স্কুল
সুনামগঞ্জের হাওর পাড়ের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পেল যাতায়াতের নৌকা
বর্ষায় হাওর পাড়ের বিদ্যালয় গুলোতে যাতায়াতের দূর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ও সহজে বিদ্যালয়ের পৌঁছাতে সুনামগঞ্জে ১৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৌকা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। গত সোমবার দুপুরে জেলার মধ্যনগর উপজেলার কাচারী ঘাটে ১৬ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের হাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে তুলে দেয়া হয়। এসময় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন,উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবে হায়াৎ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আবুল বাশার, বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি রমা রঞ্জন সরকার, খালিশাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশিদ আলমসহ নৌকাপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার বরাদ্দে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের উদ্যোগ ও সংসদ সদস্যের দেয়া বরাদ্দের অর্থে উপজেলার খালিশাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশিদ আলমকে সভাপতি করে একটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে ১৬টি নৌকা নির্মাণ করে বলরামপুর, দুগনই, সাতুর,গলইখালী, বীরসিংহপাড়া, চাপাইতি, শালীয়ানী, জামালপুর, কামাউড়া, খালিশাকান্দা, ইটাউরি, মাছুয়াকান্দা, দৌলতপুর, দোয়াদুর রহমান, মো. আলীপুর আটাইশা মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নৌকা গুলো দেয়া হয়। মধ্যনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান,বর্ষায় মৌসুমে উপজেলার ৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নৌকা দিয়ে আসা যাওয়া করতে হয়। ১৬টি নৌকা দেওয়ায় ওই সব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়বে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে অভিভাবকদের মধ্যে। সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন,হাওর বেষ্টিত আমার নির্বাচন এলাকা। বর্ষায় মৌসুমে সড়ক পানিতে ডুবে যাতায়াতের চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ সকল সকল স্তরের মানুষজন।নৌকা না থাকায় হাওরাঞ্চলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত কমে যায়। তাই বর্ষার মৌসুমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিত ভাড়াতে ও শিক্ষার প্রসারের জন্যেই নৌকা বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছি। যেসব বিদ্যালয়ে নৌকার প্রয়োজন সে গুলোতে প্রর্যায়ক্রমে দেয়া হবে।
কালীগঞ্জে দুর্নীতির দায়ে গোপালপুর হাইস্কুলর প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মানববন্ধন
রবিবার(৫ জুলাই) ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন পালের লাগামহীন দুর্নীতি ও সীমাহীন অনিয়মের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তার দ্রুত অপসারণ এবং শাস্তির দাবিতে আজ সকাল ৯টায় বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে ক্ষুব্ধ ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। বার বার সাসপেন্ড, তবুও বহাল তবিয়তে! মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন পাল দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিকে নিজের ব্যক্তিগত দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। ইতিপূর্বে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনি একাধিকবার সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) হলেও প্রতিবারই ‘উপরিমহল’ ও প্রভাবশালী চক্রকে ম্যানেজ করে স্বপদে ফিরে আসেন। চেয়ারে ফিরেই তিনি দ্বিগুণ উৎসাহে আবারও দুর্নীতি ও অনিয়মে মগ্ন হন, যা গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। চিত্তরঞ্জনের এই লাগামহীন স্বেচ্ছাচারিতা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ঐতিহ্যবাহী গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জানান: "এই দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের অধীনে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। বাধ্য হয়ে এলাকার মানুষ এখন ঘরের কাছের স্কুল বাদ দিয়ে দূরবর্তী কালীগঞ্জ ও কোলাবাজার ইউনাইটেড হাইস্কুলে তাদের ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করাচ্ছেন।" ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা মানববন্ধন থেকে ফুসে ওঠা জনতা ও অভিভাবকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষককে অপসারণ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ভাঙা শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং বিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষা করতে তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।