নানা আয়োজনে গোবিপ্রবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
গোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ, শিক্ষার্থীদের রচনা, ছোট গল্প, কবিতা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
আজ বুধবার সকাল ১০:৩০টায় ক্যাম্পাস চত্বরে জুলাই শহিদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান। এরপর বেলা ১১টায় একাডেমিক ভবনের ৫০১ নং কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ও উদ্যাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান।
সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত বলেন, আমরা যদি বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করি তাহলে দেখতে পাই, বাংলাদেশের অভ্যুদয় থেকে জুলাই বিপ্লবসহ প্রতিটি আন্দোলনে তরুণরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় একটি মেসেজ দেন যে, রাষ্ট্রকে এগিতে নিতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। অতীতকে আঁকড়ে না থেকে বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানকে স্বীকার করে দেশের জন্য সৎকর্মের মাধ্যমে সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ করতে হবে।
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত আরো বলেন, অন্যান্য জায়গার তুলনায় গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জুলাই আন্দোলন সহজ ছিল না। তাই আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই আন্দোলনকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তারা যেহেতু এই আন্দোলন করতে পেরেছে, তাই আমি বিশ্বাস করি তাদেরকে সাথে নিয়ে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়কে লেখাপড়া ও গবেষণার সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।
এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাস লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস। যার সর্বশেষ প্রতিফলন ঘটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। তবে বার বার বুকের রক্ত ঢেলেও আমরা পুরোপুরি স্বাধীনতার স্বাদ পাইনি। আমাদের মধ্যে বিপ্লবের চেতনা কাজ করে না। কারণ আমরা মানসকিভাবে স্বাধীন নই। আমরা ভেতরে ভেতরে এখনো পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ রয়েছি। আর এই শৃঙ্খল থেকে বের হতে হলে অবশ্যই আমাদের জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করতে হবে।
সভায় আরো বক্তৃতা করেন মানবিকী অনুষদের ডিন সুকান্ত বিশ্বাস, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি ড. মাহবুব হাসান, রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সদস্য সচিব ও প্রক্টর ড. এস এম আহসান,গোবিপ্রবি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সজিবুর রহমান, গোবিপ্রবি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারক খন্দকার, প্রচার সম্পাদক নাহিদুর রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ হাবিব প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. রাজিবুল ইসলাম। আলোচনা সভা শেষে রচনা, ছোট গল্প, কবিতা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি ও প্রাধ্যক্ষগণ, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও বাদ যোহর জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল ও বিকেলে মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।