টি দলে বিভক্ত করে আমাকে উত্তম দলে রেখেছেন। অত:পর অনেক গোত্র সৃষ্টি করে আমাকে উত্তম গোত্রে সৃষ্টি করেছেন। পরিবারে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং স্বত্তাগতভাবে সম্মানীত করেছেন। (তিরমীযি হাদিসটিকে হাসান বলেছেন) হযরত সালমান রাদি-আল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামকে বলতে শুনেছি, হযরত আদম আলাইহি-সসালাওয়াতু ওয়া-সাল্লাম সৃষ্টির চৌদ্দ হাজার বছর পূর্বে আমি এবং অলি আল্লাহ তায়াআলার সম্মুখে একটি নূর রূপে ছিলাম। অত:পর আল্লাহ তায়াআলা দু’টি ভাগে ভাগ করেন। এর একটি ভাগ হচ্ছি আমি এবং অপরটি হচ্ছেন অলিগণ। (মাসনাদে আহমদ মানাকিব)সাহাবায়ে কেরাম ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম উদযাপন করেছেন :যদি প্রশ্ন করা হয় যে, ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর এত ফযিলত হয়, তাহলে সাহাবায়ে কেরাম কেন পালন করেন নাই? জবাবে বলব, আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়ুতী রমাতুল্লাহ তার কিতাবের মধ্যে উল্লেখ করেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদি-আল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। একদা তিনি নিজ ঘরে সমবেত সাহাবীগণকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের বিলাদাত/মিলাদ শরিফের ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছিলেন। এতে শ্রবণকারীগণ আনন্দ ও খুশি তথা ঈদ প্রকাশ করতেছিলেন এবং আল্লাহ পাকের প্রশংসা করতেছিলেন ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের উপর দরুদ শরিফ পাঠ করতেছিলেন এমতাবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম সেখানে উপস্থিত হলেন এবং তাদের অবস্থা দেখে বললেন, তোমাদের জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব। উক্ত কিতাবে আরো উল্লেখ আছে, হযরত আবু দারদা রাদি-আল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামসহ আবু আমের আনসারী রাদি-আল্লাহু তাআলা আনহু-এর বাসায় উপস্থিত হয়ে দেখলেন, তিনি তার সন্তানাদি, আত্মীয়স্বজন, জাতি-গোষ্ঠী, পাড়া-প্রতিবেশীদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের বিলাদাত শরীফের ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, এইদিন (অর্থাৎ এইদিনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম আগমন করেছেন) এতদার্শনে ও শ্রবণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তাঁর রহমাতের দরজা তোমাদের জন্য খুলে দিয়েছেন ও সমস্ত ফিরিশতাগণ তোমার জন্য ক্ষমা চাচ্ছেন। আর বলেন, যে তোমার মতো এরূপ কাজ করবে, সেও নাজাত পাবে। সুবহানাল্লাহ। এ হাদিস দু’টি দ্বারা প্রামাণিত হলো, সাহাবায়ে কেরামদের যুগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের মিলাদ তথা জন্মদিন বা জন্মকাহিনী ও তৎসংশ্লিষ্ট আলোচনা হতো। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম সর্বোচ্চ স্তরের মুস্তাহাব আমল। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম উদযাপনের মাধ্যমে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের সন্তুষ্টি অর্জন করার তাওফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন। লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
কোরআনের পাখি নুরুল মোস্তফা আরিয়ানের জন্য দোয়ার আবেদন
আলহামদুলিল্লাহ। উনছিপ্রাং মুহিউস সুন্নাহ পুরাতন মাদ্রাসার কৃতী শিক্ষার্থী নুরুল মোস্তফা আরিয়ান সফলভাবে পবিত্র কোরআন মাজিদের হিফজ সম্পন্ন করে একজন হাফেজে কোরআন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। তাঁর এই অসাধারণ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার আবহ বিরাজ করছে। শৈশব থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহী নুরুল মোস্তফা আরিয়ান আন্তরিক প্রচেষ্টা, অধ্যবসায় এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনায় অল্প বয়সেই পবিত্র কোরআন হিফজের সৌভাগ্য অর্জন করেন। তাঁর এই অর্জন শুধু তাঁর পরিবারের নয়, মাদ্রাসা ও সমগ্র এলাকার জন্যও গর্বের বিষয়। মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ীরা জানান, একজন হাফেজে কোরআন সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, নুরুল মোস্তফা আরিয়ান ভবিষ্যতে কোরআনের শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবেন এবং দ্বীনের খেদমতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। এ উপলক্ষে তাঁর পরিবার সকলের কাছে আন্তরিক দোয়া কামনা করেছেন। তারা মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা করেন, যেন নুরুল মোস্তফা আরিয়ানকে কোরআনের আলোয় জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করেন, দ্বীনের সেবায় কবুল করেন, উত্তম চরিত্র, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত দান করেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বোচ্চ সফলতা নসিব করেন। সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ—এই কোরআনের পাখি নুরুল মোস্তফা আরিয়ানের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করবেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে কোরআনের খেদমতে আজীবন নিয়োজিত রাখুন এবং তাঁর জীবনকে নূরে ভরপুর করে দিন। আমিন।
