বদলি
নানাহ অভিযেগে সোনারগাঁও থানা ওসির আড়াই মাসেই বদলি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার ওসি গোলাম সারোয়ারকে রংপুরে বদলি করা হয়েছে। নানা অভিযোগে তাকে বদলি করা হয়। এর আগে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানা থেকে সোনারগাঁও থানায় যোগ দেন। যোগদানের আড়াই মাসের মাথায় তার এ বদলির আদেশ দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। রোববার (২৬ জুলাই) অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে রংপুর রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। এ পুলিশ পরিদর্শক গত ৭ই মে মাসে সোনারগাঁও থানায় যোগ দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওসি গোলাম সারোয়ার সোনারগাঁওয়ে যোগদানের পর তার বিরুদ্ধে স্থানীয় কয়েকজন রাজনীতিকের সঙ্গে যোগসাজশে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি যুবলীগের এক নেতার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছেলেকে বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার দেখালে তা নিয়েও সমালোচনা হয়। ওই পরীক্ষার্থীদের পরিবারের অভিযোগ ছিল, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের চাঁদা না দেওয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘যোগসাজশ’ করে এ গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঘটেছে। এছাড়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মামলায় এক প্রবাস ফেরত এক ব্যক্তির কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ারের বিরুদ্ধে। এছাড়াও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলায় আসামি না হলেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। মোটা অংকে রফাদফা শেষে ১৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে জামিনে আসে গ্রেপ্তারকৃতরা। গত আড়াই মাসে কমপক্ষে ১৩ জনের সঙ্গে রফাদফা হয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একট সূত্র নিশ্চিত করেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ওসি গোলাম সারোয়ার যোগদানের পর থেকে ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক, হত্যা ও ধর্ষণ বেড়ে যায়। এদিকে ওসি গোলাম সারোয়ারের বদলির আদেশে ‘প্রশাসনিক’ কারণ দেখানোর কথা জানিয়েছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী। তিনি বলেন, “হেডকোয়ার্টার থেকেই তার বদলির আদেশ এসেছে। বদলির সুনির্দিষ্ট কারণ আমাদের জানানো হয়নি। তবে আইজিপি স্যারের নির্দেশে পুলিশের একটি গোয়েন্দা দল থানাগুলোতে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের কর্মকাণ্ড মনিটর করছেন। সেই মনিটরিং কার্যক্রমে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেছে কিনা সেটাও হেডকোয়ার্টার বলতে পারবেন।” গোলাম সারোয়ার আগামী ১ লা আগস্ট পর্যন্ত এ থানায় দ্বায়িত্ব পালন করবেন। এ সময়ের মধ্যে তাকে রংপুর রেঞ্জ পুলিশে যোগদান করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে সোনারগাঁও থানারও নতুন ওসি নিয়োগ করা হবে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী। ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, অভিযোগের কোন সত্যতা নাই। তবে উর্ধবতন কর্তৃপক্ষ বদলির আদেশ দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ে তিনি রংপুর রেঞ্জে যোগদান করবেন।
অবশেষে সাদুল্লাপুরের সেই সমালোচিত এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন এর বদলি, নতুন কর্মস্থল পঞ্চগড়ের বোদা
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে আলোচিত অর্পিত (সরকারি) সম্পত্তি অধিগ্রহণে কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ উত্তোলন এবং তথ্য জানতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। তাকে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়। আদেশে বলা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ বদলি আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজায় সরকারি ১/১ খতিয়ানভুক্ত সাড়ে ৬ শতক অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানা দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের বিষয়ে তথ্য ও বক্তব্য জানতে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে যান সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু ও যমুনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের দেখেই এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, আঙুল উঁচিয়ে ধমক দেন এবং কার্যালয় ত্যাগ করতে বলেন। পরে নিজেও দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিভাগীয় প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়। গত রোববার রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে তদন্ত করেন। তদন্তে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের পরদিন সোমবার হাসানপাড়া মৌজার বিতর্কিত সাড়ে ৬ শতক জমি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে সাইনবোর্ড টানানো হয়। তবে জমির দখলদার ও ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করা হয়নি। সূত্র জানায়, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা ওই জমির বিপরীতে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর পীরগঞ্জের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের নামে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ ছাড় করা হয়। তবে অভিযোগ, জমিটি প্রকৃতপক্ষে অর্পিত (সরকারি) সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এতে প্রশাসনের ভূমিকা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে জমিতে সরকারি স্বার্থ না থাকার কথা বলা হলেও, ২০২৫ সালের আরেক প্রতিবেদনে সরকারি স্বার্থ বিদ্যমান বলে উল্লেখ করা হয়। পরস্পরবিরোধী এই দুই প্রতিবেদনের কারণ নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক। উল্লেখ্য, ৩৮তম বিসিএস কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সাদুল্লাপুরে এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে সরকারি খাস জমি, নামজারি, ভূমি প্রশাসন এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল। স্থানীয়দের দাবি, সাদুল্লাপুর ও জামুডাঙ্গা মৌজায় সরকারি ১ নম্বর খতিয়ান, ১/১ খতিয়ান এবং ‘ক’ তফসিলভুক্ত জমি ব্যক্তিগত নামে নামজারির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে ভূমি প্রশাসনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। এর আগে গত ২৪ মার্চ তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পান। পরে ২০ এপ্রিল তাকে কাউনিয়া উপজেলায় বদলি করা হলেও তিনি কর্মস্থল ছাড়েননি। বদলি স্থগিত করতে তদবিরের অভিযোগও ওঠে। পদোন্নতি ও বদলির পরও দীর্ঘদিন সাদুল্লাপুরে বহাল থাকায় জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।