নওগাঁয় গরু চো/র চক্রের ৬ সদস্য গ্রে/প্তা/র, উদ্ধার ৫টি চো/রা/ই গরু
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা সংবাদ দাতাঃ
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় এবং র্যাব-১২, বগুড়ার সহযোগিতায় নওগাঁ জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তজেলা গরু চোর ও ডাকাত চক্রের আরও তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত চক্রটির ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত কয়েক সপ্তাহে নওগাঁর রানীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলায় একাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রানীনগর থানা পুলিশের অভিযানে তিনজন আন্তজেলা গরু চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে গত ২১ জুলাই রাতে র্যাব-১২, বগুড়ার সহযোগিতায় বগুড়া থেকে চক্রের আরেক সদস্য গোলাম রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা।
এরপর গোলাম রাব্বানীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার র্যাবের সঙ্গে সমন্বয় করে নাটোরের সিংড়া উপজেলায় যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ হাসিব এবং রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়ার নেতৃত্বে একটি দল গভীর রাতে সিংড়ায় পৌঁছে। সেখানে র্যাবের একটি দলও অভিযানে অংশ নেয়।
প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও পরিচালিত অভিযানে নাটোরের সিংড়ার হাট তাজপুর এলাকা থেকে কুখ্যাত গরু চোর ও ডাকাত শ্রী সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার (৪০) এবং শ্রী সুচন্দন রাজবংশী ওরফে সজল (২৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং অস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া ও ময়মনসিংহকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে গরু চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। গ্রেপ্তার সুজিত ও সুচন্দন স্থানীয়ভাবে গরুর ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি বা ডাকাতির মাধ্যমে আনা গরু কিছুদিন লালন-পালন করে পরে বিক্রি করতেন তারা।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “কৃষকের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ হলো গরু। গরু চোরদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”