মাহে রবিউল আউয়াল মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ আমি আপনাদের হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই, মাহে রবিউল আউয়াল মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে, সেই সম্পর্কে নিম্নে সংকিপ্ত আকারে আলোচনা তুলে ধরছি, “ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ” মাহে রবিউল আউয়াল মাসের গুরুত্ব ও মহত্ত্ব অপরিসীম। ছরকারে দু আলম দু জাহানের বাদশাহ সাইয়্যেদুল মুরসালিন খাতামান নাবীয়্যিন শাফিউল মুজনিবীন রাহমাতুল্লিল আলামিন হাবীবে খোদা হযরত মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আগমন এই মাসে। যিনি বিশ্বনবী, শেষ নবী, যার শুভাগমনে ধন্য সমগ্র জগৎ, আলোকিত মক্কার মরুপ্রান্তর, যার কারণে চিরভাস্বর মদিনাতুল মুনাওয়ারাহ। স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যাকে লক্ষ্য করে ইরশাদ করেছেন, সমগ্র জগৎবাসীর জন্য আপনাকে রহমত করেই প্রেরণ করেছি। ওই আয়াত প্রমাণ করছে রসূলে আকরাম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোটা সৃষ্টি জগতের জন্য রহমত। আরও ইঙ্গিত বহন করছে আল্লাহ জগৎসমূহের রব এবং তার প্রিয়বন্ধু হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন এ জগৎসমূহের রহমত। আল্লাহর রুবুবিয়্যাত তথা মালিকানা যে পর্যন্ত বিস্তৃত, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নবুয়ত সে পর্যন্ত ব্যাপৃত। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন যে বরকতপূর্ণ ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত রবিউল আউয়ালে সংঘটিত সঙ্গত কারণেই সে মাসটি উম্মতে মোহাম্মদী তথা জগতবাসীর কাছে সম্মানিত, তাৎপর্যমন্ডিত ও মহিমান্বিত। এমনকি বছরের মাস সমূহের মধ্যে রবিউল আউয়াল মাসের শ্রেষ্ঠত্ব, গুরুত্ব ও মহত্ত্ব সবচেয়ে বেশি ও অতুলনীয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, পবিত্র রমজান ওই সম্মানিত মাস, যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে। কোরআন নাজিলের মাস নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ, সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ। আরও ইরশাদ হয়েছে- কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। রসূল (সা.)-এর ঐতিহাসিক ও গোটা বিশ্ববাসীকে অবাক করে দেওয়া এবং আধুনিক যুগের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানীদের হার মানিয়ে দেওয়া এমনকি চাঁদের দেশ ও মঙ্গল গ্রহের রকেট যাত্রীদের চিরপরাস্তকারী ও নতিস্বীকারে বাধ্যকারী মিরাজের ঘটনা, আরশে আজিমে আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথনের ঘটনা যা কোরআনে কারিমে আল্লাহ এভাবে উল্লেখ করেছেন। অন্য আয়াতে- পবিত্রতা আল্লাহর যিনি তার বান্দা মুহাম্মদ (সা.)-কে রাতের কিয়দাংশ মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসায় নিয়ে গেলেন। অনন্তর দুই ধনুক অপেক্ষাও কম ব্যবধান রইল। অতঃপর আল্লাহ তার প্রিয় বন্ধু (মুহাম্মদ সা.) কাছে প্রত্যাদেশ করলেন। এবারে যে বিষয়টি লক্ষ্যণীয় তা হলো, কোরআনে কারিমে উল্লিখিত এসব আশ্চর্যান্বিত, তাৎপর্য-মন্ডিত, সম্মানিত মাস, রজনী, দিবস, ক্ষণ, ঘটনাবলি এর অর্জন ও প্রাপ্তিতে উম্মতে মুহাম্মদী তথা জগৎবাসী সম্মানিত ও সৌভাগ্যবান হয়েছে একমাত্র বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কারণে ও মাধ্যমে। আর নবীকূল শিরোমণির শুভাগমন হয়েছে মাহে রবিউল আউয়ালে। তাই তো এ মাসটির ফজিলত, গুরুত্ব ও মহত্ত্ব অধিক ও অপরিসীম হওয়াই ইমানের দাবি। এতদ্ভিন্ন এই রবিউল আউয়ালকে কেন্দ্র করে আরও বহু ঐতিহাসিক, গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ঘটনা রয়েছে, যা মাহে রবিউল আউয়ালের মর্যাদা ও গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয় এবং আকর্ষণীয় করে তোলে। যেমন উল্লেখ করা যেতে পারে- মহান আল্লাহ পাক নিজে বলেছেন হে আমার হাবিব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমি তোমাকে যদি সৃষ্টি করতাম না তাহলে এই পৃথিবী সৃষ্টি করতাম না মা খাদিজাতুল কুবরা (রা.)-এর সঙ্গে রসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পরিণয় হয়েছিল ১০ রবিউল আউয়াল। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের উদ্দেশে রওনা করেছিলেন ১ রবিউল আউয়াল। তিনি মদিনায় পৌঁছেন ১২ রবিউল আউয়াল। প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে কুবা নির্মাণ করেন ১৬ রবিউল আউয়াল। মাহে রবিউল আউয়ালের আগমন ঘটে নবী প্রেমের প্রতীক ও নিদর্শন হিসেবে। যার হৃদয়ে নবীপ্রেম ও নবীর ভালোবাসা থাকবে, রবিউল আউয়াল তার অন্তকরণে আবেগ, উচ্ছাস আর স্পন্দন সৃষ্টি করবে। উৎসাহিত আর প্রত্যয়ী করবে নবী (সা.)-এর আদর্শ ও সুন্নাতের প্রতি। আল্লাহই তো ঘোষণা করেছেন নিশ্চয়ই রসূল (সা.)-এর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ। রসূল (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ প্রকৃত ইমানদার হবে না, যে পর্যন্ত না আমি তার কাছে বেশি প্রিয় হব তার পিতা-মাতা, সন্তান এবং অন্যান্য মানবকূলের চেয়ে। অতএব, আমাদের উচিত হবে রসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আগমনের এই মাসকে কেন্দ্র করে আমরা বেশি বেশি করে নামাজ কোরআন শরীফ তেলাওয়াত দরুদ শরীফ ও মিলাদ শরীফ পড়ে তার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তার মহান আদর্শ ও সুন্নতকে আঁকড়িয়ে ধরে ইহকালীন ও পরকালীন অগ্রগতি ও মুক্তিলাভে সাফল্যমন্ডিত হওয়া। মাহে রবিউল আউয়াল মাসের বরকত, রসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহব্বত ও পরকালীন নাজাত মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে নসিব করুন আল্লাহুম্মা আমিন। লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
