তিস্তার বুকে ১২৬ বছরের পুরোনো রেলসেতু, নতুন সেতুর অপেক্ষায় উত্তরাঞ্চল ‎

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫ এএম

মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, রংপুর:

‎লালমনিরহাট ও রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সংযোগস্থলে তিস্তা নদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক তিস্তা রেলসেতু। প্রায় ১২৬ বছর আগে নির্মিত এই সেতুর নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ছিল ১০০ বছর। সেই মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০০০ সালেই। এরপরও ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ২ হাজার ১১০ ফুট দীর্ঘ সেতুটির বিভিন্ন স্থানে কাঠের স্লিপার পচে গেছে, কোথাও নাট-বল্টু ঢিলা, আবার কোথাও ক্ষয় স্পষ্ট। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে রেললাইনে ফাটল দেখা দিলে তা সাময়িকভাবে ঝালাই করে ট্রেন চলাচল সচল রাখা হয়। এমন নড়বড়ে অবস্থার মধ্যেই প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ১৮টি ট্রেন সেতুটি অতিক্রম করছে।

‎রেলওয়ে সূত্র জানায়, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৯৯-১৯০০ সালে তিস্তা নদীর ওপর এই রেলসেতু নির্মিত হয়। সেতুর এক প্রান্ত রংপুরের কাউনিয়ায়, অন্য প্রান্ত লালমনিরহাটে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ১৯৭২ সালে অন্য একটি সেতু থেকে স্প্যান ও গার্ডার এনে মেরামত করা হয়।

‎একসময় এই সেতু দিয়ে রেল ও সড়ক—দুই ধরনের যান চলাচল করত। ১৯৭৮ সালের ৪ মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেতুটিতে সড়ক যোগাযোগ উদ্বোধন করেন। পরে ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তিস্তা সড়ক সেতু চালু হলে পুরোনো রেলসেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে এটি শুধু ট্রেন চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুটি উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগের প্রাণ। কিন্তু এখন এটি অনেক পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। সংস্কার হলেও কাজের গতি খুব ধীর। দ্রুত কার্যকর সংস্কার কিংবা নতুন সেতু নির্মাণ করা জরুরি।’

‎৮৫ বছর বয়সী মোন্নাফ মিয়া বলেন, ‘আমার জন্মের আগেই ব্রিটিশরা এই সেতু নির্মাণ করেছে। ছোটবেলা থেকে এটি দেখে আসছি। শুনেছি এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। নিয়মিত ভালোভাবে সংস্কার করলে হয়তো কিছুদিন আরও ব্যবহার করা সম্ভব।’

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, আন্তনগর ট্রেন সেতু পার হওয়ার সময় নির্ধারিত গতিতে চলতে পারে না। মালবাহী ও লোকাল ট্রেন উঠলে পুরো সেতু কেঁপে ওঠে, যা যাত্রীদের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

‎পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলের প্রধান প্রকৌশলী আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, ‘নতুন রেলসেতু নির্মাণের জন্য সমীক্ষা, নকশাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।’

‎বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ তসলিম আহমেদ খান বলেন, ‘ভারী ট্রেন চলাচলের সময় কিছুটা ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। তবে দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতি বছর পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন করা হয়। সেতুর মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখানে নতুন একটি রেলসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com