বৃহত্তর চট্টগ্রামকে 'দুর্গত এলাকা' ঘোষণা, জরুরি পুনর্বাসন, কৃষিঋণ মওকুফের দাবি জামায়াতের

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম

এম. ইউছুফ || চট্টগ্রাম :

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বৃহত্তর চট্টগ্রামকে 'দুর্গত এলাকা' (Disaster Zone) ঘোষণা করে জরুরি পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরুর জোর দাবি জানিয়েছেন। আজ সোমবার (২০ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি এ সব দাবি জানান। 

 

তিনি বলেন, টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস, বন্যা, জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ফলে চট্টগ্রাম মহানগরীসহ চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের লাখো মানুষ চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে, কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিবৃতিতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক ঋণ সম্পূর্ণ ঋণ মওকুফের দাবি জানিয়েছেন। 

 

নজরুল ইসলাম সরকারের প্রতি নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণের আহ্বান জানান:

 

১. সাধারণ বরাদ্দের বাইরে বিশেষ তহবিল গঠন করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নগদ অর্থ, জিআর চাল ও শুকনা খাবার বিতরণ।

 

২. ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর জন্য গৃহনির্মাণ সামগ্রী ও পুনর্বাসন তহবিল বরাদ্দ দিতে হবে। পাহাড়ধস, নদীভাঙন ও বন্যায় বিধ্বস্ত কাঁচা ও মাটির ঘর পুনর্নির্মাণে জরুরি সহায়তা।

 

৩. ক্ষতিগ্রস্ত পুনর্বাসনের পাশাপাশি গবাদিপশুর জন্য দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র (কিল্লা) নির্মাণে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। 

 

৪. ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে নেওয়া কৃষিঋণের কিস্তি আদায় সাময়িকভাবে স্থগিত ও প্রয়োজন সম্পূর্ণ ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করা।

 

৫. দুর্গত এলাকার মানুষের ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) ও অন্যান্য স্থানীয় কর মওকুফ অথবা পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধি করতে হবে।

 

৬. কৃষিকাজ, গবাদিপশু পালন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা পুনরায় চালুর জন্য বিনাসুদে বিশেষ প্রণোদনা ঋণের ব্যবস্থা করা।

 

৭. ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ, রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট ও বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত পুনরুদ্ধারে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করে জরুরি ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ ও কাজ শুরু করতে হবে।

 

৮. ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ, মন্দিরসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয় সংস্কারে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা।

 

৯. দুর্গত এলাকায় খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সুলভ মূল্যে সরবরাহের জন্য ওএমএস কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিশেষ ভিজিএফ কার্ডের আওতা বৃদ্ধি করা।

 

১০. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি রোধে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর বাজার মনিটরিং ও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা।

 

১১. জাতিসংঘ, রেড ক্রিসেন্ট এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও এনজিওগুলোর মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন তহবিল সংগ্রহ এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সহায়তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

 

১২. জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা, ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্বাহী ক্ষমতা দিতে হবে। এসব কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারকে সম্পৃক্ত করে দলীয় সংকীর্ণতা, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রোধের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে হবে।

 

বিবৃতিতে নজরুল ইসলাম আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় দল-মত নির্বিশেষে সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ। তাই বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের জীবন, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।

 

তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নিজেও দুর্গত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে বৃহত্তর চট্টগ্রামকে 'দুর্গত এলাকা' ঘোষণা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের দাবি জানিয়েছিলেন। বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে সেই দাবিই আজ আরও বেশি যৌক্তিক ও সময়োপযোগী হয়ে উঠেছে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com