মামলা
সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক, অস্ত্র ও বিভিন্ন মামলার ৭ আসামি গ্রেফতার
নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি, মাদক ব্যবসায়ী ও চুরির ঘটনায় জড়িতসহ মোট ৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৮টি মামলার আসামি আবুল বাশার ওরফে বাদশা মিয়া (৪৮)-কে ২৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে আব্দুল মান্নান ওরফে মান্নান চোরা (৫০)-কেও আটক করা হয়। এছাড়া মাদক ও অস্ত্রসহ ১৪টি মামলার আসামি এবং পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী লাল বেলাল, ছাতারপাইয়া বাজারের মাদক ব্যবসার ডিলার কামরুল হাসান, জিআর গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত মোঃ ইসরাফিল, চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত আব্দুল লতিফ ওরফে ফয়সাল এবং নিয়মিত মামলার আসামি নুর ইসলাম ওরফে সাগর (৩৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সেনবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তাদের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
খিলগাঁওয়ে স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার স্বামীর, আদালতে পাঠানো হয়েছে
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় নিজ ভাড়া বাসা থেকে কলেজছাত্রী গৃহবধূ সানজিদা আক্তার মারিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামী সাইফুল ইসলাম হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠিয়েছে। শুক্রবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ গোড়ান আলিয়া মাদ্রাসার পাশের একটি বাসা থেকে ১৮ বছর বয়সী মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে খিলগাঁও থানা পুলিশ। মারিয়া লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। খবর পেয়ে রাতেই সাইফুলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতের বড় ভাই মো. চান মিয়া বলেন, প্রায় ৮ মাস আগে কুমিল্লার হোমনার বাসিন্দা ফুডপান্ডার ডেলিভারিম্যান সাইফুলের সঙ্গে মারিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা দক্ষিণ গোড়ানের ওই বাসার নিচতলায় থাকতেন। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে প্রথমে সাইফুলকে ফোন দেন তিনি। সাইফুল বাসায় গিয়ে দেখতে বলেন। পরে স্বজনরা বাসায় গিয়ে রান্নাঘরের পাশের বারান্দায় মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় কালো দাগ ছিল। ৯ এ কল দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর ঢাকা মেডিকেলে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মারিয়ার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায়। বাবার নাম মো. মহসিন। খিলগাঁও থানার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খবর পাওয়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। মারিয়ার গলায় পাটের সুতলি পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রথমে এটি আত্মহত্যা বলে প্রচার হলেও তদন্তে হত্যা প্রমাণিত হয়। স্বামীর বাবা-মাকে নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পুলিশের। এ ঘটনায় শনিবার ১ জুলাই নিহতের ভাই চান মিয়া বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।
প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে নিজ ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের পাড়াপরমানন্দ গ্রামের ফকিরবাড়ী এলাকায় নিজ বাড়ির পাকঘরে আগুন লাগিয়ে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন ২০২৬ রাত আনুমানিক ১২টার দিকে পূর্বশত্রুতার জেরে কাজল মিয়া (৫০), পিতা—মৃত আব্দুল হেলিম এবং তার স্ত্রী মোমেছানা ওরফে মমতা (৪০) নিজেদের বাড়ির রান্নাঘরে আগুন দেন—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। পরে এ ঘটনায় কাজল মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে চরমারিয়া গ্রামের বাসিন্দা উবায়দুল হক (৩৮), পিতা—মৃত আবু বকর ছিদ্দিক-সহ আরও ৫ থেকে ৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের অভিযোগ, নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানির উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তবে এ বিষয়ে কাজল মিয়া বা তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এদিকে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাফাত হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে কালিগঞ্জে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বারদহা বাজারে কিশোর রাফাত হোসেন (১৭) হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪ জুলাই রোজ শনিবার। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রুহুল কুদ্দুস গাজী। তিনি বলেন, একটি কিশোরের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে আড়াল করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন রাফাতের মা শাহানারা খাতুন, আব্দুল লতিফ সরদার, আজিজুল ইসলাম, আব্দুল মালেক, রফিকুল ইসলাম, রমজান আলী, আলতাফ হোসেন, আবুল কাশেম, মাছুম বিল্লাহ প্রমুখ। রাফাতের মা শাহানারা খাতুন অভিযোগ করেন, তার ছেলে স্থানীয় আক্তারের ফার্মে কর্মচারী হিসেবে কাজ করত। গত ১৩ জুন তাকে হত্যা করে ফার্মে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে শনিবার সকালে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শত শত নারী-পুরুষ কিশোর যুবক বৃদ্ধরাও অংশ নেন। আব্দুল লতিফ সরদার বলেন, স্থানীয় অর্থবিত্তের মালিক ও প্রভাবশালী আক্তারের মাদকাসক্ত ছেলে অলিদ এই রাফাতকে শুধু না নেশা টাকা যোগাড় করতে নানাজনকে নানা ভাবেই নির্যাতন নিপীড়ন এর আগেও করেছে। তবে এবার একেবারে করুণ শিকার হলো দিনমজুরের ছেলে রাফাত। দিনমজুরের সন্তান হওয়ায় রাফাতের পরিবার বিচার থেকে বঞ্চিত হবে এমনটি স্বাধীন দেশে হতে পারে না। আব্দুল মালেক বলেন, তদন্তে গাফিলতি জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে। রফিকুল ইসলাম বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়। রমজান আলী বলেন, অপরাধীরা যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আলতাফ হোসেন বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। আবুল কাশেম বলেন, রাফাতের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। মাছুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, একাধিক কর্মসূচি পালন ও পুলিশের কাছে বারবার আবেদন করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তারা অবিলম্বে রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। শফিকুল ইসলাম জানান, ১৩ জুন আক্তার হোসেনের মুরগির ফার্মে কর্মরত অবস্থায় সুকৌশলে ফার্ম মালিকের ছেলে অলিদ হোসেন এই হত্যা সংঘটিত করে। এবং ফার্মের নীচু বাঁশে ঝুলিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি পুলিশের কাছে বারবার জানানো স্বত্ত্বেয় পুলিশ কোনভাবেই নড়াচড়া করছে না। শফিকুল বলেন, গরীব বলে কি আমাদের বিচার পাওয়ার অধিকার নেই?
কালীগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ৮ জন আটক
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা এক মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ৮ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই মামলায় কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বিজুসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিজুসহ ৩ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কাবিরুল ইসলাম নান্নু (৪৮), পৌর শ্রমিক লীগের সাবেক সহ-সম্পাদক নওশের (৪১), পৌর শ্রমিক লীগের সাবেক কার্যকরী সদস্য মো. আশরাফুল শেখ (৩৪), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক শেখ সৌরভ ওরফে সাদ্দাম (৩০), কালীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মাসুদ আলী (৪৬), পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. সবুজ হোসেন (৩৬), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মোস্তাক আহম্মেদ লাভলু (৩৮) এবং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান (৪৯)। মামলার পলাতক আসামিরা হলেন, মোস্তাফিজুর রহমান বিজু (৫৭), মো. কালাম (৪০) এবং মো. পারভেজ হোসনে অপু (২৫)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিজুর বাড়িতে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় থানা পুলিশ। এ সময় বিজুকে আটক করার চেষ্টা করা হলে তার স্বজন ও সমর্থকদের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। একপর্যায়ে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি সেখান থেকে চলে যান। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ৮ আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, গতকালের ঘটনায় মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। গ্রেফতারকৃতদের বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পূর্বাচলে সরকারি জমি বরাদ্দ–জালিয়াতি: শেখ হাসিনা, জয় ও পুতুলসহ ৪৭ জনের রায়ের দিন আজ
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোট ৩০ কাঠা সরকারি জমি বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দুদকের দায়ের করা তিন পৃথক মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বেলা ১১টায় রায় ঘোষণা করবেন।