কলাপাড়ায় উত্তরা ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা: 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উত্তরা ব্যাংক পিএলসি খেপুপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক সহ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব থেকে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা আত্মসাত, প্রতারণা, গোপন তথ্য ফাঁস এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে কলাপাড়া পৌরসভার অফিস মহল্লার বাসিন্দা ও ঠিকাদার গোলাম রাব্বি ফৌজদারি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 

রোববার সাত জুন কলাপাড়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর. নং-৭১৫ নং মামলা দায়ের করেন । মামলায় উত্তরা ব্যাংক খেপুপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান ও বাউফল উপজেলার বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৩৮৪, ৪০৬, ৪২০, ৪৮৯(ক), ৫০৬(খ) ও ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী গোলাম রাব্বি উত্তরা ব্যাংকের খেপুপাড়া শাখার একজন নিয়মিত গ্রাহক। তার হিসাবে ঠিকাদারি কাজের বিল বাবদ ৬ লাখ ১২ হাজার ৭৫০ টাকা জমা হওয়ার পর তিনি টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দ্বিতীয় আসামি ও তার সহযোগীরা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকার একটি এমার্জেন্সি/জরুরী চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে বাদী মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে হিসাবের কিছু টাকা অন্যত্র স্থানান্তর করে ব্যালেন্স কমিয়ে দেন। ফলে ওই দিন চেকটি কার্যকর হয়নি। কিন্তু পরে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক গোপনে হিসাবের তথ্য হাবিবুর রহমান কে সরবরাহ করেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ম্যানেজার লুৎফুর রহমানের দেয়া ততথ্যের ভিত্তিতে হাবিবুর রহমান গোলাম রাব্বির একাউন্টে ৩২ হাজার টাকা জমা দিয়ে হিসাবে ঠিক ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা সমন্বয় করেন। এরপর বাদীর অনুমতি বা উপস্থিতি ছাড়াই বিতর্কিত কাউন্টার চেকের মাধ্যমে ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে গোলাম রাব্বি জানান, উত্তরা ব্যাংকের ম্যানেজার লুৎফুর রহমানসহ আরো একজনে আমার টাকা আত্মসাৎ করেন, আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া এমার্জেন্সি চেক টি ২৪ ঘন্টা পড়ে মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ম্যানেজার ৩ দিন পড়ে ইমারজেন্সি/জরুরী চেক দিয়ে আমার টাকা বের করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে আমি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করি, পরে বারো জুলাই আপস-মীমাংসার কথা বলে আমাকে ব্যাংকে ডাকা হয়। সেখানে আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হলে আমি কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসি।

 

গোলাম রাব্বি আরও বলেন, ম্যানেজার সহ ব্যাংকের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা গ্রাহকের গোপন তথ্য ফাঁস করে বহিরাগতদের সহযোগিতায় করে আমার টাকা আত্মসাৎ করেন। আমি এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। 

 

এ বিষয়ে উত্তারা ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক লুৎফুর রহমান আন অফিসিয়াল ভাবে জানায়, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা সম্পুর্ন মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, আমাদের ব্যাংক থেকে কোন গ্রাহকের তথ্য অন্য কাউকে দেয়া হয়না। বিষয়টি আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তারা তথ্য চেয়েছে আমরা রিপ্লে দিয়ে দিয়েছি। সাংবাদিকরা অন্য বিষয় প্রশ্ন করলে তিনি অফিসিয়াল ভাবে আর কোন বক্তাব্য দিতে রাজি হয়নি।

 

কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফেরদৌস মিয়া জানান, ব্যাংক ম্যানেজার সহ আরো একজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে, মামলাটি সিআইডি কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ অনুযায়ী মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হবে

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com