বৃক্ষরোপণ
উজিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে উজিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ পালন করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় "বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের প্রধান ফটকের সামনে বিলুপ্তপ্রায় সৌন্দর্যবর্ধক কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলী সুজা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ জাহিদ আলম, সদস্য সচিব সরদার সোহেল, সদস্য মাহাবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, মোঃ সোহাগ হাওলাদার, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মহসিন মিয়া লিটন, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শরিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাওছার হোসেন রাড়ী, দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম আসাদ, সদস্য খলিলুর রহমান, উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মোঃ মারফুদুল হক, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র কর্মকার, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জাকির হোসেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন, মোঃ রেজাউল, নিখিল পাড়, মোঃ রুহুল আমিন। এছাড়াও সাংবাদিক মোস্তফা জামান সুমন, জাহিদ হাসান রানাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এসময় অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলী সুজা বলেন, "পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষের কোনো বিকল্প নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং সেগুলোর পরিচর্যার দায়িত্বও নিতে হবে। উজিরপুর প্রেসক্লাবের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং সমাজের অন্যান্য সংগঠনের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।" উজিরপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ জাহিদ আলম বলেন, "সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিবেশ সংরক্ষণেও সাংবাদিকদের ভূমিকা থাকা উচিত। সেই ভাবনা থেকেই আমাদের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। একটি গাছ শুধু ছায়া বা ফলই দেয় না, এটি মানুষের জীবন ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং তা পরিচর্যার আহ্বান জানাই।" দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় মারকাযুল কারিম সালেমা মজিদ কওমি মাদ্রাসা, শিকারপুর জিজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শোলক এম. এ. রশিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৮৫ নম্বর মার্দাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুসলিম পাড়া জামে মসজিদ, আদর্শ গ্রাম জামে মসজিদ, চৌকিদার বাড়ি জামে মসজিদ, ঠাকুরহাট জামে মসজিদসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির শেষে উজিরপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রতি পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারা বলেন, একটি সবুজ, সুন্দর ও দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করা এবং রোপণকৃত গাছের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা। পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগই পারে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ উপহার দিতে।
কালীগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ, টেকসই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ৫০০টি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার ( জুলাই ) উপজেলার সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর–সুন্দরপুর-পান্নাতলা সড়কে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু তালিব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সৈয়দ শাহরিয়ার আকাশ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুর রহমান মিলন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. আবু তালিব বলেন, “সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সামাজিক আন্দোলন হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
সরকারের গৃহীত পাঁচ বছরমেয়াদি (২০২৬-২০৩০) ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ একটি বৃক্ষরোপণ উদ্যোগ শুরু করেছে।আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও বিজ্ঞান ভবন সংলগ্ন এলাকায় একটি লাল তেঁতুল গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শে গাছ লাগানোর উপযুক্ত স্থান আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ভবিষ্যতে অপরিকল্পিত গাছ কাটার প্রয়োজন না পড়ে। কর্মসূচির আওতায় বিরল প্রজাতির লাল তেঁতুল ছাড়াও পলাশ, পারুল ও রক্তচন্দনের চারা রোপণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার এবং চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ। এছাড়া বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলাসহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সরওয়ার মুর্শেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুরও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. তারানা নুপুর, অধ্যাপক ড. ফারহানা শাহরিন, অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস, ড. তানিয়া আক্তার, গবেষণা ও সম্প্রসারণ কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সবুজ পাহাড়ের নতুন স্বপ্ন: মহালছড়িতে আড়াই লাখ চারা রোপণ করছে সেনাবাহিনী
মহালছড়ি সংবাদদাতা: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়িতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন ২০২৬) মহালছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, ভূমিক্ষয় প্রতিরোধ এবং পাহাড়ি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হবে। “সুন্দর-সুশৃঙ্খল ও একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে” এই কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে মহালছড়ি উপজেলার ৪নং মাইসছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি মুসলিমপাড়ার মুন্সি আব্দুর রউফ উচ্চ বিদ্যালয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আল-জাবির আসিফ, পিএসসি। একই দিনে মহালছড়ি উপজেলার শিশু মঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়, লেমুৃছড়ি শান্তিপুর বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চৌংড়াছড়ি শহীদ ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পর্যায়ক্রমে মহালছড়ি জোনের আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়নের ১৭টি পাড়ায় স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। এসময় প্রায় ৫০০টি চারা রোপণ করা হয়। অনুষ্ঠানে জোন অধিনায়ক বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। আজ যে চারা রোপণ করা হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই চারাগুলো লাগিয়ে পরিচর্যা করতে হবে। তিনি পরিবেশ রক্ষায় সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দীঘিনালা সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিতরণ করা হয় ৩ হাজার ৬০০ টি চারা গাছ
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সেনাবাহিনী জোনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান- ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২১ই জুন রোজ রবিবার দীঘিনালা জোনের তারাবুনিয়া নিউজিল্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দীঘিনালা জোন কমান্ডার লে. কর্ণেল আল-আমিন উপস্থিতিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩ হাজার ৬০০টি ফলজ,বনজ,ঔষধি বৃক্ষের চারা বিতরণ করেন। জোন অধিনায়ক বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা,ভবিষ্যতে প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। পাশাপাশি স্থানীয় সকলকে নিজ নিজ এলাকায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বৃদ্ধির জন্য আহবান জানান। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা, বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা, বাজার চৌধুরী জেসমিন চাকমাসহ স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