বন্যা
বন্যার্তদের পাশে নোবিপ্রবি: শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ত্রাণ পৌঁছালো দুর্গম এলাকায়
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অফলাইন ও অনলাইনে দুই দিনব্যাপী তহবিল সংগ্রহ করে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। ওই অর্থ দিয়ে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী সম্বলিত ত্রাণ প্যাকেট প্রস্তুত করে দুর্গত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের দুটি স্বেচ্ছাসেবী দল দিনব্যাপী ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল আলু, পেঁয়াজ, আটা, মুড়ি, চিড়া, চিনি, সয়াবিন তেল, বিস্কুট, ওরস্যালাইন (ওআরএস) এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ওষুধ। স্বেচ্ছাসেবীরা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে সাতকানিয়া উপজেলার রামপুর, ভূতপাড়া ও তেমুহনী এবং বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা, বাঁশখালা ও ছাপাছড়ি এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেন। দিনব্যাপী কার্যক্রম শেষে বুধবার রাতে তারা নিরাপদে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাহেদ নাঈম বলেন, “দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে আমরা একটি ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করি। প্রথম দুই দিনের মধ্যেই প্রায় দেড় লাখ টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হই। এ অর্থ দিয়ে পেঁয়াজ, আটা, চিনি, চিড়া, আলু, বিস্কুট ও অন্যান্য শুকনো খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাজনিত ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ওষুধও সরবরাহ করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বাঁশখালী, সাতকানিয়ার কয়েকটি ইউনিয়ন ও আনোয়ারা অঞ্চল কভার করা হয়েছে। প্রায় ৩০০টি পরিবারের কাছে এসব সহায়তা পৌঁছে দিতে পেরেছি। যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।” ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুসাইবা চৌধুরী বলেন, “নোবিপ্রবির শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ক্লাব ও প্রশাসনের সম্মিলিত সহযোগিতা ছাড়া মাত্র দেড় দিনে এত বড় তহবিল সংগ্রহ সম্ভব হতো না। আমরা এমন সব এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যেখানে এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছায়নি এবং বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ছিল সবচেয়ে বেশি।” তিনি জানান, আনোয়ারা, বাঁশখালী ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় গিয়ে তারা ত্রাণ বিতরণ করেন। কোথাও পানি নেমে গেলেও পুরো এলাকা কাদায় ডুবে ছিল, আবার কোথাও জলাবদ্ধতা এখনো কাটেনি। সাতকানিয়ার তেমুহনী এলাকায় নৌকায় করে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হয়েছে। শিশুদের জন্য জ্বরের ওষুধসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করতে পেরে তারা বিশেষভাবে আনন্দিত। স্বেচ্ছাসেবক আজীজ মোহাম্মদ রিজান বলেন, “‘বন্যার্তদের পাশে নোবিপ্রবিয়ান’ ব্যানারে ২০২৪ সালের নোয়াখালীর বন্যাতেও আমরা কাজ করেছি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবারও একই প্ল্যাটফর্ম থেকে সফলভাবে বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা আমাদের এ উদ্যোগকে সফল করেছে।” স্বেচ্ছাসেবী শেখ আবরার নাসিফ বলেন, “বন্যার পানি নেমে গেলেও মানুষের দুর্ভোগ এখনো শেষ হয়নি। অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।” শিক্ষার্থীদের এ মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। আয়োজকদের আশা, ভবিষ্যতেও এমন স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের আরও অনুপ্রাণিত করবে।
বন্যার পানি নেমে গেলেও রয়ে গেছে ক্ষতচিহ্ন,উর্বর কৃষিজমিতে বালুর স্তর
লালমনিরহাটে বন্যার পানি নেমে গেছে দু'দিন আগেই। কিন্তু নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে এখনো পড়ে আছে পুরু বালুর স্তর। কোথাও ছয়-সাত ইঞ্চি, কোথাও এক থেকে দুই ফুট পর্যন্ত বালু জমে উর্বর কৃষিজমি ঢেকে ফেলেছে। ফলে আমনসহ মৌসুমি ফসল আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত বালু অপসারণ করা না গেলে এসব জমি বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে থাকতে পারে। কৃষকরা বলছেন, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন করে বালুর অভিশাপে পড়েছেন তারা। জমিতে বালুর স্তর জমে থাকায় চাষাবাদ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অথচ এক বিঘা জমি থেকে বালু সরাতে প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা, যা অধিকাংশ কৃষকের পক্ষেই বহন করা সম্ভব নয়। এতে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ! বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কা। তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীতীরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা নদীতীরবর্তী কালমাটি গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বারের রয়েছে আট বিঘা আবাদি জমি। এবারের বন্যায় এর মধ্যে দুই বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে যায়। পানি সরে গেলে তিনি দেখেন, ওই দুই বিঘা জমির ওপর প্রায় এক