জুলাই
পঞ্চগড়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রীর উপহার
পঞ্চগড়, ২৯ জুলাই ২০২৬: জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানাতে পঞ্চগড়ে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলারহাট ইউনিয়নের শিংরোড নায়েকপাড়া গ্রামে শহীদ সাগর রহমানের কবর জিয়ারত করেন পঞ্চগড় পৌর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কবরের পাশে একটি নিমগাছসহ কয়েকটি ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে এবং তাঁদের স্মৃতি সংরক্ষণে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠান শেষে শহীদ সাগর রহমানের পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নগদ আর্থিক সহায়তা ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতেও তাঁদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামীম ইসলাম, মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সোহাগ হোসেন, চাকলারহাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শাহীনুর আলম শাহীন, শহীদ সাগর রহমানের বাবা রবিউল ইসলাম, ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
হোসেনপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ পালিত
‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ১০:০০ ঘটিকায় হোসেনপুর উপজেলা চত্বরে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর উপজেলা হলরুমে আয়োজিত হয় স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক কাজী নাহিদ ইভার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধাগণ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই শহীদদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনা পর্বে শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের স্বজন হারানোর বেদনাময় স্মৃতিচারণ করেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের তাৎপর্য, শহীদদের অসামান্য আত্মত্যাগ এবং একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে তাঁদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা নিয়ে বক্তারা গভীর শ্রদ্ধাভরে আলোকপাত করেন। সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “জুলাই শহীদদের এই আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের আদর্শ আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধে সর্বদা উদ্বুদ্ধ করবে।” তিনি আরও বলেন, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সরকার তাঁদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও বেগবান করা হবে। তাঁদের সম্মান ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা আন্তরিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।
জুলাইয়ের চেতনায় রংপুরকে উন্নয়নের মূলধারায় আনার অঙ্গীকার
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহিদ আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ জুলাই আন্দোলনের সব শহিদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে বঞ্চিত রংপুরকে উন্নয়নের মূলধারায় আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬’-এর বিশেষ স্মরণসভায় অংশ নেওয়ার আগে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ১৬ জুলাইয়ের আত্মত্যাগই ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করে এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে। তিনি বলেন, “বঞ্চিত রংপুরকে উন্নয়নের মূলধারায় এনে আলোকিত করাই আমাদের লক্ষ্য। জুলাইয়ের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।” তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস ও আদর্শ সংরক্ষণ এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পৃথক একটি দপ্তর গঠন করা হয়েছে। এই উদ্যোগ গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “যারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিচার হবে আইনের শাসনের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে।” অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “১৬ জুলাই আবু সাঈদের রক্তে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। জুলাই যোদ্ধাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শহিদ আবু সাঈদের বাবা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফুল ইসলাম, ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সিসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, র্যালি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে ঝিনাইদহে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, র্যালি এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন। বুধবার (১৬ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মনজুর মোর্শেদ, শহিদ রাকিবের বাবা লুৎফর রহমান, মা হাফেজা খাতুন, শহিদ সাব্বিরের বাবা আমোদ আলী, ছাত্র প্রতিনিধি সাইদুর রহমান ও আবু হুরায়রাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্না বিশ্বাস, সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ষষ্টী চন্দ্র রায়, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ কাজল, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক তহুরা খাতুনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। বক্তারা বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জুলাইয়ের শহিদরা আত্মত্যাগ করেছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। শহিদদের আদর্শ অনুসরণ করেই একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা। আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে অংশ নেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজাসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামাল আজাদ পান্নু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম শাহাজাহান আলী, যুগ্ম সম্পাদক আসিফ ইকবাল মাখন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শেখরসহ জেলা, সদর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।