তিস্তার করাল গ্রাসে গঙ্গাচড়া, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, রংপুর:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচাড়িপাড়া গ্রামে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে অন্তত আটটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে শত বিঘা আবাদি জমিও নদীতে হারিয়ে গেছে। পানি কমতে শুরু করার পর ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
বুধবার সরেজমিনে কাচাড়িপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার প্রবল স্রোতে নদীতীরের মাটি ধসে পড়ছে। অনেক বাড়ির আঙিনা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। কোথাও ভাঙন এসে পৌঁছেছে বসতঘরের একেবারে কাছে। শেষ সম্বল রক্ষায় কেউ ঘরের টিন খুলছেন, কেউ ইট, কাঠ ও আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে গৃহস্থালির মালপত্র নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয়দের দাবি, পানি বাড়ার সময় বন্যার শঙ্কা থাকলেও এখন পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের গতি বেড়েছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তীব্র স্রোতের কারণে নদীতীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভাঙনে সুরুজ মিয়া,আনোয়ার হোসেন, আলহাজ মোত্তালিবসহ অন্তত আটটি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি শত বিঘা আবাদি জমিও হারিয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত সুরুজ মিয়া বলেন, “ভিটেমাটি হারিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।”
আনোয়ার হোসেন বলেন, “নদী আমার ঘর, জমি—সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাব, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা।”
আরও এক ক্ষতিগ্রস্ত আলহাজ মোত্তালিব বলেন, “চোখের সামনে আমার বাড়ি নদীতে চলে গেল। সারাজীবনের সঞ্চয় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, জানি না।”
নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, ভাঙনের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে আরও বসতবাড়ি ও কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাঙনরোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার পর এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে ভাঙনরোধে কাজ চলমান রয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকাতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তিস্তা নদীর স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় কাচাড়িপাড়ার আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।