ফজরের নামাজের উপকারিতা ও ফজিলত! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ আমি আপনাদের হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই, ফজরের নামাজের উপকারিতা ও ফজিলত নিয়ে, সেই সম্পর্কে নিম্নে সংকিপ্ত আকারে আলোচনা তুলে ধরছি, “ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ” ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নামাজ। নামাজ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বার বার নামাজের তাগিদ পেয়েছেন। পবিত্র কোরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি ৮২ বার সালাত শব্দ উল্লেখ করে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে ফজরের নামাজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে ফজরের নামাজ পড়ার ১০টি উপকার ও ফজিলতের বর্ণনা করা হলো। এগুলো জানার পর কারো আর ফজরের সালাতের প্রতি গাফেলতি, অলসতা আসবে না। ইনশাআল্লাহ! (১) ফজরের সালাত মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্যকারী, কেননা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুনাফিকের জন্য ফজরের সালাত আদায় কষ্টকর! (বুখারি হাদিস: ৬৫৭, ৬৪৪, ২৪২০, ৭২২৪; মুসলিম হাদিস ৬৬১)। (২) রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করে, সে ব্যক্তি ওইদিন আল্লাহর জিম্মায় চলে যায়। অর্থাৎ স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তির দায়িত্ব নেন। (সহিহ মুসলিম, তিরমিজি ২১৮৪)। (৩) রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করবে, আল্লাহর ফেরেশতারা আল্লাহর কাছে ওই ব্যক্তিকে ভালো মানুষ হিসেবে সাক্ষী দেবে। (বুখারি, মুসলিম)। (৪) রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাতের সঙ্গে আদায় করে, আল্লাহ তায়ালা তার আমলে দাঁড়িয়ে সারারাত নফল নামাজ আদায়ের সওয়াব দিয়ে দেন! (সহিহ মুসলিম: ১০৯৬)। (৫) রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ভোরে হেঁটে হেঁটে ফজরের সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে প্রবেশ করবে, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তার জন্য পরিপূর্ণ আলো দান করবেন। (আবু দাউদ: ৪৯৪)। (৬) যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের সবচেয়ে বড় নিয়ামত দান করবেন। অথাৎ সে আল্লাহর দিদার লাভ করবে, এবং জান্নাতি ওই ব্যক্তি আল্লাহকে পূর্ণিমার রাতের আকাশের চাঁদের মতোই স্পষ্ট দেখবে। (বুখারি: ৫৭৩)। (৭) যে ব্যক্তি নিয়মিত ফজরের সালাত আদায় করবে, সে কখোনোই জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। (সহিহ মুসলিম: ৬৩৪)। (৮) ফজরের সালাত আদায়কারী, রাসূল (সা.) এর বরকতের দোয়া লাভ করবেন। (সুনানে আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)। (৯) ফজরের দুরাকাত সুন্নত সালাত, দুনিয়া ও তার মাঝে যা কিছু আছে তারচেয়ে উত্তম। (জামে তিরমিজি: ৪১৬)। (১০) ফজরের সালাত আদায়ের ফলে ব্যক্তির মন ফুরফুরে, প্রফুল্ল হয়ে যায়। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদেরকে ফজরের সালাত আদায়ের মাধ্যমে উপরোক্ত সব নিয়ামতের ভাগীদার করুন। আমীন। লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
আল্লাহর পরিচয় ও কর্তৃত্ব: কুরআনের আলোকে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর ব্যাখ্যা
আল্লাহর পরিচয় ও কর্তৃত্ব: কুরআনের আলোকে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর ব্যাখ্যা নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” আল্লাহর পরিচয়, আল্লাহ কে? এই প্রশ্ন মানবজাতির চিরন্তন অনুসন্ধান। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী এই বিষয়ে পবিত্র কুরআনের আলোকে তুলে ধরেছেন মহান আল্লাহর পরিচয়, কর্তৃত্ব ও মানুষের প্রতি তার নির্দেশনার প্রকৃত রূপ। কুরআনের সূরা ইউনুসের তৃতীয় আয়াতে আল্লাহ নিজেই জানিয়েছেন, তিনি আসমান-যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং বিশ্বজগতের শাসনকর্তা হিসেবে সমাসীন আছেন। তিনি বলেন, সৃষ্টির পর আল্লাহ কোনোভাবেই নিস্ক্রিয় নন বরং তিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন প্রতিটি ঘটনার গতিপথ। মানবজাতি অনেক সময় ভুলভাবে মনে করে, এই বিশাল জগত যেন এমনি করেই চলছে, কেউ যেন নিয়ন্ত্রণ করছে না। অথচ কুরআন স্পষ্টভাবে বলছে, প্রতিটি ঘটনাই আল্লাহর হুকুম ও অনুমতিক্রমে সংঘটিত হয়। শুধু সৃষ্টি করাই নয়, আল্লাহ এই বিশ্বজগতের প্রতিপালক, শাসক ও পরিচালক। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তেমনভাবেই এই জগত চালান এবং এই শাসন ব্যবস্থার একজনই মালিক। আল্লাহর এই রুবুবিয়াত বা সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা মানেই তারই ইবাদত করা আবশ্যক। ইবাদতের অন্তর্নিহিত অর্থ হলো দাসত্ব, আনুগত্য এবং প্রভুর প্রতি শ্রদ্ধা। আরও ধৈর্য ও আল্লাহর উপর ভরসাই মুমিনের শক্তি ধৈর্য ও আল্লাহর উপর ভরসাই মুমিনের শক্তি এই ইবাদত কেবল নামাজ, রোজা, হজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী চলাই তার প্রকৃত রূপ। একজন মুমিনের জীবনে আল্লাহর নির্দেশই চূড়ান্ত এবং তার বাইরে অন্য কোনো কর্তৃত্ব স্বীকৃত নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী মানুষ নিজেকে আল্লাহর দাস হিসেবে গড়ে তোলে। আল্লাহর এই পরিচয় জানার পর মানুষের উচিত একমাত্র তাঁর কাছেই মাথা নত করা, তারই আইন ও বিধান অনুযায়ী জীবন গঠন করা এবং অন্য কোনো শাসক বা প্রভুর কাছে আত্মসমর্পণ না করা। ইবাদতের এই তিনটি স্তরই আল্লাহর একক অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি বহন করে। কুরআনে আরও বলা হয়েছে, আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবীর আলো। এই আলোর ব্যাখ্যায় তিনি এমন একটি চিত্র তুলে ধরেছেন যা নিঃসন্দেহে মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর প্রভূত্ব ও করুণা সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি করে। এটি এমন এক আলো, যা সবদিক থেকে পরিপূর্ণ ও শুদ্ধ, যা আল্লাহ যাকে চান তারই অন্তরে প্রবেশ করান। সবশেষে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী দোয়া করেন, মহান আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে তার হুকুম মেনে চলার তাওফিক দান করেন এবং তারই নির্দেশনায় জীবন পরিচালনার শক্তি দান করেন। আমিন। লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
