আল কায়দা
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিস্ফোরক তথ্য: বাংলাদেশে গোপন জাল বিস্তারের চক্রান্তে আল কায়দা
ঢাকা: দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে বাংলাদেশে গোপন নেটওয়ার্ক বা ‘স্লিপার সেল’ গড়ে তোলার পাঁচতারা করছে ভারতীয় উপমহাদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ‘ভারত উপমহাদেশীয় আল-কায়দা’ (একিউআইএস)। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক জঙ্গি তৎপরতার মধ্যে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে উগ্রবাদীদের এই নতুন কৌশলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে গঠিত ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরি নিরাপত্তা টিম’-এর ৩৮তম বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে ২০০৫ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৬ সালের জুনের শুরুর দিক পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। প্রতিবেদনে যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে স্লিপার সেল তৈরির চেষ্টা: একিউআইএস বৃহৎ আকারে সংগঠিত না হয়ে ছোট ছোট গোপন ইউনিট বা ‘স্লিপার সেল’ আকারে ছড়িয়ে পড়ার পরিকল্পনা করছে। তারা বাংলাদেশকে নিজেদের লজিস্টিক ও অর্থায়নের গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। দিল্লি হামলা ও আঞ্চলিক বিস্তার: প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের দিল্লিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ আইইডি হামলার পেছনে একিউআইএস-এর সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে নেটওয়ার্ক বাড়ানোই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। প্রযুক্তির অপব্যবহার ও চরমপন্থা: শুধু ঐতিহ্যবাহী বিস্ফোরকই নয়, বিশ্বজুড়ে আইএস ও আল-কায়দা চরমপন্থীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং জৈব ও রাসায়নিক বিষাক্ত পদার্থ (যেমন- রাইসিন ও সায়ানাইড) তৈরির নির্দেশিকা ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা নতুন মাত্রার হুমকি তৈরি করছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এই মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা বিশেষ সতর্কতার তাগিদ দিয়েছেন। "জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ দলগুলো অত্যন্ত দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত। কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া নিরাপত্তা পরিষদ এসব তথ্য প্রকাশ করে না। তাই এ প্রতিবেদনকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।" মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনের সাবেক রাষ্ট্রদূত। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক জানিয়েছেন— "বাংলাদেশে চরমপন্থী মতাদর্শের অনুসারীরা সরাসরি প্রকাশে না এসে নীরবে কাজ করতে পছন্দ করে। তারা সুযোগের অপেক্ষায় 'স্লিপার সেল' হিসেবে থাকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত প্রতিনিয়ত এদের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখা, যেন কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ তারা না নিতে পারে।" আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট- আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন অস্থিরতা এবং সাহেল অঞ্চলের উত্তপ্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের উপস্থিতি জানান দিতে চাইছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আল-কায়দার ১৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে তারা মরিয়া। তাই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।