ধর্ম
কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামী দাওয়াত এর গুরুত্ব: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামী দাওয়াত এর গুরুত্ব! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ আমি আপনাদের হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই, কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামী দাওয়াত এর গুরুত্ব নিয়ে, সেই সম্পর্কে নিম্নে সংকিপ্ত আকারে আলোচনা তুলে ধরছি, “ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ” ইসলামী দাওয়াত মানবজাতীর পরিবর্তন ও হেদায়াতের জন্য প্রয়োজন। আর এই মানবজাতীর মঙ্গলের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য নবী রাসুল এই পৃথিবীতে প্রেরন করছেন। সেই নবী রাসুল মানবজাতীর নিকট গিয়ে মহান প্রভূর পরিচয় তুলে ধরে ইসলামের পথে দাওয়াত দিয়েছেন। সৎকাজের আদেশ অসৎ কাজের নিষেধ প্রদান করাই ছিল নবী রাসুলদের কাজ। সকল নবীই তার উম্মতকে তাওহীদ ও ইবাদতের আদেশ করেছেন এবং শিরক ও বিভিন্ন পাপ কর্ম থেকে নিষেধ প্রদান করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা অনুসরন করে বার্তা বার্তাবাহক নবীর যার উল্লেখ তারা তাদের নিকট রক্ষিত তাওরাত ও ইনজিলে লিপিবদ্ধ পায় যিনি তাদেরকে সৎকাজের নির্দেশ দেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন। (সূরা আরাফ-১৫৭) ইসলামী দাওয়াত প্রদান করা তথা সৎকাজের আদেশ প্রদান করা ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ প্রদান করা সকল মুসলমানের উপর অবশ্য কর্তব্য। উম্মতে মুহাম্মাদীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট হল দাওয়াত,আদেশ-নিষেধ,দ্বীন প্রতিষ্ঠা বা নসিহতের দায়িত্ব। এই দ্বীনি দাওয়াত যে ব্যক্তি পালন করবে সে সফলতা অর্জন করবে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,আর যেন তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল হয়,যারা কল্যানের প্রতি আহবান করবে,ভাল কাজের আদেশ দিবে এবং মন্দকাজ থেকে নিষেধ করবে আর তারাই সফলকাম।(সূরা ইমরান-১০৪) দ্বীনি দাওয়াত দেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তার আওতাধীন সকল ব্যক্তির উপর দেওয়া অবশ্যক। পরিবারের কর্তার জন্য তার স্ত্রী,সন্তানদেরকে দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে ইসলামের শারিয়া মোতাবেক পরিচালনা করা। মাদ্রাসা,মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয়,কলেজ,স্কুল এর প্রধানগন তার সহকারী ও শিক্ষার্থীদের,মিল ফ্যাক্টরী বা বিভিন্ন গামের্ন্টস বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের পরিচালকগন তার অধিনস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের, এলাকার মেম্বার-কমিশনার, চেয়ারম্যান, এমপি,মন্ত্রী কিংবা শাসকগন যার যার অধিনস্ত সকলকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ প্রদান করে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয়ের জন্য দাওয়াত দিবে। কেননা রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,তোমরা প্রত্যেকেই যিম্মাদার এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্তদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত করা হবে।(বুখারী শরীফ) দাওয়াতি কাজ মুসলিম অমুসলিম সকলের নিকট নিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে দেখা যায় যে যার দল নিয়ে ব্যস্ত ও নিজকে নিজেই বড় ইসলাম প্রচারকারী মনে করেন। পীর সাহেব মনে করেন আমরাই মুরিদসহ ইসলাম প্রচার করি, যারা সংগঠন করে তারা মনে করে শুধু সংগঠকরাই দাওয়তি কাজ করে, যারা মসজিদের মুয়াজ্জিন আজানের মাধ্যমেই তারা মনে করে আমরাই দাওয়াতি কাজ করে যাচ্ছি । ইমাম, খতিব মসজিদের খেদমতের মধ্যে নিজকে রেখে নিজকে বলে আমরাই কেবল দাওয়াতী কাজ করে থাকি। যারা মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্র তারা ভাবে মাদ্রাসাই দাওয়াতী কাজ সীমবদ্ধ। আর যারা হাত দিয়ে লেখার মাধ্যমে লেখার কাজ করে তারা মনে করে আমরাই লেখনির মাধ্যমে দ্বীন প্রচার করছি। ওয়াজিন মনে করে আমার ওয়াজে হাজার হাজার জনতা আলোচনা শুনে আর আমি বিভিন্নএলাকায় ওয়াজের মাধ্যমেই দাওয়াত দিচ্ছি ওয়াজের মাধ্যমেই শুধু ইসলাম প্রচার করা হয়। আমাদের মধ্যে এরকম মনমানষিকতা বেশী কাজ করায় নিজকে নিজে ইসলামি দাওয়াতের বড় সেবক মনে করে নিজে অন্যের দাওয়াতি কাজের সমলাচোনা করি। একে অপরকে বলছি তাদের দরকার কি? মূলত যারা পীর সাহেব,যারা সংগঠন করে, মাদ্রাসায় পড়ে বা পড়ান, মসজিদের মুয়াজ্জিন ইমাম খতিব, ইসলামী চিন্তাবিদ, ওয়াজিন, বা যারা লেখা লেখীর কাজ করে তারা সকলেই ইসলামের পথে মানুষদের সাথে নম্র ব্যবহার করে তাদের বুদ্ধি মত্তা দিয়ে ইসলামের দিকে আহবান করছে। আর নম্র ভাল ব্যবহার করেই ইসলামরে পথে আহবান করতে হবে। হজরত আনাস (রা:) হতে বর্নিত, রাসুল (সা:) বলেন,তোমরা মানুষের সাথে নম্র ব্যবহার কর,রুঢ় আচরন করনা, সুসংবাদ দাও,ভীত সন্ত্রাস্ত করারা।