ফুট পুরু বালুর স্তর জমে রয়েছে। হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, জমির ওপর থেকে বালু না সরালে কোনো ফসলই ঠিকমতো হবে না। কিন্তু এত টাকা দিয়ে বালু সরানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। হয়তো আবার বড় বন্যা হলে কিছু বালু সরে যাবে। নদীর পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বালু এসে জমিতে পড়ে থাকে। বালুময় জমিতে কোনো ফসল ভালো হয় না। এতে আমরা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ি। একই গ্রামের কৃষক আনছার আলীর দশ বিঘা জমির মধ্যে এক বিঘা এখন বালুর নিচে চাপা পড়েছে। তিনি বলেন, ‘বড় ধরনের বন্যা হলে হয়তো কিছু বালু সরে যাবে। তা না হলে কয়েক বছর জমি অনাবাদি রাখতে হবে। এক বিঘা জমির বালু সরাতে কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাগবে। এই টাকা কোথায় পাব ? কালীগঞ্জের ভোটমারী ইউনিয়নের শৈলমারী গ্রামের কৃষক রহমত আলী বলেন, পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বালু এসে জমিতে পড়ে আছে। আমার ৮ বিঘা জমি পানির নিচে ছিল। এর মধ্যে তিন বিঘা জমিতে এখন বালুর স্তর জমেছে। শুধু আমার নয়, প্রায় সব কৃষকের জমির একই অবস্থা। একই এলাকার কৃষক ওসমান গনি বলেন, দুই বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। এই জমিতে এখন পলি পড়ে আছে। হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে চাষাবাদ করি। কিছুদিন আগে একবার বন্যায় ডুবে গিয়ে আমার ৩ বিঘা জমির আমন ধান নষ্ট হয়েছিল। চারা ক্রয় করে দ্বিতীয় দফায় রোপন করেছিলাম। সেটাও এক সপ্তাহের ব্যবধানের বন্যার পানিতে ডুবে নষ্ট হলো। এখন চারা কেনার টাকাও নেই। চারা রোপন না করলে পরিবার খাবে কি? আমরা কিভাবে বাঁচবো জানি না। কৃষি কর্মকর্তার বলছেন, সাধারণ বন্যায় নদীর পানির সঙ্গে উর্বর পলি জমে ভেসে আসে, যা জমির উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। কিন্তু নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে বা প্রবল স্রোতে পানি প্রবেশ করলে সেখানে পলির চেয়ে মোটা বালুর পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। ফলে উর্বর মাটির ওপর পুরু বালুর স্তর জমে কৃষিজমি দীর্ঘ সময়ের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ে। লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সাইখুল আরিফিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। তিনি কৃষকদের উঁচু জমিতে রাখা আমনের বলান ক্ষেত থেকে চারা তুলে পুনরায় রোপণের পরামর্শ দিয়েছেন। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর রংপুর অঞ্চলের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র সহ বিভিন্ন নদ-নদীর তীরবর্তী এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে বালুর স্তর জমে। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী বন্যায় কিছু জমি থেকে বালু স্বাভাবিকভাবেই সরে যায়। তবে অনেক জমিতে বছরের পর বছর বালু রয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া যায়। কৃষকদের দাবি, শুধু ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করলেই হবে না। দ্রুত বালু অপসারণে সরকারি সহায়তা, পুনর্বাসন কর্মসূচি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা না দিলে নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো পরিবার দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে এমনটাই জানান।
কমছে তিস্তার পানি, দুর্ভোগ কমেনি বানভাসী মানুষের
ভারী বর্ষণ আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তা আবার নিচে নেমে এসেছে। ফলে লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিরও দ্রুত উন্নতি ঘটেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সোমবার সন্ধ্যা থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়। নদী তীরবর্তী আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা মহির উদ্দিন বলেন, “সোমবার হঠাৎ পানি বাড়ায় চরের অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। বুধবার সকাল থেকে পানি ধীরে ধীরে নেমে যেতে শুরু করেছে। তবে ঘরে পানি ঢোকায় আসবাব ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে, মানুষের দুর্ভোগ এখনও কমেনি।’ আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের দিক নির্দেশনায় আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। আমরা দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াব।’ লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, ‘গত মৌসুমে জেলার পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী প্রায় ১১ কিলোমিটার এলাকায় নদী শাসনের (তীর সংরক্ষণ) কাজ করা হয়েছে। এর ফলে নদীর মূল স্রোতধারা সরে যাওয়ায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও লোকালয়ে বড় ধরনের প্লাবন ঘটেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আরও ১০ কিলোমিটার নদী শাসনের কাজ করা প্রয়োজন। সেটি সম্ভব হলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও লোকালয় প্লাবিত হবে না।’ বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ সহায়তার বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাসেদুল হক প্রধান বলেন, ‘বন্যা মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে আগেই চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া আছে। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তা বিতরণ করবেন বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পানি নেমে গেলে নদীভাঙন শুরু হয়ে বসতভিটা ও আবাদি জমির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। কৃষক সাদেক মিয়া বলেন, প্রতি বছরেই ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর ভারি বর্ষণের ফলে তিস্তা নদীতে বন্যার সৃষ্টি হয় এবং দেখা দেয় তীব্র নদী ভাঙন। আমরা কোন ত্রান চাইনা, এর স্থায়ী সমাধান চাই! এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তা ব্যারেজ কন্ট্রোল রুম ইনচাজ নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, উজানের ঢল কিছুটা কম থাকায় বুধবার সকাল ৯টা থেকে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও বন্যার আতঙ্ক কাটেনি
কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি সোমবার রাতভর পর্যায়ক্রমে ৩, ১০ ও ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে পানি প্রবাহ সামান্য কমে গিয়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের তিস্তাতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা নদীপাড়ের বাসিন্দাদের চরম উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। এর আগে গত মাসের শেষ দিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করেছিল, তবে এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে পানি পুনরায় বাড়তে শুরু করে এবং সোমবার সন্ধ্যায় তা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করায় চলতি মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো বন্যার শঙ্কা প্রবল হয়েছে। তিস্তার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে নৌকা ও ভেলা। পানিবন্দি হয়ে পড়া মানুষ গৃহপালিত পশু, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একইসঙ্গে রয়েছে সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব। হাতীবান্ধার পারুলিয়া চরের বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে পানি ঢুকেছে। পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বন্যার সময় চারদিকে শুধু পানি থাকায় আমাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে। পানির তীব্র চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদী তীরবর্তী উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধগুলো সংস্কার না করায় সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামতের কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থের অপচয় করে বলে অভিযোগ তাদের। শুষ্ক মৌসুমে কাজ করলে বাঁধ পাকাপোক্ত হতো এবং মানুষ নদীভাঙন ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেত বলে দাবি করেন তারা। সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তায় পানিপ্রবাহ বেড়েছে। মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে! পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করলেও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় নদীতে পানির চাপ বাড়ছে। এতে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা, ফসলি জমি ও কাঁচা রাস্তায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার কুদ্দুস আলী বলেন, “ব্যারাজে পানি বাড়লে তো আমাদের এখানে পানি বাড়বে। রাতের মধ্যেই আমাদের এখানে পানি আসবে। সেই চিন্তায় রাতের ঘুম হারাম।” একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানান হাতীবান্ধা গড্ডিমারী এলাকার জসীম উদ্দিনের। তিনি বলেন, সোমবার রাতে পানি বাড়তে শুরু করায় রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।” তিস্তা তীরবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অনেক অংশ টেকসই সংস্কার না করায় পানি বৃদ্ধি পেলেই ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়। শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ না নিয়ে বর্ষাকালে জরুরি ভিত্তিতে নামমাত্র মেরামতের কারণে কার্যকর সুরক্ষা মিলছে না। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, মাঠ পর্যায়ে তাদের টিম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, প্রথম দফার বন্যায় দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এবারও জেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন, "তিস্তাপাড়ের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।"
ভেলায় ভাসিয়ে কফিন, পাহাড়ের খাস জায়গায় দাফন
পারিবারিক কবরস্থান কোমর পানিতে ডুবে যাওয়ায় বানের পানিতে ভেলা বানিয়ে তার ওপর কফিন রেখে নিয়ে যাওয়া হয় ৩০০ মিটার দূরের উঁচু এলাকায়। তারপর অটোরিকশায় আরও দুই কিলোমিটার।ভেলায় ভাসিয়ে নেওয়া মোহাম্মদ ফোরকানের কফিনটি অতঃপর দাফন। শুক্রবার (১০ জুলাই) জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নে এ ঘঠনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালেওে বন্যার পানিতে জাল দিয়ে মাছও ধরেছিলেন ফোরকান। হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন তিনি। এরপর বাড়িতেই মারা যান। কিন্তু পারিবারিক কবরস্থান ডুবে থাকায় দাফন করা সম্ভব হয়নি। ফকির মুড়া ঈদগাহ এলাকায় রাত ১০টার দিকে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে সেখানে পাহাড়ের খাস জায়গায় দাফন করা হয় ফোরকানকে। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর বড় ছেলে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। মো. ফোরকানের ছেলে রাসেল উদ্দিন জানান, বাড়ির পাশেই পারিবারিক কবরস্থান আছে। আমার দাদা-দাদিসহ পরিবারের মুরুব্বিদের সেখানে কবর দেওয়া হয়েছে। বাবাও বলতেন, তাঁকে দাদা-দাদির পাশেই কবর দিতে। কিন্তু বন্যার কারণে বাবার সেই ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হলো না বন্যার কারণে।
