৬'শ শিক্ষার্থীর শিক্ষক মাত্র একজন!
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
হাসানুজ্জামান হাসান, লালমনিরহাট:
প্রায় ৬ শত শিক্ষার্থীর পাঠদানে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। ক্লাশ বর্জন করে আন্দোলন করেও সুফল পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, ভারতের অভ্যন্তরে থাকা এক টুকরো বাংলাদেশ খ্যাত দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা সাবেক ছিটমহল। এটি তিন বিঘা করিডোর নামেও ব্যাপক পরিচিত। ভারতের ভুখন্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের সাথে যাতায়ত করতে হয় এ জনপদের বাসিন্দাদের। প্রথম দিকে অবরুদ্ধ থাকলেও কালক্রমে প্রথমে এক ঘন্ট এক ঘন্টা করে গেট খুলে রাখত ভারত সরকার। পরে তা সুর্য উঠা ঢুবাকে ঘিরে গেট খোলা বন্ধ করত। পরবর্তিতে তা ইন্দ্রা মুজিব চুক্তিমুলে ২৪ ঘন্টার জন্যই খুলে রাখা হয়। সেই দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটলে তৎকালিন সরকার দহগ্রামকে ইউনিয়ন ও সেখানে একটি ১০ শয্যার হাসপাতাল ও একটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে।
সেই একমাত্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়টি এখন শিক্ষক সংকটে ভুগছে। দীর্ঘ বন্দি থাকা এ জনপদের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করন করা হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয়টিতে বিষয়ভিত্তিক ২৫ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও শুরুতে মাত্র ৭ জন শিক্ষক জাতীয় করণের আওতায় আসেন। পরবর্তীতে একে একে ৬ জন শিক্ষক অবসরে গেলে বর্তমানে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শুধুমাত্র একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক।
প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক প্রতিদিন মাত্র পাঁচটি ক্লাস নিতে পারছেন। ফলে অধিকাংশ শ্রেণির পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।
এই পরিস্থিতির অবসান এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গেল মঙ্গলবার থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। তাদের একটাই দাবি-অবিলম্বে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।

চারদিকে ভারতের সীমান্তবেষ্টিত দহগ্রাম ইউনিয়নে যাতায়াতের একমাত্র পথ তিনবিঘা করিডর। ফলে উপজেলা শহরে গিয়ে লেখাপড়া করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য কষ্টসাধ্য। উপজেলা সদর থেকে দহগ্রামের দুরুত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। তাই স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।
শিক্ষার্থী শাহারিয়ার বলেন, একসঙ্গে ৫টি ক্লাস চালু হয়। সেখানে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। একমাত্র শিক্ষক কোন ক্লাশ নিবেন। এছাড়াও অফিসিয়াল কার্যক্রমও তাকে দৌড়াতে হয়। পাঠদান পুরো বন্ধই বলা যায়। তাই দ্রুত শিক্ষক পদায়নের দাবি তার।
অভিভাবক আজিজুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষক দিয়ে একটি উচ্চ বিদ্যালয় কি ভাবে চলে। কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ে না আসলেও কাগজপত্র দেখে তো তাদের বুঝার কথা বিদ্যালয়টির পাঠদান কেমন হচ্ছে। অবহেলিত এ জনপদ অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়টির একমাত্র সহকারী প্রধান শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম জানান, একাধিকবার শিক্ষক চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শিক্ষক সংকটে পড়ে পাঠদান মারাত্বক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একাই পুরো প্রতিষ্ঠান সামলানো বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দ্রুত শিক্ষক পদায়নের দাবি করেন তিনি।
শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উপ পরিচালক রোকসানা বেগম বলেন, নন ক্যাডার থেকে নিয়োগে চেষ্টা চলছে। অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক সংকট সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরও পড়ুন
কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মালামাল ক্রয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ
অনলাইন জুয়া ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়া ছেলেকে ত্যাজ্যপুত্র করলেন বাবা
বারহাট্টায় মডেল গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন