খিলগাঁওয়ে স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার স্বামীর, আদালতে পাঠানো হয়েছে
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
তাইমুল হায়দার সজীব, সংবাদদাতা:
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় নিজ ভাড়া বাসা থেকে কলেজছাত্রী গৃহবধূ সানজিদা আক্তার মারিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামী সাইফুল ইসলাম হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠিয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ গোড়ান আলিয়া মাদ্রাসার পাশের একটি বাসা থেকে ১৮ বছর বয়সী মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে খিলগাঁও থানা পুলিশ। মারিয়া লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
খবর পেয়ে রাতেই সাইফুলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহতের বড় ভাই মো. চান মিয়া বলেন, প্রায় ৮ মাস আগে কুমিল্লার হোমনার বাসিন্দা ফুডপান্ডার ডেলিভারিম্যান সাইফুলের সঙ্গে মারিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা দক্ষিণ গোড়ানের ওই বাসার নিচতলায় থাকতেন।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে প্রথমে সাইফুলকে ফোন দেন তিনি। সাইফুল বাসায় গিয়ে দেখতে বলেন। পরে স্বজনরা বাসায় গিয়ে রান্নাঘরের পাশের বারান্দায় মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় কালো দাগ ছিল। ৯ এ কল দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর ঢাকা মেডিকেলে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মারিয়ার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায়। বাবার নাম মো. মহসিন।
খিলগাঁও থানার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খবর পাওয়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। মারিয়ার গলায় পাটের সুতলি পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রথমে এটি আত্মহত্যা বলে প্রচার হলেও তদন্তে হত্যা প্রমাণিত হয়।
স্বামীর বাবা-মাকে নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পুলিশের।
এ ঘটনায় শনিবার ১ জুলাই নিহতের ভাই চান মিয়া বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।