সংঘর্ষের রেশ কাটতেই বেরোবিতে একই মঞ্চে ছাত্রদল-শিবির সভাপতি
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, রংপুর প্রতিনিধি:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের একটি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি এবং উত্তেজনার ঘটনার পরদিনই দুই সংগঠনের সভাপতিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত কর্মসূচিতে একসঙ্গে অংশ নিতে দেখা গেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন ইসলাম ও ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব মুরাদ পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন। শোভাযাত্রায় তারা সামনের সারিতে হাঁটেন। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সঙ্গে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও একই মঞ্চে অংশ নেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ শেষে তারা ফটকের দেয়ালে ‘শিবির রাজাকার মুক্ত ক্যাম্পাস’ লিখে দেন।
এ প্রসঙ্গে ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রাকিব মুরাদ বলেন, ‘ছাত্রদল কোনো কর্মসূচি করেছে আর আমরা বাধা দিয়েছি—এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। আমরা চাই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকুক। তারা যে “শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস” লিখেছে, সেটিও তারা মুছে দেবে বলে আশা করি।’
ছাত্রদল সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব শ্রেণি-পেশা ও ধর্ম-বর্ণের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা ত্রাসের রাজনীতি থেকে মুক্তি পেয়েছি। সেই ঐক্য ধরে রেখেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। মতবিরোধ ও সহিংসতা পরিহার করতে হবে, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।’
প্রসঙ্গত, সোমবার ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক ছাত্রশিবিরের একটি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর উভয় সংগঠন মঙ্গলবার পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ছাত্রশিবির লালবাগ চত্বর থেকে আবু সাঈদ চত্বর পর্যন্ত ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে শিবিরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে রংপুর মহানগর ছাত্রদল শহীদ আবু সাঈদ চত্বর পার্ক মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংঘাত এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মূল ফটক এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করে। পরে ছাত্রদল মূল ফটকে অবস্থান নিলেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচির স্থান পরিবর্তন করে মিছিলটি শাপলা চত্বরে নিয়ে যায় এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করে।