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তার পানি বাড়ছে, স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিস্তার পানি বর্তমানে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে চরাঞ্চল ও তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩ টার তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১০ মিটার। বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার হওয়ায় পানি বর্তমানে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করলেও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় নদীতে পানির চাপ বাড়ছে। এতে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা, ফসলি জমি ও কাঁচা রাস্তায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পানি আরও বাড়লে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিস্তা তীরবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অনেক অংশ সংস্কার না করায় পানি বৃদ্ধি পেলেই ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়। শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী সংস্কারের পরিবর্তে বর্ষাকালে জরুরি মেরামতের কারণে কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না। এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে। অন্যদিকে সোমবারের তথ্য অনুযায়ী দেশের চারটি নদী স্টেশনে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলো হলো সুরমা নদীর ছাতক, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা স্টেশন। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া নদীতে না নামার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পূর্বানুমানযোগ্য বন্যা, অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা অপ্রস্তুত ঢাকা
“সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এত বড় বড় বন্যার অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশের রাজধানীর জন্য কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি কোনো বন্যা ব্যবস্থাপনা কৌশল গড়ে তুলতে পারেনি।” ঢাকা: ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় রেকর্ড ৮৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, মাত্র এক মাসেই রাজধানীতে প্রায় ২৫ কোটি ৬০ লাখ ঘনমিটার পানি নেমে এসেছিল—যা প্রায় এক লক্ষেরও বেশি অলিম্পিক মানের সুইমিং পুল পানিতে পূর্ণ করার সমান। এর পরিণতি ছিল ভয়াবহ। সড়ক তলিয়ে যায়, অসংখ্য বাড়িঘর প্লাবিত হয়, প্রাণহানি ঘটে এবং নগরজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। কিন্তু সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, এই বিপর্যয়ও ঢাকার জন্য কার্যকর ও টেকসই বন্যা ব্যবস্থাপনার কোনো বাস্তবসম্মত কৌশল গড়ে তুলতে পারেনি। সম্প্রতি ১৯৮৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০ বছরের মাসভিত্তিক বৃষ্টিপাতের তথ্য বিশ্লেষণ করে যে বাস্তবতা উঠে এসেছে, তা আমাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাগত উদাসীনতাকে স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে আসে। ঢাকার সমস্যা কোনো আকস্মিক বা ব্যতিক্রমী আবহাওয়া নয়; বরং এটি পরিসংখ্যানগতভাবে পূর্বানুমানযোগ্য এবং গাণিতিকভাবে পরিমাপযোগ্য এক জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি, যার জন্য শহরটি কখনোই যথাযথভাবে পরিকল্পিত হয়নি। এই ৪০ বছরে ৫০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে এমন ২৯টি ‘চরম বৃষ্টিপাতের মাস’ শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ১৬ মাসে একবার এমন একটি বড় বৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে তীব্র ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সেপ্টেম্বর ২০০৪ (৮৩৯ মিমি), জুলাই ২০০৭ (৭৫৩ মিমি), সেপ্টেম্বর ১৯৯১ (৬৯২ মিমি) এবং সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ (৬৮৭ মিমি)। এগুলো কেবল লাখো মানুষের ব্যক্তিগত দুর্ভোগের ইতিহাস নয়; নগর পরিকল্পনার ভাষায় এগুলো সেই মানদণ্ড, যার ভিত্তিতে একটি শহরের সহনশীলতা নির্ধারণ করা উচিত। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার পাম্প স্টেশনগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় ২৪ ঘণ্টা চালিয়েও প্রতিদিন প্রায় ৮৬ লাখ ঘনমিটার পানি নিষ্কাশন করতে পারে। অথচ ২০০৪ সালের মতো একটি চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনায় শহরে নেমে আসে প্রায় ২৫ কোটি ৬০ লাখ ঘনমিটার পানি। অর্থাৎ বিদ্যমান ব্যবস্থার সক্ষমতা মোট পানির মাত্র ৩.৪ শতাংশ অপসারণ করতে পারে; বাকি ৯৬.