(বুখারী ও মুসলিম) দাওয়াতি কাজ শুধুমাত্র খানকা, মসজিদে,সংগঠনে, ওয়াজ মাহফিলে,লেখালেখির কাজে সীমাবদ্ধ রাখলে হবেনা। বর্তমানে ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির যুগ, তথ্য প্রযুক্তির যুগে অন্য ধর্মালম্বীরা যেভাবে তাদের ধর্মীয় কাজ সারা বিশ্বে মুহুর্তে প্রচার করছে তাদের তুলনায় আমরা মোটেও পারছি না। মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রচারকার্য তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ, ব্যপক হারে প্রচার করার জন্য ইহুদিদের রয়েছে প্রায় সাড়ে আট লক্ষেরও বেশী ওয়েব সাইট, খ্রিষ্টানদের প্রতারনায় রয়েছে প্রায় পাচ লক্ষের বেশী, তাছরা অনান্য অমুসলিমদের রয়েছে প্রায় চার লক্ষের বেশী ওয়েব সাইট। তারা তাদের ওয়েব সাইট,ফেসবুক, টুইটার,ইন্টারনেটের মাধ্যমে মুসলমানদের নিকট তাদের দাওয়াতি কাজ করছে। তাই আমাদের দাওয়াত মুসলমানদের নিকট সিমাবদ্ধ না রেখে অমুসলিমদের নিকট গিয়ে আরো ব্যাপক হারে দাওয়াতি কাজ করতে হবে। অমুসলিমদের নিকটে দ্বীনি দাওয়াতের কারনে অমুসলিম দেশে ক্রমেই মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতারং বিশ্ববিদ্যালয়,কলেজ মাদ্রাসা,স্কুল বন্ধ থাকাবস্থায় কিছু বন্ধু মিলে একজন আলেমকে সাথে নিয়ে নিজ এলাকায় সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে সরকারী বেসরকারী উচ্চপদমর্যাদার কর্মকর্তা সহ এলাকার মেম্বার,চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী, সকলের নিকট দিয়ে দ্বীনি দাওয়াত প্রচার করলে আশা করা যায় মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিবে। যদি দাওয়াত প্রচারকারীদের তারা কোন রূপ অবহেলা করে কিংবা গালমন্দ করে মন খারাপ না করে নবী রাসুলদের কাজে এগিয়ে যেতে হবে। মুসলিম অমুসলিম ব্যক্তিকে দাওয়াত দিলে মানুক বা নাই মানুক ফায়দা হোক বা না হোক নিজের ফায়দা হবে। অন্যের ঈমান আমল দোরস্ত করার কাজে সহযোগিতা করলে আল্লাহ নিজের আমাল দোরস্ত করে দেন। রাসুল (ষা:) বলেন,একজন বান্দা আরেক জন বান্দার সাহায্যে থাকলে আল্লাহ পাকও তার সাহায্যে থাকবে। অন্যের ঈমান আমলের কাজে সাহায্য করলে আল্লাহ তায়ালা নিজের ঈমান আমলের ফয়সালা করে দিবেন।(মুসলিম শরীফ) মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে এই কাজ গুলো করার তাওফিক দান করুন আমিন। লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
লাখো ভক্তের ঢলে শুরু হলো ধামরাইয়ের ৪০০ বছরের ঐতিহাসিক যশোমাধবের রথযাত্রা
‘হরি বোল’ ধ্বনি আর শঙ্খ-উলুধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। লাখো ভক্তের আকুল প্রার্থনা আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যের স্মারক ঢাকার ধামরাইয়ের শ্রীশ্রী যশোমাধবের ঐতিহাসিক রথযাত্রা উৎসব। আজ ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ রথযাত্রার প্রথম দিনে দুপুরের পর থেকেই ধামরাইয়ের রথ চত্বর ও এর আশপাশের এলাকা রূপ নেয় এক জনসমুদ্রে। বর্ণিল সাজে সাজানো শ্রীশ্রী যশোমাধবের বিশালাকার রথটি টেনে নিতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন লাখো সনাতন ধর্মাবলম্বী ও দর্শনার্থী। বিকেল গড়াতেই শুরু হয় মূল আকর্ষণ—মহাপুণ্য লাভের আশায় হাজারো ভক্তের রথের দড়ি টানার উৎসব। ঐতিহাসিক এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ধামরাই পৌর এলাকায় বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাসব্যাপী মেলা। রথের প্রথম দিনেই মেলা প্রাঙ্গণ ও পুরো ধামরাইজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। রথটান দেখতে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নন, সব ধর্মের ও সব বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা ধামরাইয়ের চিরন্তন অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অপূর্ব নিদর্শন। রথযাত্রা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ প্রথম দিনে মাধবজিকে রথে চড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁর শ্বশুরবাড়ি (শ্রীশ্রী যশোমাধবের বাপের বাড়ি বা গুন্ডিচা মন্দির)। সেখানে ৯ দিন অবস্থানের পর আগামী (উল্টো রথের তারিখ লিখুন) উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় রথযাত্রার প্রথম দিনটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
শ্রীপুরে রথযাত্রা উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত
মাগুরার শ্রীপুরে শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা মহারানীর রথযাত্রা উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আয়োজনে খামারপাড়া শ্রী শ্রী গিরিধারী জিউ মন্দির ও আশ্রম চত্বরে এ অনুষ্ঠান হয়। খামারপাড়া শ্রী শ্রী গিরিধারী জিউ মন্দির ও আশ্রমের সেবাইত নিতাই কুমার দাস ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাগুরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আলী আহম্মেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজমুল ইসলাম, শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওলি মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম জোয়ার্দার, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বদরুল আলম হিরো, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব খন্দকার আব্বাস উদ্দীন ও মুন্সি রেজাউল করিম, উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নারগিস সুলতানা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার খলিলুর রহমান প্রমুখ। উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অপূর্ব মিত্র'র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মনোরঞ্জন সরকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নালিম, জহুরুল ইসলাম মিলন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা খলিলুর রহমান ও মাসুদ মজুমদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জিয়াউল হক ফরিদ, ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী সোহেলসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে গিরিধারী আশ্রম থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বক্তারা রথযাত্রার ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী (রহ:) : ইলম ও যুহদের মাকাম-মর্তবায় এ কালের মানুষের জন্যে উপমা হয়ে থাকবেন
প্রথিতযশা ইসলামী চিন্তাবিদ, ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ, আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি’র ইন্তেকাল ব্রিটেনবাসী আলেম সমাজ এবং সাধারণ মানুষের কাছে এক দ্বীনী অভিভাবক হারানোর মতো। ৯১ বছরের এই বিশেষজ্ঞ আলেম ব্রিটেনের বাঙ্গালী বা বাংলাদেশীদের জন্য ছিলেন গর্বের ধন। একজন প্রবীণ আলেমে দ্বীন যিনি ইলম ও আ’মালের চর্চায় ছিলেন অত্যুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্বরূপ। ব্রিটেনে বসবাসকারী উলামা সমাজে যাঁর অবস্থান ছিল শীর্ষে। উস্তাদতুল্য এবং অনেকের সরাসরি উস্তাদও ছিলেন তিনি। ২০০১ সনে ইংল্যান্ডে মাত্র পাড়ি জমিয়েছি, অবস্থানস্থল লুটন শহর। আমার শশুর মহুদয়ের কাছে জানতে চাইলাম ‘লেস্টারের ছাহেব’ সম্পর্কে। তখনও আমি জানতাম না তিনি যে তাঁর উস্তাদ। আমার শশুর মাওলানা ক্বারী আব্দুল কাদির ছাহেব সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ সৎপুর দারুল হাদীস কামিল মাদরাসায় লেস্টারের ছাহেবকে উস্তাদ হিসেবে পেয়েছিলেন। তিনি তাঁকে ফোন করলেন। আমি এই প্রথম লেস্টারের ছাহেবের সাথে কথা বলি। এর পর থেকে লেস্টারের ছাহেব আমার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। আমি তাঁকে এক সাদা মনের উদার প্রাজ্ঞ আলেমে দ্বীন মুরব্বী রূপে পেয়েছি। বাংলাদেশে আমার কর্মস্থল ঢাকায় মাসিক পরওয়ানা পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা কালীন সময়ে (১৯৯২-২০০১) ইংল্যান্ডের যে সম্মানিত আলেম ছাহেবের নাম আমি খুব বেশী করে জানতাম, বিশেষতঃ পরওয়ানা সম্পাদক ছাহেবজাদা মাওলানা হুছাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী এবং ছাহেব পরিবারের অন্যান্যের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের বিষয়-আশয়ের সাথে আমার যে যোগসূত্র বা যোগাযোগ গড়ে ওঠে, উনাদের মুখে যে