গ্রেফতার
শ্রীপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মিছিল থেকে ৬ জন আটক
গাজীপুরের শ্রীপুরে বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মিছিলের থেকে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। স্থানীয়দের দাবি, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগও উঠেছে। তবে বিস্ফোরণের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর আড়াইটা বিকেল ৩টার মধ্যে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাতখামাইর-দুর্লভপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা থেকে একটি কালো রঙের হাইয়েস ও একটি বাসে করে কয়েকজন যুবক সাতখামাইর এলাকায় আসেন। তাদের কাছে একটি ব্যানার থাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে কয়েকজনকে আটক করেন। পরে তাদের শ্রীপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে থাকা বাসটি চলে যেতে সক্ষম হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ব্যানারে লেখা ছিল, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ২.০ লোডিং...’ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভের আহ্বান। ব্যানারে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রলীগের নামও উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বরমী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রনি আকন্দ বলেন, ‘সাতখামাইর এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে।’ বরমী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আখতারুজ্জামান শামীম তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে দাবি করেন, জুমার নামাজের পর গফরগাঁও থেকে আসা কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৪১৮৯ নম্বরের একটি হাইয়েসসহ ছয়জনকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। তিনি ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগও করেন। পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার রাজু (২৩), তানজিম (১৪), ওয়ালি ইসলাম (৩২), মোবারিজ (২০), কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার রাব্বি (১৯) এবং ইমন (২০)। শ্রীপুর থানার ওসি (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বলেন, ‘মিছিলের প্রস্তুতির সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা একটি হাইয়েস জব্দ করা হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং উদ্ধার হওয়া ব্যানার ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগের সত্যতাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ১০/৭/২৬ইং
বোয়ালখালী থানা পুলিশের অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
বোয়ালখালী থানা পুলিশের অভিযানে চেক প্রতারণা মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ফাহিম কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যাক্তি উপজেলার জৈষ্ঠপুরা নূর ইসলামের বাড়ির নুরুল ইসলামের ছেলে বলে জানায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ফাহিমের বিরুদ্ধে মামলার বাদী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ২৫ লক্ষ টাকা বকেয়ার দাবিতে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদীর পাওনা টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যে বিবাদী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এস. এস ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের নামে One Bank Limited-এর হিসাব থেকে ২২ জুন ২০২৫ তারিখে ২৫,০০,০০০ (পঁচিশ লক্ষ) টাকা মূল্যের (চেক নং- ৮৯৬৭০৫৫) একটি চেক ইস্যু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাদী চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দিলে ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক "Account Closed/Dormant/Blocked" মন্তব্যে চেকটি অনাদায়ী অবস্থায় ফেরত দেয়। পরে বাদী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস আইন ১৮৮১-এর বিধান অনুযায়ী বিবাদীর কাছে আইনজীবীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনা অর্থ পরিশোধ না করায় বাদী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার সঙ্গে চেকের অনুলিপি, চেক ডিজঅনার মেমো, আইনি নোটিশ, ডাক রশিদ, প্রাপ্তি স্বীকারপত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস আইন, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ফাহিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।