সুন্দর ব্যবহার ও আচরণের বিনিময়ে জান্নাত: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ আমি আপনাদের হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই,সুন্দর ব্যবহার ও আচরণের বিনিময়ে জান্নাত নিয়ে, সেই সম্পর্কে নিম্নে সংকিপ্ত আকারে আলোচনা তুলে ধরছি, “ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ” মানুষের একটি ভালো কথা যেমন একজনের মন জয় করে নিতে পারে,তেমনি একটু খারাপ বা অশোভন আচরণ মানুষের মনে কষ্ট আসে।সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ হিসেবে আমাদের উচিৎ সর্বদা মানুষের সঙ্গে ভালো ও সুন্দরভাবে কথা বলা। সুন্দর ব্যবহার ও আচার-আচরণ বলতে আমরা বুঝি কারও সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলা,দেখা হলে সালাম দেওয়া,কুশলাদি জিজ্ঞেস করা,কর্কশ ভাষায় কথা না বলা, ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত না হওয়া,ধমক বা রাগের সুরে কথা না বলা,পরনিন্দা না করা,অপমান-অপদস্ত না করা,উচ্চ আওয়াজে কথা না বলা,গম্ভীর মুখে কথা না বলা,সর্বদা হাসিমুখে কথা বলা,অন্যের সুখে সুখী হওয়া এবং অন্যের দুঃখে দুঃখী হওয়া।এছাড়া কারও বিপদে দেখা করে সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা ও সুন্দর আচরণের অন্তর্ভুক্ত। সুন্দর আচরণ আমরা সবাই প্রত্যাশা করি।কিন্তু আমরা প্রায়ই অন্যের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করতে ভুলে যাই।সামান্য একটু অসতর্কতার কারণে আমাদের আচরণে একজন মানুষ অনেক কষ্ট পেতে পারে।তাই আমাদের সবসময় সচেতন থাকা উচিত; যাতে আমাদের আচরণে কেউ বিন্দুমাত্র কষ্ট না পায়। যার আচরণ যত বেশি সুন্দর সবাই তাকে তত বেশি ভালোবাসে,সম্মান ও শ্রদ্ধা করে।যার আচরণ ভালো নয় সবাই তাকে ঘৃণা করে ও এড়িয়ে চলে।সুন্দর ব্যবহার সুন্দরভাবে কথা বলা সুন্দর মনের পরিচয় বহন করে। মানুষের একটি ভালো কথা যেমন একজনের মন জয় করে নিতে পারে,তেমনি একটু খারাপ বা অশোভন আচরণ মানুষের মনে কষ্ট আসে। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ হিসেবে আমাদের উচিৎ সর্বদা মানুষের সঙ্গে ভালো ও সুন্দরভাবে কথা বলা। সুন্দর ব্যবহারের কারণে যে মুখটি প্রিয় হয়,বিপরীতভাবে অসুন্দর ব্যবহার করায় একই মুখটি অপ্রিয় হয়ে যায়।তাই সবার সঙ্গে সুন্দর আচরণ ও সুন্দর ব্যবহার করতে হবে। সুন্দর আচরণের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়, পরকালে বিনিময় হিসেবে মেলে অনন্ত সুখের জান্নাত। এ প্রসঙ্গে হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় সুন্দর আচরণের চেয়ে অধিক ভারী আমল আর কিছুই হবে না। যে ব্যক্তি অশ্লীল ও কটু কথা বলে বা অশোভন আচরণ করে,তাকে আল্লাহ তায়ালা ঘৃণা করেন।আর যার ব্যবহার সুন্দর সে তার ব্যবহারের কারণে নফল রোজা ও তাহাজ্জুদের সওয়াব লাভ করবে।’ -সুনানে তিরমিজি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন,‘সবচেয়ে বেশি যা মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে তা হলো-আল্লাহতায়ালার ভয় ও সুন্দর আচরণ।আর সবচেয়ে বেশি যা মানুষকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবে তা হলো-(মানুষের) মুখ এবং লজ্জাস্থান।’ -সুনানে তিরমিজি হজরত রাসূল (সা.) বলেছেন,‘সুন্দর আচরণই নেক আমল।’–সহিহ মুসলিম হাদিসে রাসূল (সা.) আরও বলেছেন,‘তোমাদের মধ্যে যার আচার-ব্যবহার সুন্দর,সে আমার সবচেয়ে বেশি প্রিয় এবং কিয়ামতের দিন সে আমার সবচেয়ে কাছে থাকবে।’-সুনানে তিরমিজি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেন,‘অশোভন-অশ্লীল কথা ও আচরণের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।আর যার আচরণ যত সুন্দর তার ইসলাম তত সুন্দর।’ -মুসনাদে আহমদ আরেক হাদিসে আছে,রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘যার আচার-ব্যবহার সুন্দর,আমি তার জন্য সর্বোচ্চ জান্নাতে একটি বাড়ির নিশ্চয়তা প্রদান করছি।-সুনানে আবু দাউদ হজরত রাসূল (সা.) আরও বলেছেন,‘যদি কেউ বিনম্রতা ও নম্র আচরণ লাভ করে তাহলে সে দুনিয়া ও আখেরাতের পাওনা সব কল্যাণই লাভ করল।আর রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সুন্দর আচরণ বাড়িঘর ও জনপদে বরকত দেয় এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।’–আহমদ আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সুন্দর ব্যবহার ও আচরণের তাওফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন। লেখক: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট এর সাবেক ইমাম ও খতীব: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট এর সাবেক প্রিন্সিপাল: সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামী দাওয়াত এর গুরুত্ব: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামী দাওয়াত এর গুরুত্ব! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ আমি আপনাদের হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই, কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামী দাওয়াত এর গুরুত্ব নিয়ে, সেই সম্পর্কে নিম্নে সংকিপ্ত আকারে আলোচনা তুলে ধরছি, “ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ” ইসলামী দাওয়াত মানবজাতীর পরিবর্তন ও হেদায়াতের জন্য প্রয়োজন। আর এই মানবজাতীর মঙ্গলের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য নবী রাসুল এই পৃথিবীতে প্রেরন করছেন। সেই নবী রাসুল মানবজাতীর নিকট গিয়ে মহান প্রভূর পরিচয় তুলে ধরে ইসলামের পথে দাওয়াত দিয়েছেন। সৎকাজের আদেশ অসৎ কাজের নিষেধ প্রদান করাই ছিল নবী রাসুলদের কাজ। সকল নবীই তার উম্মতকে তাওহীদ ও ইবাদতের আদেশ করেছেন এবং শিরক ও বিভিন্ন পাপ কর্ম থেকে নিষেধ প্রদান করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা অনুসরন করে বার্তা বার্তাবাহক নবীর যার উল্লেখ তারা তাদের নিকট রক্ষিত তাওরাত ও ইনজিলে লিপিবদ্ধ পায় যিনি তাদেরকে সৎকাজের নির্দেশ দেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন। (সূরা আরাফ-১৫৭) ইসলামী দাওয়াত প্রদান করা তথা সৎকাজের আদেশ প্রদান করা ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ প্রদান করা সকল মুসলমানের উপর অবশ্য কর্তব্য। উম্মতে মুহাম্মাদীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট হল দাওয়াত,আদেশ-নিষেধ,দ্বীন প্রতিষ্ঠা বা নসিহতের দায়িত্ব। এই দ্বীনি দাওয়াত যে ব্যক্তি পালন করবে সে সফলতা অর্জন করবে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,আর যেন তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল হয়,যারা কল্যানের প্রতি আহবান করবে,ভাল কাজের আদেশ দিবে এবং মন্দকাজ থেকে নিষেধ করবে আর তারাই সফলকাম।(সূরা ইমরান-১০৪) দ্বীনি দাওয়াত দেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তার আওতাধীন সকল ব্যক্তির উপর দেওয়া অবশ্যক। পরিবারের কর্তার জন্য তার স্ত্রী,সন্তানদেরকে দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে ইসলামের শারিয়া মোতাবেক পরিচালনা করা। মাদ্রাসা,মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয়,কলেজ,স্কুল এর প্রধানগন তার সহকারী ও শিক্ষার্থীদের,মিল ফ্যাক্টরী বা বিভিন্ন গামের্ন্টস বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের পরিচালকগন তার অধিনস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের, এলাকার মেম্বার-কমিশনার, চেয়ারম্যান, এমপি,মন্ত্রী কিংবা শাসকগন যার যার অধিনস্ত সকলকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ প্রদান করে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয়ের জন্য দাওয়াত দিবে। কেননা রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,তোমরা প্রত্যেকেই যিম্মাদার এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্তদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত করা হবে।(বুখারী শরীফ) দাওয়াতি কাজ মুসলিম অমুসলিম সকলের নিকট নিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে দেখা যায় যে যার দল নিয়ে ব্যস্ত ও নিজকে নিজেই বড় ইসলাম প্রচারকারী মনে করেন। পীর সাহেব মনে করেন আমরাই মুরিদসহ ইসলাম প্রচার করি, যারা সংগঠন করে তারা মনে করে শুধু সংগঠকরাই দাওয়তি কাজ করে, যারা মসজিদের মুয়াজ্জিন আজানের মাধ্যমেই তারা মনে করে আমরাই দাওয়াতি কাজ করে যাচ্ছি । ইমাম, খতিব মসজিদের খেদমতের মধ্যে নিজকে রেখে নিজকে বলে আমরাই কেবল দাওয়াতী কাজ করে থাকি। যারা মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্র তারা ভাবে মাদ্রাসাই দাওয়াতী কাজ সীমবদ্ধ। আর যারা হাত দিয়ে লেখার মাধ্যমে লেখার কাজ করে তারা মনে করে আমরাই লেখনির মাধ্যমে দ্বীন প্রচার করছি। ওয়াজিন মনে করে আমার ওয়াজে হাজার হাজার জনতা আলোচনা শুনে আর আমি বিভিন্নএলাকায় ওয়াজের মাধ্যমেই দাওয়াত দিচ্ছি ওয়াজের মাধ্যমেই শুধু ইসলাম প্রচার করা হয়। আমাদের মধ্যে এরকম মনমানষিকতা বেশী কাজ করায় নিজকে নিজে ইসলামি দাওয়াতের বড় সেবক মনে করে নিজে অন্যের দাওয়াতি কাজের সমলাচোনা করি। একে অপরকে বলছি তাদের দরকার কি? মূলত যারা পীর সাহেব,যারা সংগঠন করে, মাদ্রাসায় পড়ে বা পড়ান, মসজিদের মুয়াজ্জিন ইমাম খতিব, ইসলামী চিন্তাবিদ, ওয়াজিন, বা যারা লেখা লেখীর কাজ করে তারা সকলেই ইসলামের পথে মানুষদের সাথে নম্র ব্যবহার করে তাদের বুদ্ধি মত্তা দিয়ে ইসলামের দিকে আহবান করছে। আর নম্র ভাল ব্যবহার করেই ইসলামরে পথে আহবান করতে হবে। হজরত আনাস (রা:) হতে বর্নিত, রাসুল (সা:) বলেন,তোমরা মানুষের সাথে নম্র ব্যবহার কর,রুঢ় আচরন করনা, সুসংবাদ দাও,ভীত সন্ত্রাস্ত করারা।(বুখারী ও মুসলিম) দাওয়াতি কাজ শুধুমাত্র খানকা, মসজিদে,সংগঠনে, ওয়াজ মাহফিলে,লেখালেখির কাজে সীমাবদ্ধ রাখলে হবেনা। বর্তমানে ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির যুগ, তথ্য প্রযুক্তির যুগে অন্য ধর্মালম্বীরা যেভাবে তাদের ধর্মীয় কাজ সারা বিশ্বে মুহুর্তে প্রচার করছে তাদের তুলনায় আমরা মোটেও পারছি না। মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রচারকার্য তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ, ব্যপক হারে প্রচার করার জন্য ইহুদিদের রয়েছে প্রায় সাড়ে আট লক্ষেরও বেশী ওয়েব সাইট, খ্রিষ্টানদের প্রতারনায় রয়েছে প্রায় পাচ লক্ষের বেশী, তাছরা অনান্য অমুসলিমদের রয়েছে প্রায় চার লক্ষের বেশী ওয়েব সাইট। তারা তাদের ওয়েব সাইট,ফেসবুক, টুইটার,ইন্টারনেটের মাধ্যমে মুসলমানদের নিকট তাদের দাওয়াতি কাজ করছে। তাই আমাদের দাওয়াত মুসলমানদের নিকট সিমাবদ্ধ না রেখে অমুসলিমদের নিকট গিয়ে আরো ব্যাপক হারে দাওয়াতি কাজ করতে হবে। অমুসলিমদের নিকটে দ্বীনি দাওয়াতের কারনে অমুসলিম দেশে ক্রমেই মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতারং বিশ্ববিদ্যালয়,কলেজ মাদ্রাসা,স্কুল বন্ধ থাকাবস্থায় কিছু বন্ধু মিলে একজন আলেমকে সাথে নিয়ে নিজ এলাকায় সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে সরকারী বেসরকারী উচ্চপদমর্যাদার কর্মকর্তা সহ এলাকার মেম্বার,চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী, সকলের নিকট দিয়ে দ্বীনি দাওয়াত প্রচার করলে আশা করা যায় মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিবে। যদি দাওয়াত প্রচারকারীদের তারা কোন রূপ অবহেলা করে কিংবা গালমন্দ করে মন খারাপ না করে নবী রাসুলদের কাজে এগিয়ে যেতে হবে। মুসলিম অমুসলিম ব্যক্তিকে দাওয়াত দিলে মানুক বা নাই মানুক ফায়দা হোক বা না হোক নিজের ফায়দা হবে। অন্যের ঈমান আমল দোরস্ত করার কাজে সহযোগিতা করলে আল্লাহ নিজের আমাল দোরস্ত করে দেন। রাসুল (ষা:) বলেন,একজন বান্দা আরেক জন বান্দার সাহায্যে থাকলে আল্লাহ পাকও তার সাহায্যে থাকবে। অন্যের ঈমান আমলের কাজে সাহায্য করলে আল্লাহ তায়ালা নিজের ঈমান আমলের ফয়সালা করে দিবেন।(মুসলিম শরীফ) মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে এই কাজ গুলো করার তাওফিক দান করুন আমিন। লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী (রহ:) : ইলম ও যুহদের মাকাম-মর্তবায় এ কালের মানুষের জন্যে উপমা হয়ে থাকবেন
