সদরপুরে ঘরের জানালার রড ভেঙে কিশোরীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধ/র্ষ/ণ, আ/টক দুই

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

মামুন মিঞা, ফরিদপুর:

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় গভীর রাতে বসতঘরের জানালার ভেঙে এক কিশোরী কে তুলে নিয়ে (১৫) দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা দুই অভিযুক্তকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। বর্তমানে ওই কিশোরী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।

 

 কিশোরীর চাচা জানায় , ঘটনার রাতে কিশোরীর দাদির চোখে চিকিৎসার জন্য তিনি ও তার মা ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে কিশোরী, ছোট বোন ও ছোট ভাই ছিল। আনুমানিক রাত ১টার দিকে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল ঘরটি ঘিরে ফেলে। দুর্বত্তরা প্রথমে দরজা খোলার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। ভেতর থেকে দরজা খুলতে অস্বিকার করলে দুর্বৃত্তরা ঘরের জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়।

এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় পরবর্তীতে কিশোরীকে একটি মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরের পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

ওই এলাকার বাসিন্দাদের সুত্রে জানা যায়, দলবদ্ধ ধর্ষণের পর কিশোরী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে অনুমান রাত ৩টার দিকে, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর দৃবৃত্তরা কিশোরীকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ধাওয়া দিয়ে দুই জনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে। পরে গণপিটুরি দিয়ে সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটককৃতরা হলেন, একই এলাকার ইসমাইল মৃধার ছেলে হেলাল মৃধা (২০) ও টিটু শিকদারের ছেলে রইস শিকদার (১৬)।

 

ভুক্তভোগীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "শাশুড়ির অপারেশনের জন্য আমি হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে ঘরের দরজা ভেঙে উঠিয়ে নিয়ে যায়। রাত তিনটার দিকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায়। আমি এই ঘটনায় জড়িত সকলের বিচার চাই"। 

 

কিশোরীর ছোট বোন জানায়," দুর্বত্তরা জানালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে আমার বোনের চুলের মুটি ধরে তাকে টেনে হেচড়ে বের করে নিয়ে যায়"।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) শামছুল আজম বলেন, "গণধর্ষণের ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন আরও, এলাকাবাসী যে দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে তারা বর্তমানে থানায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন"।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com