নামটি বেশী করে উচ্চারিত হতো, তিনি হলেন ‘লেস্টারের ছাহেব’। মানুষ তাঁকে ‘লেস্টারের ছাহেব’ নামেই জানতো। ইংল্যান্ডের লেস্টার শহর, বিলেতে তাঁর প্রাথমিক কর্মস্থল ছিল। লেস্টারের দারুস সালাম মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও খতীব ছিলেন তিনি। যুগ বরেণ্য ওলীয়ে কামেল হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর শায়খ এবং উস্তাদ ছিলেন। তিনি ‘খলীফায়ে ফুলতলী’ হিসেবে ইংল্যান্ডে তাঁর সম্মানিত শায়খের প্রতিনিধিত্ব করতেন। এই সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব তাঁকে এক বিশিষ্ট অবস্থানে উন্নীত করেছিল। তাঁর জ্ঞানের গভীরতা তাঁকে ইংল্যান্ডের সকল মাক্তাব-তানযীম বা মাসলাকের উলামা ও বিশিষ্টজনদের মাঝে স্বকীয় বৈশিষ্ট এনে দিয়েছিল। নিজের মাসলাক বা তানযীমভুক্ত মানুষের কাছে তিনি তখন পরিচিত ছিলেন ‘লেস্টারের ছাহেব’ আর সর্বমহলের উলামা-জনতা তাঁকে ‘আল্লামা ছাহেব’ নামে জানতো। ‘আল্লামা মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব ইন্তেকাল করেছেন’, এই সংবাদ শুনে ভাবতে থাকি, আল্লাহ পাক যমীন থেকে তাঁর প্রিয় বান্দাহ আলেমে দ্বীনকে উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে যমীনকে যে ইলমশূন্য করে দিবেন, এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ তো আমার চোখের সামনে। আমার সম্পর্কিত বয়স্ক সম্মানিত কেউ কেউকে সংবাদটি জানাবার তাগিদ অনুভব করলাম। শুনে আল্লাহর বান্দাহগণ ব্যথাভরা কন্ঠে বললেন, ‘আহ! আমরা একজন অভিভাবক হারালাম, একজন নির্ভরশীল দ্বীনী অভিভাবক হারিয়েছি আমরা।’ অনেকে তো এমনও বললেন, ‘ইংল্যান্ডে বসবাসকারী আলেমদের মধ্যে তিনিই বেশী কাজ করেছেন।’ তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে দেখেছেন এবং তাঁর কর্মতৎপরতার সাক্ষী যাঁরা তাঁদের মূল্যায়নে, ‘তিনি ছিলেন সুন্নীয়তের এক শক্তিশালী স্তম্ভ।’ কয়েক দশক ধরে ইংল্যান্ডের যমীনে তাঁর তা’লিম-তরবিয়তে ধন্য মানুষের সংখ্যা একেবারে কম হবেনা। একজন বিশেষজ্ঞ আলেম যাঁর কর্মশীল জীবন মানুষের কাছে সত্যিকার অর্থেই দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছিল - তিনি তা ছিলেন। তা কর্মস্থল হোক বা নিজের বাড়ি হোক অথবা সফরকালীন সময়ই হোক, তাঁর জীবনাচার এবং ইখলাসপূর্ণ নেক আমলের উদাহরণ সংগতিপূর্ণ গাম্ভীর্যে অত্যুজ্জ্বল ছিল। দরবেশী জীবনবোধ যা তিনি লালন করতেন ও পালন করতেন, তা নিজের পরিবার-পরিজনেরও প্রাত্যহিক আচরণ সৌন্দর্যে পরিণত করেছিলেন। খুবই কাছ থেকে দেখেছেন, এমন মানুষদের অকৃত্রিম - বিশুদ্ধ স্বীকারোক্তি আমাকে বলতে বাধ্য করছে যে, সাধারণ মানুষজনই শুধু নয়, অনেক আলেম ও দায়ী’ হযরাতকেও উপাদান গ্রহণ করার মতো পরহেজগারীর নমুনা তিনি অন্দরে ও বাইরে ধারণ করতেন। অনেক সময় মানুষের জটিল বা প্যাচানো গুণ - বৈশিষ্ট্য বহু সুন্দরতাকে দুর্বোধ্যতায় আচ্ছন্ন করে দেয়। মানুষের অকৃত্রিম - আন্তরিক সারল্য হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম গুণ - আল্লামা দুবাগী ছিলেন এমনই এক গুণসম্পন্ন মানুষ, যিনি ছিলেন জটিলতামুক্ত নিজস্বতায় ভরপুর। তাঁর সম্পর্কে সম্মন্ধিত উক্তিগুলো যা তাঁর গুণগ্রাহীগণ ইতোমধ্যে চর্চা করতে শুরু করেছেন - সরল আল্লাহওয়ালা প্রাজ্ঞ একজন ছিলেন তিনি; মেহমান নেওয়াজ, উদার, স্নেহপরায়ণ এক মুরব্বীকে আমরা হারিয়েছি; অধ্যাবশায়ী এক জ্ঞানপিপাষু গুণী মানুষ আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন; নির্ভরযোগ্য আলেমে দ্বীন হিসাবে মানুষের কাছে তাঁর অসামান্য গ্রহণযোগ্যতা ছিল; সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর কাছে মকবুলিয়ত বা গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে বিশ্বাসীদের এই চর্চা একজন মানুষের জীবনে পরম প্রাপ্তি নয়কি! আমি বা আমরা যে তাঁর পরিপূর্ণ - নিবিড় সান্নিধ্য নিতে পারিনি, আক্ষরিক অর্থেই এটা সত্য। তিনি সকল বয়সের এবং সকল স্তরের আলেমগণকে সঙ্গ দিতে পছন্দ করতেন। বার্ধক্যের ভার আর শারীরিক সুস্থতার অল্পতা তিনি ভুলে যেতেন যখন আমাদের মতো বয়স এবং ইলমে অতিশয় তারতম্যপূর্ণ নবীনদের সাথেও আলোচনায় বসতেন। ব্যথা আর বেদনার ভারে অনেকের মতো আমিও কাতর হয়েছি, বিদ্ধ হয়েছি শোকাবহ খবরটির নিদারুণ আঘাতে। অনেকেই হয়তো বলবেন, তাঁর ইন্তেকাল পরিণত বয়সেই হয়েছে, কিন্তু আফসোস! আমরা একজন উঁচু স্তরের আলিমে দ্বীনকে হারিয়েছি, এক মুত্তাকী আল্লাহওয়ালা বুজুর্গ - অভিভাবককে হারিয়েছি, হারিয়েছি আল্লামা মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী ছাহেবকে; যিনি ইলম ও যুহদের মাকাম-মর্তবায় এ কালের মানুষের জন্যে দৃষ্টান্ত-উপমা হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশের সিলেট জেলার বিয়ানী বাজার থানার দুবাগ গ্রামে ১৯২৯ সনে তাঁর জন্ম। সে সময়ের বরেণ্য উলামা, মুহাদ্দিসীন ও ফকীহ মুহাক্কিক উস্তাদগণের কাছে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেন। কর্মজীবনে একজন মুহাদ্দিস এবং ফকীহ হিসাবে অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে নিজের প্রজ্ঞা ও মেধার নজির রাখেন। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে অনেক মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও ফকীহগণ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের বাইরে শিক্ষা বিস্তারে এখনও খেদমত করে যাচ্ছেন। ১৯৭৮ সন থেকে লেস্টার শহরের দারুস সালাম মসজিদের খতীব হিসেবে ব্রিটেনে তাঁর কর্মজীবনের শুরু। তিনি তাঁর মুক্তাদি, মুসাল্লি ও মসজিদ কেন্দ্রিক জনসাধারণকে প্রাত্যহিক বিষয়ের তা’লিম ও তারবিয়ত দিয়ে এতই প্রাজ্ঞ করে তুলেন যে, শুনা যায় এই সকল মানুষের সংস্পর্শে এসে ভিন্নভাষী উলামা কেরামগণও তাঁর সম্পর্কে এক সময় উচ্চ ধারণা পোষণ করতে শুরু করেন। তাঁর ছাত্রজীবনেও কিতাব অধ্যায়নে বিস্ময়কর দক্ষতা তাঁকে তাঁর সময়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মাঝে আলোচনার কেন্দ্র করে তুলেছিল। ব্রিটেনের কর্মজীবনে তাঁর অসামান্য কর্মশীলতার নযীর বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিভিন্ন ভাষায় রচিত অনেকগুলো মূল্যবান কিতাব। বাংলাভাষী এই বিশেষজ্ঞ আলেম যিনি তাঁর মূল্যবান লেখনী দ্বারা ব্রিটেনবাসী মুসলমানদের জন্য তো বটেই, সকল শ্রেণীর মানুষের জন্যেই অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। আমরা এ পর্যায়ে তাঁর লিখিত কিতাবাদী থেকে কয়েকটির উল্লেখ এখানে করতে পারি: মানাছুল মুফতী (উর্দু), আল মাসাইলুন্নাদিরাহ, ফাতওয়ায়ে মুজাহিদিয়া, মীলাদে বেনযীর, এক নজরে হজ ও যিয়ারত, এতিম প্রসঙ্গে, পুণ্যের দিশারী, ফাতেহা ও কবর যিয়ারতের মাসাইল, সুন্নাত ও নফল নামাজের জরুরি মাসাইল, দোয়ার মাহাত্ম্য, মানাছুল মুফতীর বঙ্গানুবাদ, বিবিধ মাসাইল, কদম বুছির তথ্য, জানাজার নামাজের পর দোয়া করা মুস্তাহাব, শবে-কদরের তাৎপর্য, ফাদায়েলে শবে-বরাত, শিফায়ে রূহ, প্রশ্নউত্তর প্রভৃতি। বিলেতে বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষী সমাজের এক প্রতিকৃত আলেম ছিলেন তিনি, যিনি তাঁর লেখনীর খিদমতের মধ্য দিয়ে নিজে জাগরুক থেকেছেন এবং জাগিয়ে রেখেছেন মানুষকেও। পুস্তক প্রকাশ করা ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়ে সহজতর উপস্থাপনায় প্রচারিত তাঁর অতি প্রয়োজনীয় ফতওয়াবলী ছিল কমিউনিটির জন্য দিকদর্শনের মতো। দ্বীনী নানাবিধ খেদমতে সম্পৃক্ততা সত্বেও কিতাব রচনায় নিজেকে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে আল্লামা দুবাগী (রহ:) সমাজ ও জাতির প্রতি যেমন কল্যাণকর অবদান রেখেছেন, তেমনি নিজের কর্ম-কুশলতায় একাগ্র অধ্যাবসার নজির রাখতেও সক্ষম হয়েছিলেন। আল্লামা মুহম্মদ ইকবাল রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কত সুন্দর ও গভীর দর্শনের চোখে একজন লেখক, কবি অথবা মুসান্নিফের কর্মবিশালতার পেছনে তাঁর একাগ্রচিত্ত বৈশিষ্টকে ফুটিয়ে তুলেছেন: “আত্তার হো, রুমী হো, রাযী হো, গাজালী হো; কুছ হাত নেহী আতা বে আহে সাহার গাহী।” (সূফী সম্রাট আত্তার হোন, বিশ্বপ্রেমী রুমী হোন, মহাজ্ঞানী রাযী অথবা গাজালী-ই হোন, এমন কোন সৃষ্টিশীল হাত আসেনি, যে নিদ্রাহীন বিপন্ন রাত যাপন করে ভোর করেনি।) ‘সমাজ ও জাতির জন্যে একজন আলেমে দ্বীন আকাশের তারকার মতো’—রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক বাণীতে এমনই বলেছেন। তারকাতুল্য আলেম, সমাজ ও জাতির জন্য আদর্শ হবেন। রাসূলে করীমের এই বাণীতেই বলা হয়েছে—‘রাতের অন্ধকারে সমুদ্রের নাবিকরা যেমনি তারকা দেখে দিক খোঁজে নেয়, তেমনি মানুষ আলেমের কাছে সঠিক দিক দির্দেশনা পেয়ে থাকে।’ রাসূল করীমের বাণীর আলোকে সে আলেম হবেন যোগ্যতর আলেম, বড় আলেম, মানুষ তাকওয়া-পরহেজগারীর দৃষ্টান্ত পরিলক্ষণ করবে যাঁর আমাল ও আ’দাতের অনুশীলনে। আলেমের নিজের জিন্দেগী তো উপস্থাপিত গ্রহণযোগ্যতার মানদন্ডে উত্তির্ণ হবেই, তাঁর সংশ্লিষ্ট সীমার একান্ত বিষয়-আশয়গুলিও শুদ্ধতার বিচারে পরিহারযোগ্য নয়, তা সুনিশ্চিত হতে হবে। আমাদের এ কালে ‘বড় আলেম’ হিসেবে অভিধেয় ব্যক্তির বৈশিষ্ট-রূপ প্রায়শই খ্যাতির মোড়কের চাকচিক্যের উপর নির্ধারিত হয়ে থাকে। শুদ্ধতা এবং সুস্থতা যখন শীর্ণতার বিবেচনায় নিরূপণ হতে চলেছে, তখন ‘বড়’র সংজ্ঞা ‘ক্ষুদ্রতার’ সাপেক্ষে বিশেষিতকরণ হতে পারবে না কেন! এ প্রসঙ্গে আমাদের এক সম্মানিত উস্তাদের তাৎপর্যপুর্ণ কিছু বক্তব্যের কথা মনে পড়ছে। মাদ্রাসা-ই আলিয়া ঢাকার শায়খুল হাদীস আল্লামা ওয়াজীহ উদ্দীন লক্ষিপুরী আমাদেরকে বুখারী শরীফের প্রথম দিনের ক্লাসে ইলম, উলামা এবং মাদ্রাসা-ই আলিয়া ঢাকার বিশেষত্ব, ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিষয়ে গভীর আলোচনার পেক্ষিতে এমন সব কথামালা বলছিলেন, যা সাতাশ বছর আগের তিন শ’য়ের অধিক ছাত্রদের মধ্যে বসে থেকে শুনা কথাগুলোর তীক্ষ্ণ, গভীর প্রভাব এখনও আমি অনুভব করি। তাঁর কথাগুলো একাধারে একজন শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতো শুনাচ্ছিল। অর্থাৎ না শুনে না মেনে তোমাদের উপায় নেই—এমনই নিশ্চিত করে উপস্থাপন করা তাঁর কথাগুলো। প্রথমে বললেন আক্বিদা দুরুস্তের কথা। তাঁর ভাষায়, ‘হাদীস শরীফ পড়তে এসেছ, তো আক্বিদা দুরুস্ত না করে উপায় নেই।’ এর পর বললেন, ইলমের গুরুত্ব ও আলেমের দায়বদ্ধতার বিষয়-আসয় সম্পর্কে। সব শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে মাদ্রাসা-ই আলিয়া ঢাকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্যের দিকগুলো। এ পর্যায়ে আমাদের ক্লাসরুমের ব্রেঞ্চ, টেবিল, শিক্ষকের চেয়ার এবং ডেস্ক দেখিয়ে বলতে থাকলেন, “এই বেঞ্চে আমিও বসে একদিন ক্লাস করেছি, আর শিক্ষকের আসনে বসা ছিলেন বরেণ্য মুহাদ্দিস মুফতিয়ে আজম হযরত আমীমুল ইহসান মুজাদ্দিদী বারাকাতী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। আমি ভাবিনি তাঁর আসনে বসে একদিন আমার মতই বসে থাকা ছাত্রদের পড়াব। তিনি তখনকার সময়ের বড় আলেম ছিলেন, অনেক বড় আলেম ছিলেন! এখন লোকে আমাদেরকেও বড় আলেম বলে; আর তোমাদেরকেও একদিন বড় আলেম বলবে! আর বেলম গাছের লাকড়িকেও লোকে উত্তম কাঠ হিসেবে ব্যবহার করবে !” শায়খুল হাদীসের কথাগুলো নিয়ে আমি এখনও চিন্তা-ভাবনা করি আর উর্দু এই কবির কবিতার সাথে বাস্তবতার মিল খোঁজি— “ হামারে বা’দ যমানে মে কেউঁ না খাক উড়ে; কেহ কারওয়ান কে পিচ্ছে গুবার রহতা হায়।” (আমাদের পরের যুগ-যামানায় ধুলা উড়তে দেখা যাবে বলে মনে হয়না; কারণ কাফেলা যখন কোন স্থান ত্যাগ করে চলে যায়, তখন তাদের বাহন ঘোড়া বা উটের মল-গোবর পড়ে থাকতেই দেখা যায়।) মনের গহীনে বেদনার সুর সতত অনুরণিত হয় - আমাদের মাথার তাজসকল হারিয়ে যাচ্ছেন। যুগ-যামানার দৃষ্টান্তের মতো ইলম ও আ’মালের খাজানাগুলো মাটির কুটুরিতে সমাহিত হচ্ছেন। আলোগুলো নিভে যাচ্ছে, পেছনের অন্ধকার রুখতে আমাদের যে অনেক আলোর প্রয়োজন। আমরা এই কথায় প্রত্যয়ী যে, মুফতিয়ে যামান আল্লামা দুবাগী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর কর্মের বিশালতায় বেঁচে থাকবেন। আমাদের নিবেদন, আল্লাহ তাঁর জীবনের নেক আমলগুলো কবুল করুন, আল্লাহ তাঁকে সর্বোচ্চ জান্নাতের বাসিন্দা করুন। আমরা তাঁর ত্যাগ, ধৈর্য্য, অধ্যাবসায় ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা থেকে যেন আলোকিত হতে পারি। কয়েক লাইন কবিতা দিয়ে শেষ করতে চাই:- এক নিবেদিত জ্ঞানী পুরুষের কথা বলছি, ভোরের বাতাসের সুরের সাথে যাঁর কান্নার আরতি মিশে যেত প্রতিদিন। রাতের তারারা হেলে যায়, আকাশের অবারিত দরোজায় ফেরেশতাদের আসা-যাওয়া চলে; সাধক পুরুষের সেজদার মুসাল্লায় অশ্রুর শিশির কথা বলে; নিশ্চল মগ্নতায় সকল নিস্পন্দ মুহুর্তগুলো শব্দায়মান হয়ে ওঠে - রাব্বানা! রাব্বানা! আমাদের চোখের সামনে যুগের সূর্যগুলো ডুবে যায়! আলোর প্রত্যাশা নিয়ে ভোরের আকাশে খোঁজে ফেরা চোখ সন্ধ্যাকালের শোক মাহফিলে জ্যোতি ছড়ায় - কাফেলা সেই কবে চলে গেছে! আলোর ঝিলিকগুলো বহু দূরের তারার মতো আমাদের পথ দেখায় - মরুর বালু-রাশির মাঝে, আমরা জেগে আছি - জেগে আছি, জ্ঞানী-সাধক পুরুষদের আলো নিয়ে। লেখক: চেয়ারম্যান, ইসলামিক রিসার্স এন্ড দা’ওয়াহ কাউন্সিল ইউকে; চেয়ারম্যান, তানযীমুস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ইউকে; সাবেক খতিব শেডওয়েল জামে মসজিদ লন্ডন, সাবেক সিনিয়র শিক্ষক দারুল হাদিস লতিফিয়া লন্ডন, সাবেক নির্বাহী সম্পাদক, মাসিক পরওয়ানা ঢাকা; সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া।
