বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার : জনদুর্ভোগ চরমে
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০১ পিএম
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল সরবরাহে অনিয়ম, দীর্ঘ লোডশেডিং এবং ফিলিং স্টেশন গুলোতে তেল সংকটের অভিযোগে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাছে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল খাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকাসহ, দেশের শিল্পায়ন নগরী নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা গুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধান শিল্পকারখানা গার্মেন্টস গুলো প্রায় ৩০% বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি গুলোতে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৫০%। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো এক সময় বন্ধ হয়ে যাবে এসব শিল্পকারখানা।
এছাড়াও গ্রাম অঞ্চল, জেলা শহরগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এস.এস.সি, এইচ.এস.সি পরিক্ষার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী, হাসপাতালের রোগী ও কর্মজীবি সাধারণ মানুষ। গ্রীষ্মের সারাদিন এই হাড়ফাটা রোদে পুড়ে বাড়িতে গিয়ে একটু শান্তিতে ফ্যান ছেড়ে ঘুমানোর কোন সুযোগ নেই। এখন মানুষ ভুলেই গেছে কুপি ও হারিকেন এর ব্যবহার। আর এখন এগুলো পাওয়াটাও খুব দুষ্কর। মোমবাতি জ্বালিয়ে সন্ধ্যা পার করছে সাধারণ মানুষ।
পরিস্থিতি কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। আর এদিকে নেতারা আখের গোছাতে ব্যস্ত। দেশের জ্বালানি তেল যখন তেল পাম্প মালিক নামের রাজনৈতিক সিন্ডিকেট এর হাতে বন্ধি, তখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। মোটরসাইকেল চালকরা ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছে না, পরিস্থিতি এমনও হয় দিনরাত লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পায় না, অথচ বানিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি তেল মজুত আছে। পরের দিনই তিনি আবার বলেন, পাম্পগুলো ফাঁকা পড়ে আছে তেল নেওয়া মানুষ নেই।
অথচ, দেশের অনেক ফিলিং স্টেশন গুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে, কিছু ফিলিং স্টেশন দিনে একবার চার থেকে পাঁচ ঘন্টা তেল দিতেই বলে তেল শেষ হয়ে গেছে। এ নিয়ে মিডিয়া গুলো এক প্রকার নিশ্চুপ। তেল সংকট যখন তুঙ্গে তখন বাংলাদেশ সরকার সকল জ্বালানি তেলের দাম বাড়িতে দিলো। অথচ বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে।
অথচ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে তেলের দাম বাড়াইছে সরকার। এই জনগণ বলতে রিজভী সাহেব কাকে বুঝিয়েছেন তা পরিষ্কার না করলেও, এই জনগণ যে সিন্ডিকেট জনগণ তা জাতি ঠিকই বুঝে গেছে।
অনেকের ধারণা, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য উঠানামা এবং সরবরাহ চেইনে অস্থিরতার প্রভাব দেশের বাজারে পড়েছে। আসলে কি তাই? নাকি কিছু অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসাহীর অসততার কারণে বাংলাদেশে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। এদিকে সরকার বলছে পর্যাপ্ত তেল মজুত আছে সংকটের কোন কারণ নেই। আর এদিকে হুট করে সরকার তেলের দাম বৃদ্ধি করেন।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যদি মজুদ পর্যাপ্ত থাকে, কোন ধরনের সংকট না থাকে, তবে মাঠ পর্যায়ে কেন এতো ভোগান্তি? জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল খাতে সরকারের অব্যবস্থাপনা সংকটের জন্য দায়ি।
যেন শ্রীলঙ্কার মত বিপদে না পড়তে হয়, সেজন্যে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য জোর দাবি উঠেছে জনসাধারণের মাঝ থেকে।
লেখক ও কবি: ফারুক ফরায়েজি।
আরও পড়ুন
পল্টনে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও রিক্সা শ্রমিকদের মাঝে ‘ভয়েস অব ইনসাফ ফাউন্ডেশন’ এর ঈদ উপহার বিতরণ
নজরুল জয়ন্তী ও খান খনন উদ্বোধনে ময়মনসিংহ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
ইরান যুদ্ধে কি হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ, জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প