সমালোচকদের মতে স্বৈরতন্ত্রের পথে অগ্রসর দেশ

পাকিস্তানে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে গ্রেফতার ও বিচার থেকে আজীবন দায়মুক্তি ও বাড়তি ক্ষমতা প্রদান

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ০১:২৬ পিএম

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, সংগৃহীত
 

 

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে অভূতপূর্ব ক্ষমতা প্রদান করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে পাস হওয়া সংবিধানের ২৭তম সংশোধনীর ফলে মুনির এখন শুধু সেনাবাহিনী নয়, নৌ ও বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধান করবেন। একই সঙ্গে তাকে আজীবন গ্রেফতার ও বিচার থেকে সম্পূর্ণ দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সমালোচকরা বলছেন, এই সংশোধনী দেশের বেসামরিক-সামরিক ভারসাম্য ধ্বংস করে পাকিস্তানকে স্পষ্টভাবে স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিচারব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

সংশোধনীতে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে একটি নতুন ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত (FCC) গঠন, যা সাংবিধানিক প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। এই আদালতের প্রধান বিচারপতি ও বিচারকরা সরাসরি রাষ্ট্রপতি দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন—যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

সংশোধনী পাসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আতহার মিনাল্লাহ ও বিচারপতি মনসুর আলী শাহ পদত্যাগ করেন। তাদের অভিযোগ, এই পরিবর্তন সুপ্রিম কোর্টকে “টুকরো টুকরো” করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে।

এখন বিচারকদের সম্মতি ছাড়া বিভিন্ন আদালতে বদলি করা যাবে—যা অনেকেই বিচারকদের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন।

সামরিক ক্ষমতার বিস্তার

২০২২ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া আসিম মুনিরকে ইতোমধ্যে আজীবন ফিল্ড মার্শাল পদবি দেওয়া হয়েছে। অবসর পরবর্তী সময়েও তাকে রাষ্ট্রীয় “দায়িত্ব ও কাজ” প্রদান করা হবে, যা তাকে শীর্ষ ক্ষমতার বৃত্তে স্থায়ী করে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের প্রচলিত “হাইব্রিড শাসন” এখন “পোস্ট-হাইব্রিড” বা সরাসরি সামরিক প্রভাবাধীন ব্যবস্থায় রূপ নিচ্ছে।

উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন,
“পাকিস্তান এখন আর হাইব্রিড ব্যবস্থা নয়—বরং সামরিক আধিপত্যের এক পোস্ট-হাইব্রিড সিস্টেম।”

সমর্থক ও সমালোচকদের যুক্তি

সমর্থকদের দাবি, নতুন কাঠামো সেনাবাহিনীকে প্রশাসনিক স্পষ্টতা, আধুনিক যুদ্ধের সাথে সামঞ্জস্য এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে।
তবে মানবাধিকারকর্মী মুনিজা জাহাঙ্গীরের মতে,
“বেসামরিক ও সামরিক ক্ষমতার ভারসাম্য পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর দিকে ঝুঁকে দিয়েছে।”

সাংবাদিক আরিফা নূর মনে করেন,
“এই পরিবর্তন বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের অধীনস্থ করে ফেলেছে। স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনো জায়গা থাকবে না।”

ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

সংশোধনীকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে ২৮তম সংশোধনীর গুঞ্জন উঠেছে, যা পাকিস্তানের ক্ষমতার কাঠামোতে আরও পরিবর্তন আনতে পারে।

বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন—এই ধারাবাহিক পরিবর্তন পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার জন্য গভীর ঝুঁকি তৈরি করছে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com