প্রথিতযশা ইসলামী চিন্তাবিদ, ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ, আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি’র ইন্তেকাল ব্রিটেনবাসী আলেম সমাজ এবং সাধারণ মানুষের কাছে এক দ্বীনী অভিভাবক হারানোর মতো। ৯১ বছরের এই বিশেষজ্ঞ আলেম ব্রিটেনের বাঙ্গালী বা বাংলাদেশীদের জন্য ছিলেন গর্বের ধন। একজন প্রবীণ আলেমে দ্বীন যিনি ইলম ও আ’মালের চর্চায় ছিলেন অত্যুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। ব্রিটেনে বসবাসকারী উলামা সমাজে যাঁর অবস্থান ছিল শীর্ষে। উস্তাদতুল্য এবং অনেকের সরাসরি উস্তাদও ছিলেন তিনি। ২০০১ সনে ইংল্যান্ডে মাত্র পাড়ি জমিয়েছি, অবস্থানস্থল লুটন শহর। আমার শশুর মহুদয়ের কাছে জানতে চাইলাম ‘লেস্টারের ছাহেব’ সম্পর্কে। তখনও আমি জানতাম না তিনি যে তাঁর উস্তাদ। আমার শশুর মাওলানা ক্বারী আব্দুল কাদির ছাহেব সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ সৎপুর দারুল হাদীস কামিল মাদরাসায় লেস্টারের ছাহেবকে উস্তাদ হিসেবে পেয়েছিলেন। তিনি তাঁকে ফোন করলেন। আমি এই প্রথম লেস্টারের ছাহেবের সাথে কথা বলি। এর পর থেকে লেস্টারের ছাহেব আমার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। আমি তাঁকে এক সাদা মনের উদার প্রাজ্ঞ আলেমে দ্বীন মুরব্বী রূপে পেয়েছি। বাংলাদেশে আমার কর্মস্থল ঢাকায় মাসিক পরওয়ানা পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা কালীন সময়ে (১৯৯২-২০০১) ইংল্যান্ডের যে সম্মানিত আলেম ছাহেবের নাম আমি খুব বেশী করে জানতাম, বিশেষতঃ পরওয়ানা সম্পাদক ছাহেবজাদা মাওলানা হুছাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী এবং ছাহেব পরিবারের অন্যান্যের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের বিষয়-আশয়ের সাথে আমার যে যোগসূত্র বা যোগাযোগ গড়ে ওঠে, উনাদের মুখে যে নামটি বেশী করে উচ্চারিত হতো, তিনি হলেন ‘লেস্টারের ছাহেব’। মানুষ তাঁকে ‘লেস্টারের ছাহেব’ নামেই জানতো। ইংল্যান্ডের লেস্টার শহর, বিলেতে তাঁর প্রাথমিক কর্মস্থল ছিল। লেস্টারের দারুস সালাম মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও খতীব ছিলেন তিনি। যুগ বরেণ্য ওলীয়ে কামেল হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর শায়খ এবং উস্তাদ ছিলেন। তিনি ‘খলীফায়ে ফুলতলী’ হিসেবে ইংল্যান্ডে তাঁর সম্মানিত শায়খের প্রতিনিধিত্ব করতেন। এই সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব তাঁকে এক বিশিষ্ট অবস্থানে উন্নীত করেছিল। তাঁর জ্ঞানের গভীরতা তাঁকে ইংল্যান্ডের সকল মাক্তাব-তানযীম বা মাসলাকের উলামা ও বিশিষ্টজনদের মাঝে স্বকীয় বৈশিষ্ট এনে দিয়েছিল। নিজের মাসলাক বা তানযীমভুক্ত মানুষের কাছে তিনি তখন পরিচিত ছিলেন ‘লেস্টারের ছাহেব’ আর সর্বমহলের উলামা-জনতা তাঁকে ‘আল্লামা ছাহেব’ নামে জানতো। ‘আল্লামা মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব ইন্তেকাল করেছেন’, এই সংবাদ শুনে ভাবতে থাকি, আল্লাহ পাক যমীন থেকে তাঁর প্রিয় বান্দাহ আলেমে দ্বীনকে উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে যমীনকে যে ইলমশূন্য করে দিবেন, এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ তো আমার চোখের সামনে। আমার সম্পর্কিত বয়স্ক সম্মানিত কেউ কেউকে সংবাদটি জানাবার তাগিদ অনুভব করলাম। শুনে আল্লাহর বান্দাহগণ ব্যথাভরা কন্ঠে বললেন, ‘আহ! আমরা একজন অভিভাবক হারালাম, একজন নির্ভরশীল দ্বীনী অভিভাবক হারিয়েছি আমরা।’ অনেকে তো এমনও বললেন, ‘ইংল্যান্ডে বসবাসকারী আলেমদের মধ্যে তিনিই বেশী কাজ করেছেন।’ তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে দেখেছেন এবং তাঁর কর্মতৎপরতার সাক্ষী যাঁরা তাঁদের মূল্যায়নে, ‘তিনি ছিলেন সুন্নীয়তের এক শক্তিশালী স্তম্ভ।’ কয়েক দশক ধরে ইংল্যান্ডের যমীনে তাঁর তা’লিম-তরবিয়তে ধন্য মানুষের সংখ্যা একেবারে কম হবেনা। একজন বিশেষজ্ঞ আলেম যাঁর কর্মশীল জীবন মানুষের কাছে সত্যিকার অর্থেই দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছিল - তিনি তা ছিলেন। তা কর্মস্থল হোক বা নিজের বাড়ি হোক অথবা সফরকালীন সময়ই হোক, তাঁর জীবনাচার এবং ইখলাসপূর্ণ নেক আমলের উদাহরণ সংগতিপূর্ণ গাম্ভীর্যে অত্যুজ্জ্বল ছিল। দরবেশী জীবনবোধ যা তিনি লালন করতেন ও পালন করতেন, তা নিজের পরিবার-পরিজনেরও প্রাত্যহিক আচরণ সৌন্দর্যে পরিণত করেছিলেন। খুবই কাছ থেকে দেখেছেন, এমন মানুষদের অকৃত্রিম - বিশুদ্ধ স্বীকারোক্তি আমাকে বলতে বাধ্য করছে যে, সাধারণ মানুষজনই শুধু নয়, অনেক আলেম ও দায়ী’ হযরাতকেও উপাদান গ্রহণ করার মতো পরহেজগারীর নমুনা তিনি অন্দরে ও বাইরে ধারণ করতেন। অনেক সময় মানুষের জটিল বা প্যাচানো গুণ - বৈশিষ্ট্য বহু সুন্দরতাকে দুর্বোধ্যতায় আচ্ছন্ন করে দেয়। মানুষের অকৃত্রিম - আন্তরিক সারল্য হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম গুণ - আল্লামা দুবাগী ছিলেন এমনই এক গুণসম্পন্ন মানুষ, যিনি ছিলেন জটিলতামুক্ত নিজস্বতায় ভরপুর। তাঁর সম্পর্কে সম্মন্ধিত