৬ শতাংশ পানি রাস্তাঘাট, অলিগলি এবং বসতবাড়িতে জমে থাকে। এই বাস্তবতার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো—ঢাকাকে একসময় যে প্রাকৃতিক ব্যবস্থা বন্যা থেকে রক্ষা করত, অর্থাৎ খাল, হাওর, বিল এবং পূর্বাঞ্চলের প্রাকৃতিক বন্যাভূমি, সেগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হারিয়ে যায়নি; বরং আমাদের নিজেদের পরিকল্পনাহীন উন্নয়নই সেগুলো ধ্বংস করেছে। ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বৃহত্তর ঢাকা মহানগরে অর্ধেকেরও বেশি জলাভূমি বিলুপ্ত হয়েছে। রিমোট সেন্সিংভিত্তিক গবেষণায় দেখা যায়, শুধু ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যেই জলাশয়ের পরিমাণ প্রায় ১৩ শতাংশ কমে গেছে। একসময় কেন্দ্রীয় ঢাকার বৃষ্টির পানি বালু নদীতে পৌঁছে দেওয়া বেগুনবাড়ী খাল আজ প্রায় কংক্রিটে আবদ্ধ একটি সংকীর্ণ নালায় পরিণত হয়েছে। একইভাবে, শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বন্যা প্রতিরোধক পূর্বাঞ্চলের নিম্নভূমি ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে পূর্বাচল ও বসুন্ধরা আবাসন প্রকল্প। গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি হেক্টর জলাভূমি হারালে নগর এলাকার প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা ২,৫০০ থেকে ৬,৫০০ ঘনমিটার কমে যায়। ১৯৮৫ সালের পর থেকে ঢাকা প্রায় ৫,০০০ হেক্টর কার্যকর জলাভূমি হারিয়েছে। ফলে শহরটি আনুমানিক ১২.৫ থেকে ৩২.৫ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক বন্যা ধারণক্ষমতা হারিয়েছে। অর্থাৎ, যে পানি একসময় প্রকৃতি নিজেই ধারণ করতে পারত, তা আজ সরাসরি শহরের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি শহর নিজেই তার প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলেছে। একই ভুলের পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশের নগর পানি ব্যবস্থাপনার ইতিহাস যেন একটি পূর্বপরিচিত চক্র অনুসরণ করে। প্রথমে ভয়াবহ বন্যা হয়, এরপর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি আসে, উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থায়নের ঘোষণা দেয়, কিছু ড্রেনেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু পরবর্তী বড় বৃষ্টিতেই সেই উন্নত ব্যবস্থাও অকার্যকর হয়ে পড়ে, এবং একই চক্র আবার শুরু হয়। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু তার অল্প সময় পরই ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে আবারও ৬৯২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক বন্যার পর মহানগর উন্নয়ন পরিকল্পনা সংশোধন করা হয় এবং বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রকল্প শুরু হয়। এরপর ২০০৪ সালে ৮৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টি সেই ব্যবস্থাকেও অপ্রতুল প্রমাণ করে। পরবর্তীতে নতুন ড্রেনেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও ২০০৭ সালে আবার ৭৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। অতীতের দুর্যোগকে ভিত্তি করে পরিকল্পনা করলে নগর পরিকল্পনা সব সময়ই এক মৌসুম পিছিয়ে থাকবে। বাস্তবতা হলো, আমরা তথ্য থেকে শিক্ষা নিচ্ছি না; বরং প্রতিবারই তথ্য আমাদের বিস্মিত করছে। ঢাকা কি ‘স্পঞ্জ সিটি’ হতে পারে? ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা ড্রেন নির্মাণ বন্ধ করার কথা বলে না। বরং এটি মনে করিয়ে দেয় যে, শুধু ড্রেন নির্মাণ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রকৃত সমাধান হলো পানি দ্রুত সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং যেখানে বৃষ্টি হয় সেখানেই যতটা সম্ভব পানি ধরে রাখা, ধীরে ধীরে তা নিষ্কাশন করা এবং এই ব্যবস্থাকে ভূমি ব্যবহারের পরিকল্পনার সঙ্গে একীভূত করা। ঢাকার জন্য পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে— 1. বাধ্যতামূলক অন-সাইট পানি ধারণ ব্যবস্থা: এক হাজার বর্গমিটারের বেশি অপ্রবেশ্য (Impervious) পৃষ্ঠবিশিষ্ট নতুন সব উন্নয়ন প্রকল্পে প্রথম ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পানি নিজস্ব ব্যবস্থায় সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। এ জন্য গ্রিন রুফ, বায়োরিটেনশন সেল, পারমিয়েবল পেভমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ রেইনওয়াটার সিস্টার্ন ব্যবহার করা যেতে পারে। 2. খাল পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: নতুন কংক্রিট অবকাঠামো নির্মাণের তুলনায় একটি কার্যকর খাল পুনরুদ্ধার অনেক বেশি ব্যয়-সাশ্রয়ী এবং একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নগরের তাপমাত্রা হ্রাস ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু বেগুনবাড়ী খাল পুনরুদ্ধার করলেও কেন্দ্রীয় ঢাকার পানি ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। 3. অবশিষ্ট জলাভূমির আইনি সুরক্ষা: ডেমরা–নরসিংদী সড়কের পূর্বাঞ্চলে যে জলাভূমিগুলো এখনও টিকে আছে, সেগুলোকে স্থায়ীভাবে পরিবেশগত সংরক্ষিত অঞ্চল (Ecological Reserve) ঘোষণা করতে হবে এবং ওই এলাকায় চলমান সব উন্নয়ন অনুমোদন বাতিল করতে হবে। 4. ছোট আকারের রিটেনশন বেসিন নির্মাণ: শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অর্ধ হেক্টর থেকে দুই হেক্টর আয়তনের প্রায় ২০০ থেকে ৪০০টি পানি ধারণ বেসিন নির্মাণ করে সেগুলোকে খাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। 