আল্লাহর কাছে যারা সবচেয়ে সম্মানিত
আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ওই ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা তাকওয়ার অধিকারী। ’ (সুরা হুজরাত-১৩) তাকওয়া এবং খোদাভীতি মানুষকে পরিশুদ্ধ করে, আলোকিত করে, সৎকাজে উৎসাহ জোগায় এবং পাপাচার বর্জন করার প্রেরণা সৃষ্টি করে। তাকওয়া অর্জনের ফলে একটি মানুষ অন্যায়-অনাচার, সুদ-ঘুষ বর্জন করতে পারে। গড়ে উঠতে পারে একটি আদর্শ ও শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা।
আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.)-এর ৬ষ্ঠ বার্ষিক ঈসালে সাওয়াব মাহফিল: ১২ জুলাই ২০২৬ইং
আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.)-এর ৬ষ্ঠ বার্ষিক ঈসালে সাওয়াব মাহফিল ১২ জুলাই ২০২৬ইং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ, পীরে কামিল হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব কিবলাহ (রহঃ) - এর ৬ষ্ঠ বার্ষিক ঈসালে সাওয়াব মাহফিল আগামী ১২ জুলাই ২০২৬ইং রোববার ঐতিহ্যবাহী লন্ডন ব্রিকলেন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত মাহফিল সফল করার লক্ষে আল্লামা দুবাগী (রহ.) ঈসালে সওয়াব মাহফিল কমিটির উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা গত ৫ই জুলাই ২০২৬, রোববার বিকাল ৪টায় ব্রিকলেন মসজিদের হল রুমে আল্লামা জিল্লুর রহমান চৌধুরী দুবাগীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা অলিউর রহমান চৌধুরী দুবাগী, মাওলানা মহবুবুর রহমান চৌধুরী দুবাগী, মাওলানা আমিনুল ইসলাম জলঢুপী, প্রফেসর মিসবাহ উদ্দিন কামাল, আলহাজ্ব সেলিম রহমান, মশিউর রহমান চৌধুরী মিটু, নিজাম উদ্দিন, আলহাজ্ব মতিউর রহমান শাহী, আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম প্রমুখ। আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.)-এর মাজার শরীফ জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু হবে মাহফিলের কার্যক্রম। এরপর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে:- খতমে কুরআন, খতমে খাজেগান, দালাইলুল খায়রাত শরীফের খতম, যিকর মাহফিল, বিষয়ভিত্তিক বয়ান, স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা, মিলাদ শরীফ ও দোয়া। মাহফিলে সভাপতিত্ব করবেন আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহঃ)-এর সুযোগ্য উত্তরসূরী তাঁর বড় ছাহেবজাদা হযরত আল্লামা জিল্লুর রহমান চৌধুরী দুবাগী। মাহফিলে ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ:) এর ভক্ত ও মুরিদানসহ সর্বস্তরের মুসলমানদের সমাগম হবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন। আগত মেহমানদের খাবারের আয়োজন করা হবে। মাহফিলে বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত পীর-মাশায়িখ, আলিম-উলামা, ইসলামী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ, বিভিন্ন্ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মাহফিলে উপস্থিত হবেন। মাহফিলকে সফল ও স্বার্থক করে তুলতে ঈসালে সওয়াব মাহফিল কমিটির পক্ষ থেকে সর্বস্তরের মুসলিম জনতার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পীরে কামিল হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব (রহ.) যুক্তরাজ্যে এক সুপরিচিত ওলী-আল্লাহর নাম। তিনি ছিলেন ইউকে ওলামা সোসাইটি'র প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি, আনজুমানে আল-ইসলাহ ইউকে'র প্রতিষ্ঠাতা ও লন্ডন দারুল হাদীস লাতিফিয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। একাধারে সুদীর্ঘ প্রায় অর্ধ শতাব্দী বিলাতে ইসলাম প্রচার ও প্রচারের আন্জাম দিয়ে দ্বীনের বহুমুখী খিদমতই তাঁর ব্যাপক পরিচিতির অন্যতম কারণ। আল্লামা দুবাগী ছাহেব (রহ.)-এর জীবন আল্লাহর রাহে সর্বোতভাবে নিবেদিত ছিল। তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান, একটি উৎকৃষ্টতর চিন্তাচেতনার আলোকবর্তিকা। ইলমে হাদিস, ইলমে তফসীর, ইলমে ফিকহ, ইলমে ক্বিরাত, ইলমে তাসাউফ, দাওয়াত-তাবলিগ, সমাজ সংস্কার, ওয়াজ-নসিহত, শিক্ষকতা, আরবী, উর্দু ও বাংলা ভাষায় বই রচনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামের খেদমতে ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর, ইয়েমেন, সিরিয়া, কুয়েত, ফিলিস্তিন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, ইউরোপ, আমেরিকা-সহ পৃথিবীর বহু দেশের আকাবির উলামায়ে কেরামের সঙ্গে উঠা বসার সুযোগ হয়েছে তাঁর। সে সব দেশের মশহুর মুহাক্কিক উলামা-মাশায়িখদের সাথে ইলমী আলোচনা করেছেন, হাদীসের সনদ আদান-প্রদান করেছেন।