উক্তিগুলো যা তাঁর গুণগ্রাহীগণ ইতোমধ্যে চর্চা করতে শুরু করেছেন - সরল আল্লাহওয়ালা প্রাজ্ঞ একজন ছিলেন তিনি; মেহমান নেওয়াজ, উদার, স্নেহপরায়ণ এক মুরব্বীকে আমরা হারিয়েছি; অধ্যাবশায়ী এক জ্ঞানপিপাষু গুণী মানুষ আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন; নির্ভরযোগ্য আলেমে দ্বীন হিসাবে মানুষের কাছে তাঁর অসামান্য গ্রহণযোগ্যতা ছিল; সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর কাছে মকবুলিয়ত বা গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে বিশ্বাসীদের এই চর্চা একজন মানুষের জীবনে পরম প্রাপ্তি নয়কি! আমি বা আমরা যে তাঁর পরিপূর্ণ - নিবিড় সান্নিধ্য নিতে পারিনি, আক্ষরিক অর্থেই এটা সত্য। তিনি সকল বয়সের এবং সকল স্তরের আলেমগণকে সঙ্গ দিতে পছন্দ করতেন। বার্ধক্যের ভার আর শারীরিক সুস্থতার অল্পতা তিনি ভুলে যেতেন যখন আমাদের মতো বয়স এবং ইলমে অতিশয় তারতম্যপূর্ণ নবীনদের সাথেও আলোচনায় বসতেন। ব্যথা আর বেদনার ভারে অনেকের মতো আমিও কাতর হয়েছি, বিদ্ধ হয়েছি শোকাবহ খবরটির নিদারুণ আঘাতে। অনেকেই হয়তো বলবেন, তাঁর ইন্তেকাল পরিণত বয়সেই হয়েছে, কিন্তু আফসোস! আমরা একজন উঁচু স্তরের আলিমে দ্বীনকে হারিয়েছি, এক মুত্তাকী আল্লাহওয়ালা বুজুর্গ - অভিভাবককে হারিয়েছি, হারিয়েছি আল্লামা মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী ছাহেবকে; যিনি ইলম ও যুহদের মাকাম-মর্তবায় এ কালের মানুষের জন্যে দৃষ্টান্ত-উপমা হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশের সিলেট জেলার বিয়ানী বাজার থানার দুবাগ গ্রামে ১৯২৯ সনে তাঁর জন্ম। সে সময়ের বরেণ্য উলামা, মুহাদ্দিসীন ও ফকীহ মুহাক্কিক উস্তাদগণের কাছে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেন। কর্মজীবনে একজন মুহাদ্দিস এবং ফকীহ হিসাবে অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে নিজের প্রজ্ঞা ও মেধার নজির রাখেন। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে অনেক মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও ফকীহগণ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের বাইরে শিক্ষা বিস্তারে এখনও খেদমত করে যাচ্ছেন। ১৯৭৮ সন থেকে লেস্টার শহরের দারুস সালাম মসজিদের খতীব হিসেবে ব্রিটেনে তাঁর কর্মজীবনের শুরু। তিনি তাঁর মুক্তাদি, মুসাল্লি ও মসজিদ কেন্দ্রিক জনসাধারণকে প্রাত্যহিক বিষয়ের তা’লিম ও তারবিয়ত দিয়ে এতই প্রাজ্ঞ করে তুলেন যে, শুনা যায় এই সকল মানুষের সংস্পর্শে এসে ভিন্নভাষী উলামা কেরামগণও তাঁর সম্পর্কে এক সময় উচ্চ ধারণা পোষণ করতে শুরু করেন। তাঁর ছাত্রজীবনেও কিতাব অধ্যায়নে বিস্ময়কর দক্ষতা তাঁকে তাঁর সময়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মাঝে আলোচনার কেন্দ্র করে তুলেছিল। ব্রিটেনের কর্মজীবনে তাঁর অসামান্য কর্মশীলতার নযীর বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিভিন্ন ভাষায় রচিত অনেকগুলো মূল্যবান কিতাব। বাংলাভাষী এই বিশেষজ্ঞ আলেম যিনি তাঁর মূল্যবান লেখনী দ্বারা ব্রিটেনবাসী মুসলমানদের জন্য তো বটেই, সকল শ্রেণীর মানুষের জন্যেই অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। আমরা এ পর্যায়ে তাঁর লিখিত কিতাবাদী থেকে কয়েকটির উল্লেখ এখানে করতে পারি: মানাছুল মুফতী (উর্দু), আল মাসাইলুন্নাদিরাহ, ফাতওয়ায়ে মুজাহিদিয়া, মীলাদে বেনযীর, এক নজরে হজ ও যিয়ারত, এতিম প্রসঙ্গে, পুণ্যের দিশারী, ফাতেহা ও কবর যিয়ারতের মাসাইল, সুন্নাত ও নফল নামাজের জরুরি মাসাইল, দোয়ার মাহাত্ম্য, মানাছুল মুফতীর বঙ্গানুবাদ, বিবিধ মাসাইল, কদম বুছির তথ্য, জানাজার নামাজের পর দোয়া করা মুস্তাহাব, শবে-কদরের তাৎপর্য, ফাদায়েলে শবে-বরাত, শিফায়ে রূহ, প্রশ্নউত্তর প্রভৃতি। বিলেতে বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষী সমাজের এক প্রতিকৃত আলেম ছিলেন তিনি, যিনি তাঁর লেখনীর খিদমতের মধ্য দিয়ে নিজে জাগরুক থেকেছেন এবং জাগিয়ে রেখেছেন মানুষকেও। পুস্তক প্রকাশ করা ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়ে সহজতর উপস্থাপনায় প্রচারিত তাঁর অতি প্রয়োজনীয় ফতওয়াবলী ছিল কমিউনিটির জন্য দিকদর্শনের মতো। দ্বীনী নানাবিধ খেদমতে সম্পৃক্ততা সত্বেও কিতাব রচনায় নিজেকে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে আল্লামা দুবাগী (রহ:) সমাজ ও জাতির প্রতি যেমন কল্যাণকর অবদান রেখেছেন, তেমনি নিজের কর্ম-কুশলতায় একাগ্র অধ্যাবসার নজির রাখতেও সক্ষম হয়েছিলেন। আল্লামা মুহম্মদ ইকবাল রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কত সুন্দর ও গভীর দর্শনের চোখে একজন লেখক, কবি অথবা মুসান্নিফের কর্মবিশালতার পেছনে তাঁর একাগ্রচিত্ত বৈশিষ্টকে ফুটিয়ে তুলেছেন: “আত্তার হো, রুমী হো, রাযী হো, গাজালী হো; কুছ হাত নেহী আতা বে আহে সাহার গাহী।” (সূফী সম্রাট আত্তার হোন, বিশ্বপ্রেমী রুমী হোন, মহাজ্ঞানী রাযী অথবা গাজালী-ই হোন, এমন কোন সৃষ্টিশীল হাত আসেনি, যে নিদ্রাহীন বিপন্ন রাত যাপন করে ভোর করেনি।) ‘সমাজ ও জাতির জন্যে একজন আলেমে দ্বীন আকাশের তারকার মতো’—রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক বাণীতে এমনই বলেছেন। তারকাতুল্য আলেম, সমাজ ও জাতির জন্য আদর্শ হবেন। রাসূলে করীমের এই বাণীতেই বলা হয়েছে—‘রাতের অন্ধকারে সমুদ্রের নাবিকরা যেমনি তারকা দেখে দিক খোঁজে নেয়, তেমনি মানুষ আলেমের কাছে সঠিক দিক দির্দেশনা পেয়ে থাকে।’ রাসূল করীমের বাণীর আলোকে সে আলেম হবেন যোগ্যতর আলেম, বড় আলেম, মানুষ তাকওয়া-পরহেজগারীর দৃষ্টান্ত পরিলক্ষণ করবে যাঁর আমাল ও আ’দাতের অনুশীলনে। আলেমের নিজের জিন্দেগী তো উপস্থাপিত গ্রহণযোগ্যতার মানদন্ডে উত্তির্ণ হবেই, তাঁর সংশ্লিষ্ট সীমার একান্ত বিষয়-আশয়গুলিও শুদ্ধতার বিচারে পরিহারযোগ্য নয়, তা সুনিশ্চিত হতে হবে। আমাদের এ কালে ‘বড় আলেম’ হিসেবে অভিধেয় ব্যক্তির বৈশিষ্ট-রূপ প্রায়শই খ্যাতির মোড়কের চাকচিক্যের উপর নির্ধারিত হয়ে থাকে। শুদ্ধতা এবং সুস্থতা যখন শীর্ণতার বিবেচনায় নিরূপণ হতে চলেছে, তখন ‘বড়’র সংজ্ঞা ‘ক্ষুদ্রতার’ সাপেক্ষে বিশেষিতকরণ হতে পারবে না কেন! এ প্রসঙ্গে আমাদের এক সম্মানিত উস্তাদের তাৎপর্যপুর্ণ কিছু বক্তব্যের কথা মনে পড়ছে। মাদ্রাসা-ই আলিয়া ঢাকার শায়খুল হাদীস আল্লামা ওয়াজীহ উদ্দীন লক্ষিপুরী আমাদেরকে বুখারী শরীফের প্রথম দিনের ক্লাসে ইলম, উলামা এবং মাদ্রাসা-ই আলিয়া ঢাকার বিশেষত্ব, ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিষয়ে গভীর আলোচনার পেক্ষিতে এমন সব কথামালা বলছিলেন, যা সাতাশ বছর আগের তিন শ’য়ের অধিক ছাত্রদের মধ্যে বসে থেকে শুনা কথাগুলোর তীক্ষ্ণ, গভীর প্রভাব এখনও আমি অনুভব করি। তাঁর কথাগুলো একাধারে একজন শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতো শুনাচ্ছিল। অর্থাৎ না শুনে না মেনে তোমাদের উপায় নেই—এমনই নিশ্চিত করে উপস্থাপন করা তাঁর কথাগুলো। প্রথমে বললেন আক্বিদা দুরুস্তের কথা। তাঁর ভাষায়, ‘হাদীস শরীফ পড়তে এসেছ, তো আক্বিদা দুরুস্ত না করে উপায় নেই।’ এর পর বললেন, ইলমের গুরুত্ব ও আলেমের দায়বদ্ধতার বিষয়-আসয় সম্পর্কে। সব শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে মাদ্রাসা-ই আলিয়া ঢাকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্যের দিকগুলো। এ পর্যায়ে আমাদের ক্লাসরুমের ব্রেঞ্চ, টেবিল, শিক্ষকের চেয়ার এবং ডেস্ক দেখিয়ে বলতে থাকলেন, “এই বেঞ্চে আমিও বসে একদিন ক্লাস করেছি, আর শিক্ষকের আসনে বসা ছিলেন বরেণ্য মুহাদ্দিস মুফতিয়ে আজম হযরত আমীমুল ইহসান মুজাদ্দিদী বারাকাতী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। আমি ভাবিনি তাঁর আসনে বসে একদিন আমার মতই বসে থাকা ছাত্রদের পড়াব। তিনি তখনকার সময়ের বড় আলেম ছিলেন, অনেক বড় আলেম ছিলেন! এখন লোকে আমাদেরকেও বড় আলেম বলে; আর তোমাদেরকেও একদিন বড় আলেম বলবে! আর বেলম গাছের লাকড়িকেও লোকে উত্তম কাঠ হিসেবে ব্যবহার করবে !” শায়খুল হাদীসের কথাগুলো নিয়ে আমি এখনও চিন্তা-ভাবনা করি আর উর্দু এই কবির কবিতার সাথে বাস্তবতার মিল খোঁজি— “ হামারে বা’দ যমানে মে কেউঁ না খাক উড়ে; কেহ কারওয়ান কে পিচ্ছে গুবার রহতা হায়।” (আমাদের পরের যুগ-যামানায় ধুলা উড়তে দেখা যাবে বলে মনে হয়না; কারণ কাফেলা যখন কোন স্থান ত্যাগ করে চলে যায়, তখন তাদের বাহন ঘোড়া বা উটের মল-গোবর পড়ে থাকতেই দেখা যায়।) মনের গহীনে বেদনার সুর সতত অনুরণিত হয় - আমাদের মাথার তাজসকল হারিয়ে যাচ্ছেন। যুগ-যামানার দৃষ্টান্তের মতো ইলম ও আ’মালের খাজানাগুলো মাটির কুটুরিতে সমাহিত হচ্ছেন। আলোগুলো নিভে যাচ্ছে, পেছনের অন্ধকার রুখতে আমাদের যে অনেক আলোর প্রয়োজন। আমরা এই কথায় প্রত্যয়ী যে, মুফতিয়ে যামান আল্লামা দুবাগী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর কর্মের বিশালতায় বেঁচে থাকবেন। আমাদের নিবেদন, আল্লাহ তাঁর জীবনের নেক আমলগুলো কবুল করুন, আল্লাহ তাঁকে সর্বোচ্চ জান্নাতের বাসিন্দা করুন। আমরা তাঁর ত্যাগ, ধৈর্য্য, অধ্যাবসায় ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা থেকে যেন আলোকিত হতে পারি। কয়েক লাইন কবিতা দিয়ে শেষ করতে চাই:- এক নিবেদিত জ্ঞানী পুরুষের কথা বলছি, ভোরের বাতাসের সুরের সাথে যাঁর কান্নার আরতি মিশে যেত প্রতিদিন। রাতের তারারা হেলে যায়, আকাশের অবারিত দরোজায় ফেরেশতাদের আসা-যাওয়া চলে; সাধক পুরুষের সেজদার মুসাল্লায় অশ্রুর শিশির কথা বলে; নিশ্চল মগ্নতায় সকল নিস্পন্দ মুহুর্তগুলো শব্দায়মান হয়ে ওঠে - রাব্বানা! রাব্বানা! আমাদের চোখের সামনে যুগের সূর্যগুলো ডুবে যায়! আলোর প্রত্যাশা নিয়ে ভোরের আকাশে খোঁজে ফেরা চোখ সন্ধ্যাকালের শোক মাহফিলে জ্যোতি ছড়ায় - কাফেলা সেই কবে চলে গেছে! আলোর ঝিলিকগুলো বহু দূরের তারার মতো আমাদের পথ দেখায় - মরুর বালু-রাশির মাঝে, আমরা জেগে আছি - জেগে আছি, জ্ঞানী-সাধক পুরুষদের আলো নিয়ে। লেখক: চেয়ারম্যান, ইসলামিক রিসার্স এন্ড দা’ওয়াহ কাউন্সিল ইউকে; চেয়ারম্যান, তানযীমুস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ইউকে; সাবেক খতিব শেডওয়েল জামে মসজিদ লন্ডন, সাবেক সিনিয়র শিক্ষক দারুল হাদিস লতিফিয়া লন্ডন, সাবেক নির্বাহী সম্পাদক, মাসিক পরওয়ানা ঢাকা; সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া।
আল্লাহর কাছে যারা সবচেয়ে সম্মানিত
আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ওই ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা তাকওয়ার অধিকারী। ’ (সুরা হুজরাত-১৩) তাকওয়া এবং খোদাভীতি মানুষকে পরিশুদ্ধ করে, আলোকিত করে, সৎকাজে উৎসাহ জোগায় এবং পাপাচার বর্জন করার প্রেরণা সৃষ্টি করে। তাকওয়া অর্জনের ফলে একটি মানুষ অন্যায়-অনাচার, সুদ-ঘুষ বর্জন করতে পারে। গড়ে উঠতে পারে একটি আদর্শ ও শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা।
কুরআন অবমাননায় নর্থ সাউথ এর সেই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার
কুরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে রাজধানীর ভাটারা থানা পুলিশ। শনিবার (৪ অক্টোবর) মধ্যরাতে রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীর নাম অপূর্ব পাল (২২)। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তবে তিনি কোন বিভাগে পড়েন, তা এখনো জানা যায়নি।
নর্থ সাউথ শিক্ষার্থী কুরআন অবমাননার অভিযোগে গ্রেফতার
শনিবার দুপুরে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কুরআন অবমাননাকর কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে একদল মানুষ তার বাসার নিচে বিক্ষোভ করে।