5. বাজেট পুনর্বিন্যাস: আগামী ১০ বছরে পানি ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দের বর্তমান ৮৫–৯০ শতাংশ গ্রে ইনফ্রাস্ট্রাকচার নির্ভরতা কমিয়ে গ্রে ও ব্লু-গ্রিন ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মধ্যে ৫০:৫০ ভারসাম্য আনতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান পাইপলাইন ও পাম্পিং ব্যবস্থার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণও অব্যাহত রাখতে হবে। শেষ পর্যন্ত নীতিনির্ধারক ও নগর পরিকল্পনাবিদদের সামনে মূল প্রশ্নটি হলো—ঢাকা কি জলাভূমি ও খাল সংরক্ষণে বিনিয়োগ করতে পারবে কি না, সেটি নয়; বরং আরেকটি ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর বা ২০০৭ সালের জুলাইয়ের মতো বিপর্যয়ের মূল্য পরিশোধ করার সামর্থ্য আদৌ ঢাকার আছে কি না। সবশেষ চরম বৃষ্টিপাতের মাস ছিল আগস্ট ২০২৪। পরিসংখ্যান বলছে, গড়ে প্রতি ১৬ মাসে এমন একটি ঘটনা ফিরে আসে। সেই সময়সীমা ইতোমধ্যেই অতিক্রম করেছে। ২০২৬ সালের বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, যদি আবার একটি চরম বৃষ্টিপাতের মাস আসে, তাহলে ঢাকা এখনও তার জন্য প্রস্তুত নয়। গত ৪০ বছর ধরে তথ্য আমাদের একই সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে। এখন প্রশ্ন একটাই—ক্ষমতার আসনে যারা আছেন, তারা কি সেই সতর্কবার্তা শুনছেন? লেখক: মাসুদুর রশীদ, নগর পরিকল্পনাবিদ
চট্টগ্রাম সমিতি ঢাকার উদ্যোগে বোয়ালখালী বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
বোয়ালখালীতে বন্যাদুর্গতদের মাঝে চট্টগ্রাম সমিতি ঢাকার উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। আজ (১৩ জুলাই) সোমবার সকালে বোয়ালখালীর সারোয়াতলী, শাকপুরা, পশ্চিম শাকপুরা, পশ্চিম গোমদন্ডী ইমামুল্লার চর এলাকায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সদস্যরা এই ত্রাণ বিতরণ করেন। এসময়ে সারোয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার তৌহিদুর রহমান, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বোয়ালখালী উপজেলা শাখার অর্থ সম্পাদক জামশেদুল আলম, বোয়ালখালী প্রেসক্লাবের সদস্য এম মনির চৌধুরী রানা, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ সুলতান, মোহাম্মদ সবুজ উপস্থিত ছিলেন।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে: মহালছড়িতে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব এম ইকবাল হোসেইন, এমপি খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় পাহাড়ি ঢল ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মাঝে মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্মসচিব) জনাব পরিতোষ হাজরা, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণ সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
উপজেলা প্রশাসন'র পাশাপাশি বন্যাদূর্গতের পাশে দাঁড়াল সেনাবাহিনী; খোলা হল অস্থায়ী ক্যাম্প
সবুজ অরণ্য / বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা-ঃ গত পাঁচ দিনের বিরামহীন বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল আর কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে শহরতলি বোয়ালখালীর নিম্মাঞ্চল। কোথাও হাটুপানি থেকে কোমর সমান পানিতে বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। দেখা দিয়েছে নিরাপদ খাবার পানির সংকট। আজ (১১ জুলাই) শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টির দাপট কিছহটা কমে এলেও এখনো জলমগ্ন উপজেলার নিম্মাঞ্চল। কিছু কিছু এলাকায় এখনো বিপদ সীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি। টানা বর্ষণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে নিন্ম আয়ের কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় অব্যাহত রয়েছে সরকারি ত্রাণ ও জরুরি সেবা কার্যক্রম। এদিকে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে সরকারি বরাদ্দের ৯০০ প্যাকেট শুকনা খাবার। এছাড়া রয়েছে বোতলজাত বিশুদ্ধ খাবার পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও খাবার স্যালাইন। অপরদিকে বানবাসি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গঠন করা হয় ১০টি মেডিকেল টিম। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্যা ও দূর্যোগ মোকাবিলা করার সুবিধার্থে সমন্বয়ের জন্য উপজেলা পর্যায়ে চালু করা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। যেখান থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে দূর্যোগ পরিস্থিতি। কোনো এলাকা থেকে অভিযোগ বা সহায়তার আবেদন পাওয়া মাত্রই উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক। উল্লেখ্য যে, দূর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে গত (১০ জুলাই) শুক্রবার জেলার লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি এই ৭টি উপজেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’র আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় বোয়ালখালীর পানিবন্দি মানুষের পাশে থেকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেন।
পানিবন্দি পরিবারের মাঝে ২য় দিনের মতো চলছে চাউল বিতরণ
টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মীরপাড়া ও বহদ্দারপাড়া এলাকার পানিবন্দি পরিবারের মাঝে আজও চলছে চাল বিতরণ। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে বহদ্দারপাড়া এবং বিকেলে মীরপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহর পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সদস্য শওকত আলমের নির্দেশনায় বোয়ালখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও বিএনপি নেতা হাজি আবু আকতার'র উদ্যোগে এ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রথম দিনে দুইটি এলাকায় মোট ৬০০টি পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। আজ ২য় দিনে আয়োজকরা জানান, দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বন্যায় চট্টগ্রামের কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় ক্ষতি বেশি
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের কৃষি ও মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে হাজারো কৃষক ও মৎস্যচাষীর উদ্বেগ। একদিকে পুকুর ও ঘেরের পাড় ভেঙে ভেসে গেছে কোটি টাকার মাছ, অন্যদিকে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে তলিয়ে গেছে আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও মৌসুমি সবজির আবাদ। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় চট্টগ্রামের ১৫৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার পুকুর ও চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে ২ হাজার ৫০০টি পুকুর, ৩১০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গিয়ে ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে সাতকানিয়ায়। সেখানে ৪৬৬ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব পাওয়া গেছে। এ ছাড়া লোহাগাড়ায় ১ হাজার ৬২০টি পুকুরে ৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, কর্ণফুলীতে ৫৫৭টি পুকুরে ৬ কোটি ৮ লাখ টাকা, চন্দনাইশে ৩৮৩টি পুকুরে ৫ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, বোয়ালখালীতে ৭৫৬টি পুকুরে ৪ কোটি ৫১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, পটিয়ায় ১ হাজার ৪৩৫টি পুকুরে ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, ফটিকছড়িতে ৫৩৩টি পুকুরে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা, হাটহাজারীতে ১৭০টি পুকুরে ১ কোটি ৯৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা, আনোয়ারায় ১ হাজার ১০০টি পুকুর ও ১০টি চিংড়ি ঘেরে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সন্দ্বীপে ৪১২টি পুকুরে ১ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মিরসরাইয়ে ৯৭টি পুকুরে ৯৮ লাখ টাকা, রাঙ্গুনিয়ায় ২৭০টি পুকুরে ৯৮ লাখ ৭ হাজার টাকা, রাউজানে ৯০টি পুকুরে ৯৩ লাখ টাকা এবং সীতাকুণ্ডে ১০টি পুকুরে ১৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। আউশ ধানের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপ উপজেলায়। এর মধ্যে বাঁশখালীতে ২ হাজার ১৫০ হেক্টর, চন্দনাইশে ২ হাজার ১২০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং সন্দ্বীপে ১ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া সাতকানিয়া, পটিয়া, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, ফটিকছড়ি, রাউজান, আনোয়ারা, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, মিরসরাই, কর্ণফুলীসহ জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও কম-বেশি আউশের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। চন্দনাইশে ৮৩০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ৭০০ হেক্টর, সন্দ্বীপে ৬০০ হেক্টর, ফটিকছড়িতে ৪৭৫ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ৪৬০ হেক্টর, পটিয়ায় ৪৫৫ হেক্টর, বাঁশখালীতে ৪০০ হেক্টর এবং রাউজানে ৩১০ হেক্টর জমির সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি লোহাগাড়া, আনোয়ারা, বোয়ালখালী, কর্ণফুলী, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী ও মিরসরাইসহ অন্যান্য উপজেলাতেও বিভিন্ন মাত্রায় সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমনের বীজতলাও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পানিতে তলিয়ে গেছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ইতিমধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ৪০ লাখ টাকা দিয়ে শুকনো খাবার ক্রয় করে তা বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজলায় ২০০ মেট্রিক টন চাউল বিতরণ ইতিমধ্যে করা হয়েছে। সাতকানিয়ায় ভয়াবহতা দেখে, আমি মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে সাতকানিয়া আলাদা বরাদ্দ পাবে। বরাদ্দগুলো পেলে ত্রাণ কার্যক্রম আরো বেগবান হবে। বন্যার বড় আঘাত পড়েছে কৃষিখাতে। বিশেষ করে আউশ ধান ও মৌসুমি সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে পুনরায় যাচাই করে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং পুনরায় আবাদে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তার সুপারিশ করা হবে। জেলা মৎস্য কার্যালয়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও দিঘি, ৩২০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ৪ হাজার ১১২ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মাছ ও মৎস্যসম্পদের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯১ কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