সমাজের অসহায়-দুঃস্থ মানুষের সেবায় তাঁর রয়েছে বহুবিধ খিদমত। তিনি যেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তিনি এক বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা ও মহান ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তিনি আপন কর্মের দ্বারা তাঁর মুরিদীন-মুহিব্বীন-সহ সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে বিশাল এক জায়গা দখল করে গেছেন। হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দীন চৌধুরী দুবাগী ছাহেব কিবলাহ (রহ.) ১৯২৯ সালে ভারত সীমান্তবর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। প্রায় শতবর্ষব্যাপী জীবন অতিবাহিত করে ২০২০ সালের ১০ই জুলাই শুক্রবার জুম্মার পূর্বক্ষণে আল্লামা দুবাগী ছাহেব (র.) লন্ডনে অসংখ্য ভক্ত বৃন্দকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে পরপারে পাড়ি জমান।
কালীগঞ্জে ইসলাম ধর্ম নিয়ে ক/টু/ক্তি একজন গ্রেফতার
ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করায় প্রশান্ত কুমার নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ । রবিবার( ২৮ জুন) দুপুর ২ টার দিকে শহরের কলেজ পাড়া থেকে তাকে আটক করা হয় । আটক প্রশান্ত কুমার কলেজপাড়ার বাসিন্দা । আজ বেলা ১২ টার দিকে কলেজপাড়ার একটি চায়ের দোকানে সনাতন ও ইসলাম ধর্মের কয়েক ব্যক্তি ধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করছিল । সে সময় প্রশান্ত কুমার নামের ওই ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করলে মুসলমানদের ভিতর ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় । ঘটনার সময় কয়েকজন সনাতন ধর্মলম্বীরা প্রশান্তের কথার প্রতিবাদ করে মুসলমানদের প্রতি শান্ত থাকার আহবান জানান। ক্রমেই পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ প্রশান্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় । এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার এসআই আ খ ম মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনে ওই ব্যক্তিকে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। আপাতত আমি এটুকু বলতে পারবো ।
ঝিনাইদহে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন
গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননা ও মন্দির গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের নেতৃত্বে ঝিনাইদহে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। শনিবার (২০জুন) শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও কালীগঞ্জ উপজেলা শহরে এ কর্মসূচীর আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ঝিনাইদহ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কানন কুমার দাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাবেক যুবলীগ নেতা বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সাবেক মেয়র মিন্টুর বিশ্বস্ত সহচর চন্দন বসু মুক্ত, সদস্য সচিব ওয়ার্কাস পার্টির অরুণ কুমার ঘোষ, যুগ্ম আহ্বায়ক ও আলীগ নেতা প্রসেনজিৎ ঘোষ শিপন, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাধন সরকার, ছাত্র ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিনয় কুমার বিশ্বাসসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এদিকে একই দাবীতে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা শহরে পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাবু রবীন্দ্রনাথ দত্তের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, প্রশান্ত কুমার খাঁ, বিল্লব বিঞ্চু, সুরজিৎ কুমার মন্ডল, এনজিও নেতা শিবুপদ বিশ্বাস, পংকজ সাহা ( কালীবাড়ি), অমিত শিকদার, বলরাম দাস, মিঠুন পাল, প্রান্ত বিশ্বাস ও দিবস কুমার পাল। বক্তারা গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকায় সংঘটিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও উপাসনালয় নিয়ে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।