মহালছড়ির দুর্গম জনপদে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরে ঘরে পৌঁছালো জেলা পরিষদের খাদ্য সহায়তা
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫০ বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে জেলার মহালছড়ি উপজেলা সদর ও মাইসছড়ি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকায় ঘুরে ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে এই ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে সহায়তা সামগ্রী তুলে দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। ত্রাণ বিতরণকালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন:"বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। এই দুর্যোগকালীন মুহূর্তে কেউ যেন খাদ্যসংকটে না ভোগে,সে লক্ষ্যেই জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই সর্বাত্মক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।" ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এম এন আবছার, সাধারণ সম্পাদক,খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা বিএনপি।প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ, সদস্য, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ।কংজাফ্র মারমা, সদস্য, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ। মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি।মোঃ মাহবুব আলম সবুজ, সভাপতি, জেলা যুবদল।মোঃ আনোয়ার হোসেন, সভাপতি, মহালছড়ি উপজেলা বিএনপি। বন্যায় সবকিছু হারিয়ে বিপর্যস্ত পরিবারগুলো এই সংকটময় মুহূর্তে জরুরি খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা পেয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপজেলার অন্যান্য দুর্গম এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে।
পৌরসভার ৬ নাম্বর ওয়ার্ডে ৬০০ পানিবন্দি পরিবার'র মাঝে চাল বিতরণ
টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মীরপাড়া ও বহদ্দারপাড়া এলাকার পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বহদ্দারপাড়া এবং বিকেলে মীরপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহর পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সদস্য শওকত আলমের নির্দেশনায় বোয়ালখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও বিএনপি নেতা হাজি আবু আকতারের উদ্যোগে এ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রথম দিনে দুইটি এলাকায় মোট ৬০০টি পানিবন্দি পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চাউল বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব গোমদণ্ডী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুর হক মেম্বার, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ইব্রাহিম সওদাগর, মোঃ বশির আহমদ, মোঃ জহুর মিয়া, মোঃ সেলিম, মো. হারুন, মো. মামুন, জহির সওদাগর, মো. ওসমান, পৌরসভা ছাত্রদল নেতা বাপ্পি, মো. রহিমসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এসময় তাঁরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব। তারা জানান, পানিবন্দি মানুষের জন্য এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে।
ভারী বর্ষণে মহালছড়িতে দেয়াল চাপায় বৃদ্ধা আশঙ্কাজনক, উদ্ধার করল সেনাবাহিনী"
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগে পড়েছে। এরই মধ্যে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মহালছড়ি জোনের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গুরুতর আহত এক বৃদ্ধাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০:০০ ঘটিকায় মহালছড়ি উপজেলার ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা হালিমা বেগম (৬৫) নিজ ঘরে বৃষ্টির মধ্যে রান্নার কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ কাঁচা মাটির ঘরের একটি দেয়াল ধসে পড়ে। দেয়ালের পাশে থাকা আসবাবপত্র ও ভাঙা কাঁচের নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তাঁর একটি পা প্রায় দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে এলাকার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় আহত হালিমা বেগমকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এমন সংকটময় মুহূর্তে খবর পেয়ে মহালছড়ি জোনের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে সেনাসদস্যরা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে দ্রুত তাঁকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন। তাদের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে আহত নারীর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আস্থার সৃষ্টি করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে জীবন রক্ষায় সেনাবাহিনীর এই ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তারা। এদিকে, টানা বর্ষণে মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতির কারণে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।